Showing posts with label Apps and Games. Show all posts
Showing posts with label Apps and Games. Show all posts

Apps কি | অ্যাপ Vs. সফটওয়্যার | আমাদের যা জানা প্রয়োজনীয় !

যদিও এই শব্দটি নতুন নয়, কিন্তু কয়েক বছর ধরে, বিশেষ করে স্মার্টফোনের আনাগোনা শুরু হওয়ার সময় থেকে অ্যাপ (Apps) — শব্দটি শোনেন নি বা এটি বোঝেন না, এমন কাউকে খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর। আজকের এই মডার্ন টেকের যুগে, প্রত্যেকটি বিষয়ের জন্য রয়েছে অ্যাপ, কিন্তু সমস্যা সেখানে নয়, সমস্যা হচ্ছে যখন কথা বলা হয় অ্যাপ Vs. সফটওয়্যার নিয়ে, তখন অনেকেই বিভ্রান্তির মধ্যে পরে যায়। অনেকে মনে করে এই দুইটি একই জিনিষ, আবার অনেকে মনে করে এই দুইটি আলাদা জিনিষ। বেশিরভাগ ধারণা কারীগন মনে করেন, অ্যাপ হচ্ছে মোবাইলের জন্য আর সফটওয়্যার হলো কম্পিউটারের জন্য। তো এরকম অগুনতি বিষয় রয়েছে, হয়তো আপনি এই আর্টিকেলটি পড়ার আগে যেগুলো জানতেন না। আমি এই আর্টিকেলে অ্যাপ কি, এর প্রকারভেদ, সফটওয়্যার আর এটি আলাদা জিনিষ কিনা — ইত্যাদি নানান বিষয়ে আলোচনা করবো।

অ্যাপ কি?

চলুন এই টপিকের সবচাইতে বড় প্রশ্ন এখানেই শেষ করে দেই, অ্যাপ শব্দটি আসলে “অ্যাপ্লিকেশন” শব্দটির সংক্ষিপ্ত রুপ এবং অবশ্যই এটি এক ধরণের সফটওয়্যার যেটা আলাদা আলাদা প্ল্যাটফর্মে রান করতে পারে। তো বুঝলেন, অ্যাপ আর সফটওয়্যার একই জিনিষ, তবে আজকের মডার্ন টাইপের সফটওয়্যার বা কম্পিউটার প্রোগ্রাম গুলোকে অ্যাপ বলা হয়। এটি অনেক টাইপের হতে পারে, হতে পারে মোবাইলে রান করছে, কম্পিউটারে রান করছে, আবার যেকোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইজেও রান করতে পারে। কিছু অ্যাপ্লিকেশন ওয়েব ব্রাউজারেও রান করতে পারে, কিছু অ্যাপ্লিকেশন অফলাইন চলে পারে আবার কিছু অ্যাপ্লিকেশন অনলাইন চলতে পারে। তবে অ্যাপকে সাধারণত এক টাইপের লাইটওয়েট সফটওয়্যার বলে ধরা হয়, মানে এটিকে ফুল শক্তিশালী সফটওয়্যার বলে বিবেচনা করা হয় না। আর এই জন্যই অ্যাপ টার্মটি বিশেষ করে স্মার্টফোনের সাথে বা ওয়েবের সাথে শুনতে পাওয়া যায়, এবং কম্পিউটার টার্মের ক্ষেত্রে মানুষ সফটওয়্যার টার্মটি ব্যবহৃত করে।
অ্যাপ কি?
অ্যাপ্লিকেশন যেকোনো প্ল্যাটফর্ম বা যেকোনো অপারেটিং সিস্টেমের জন্য তৈরি করা এবং ব্যবহার করা যেতে পারে। নিচের প্যারাগ্রাফে অ্যাপের বিভিন্ন প্রকারভেদ নিয়ে আলোচনা করলাম।

অ্যাপের প্রকারভেদ

অ্যাপস মূলত তিন প্রকারের হয়ে থাকে—ডেক্সটপ অ্যাপ্লিকেশন, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন, এবং ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন। যদি কথা বলি ডেক্সটপ অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে, তো বুঝতেই পাড়ছেন এই টাইপের অ্যাপ্লিকেশন ফুল ফর্ম সফটওয়্যার হয়ে থাকে, মানে এই প্রোগ্রাম গুলো অনেক শক্তিশালী হয়, অনেক রিসোর্স ডিম্যান্ড করে সিস্টেম থেকে এবং কাজ করার জন্য সরাসরি হার্ডওয়্যার অ্যাক্সেস ডিম্যান্ড করে। ডেক্সটপ প্রোগ্রাম গুলো বিশেষ করে বড় স্ক্রীনের জন্য ডিজাইন করা হয়ে থাকে এবং প্রোগ্রাম গুলো মাউস এবং কী-বোর্ড ব্যবহার করে অ্যাক্সেস করার উপযোগী হয়।
অপরদিকে যদি মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে কথা বলি, সাধারণত এগুলো লাইটওয়েট হয়ে থাকে এবং ব্যবহার করা অত্যন্ত সহজ হয়, একেবারেই কোন কমপ্লেক্স বিষয় থাকে না। আর এজন্য মোবাইল অ্যাপ গুলো ডেক্সটপ অ্যাপ্লিকেশনের মতো পাওয়ারফুল হয় না। মোবাইল অ্যাপের আইকোন গুলোকে সাধারণত বড় বড় করে ডিজাইন করা হয়, কেনোনা বিশেষ করে যাতে এগুলো টাচ স্ক্রীনের উপর কাজ করতে পারে।
পরিশেষে যদি কথা বলি, ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে তো সেগুলো অনেক সময় ডেক্সটপ অ্যাপ্লিকেশনের মতো পাওয়ারফুল হয় কিন্তু এর একটি ডাউন সাইড হচ্ছে ইন্টারনেট কানেকশন ছারা ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করা যায় না, কেনোনা সেগুলো কোন কম্পিউটার বা মোবাইল ইন্সটল না থাকে ক্লাউড কম্পিউটারে বা ওয়েব সার্ভারে ইন্সটল থাকে, তাই অ্যাক্সেস করার জন্য ইন্টারনেট অবশ্যই প্রয়োজনীয় হয়। যদি কোন অ্যাপ্লিকেশন ওয়েব এবং ডেক্সটপ উভয়ের সাথে মিক্স অবস্থায় থাকে, তাহলে সেটাকে হাইব্রিড অ্যাপ্লিকেশন বলা হবে। হাইব্রিড অ্যাপ গুলোকে অফলাইনে কম্পিউটারে ব্যবহার করা যায় এবং অফলাইনে এটি আপনার মেশিন থেকে রিসোর্স নিয়ে কাজ করে, কিন্তু যখনই আপনি অনলাইন আসবেন, এই অ্যাপ গুলো ক্লাউড থেকে কাজ করতে আরম্ভ করে দেয়।
একই অ্যাপ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের জন্য প্রাপ্য হতে পারে, আবার অনেক তৃতীয় পক্ষ ডেভেলপার রয়েছে যারা অন্যের অ্যাপ গুলো ডেভেলপ করে পাবলিশ করে। এ ব্যাপারে আরো পরিষ্কার বুঝতে ন্যাটিভ অ্যাপ ও থার্ড পার্টি অ্যাপের পার্থক্য — এই আর্টিকেলটি পড়ে দেখতে পারেন।

ক্রস প্ল্যাটফর্ম

যেকোনো অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার সর্বদায় চায় তাদের প্রোগ্রামকে যেন যেকোনো প্ল্যাটফর্মে চালানো যায়। এজন্য একই প্রোগ্রাম ডেক্সটপ, মোবাইল এবং ওয়েব ভার্সনের থাকতে পারে। যদি কথা বলি অ্যাডোবি ফটোশপের কথা, সেটা ডেক্সটপের জন্য পাওয়ারফুল ফটো এডিটর সফটওয়্যার আর এটি রান করতে কম্পিউটার থেকে অনেকখানি রিসোর্স প্রয়োজনীয় হয়ে থাকে। মোবাইলের জন্য এই একই কোম্পানির অ্যাপ রয়েছে, যেমন ফটোশপ স্কেচ, এটি লাইটওয়েট মোবাইল প্রোগ্রাম। আবার অ্যাডোবি ফটোশপ এক্সপ্রেস এডিটর হচ্ছে ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন, অর্থাৎ একে কম্পিউটার বা মোবাইলে কোথাও ইন্সটল করার দরকার নেই, এ সরাসরি ইন্টারনেটের সাহায্যে আপনার ইন্টারনেট ব্রাউজার থেকেই রান করানো যাবে।
ক্রস প্ল্যাটফর্ম
অপরদিকে যদি কথা বলি, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড প্রোগ্রামটি নিয়ে, তো কম্পিউটারের জন্য ফুল ওয়ার্ড সফটওয়্যার রয়েছে যেখানে সম্পূর্ণ ফিচার পেয়ে যাবেন। ঠিক ডেক্সটপের মতোই কিন্তু লিমিটেড ফিচার এবং লাইটওয়েট প্রোগ্রাম মোবাইলের জন্য রয়েছে অ্যাপ রুপে, কিন্তু মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের ওয়েব ভার্সন কিন্তু ডেক্সটপ ভার্সনের মতোই পাওয়ারফুল, যেটা ব্রাউজার দিয়ে অ্যাক্সেস করা সম্ভব। তবে কিছু অ্যাপ্লিকেশন আবার মোবাইলে আছে, ওয়েব ফর্মে আছে কিন্তু ডেক্সটপে নেই। যেমন জিমেইল কিন্তু মূলত একটি ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন, এর মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনও রয়েছে, কিন্তু ডেক্সটপ সফটওয়্যার নেই। ক্রোম ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ব্যতিত ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন গুলোকে ফিজিক্যাল ইন্সটল করার কোনই দরকার থাকে না।

অ্যাপস ডাউনলোড

যেকোনো অ্যাপস ডাউনলোড করার জন্য আপনার অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে অফিয়াল জায়গা রয়েছে। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে অ্যাপ ডাউনলোড করার জন্য গুগল প্লে বা অ্যামাজন স্টোর রয়েছে, সাথে আরো অনেক তৃতীয়পক্ষ ওয়েবসাইট রয়েছে, যেখান থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করতে পাড়বেন। অ্যাপেল ডিভাইজ গুলোর জন্য রয়েছে অ্যাপ স্টোর। তবে কম্পিউটারের জন্য বিষয়টি একটু আলাদা। এক্ষেত্রে আন-অফিশিয়াল সোর্সই বেশি। যদিও উইন্ডোজ নতুন করে স্টোর তৈরি করেছে ডেক্সটপের জন্য, কিন্তু বেশিরভাগ সফটওয়্যার গুলো আপনি আন-অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকেই খুঁজে পেতে পাড়বেন।
সফটওয়্যার ডাউনলোড করার সময় বিশেষ খেয়াল রাখা প্রয়োজনীয়, কেনোনা সফটওয়্যার ডাউনলোড করার সময়ই মানুষ বেশিরভাগ টাইম কম্পিউটারকে ম্যালওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত করিয়ে ফেলে। আপনি উইন্ডোজ কম্পিউটার নিরাপদে সফটওয়্যার ডাউনলোড করার জন্য এই পাঁচটি ফ্রী সফটওয়্যার ডাউনলোডিং সাইট ব্যবহার করতে পারেন।

আশা করছি, এই সম্পূর্ণ টার্মটি সম্পর্কে আপনার মনে আর কোন প্রকারের দ্বিধাদন্দ জমা হয়ে নেই। আর্টিকেলটি আপনার জন্য কতোটা সাহায্য পূর্ণ ছিল, আমাকে কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না। আর যেকোনো প্রশ্ন বা মতামতে তো অবশ্যই নিচে কমেন্ট করুণ।

Music Player : ৫ টি বেস্ট মিউজিক প্লেয়ার অ্যাপ

আমাদের সবারই গান শুনতে ভালো লাগে। আমরা সবাই অবসর সময় কাটানোর জন্য বা শখ করেই গান শুনি। আর এখনকার যুগে তো আর গান শুনতে ডিভিডি প্লেয়ার বা ক্যাসেট প্লেয়ারের দরকার হয়না। এখন আমরা আমাদের ফোনেই হাজার হাজার গান স্টোর করে রেখে যখন ইচ্ছা হেডফোন কানে দিয়ে গান শুনতে পারি। আর জোরে গান শোনার জন্য তো সাউন্ড বক্স, স্পিকার ইত্যাদি দানবীয় যন্ত্র তো আছেই। কিন্তু বেশিরভাগ সময় আমরা আমাদের স্মার্টফোনেই গান শুনে থাকি। কারণ, এটাই সবথেকে সহজভাবে গান শোনার সবথেকে উপযোগী ডিভাইস।আর এই গান শোনার জন্যই দরকার হয় বিভিন্ন মিউজিক প্লেয়ার অ্যাপ। অ্যান্ড্রয়েডে সাধারনত যে ডিফল্ট মিউজিক প্লেয়ার অ্যাপ প্রি ইন্সটল করা থাকে সেটা হয়তবা বোরিং হয় বা হয়ত অনেক বেশি ফিচারস থাকেনা বা অনেকের এমনিতেই ভালো লাগেনা। তাই আমরা সবাই প্রায় গান শোনার জন্য ভালো একটি থার্ড পার্টি মিউজিক প্লেয়ার অ্যাপ ইন্সটল করে রাখি এবং সেটাই সবসময় গান শোনার জন্য ব্যাবহার করি।

থার্ড পার্টি মিউজিক প্লেয়ারের কথা বলতে হলে প্রায় সব অ্যান্ড্রয়েড ইউজারেরই গান শোনার জন্য পারসোনাল ফেভারিট একটি অ্যাপ থাকে যেটি সে সব স্মার্টফোনেই ইন্সটল করে। কিন্তু আপনার যদি আগে থেকেই পারসোনাল ফেভারিট মিউজিক প্লেয়ার না থাকে বা এখনও খুঁজে না পেয়ে থাকেন, তাহলে আজকের লেখাটি আপনার জন্য। আজকে আমার দেখা বেস্ট কয়েকটি থার্ড পার্টি মিউজিক প্লেয়ার নিয়ে আলোচনা করবো যেগুলোর মধ্যে কোনো কোনোটি আপনারও ভালো লাগতে পারে। তো, আর কথা না বাড়িয়ে চলুন শুরু করা যাক, আমাদের বেস্ট অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ সিরিজের প্রথম পর্ব।

Musixmatch

থার্ড পার্টি মিউজিক প্লেয়ার হিসেবে সম্ভবত এটি সবথেকে জনপ্রিয় অ্যাপ। কারণ, যারা থার্ড পার্টি মিউজিক প্লেয়ার অ্যাপ ব্যাবহার করেন, তাদের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি মানুষের প্রথম পছন্দ এটি। কারণ, এই অ্যাপটিতে শুধুমাত্র গান শোনা ছাড়াও আরও অনেক ফিচারস রয়েছে যেগুলো আপনি অন্যান্য থার্ড পার্টি মিউজিক প্লেয়ার অ্যাপে পাবেন না। লিরিক্স-প্রেমীদের কাছে এই মিউজিক প্লেয়ারটি ফার্স্ট চয়েজ। যারা গান শুনতে শুনতে স্ক্রিনে গানের লিরিক্স দেখতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য বেস্ট মিউজিক প্লেয়ার এটি। আপনার স্টোরেজে থাকা গানগুলোর ট্যাগ ইনফরমেশন সঠিক হলে, আপনি গান প্লে করার সময় স্ক্রিনে গানটির লিরিক্স দেখতে পাবেন। এছাড়াও, অ্যাপটিকে পারমিশন দিলে অন্যান্য মিউজিক প্লেয়ারে গান প্লে করার সময়ও এটি চ্যাট হেডের মত একটি ফ্লোটিং উইন্ডোরে লিরিক্স দেখাবে। এছাড়া আপনি যেকোনো গানের লিরিক্স অনেকগুলো ভাষায় ট্রান্সলেট করেও দেখতে পারবেন। যেমন, আপনি একটি ইংরেজি গানের লিরিক্স চাইলে বাংলায়ও দেখতে পারবেন এই অ্যাপের সাহায্যে।
এখানেই শেষ নয়, আপনি চাইলে ইউটিউবে কোনও মিউজিক ভিডিও প্লে করার সময়ও ভিডিওর নিচে ফ্লোটিং উইন্ডোতে লিরিক্স দেখতে পারবেন। একটি নাম না জানা গান প্লে করলে এই অ্যাপটি আপনাকে নোটিফিকেশন বারের সাহায্যে জানিয়ে দেবে যে গানটির নাম কি এবং গানটি কার গাওয়া। এর থেকেও আরও ইন্টারেস্টিং ফিচার হচ্ছে, লিরিক্স কার্ড তৈরি করা। আপনি চাইলে কোনও গানের লিরিক্স এর সাহায্যে একটি আর্টওয়ার্ক তৈরি করতে পারবেন এবং সেটা সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ারও করতে পারবেন। এছাড়া, গানের ট্যাগ স্বয়ংক্রিয়ভাবে এডিট করা, গানের কভার আর্ট চেঞ্জ করা এসব ফিচারতো থাকছেই। এবং এই অ্যাপটির ইউজার ইন্টারফেসও অনেক সুন্দর। কিন্তু এই মিউজিক প্লেয়ারটির একটি অসুবিধা হচ্ছে, অ্যাডস। কিন্তু অ্যাড ফ্রি ভার্শনও আছে। কিন্তু সেটি পেতে হলে আপনাকে গুনতে হবে প্রায় ১২০০ টাকা প্রতি বছর। কিন্তু অ্যাপটির ফিচারসগুলো কনসিডার করে কিছু পপআপ অ্যাডস মেনে নেওয়াই যায়।
ডাউনলোড লিংক : এখানে।

Groove Music

আপনি যদি পিসিতে উইন্ডোজ ১০ ব্যাবহার করে থাকেন, তাহলে আপনি নিশ্চই এই নামটির সাথে পরিচিত। Groove Music হচ্ছে মাইক্রোসফট এর অফিশিয়াল মিউজিক প্লেয়ার। অর্থাৎ, এই মিউজিক প্লেয়ারটি মাইক্রোসফটের তৈরি। যদিও এই মিউজিক প্লেয়ারটির খুব বেশি ফিচারস নেই, কিন্তু আপনি যদি আপনার ডেস্কটপের মিউজিক প্লেয়ার এবং স্মার্টফোনের মিউজিক প্লেয়ারের মধ্যে মিল রাখতে চান, তাহলে  আপনার জন্য এই মিউজিক প্লেয়ারটিই বেস্ট হবে। কারণ, এই মিউজিক প্লেয়ারটিতে আপনি পাবেন আপনার পিসির মিউজিক প্লেয়ারের মত এক্স্যাক্ট সেম ইউজার ইন্টারফেস। অর্থাৎ, এই অ্যাপটিকে উইন্ডোজ ১০ এর ডিফল্ট মিউজিক প্লেয়ারের মোবাইল ভার্শন বলা যায়।
এই অ্যাপটি আমার কাছে ফেভারিট দুটি কারণে। প্রথমটি হচ্ছে এর এই ফ্যামিলিয়ার ইউজার ইন্টারফেস এবং দ্বিতীয়টি হচ্ছে এর ওয়ানড্রাইভ ইন্টারগ্রেটেশন। আপনার যদি একটি মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট থাকে, তাহলে অবশ্যই আপনার ওয়ানড্রাইভে ৫ জিবি স্পেস রয়েছে। আপনি যদি ওয়ানড্রাইভের এই ৫ জিবি স্পেসের মধ্যে কোনও মিউজিক আপলোড করে রাখেন, তাহলে আপনি Groove Music প্লেয়ারে গানগুলো যেকোনো সময় স্ট্রিম করে শুনতে পাবেন এবং সেটা শুনতে পাবেন আপনার যেকোনো ডিভাইসে যেটিতে Groove Music ইন্সটল করা আছে এবং আপনার মাইক্রোসফট অ্যাকাউন্ট লগিন করা আছে। আপনাকে লোকাল স্টোরেজে সব গান রাখার দরকার হবেনা। তবে হ্যাঁ, স্ট্রিম করার জন্য আপনার ওয়াইফাই কানেকশন দরকার হবে। এই ফিচারটি আমার মতে Groove Music এর সবথেকে বড় অ্যাডভান্টেজ। আর হ্যাঁ, মাইক্রোসফট-এর অফিশিয়াল অ্যাপ হওয়ায় এটি সম্পূর্ণ ক্লিন এবং অ্যাডফ্রি একটি অ্যাপ।
কিন্তু, এই অ্যাপটি ১০০% ফ্রি হলেও আপনি প্লে স্টোরে এটি পাবেন না। কারণ, এই অ্যাপটি বাংলাদেশে এভেইলেবল নয়। তবে আপনাদের সুবিধার্থে আমি অ্যাপটির ডাইরেক্ট ডাউনলোড লিংক দিয়ে দিলাম। আপনি এই লিংক থেকে অ্যাপটি ডাউনলোড করে ইন্সটল করে নিতে পারবেন।

Retro Music

এই মিউজিক প্লেয়ারটি মূলত ভালো লাগে এর অসাধারণ ইউজার ইন্টারফেসের জন্য। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন যে এই অ্যাপটির ইউজার ইন্টারফেস বা ডিজাইন তৈরি করা হয়েছে অনেকটা গুগল প্লে মিউজিক এবং অ্যাপল মিউজিক প্লেয়ার ডিজাইন ল্যাঙ্গুয়েজ একসাথে মিশিয়ে। অর্থাৎ, অ্যান্ড্রয়েড এবং আইফোনের ডিজাইন দুটি একসাথে করে এই মিউজিক প্লেয়ারটি তৈরি করা হয়েছে। যার ফলে, এই অ্যাপটির ইউজার ইন্টারফেস অন্যান্য মিউজিক প্লেয়ারের থেকে আলাদা এবং দেখতেও বেশ ভালোই লাগে অন্যান্য মিউজিক প্লেয়ারের তুলনায়। এর ডিজাইনটি কেমন, তা নিচের স্ক্রিনশটগুলা দেখলেই ধারণা পাবেন।
এছাড়া, এই অ্যাপটিতে কোনও মিউজিক প্লে করলে ওই গানটি এবং আর্টিস্টের সম্পর্কে ডিটেইলড ইনফরমেশন পাবেন গানের নামের নিচে। এছাড়া অ্যাডভান্সড ট্যাগ এডিট করার সুবিধাও থাকছে এই অ্যাপে। আপনি যেকোনো গানের এ্যালবাম নেম, আর্টিস্ট নেম, কভার আর্ট নিজের ইচ্ছামত চেঞ্জ করতে পারবেন। এই অ্যাপটি থার্ড পার্টি ডেভেলপারের তৈরি হলেও কোনও ধরনের বিরক্তিকর অ্যাডস নেই এই অ্যাপে। বিরক্তিকর অ্যাড নেই না বলে কোনও রকম অ্যাডই নেই বলা ভালো। কারণ এই অ্যাপটি সম্পূর্ণ অ্যাডফ্রি। এছাড়া এই অ্যাপে কিছু এক্সট্রা ইউআই কাস্টোমাইজেশন ফিচারসও রয়েছে যেগুলোর সাহায্যে আপনি অ্যাপটি একেবারে নিজের ইচ্ছামত সাজাতে পারবেন। অ্যাপের থিম, কালার এবং প্রায় সবকিছুই আপনি নিজে চেঞ্জ করতে পারবেন। এছাড়া অ্যাপটি বেশ লাইটওয়েট এবং ফাস্ট।
ডাউনলোড লিংক : এখানে।

Phonograph

এই অ্যাপটিকে বলা যেতে পারে গুগল প্লে মিউজিকের একটি বেটার ভার্শন। কারণ, এই মিউজিক প্লেয়ারটির ডিজাইনের সাথে গুগল প্লে মিউজিকের অনেক মিল রয়েছে। কিন্তু, এই অ্যাপটিতে গুগল প্লে মিউজিকের থেকে বেশি ফিচারস রয়েছে এবং এটি গুগল প্লে এর মত এত হেভি এবং ল্যাগি অ্যাপ নয়। এই অ্যাপটির ইউজার ইন্টারফেসটিও যথেষ্ট সুন্দর। Retro Music এর মত এই অ্যাপটিও থার্ড পার্টি ডেভেলপারের তৈরি হলেও এতে একটিও অ্যাড নেই। এই অ্যাপটিও সম্পূর্ণ অ্যাডফ্রি। এই অ্যাপটির ডিজাইন এবং বিহেভিয়র অনেক সিম্পল এবং সহজ। এছাড়া, আগের অ্যাপটির মত এই অ্যাপটির সাহায্যেও যেকোনো গানের ট্যাগ এডিট করা যাবে এবং কভার আর্ট, আর্টিস্ট পিকচার ইত্যাদি চেঞ্জ করা যাবে। অনেক অ্যান্ড্রয়েড কাস্টম রমে এই অ্যাপটি ন্যাটিভ মিউজিক প্লেয়ার হিসেবেও ব্যাবহার করা হয়। এই অ্যাপটিতে তেমন খুব বেশি ইন্টারেস্টিং ফিচারস নেই, যেহেতু এই অ্যাপটির লক্ষ্যই হচ্ছে সিমপ্লিসিটি। তবুও এই অ্যাপটিতে অনেক ইউজার ইন্টারফেস কাস্টোমাইজ করার সুযোগ রয়েছে যার সাহায্যে আপনি এটিকে নিজের ইচ্ছামত করে কাস্টোমাইজ করে ব্যাবহার করতে পারবেন।
ডাউনলোড লিংক : এখানে।

Listenit

নামটা সম্ভবত আপনার কাছে পরিচিত মনে হতে পারে। আমরা সবাই প্রায় ফোনে Shareit ব্যাবহার করি ফাইল শেয়ার করার কাজে। এই অ্যাপটি এই Shareit কর্পোরেশনের তৈরি। অর্থাৎ, যে ডেভেলপার Shareit অ্যাপটি ডেভেলপ করেছে, ওই একই ডেভেলপারের তৈরি মিউজিক প্লেয়ার এটি। এই অ্যাপটির ইউজার ইন্টারফেসও বেশ মিনিমাল এবং অ্যাপটিও বেশ লাইটওয়েট। এই অ্যাপটির সাহায্যে আপনি আপনার ফোনের স্টোরেজের গানগুলো নিশ্চিতভাবেই প্লে করতে পারবেন। তাছাড়া, এই অ্যাপটির একটি বড় অনলাইন মিউজিক লাইব্রেরিও আছে যেখান থেকে আপনি আপনার ইচ্ছামত গান স্ট্রিম করে শুনতে পারবেন। কিন্তু, তাই বলে এটা ভাববেন না যে এদের অনলাইন লাইব্রেরি Spotify বা Saavn এর মত এত বড়। ৫০% সময়ই আপনি অনলাইন লাইব্রেরিতে আপনি যে গানটি খুঁজছেন সেটি পাবেন না। কিন্তু মোটামুটি প্রায় সব জনপ্রিয় গানই পাবেন। এছাড়া সাপ্তাহিক ট্রেন্ডিং সংগুলোও স্ট্রিম করতে পারবেন। কিন্তু অনলাইন মিউজিক প্লেয়ার হিসেবে এটি আমার মতে খুব একটা ভালো নয়।। এছাড়া, বাকি ফিচারগুলোর কথা বলতে হলে, আপনি আগেরগুলোর মতই মিউজিক ট্যাগ এডিট করতে পারবেন, থিম এবং ইউজার ইন্টারফেস কাস্টোমাইজ করতে পারবেন নিজের ইচ্ছামত এবং এই অ্যাপে আপনি একটি বিল্ট ইন মিউজিক ইকুয়ালাইজারও পাবেন যার সাহায্যে আপনি মিউজিক নিজের ইচ্ছামত টিউন করতে পারবেন। আরও একটি ভালো ফিচার হচ্ছে, এই অ্যাপে আপনি গান থেকে রিংটোনও তৈরি করতে পারবেন। কিন্তু এই অ্যাপটির বড় একটি ডিসঅ্যাডভান্টেজ হচ্ছে, এটি অ্যাডফ্রি অ্যাপ নয়।
ডাউনলোড লিংক : এখানে।

আমি বলছিনা যে এগুলোই অ্যান্ড্রয়েডের বেস্ট মিউজিক প্লেয়ার অ্যাপ। এই পাঁচটি হচ্ছে আমার দেখা কয়েকটি মিউজিক প্লেয়ার অ্যাপ যেগুলো আমার কাছে ভালো মনে হয়েছে। প্লে স্টোরে এর থেকেও আরও অনেক ভালো মিউজিক প্লেয়ার অ্যাপ থাকতে পারে। আপনি এমন কোন মিউজিক প্লেয়ারের নাম জেনে থাকলে বা ব্যাবহার করে থাকলে অবশ্যই কমেন্ট সেকশনে জানাবেন।
আজকের মত এখানেই শেষ করছি। পরবর্তী পর্বে আরও কয়েকটি ভালো অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ নিয়ে আলোচনা করা যাবে। আশা করি, আজকের লেখাটি আপনাদের ভালো লেগেছে। আর্টিকেল সম্পর্কে কোনও ধরনের প্রশ্ন বা মতামত থাকলে অবশ্যই কমেন্ট সেকশনে জানাবেন। ভালো থাকবেন।

দৈনন্দিন কাজকে সহজ করতে ১০ টি প্রয়োজনীয় অ্যাপ

10-USEFUL-APP-FOR-EVERY-MOBILE-USER:আজকাল স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন কাজ করার কৌশলকে আরো সহজ বানায়। তাই আজ আমরা আপনাদের সাথে শেয়ার করব সেরা ১০টি মোবাইল অ্যাপ যা আপনাদের দৈনন্দিন কাজকে সহজ করতে গুরুতপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আপনি আপনার দৈনন্দিন জীবন আরও বেশী সহজ, সরল এবং দক্ষতা সহকারে করার জন্য অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোনের 10 টি প্রয়োজনীয় অ্যাপ তাড়াতাড়ি ডাউনলোড করে ফেলুন নিচ থেকে।

১)GOOGLE KEEP


google-keep-best5trick

Google Keep অ্যাপ আপনার বিভিন্ন আইডিয়া ও ভাবনাকে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইলে সেইভ করে। এই অ্যাপের সাহায্যে আপনার গুরুত্বপূর্ণ নোট , আইডিয়া , ছবি এবং তালিকা নিরাপদে সংরক্ষণ করতে পারবেন। সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুগল স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার সব ডেটা সিঙ্ক করে তাদের নিজস্ব গুগল সার্ভারে সংরক্ষিত রাখবে। তাহলে আর দেরি কেন এক্ষুনি ডাউনলোড করুন Google Keep অ্যাপটি।


আর প্রয়োজনের সময় আপনার কাছে অ্যাপ্টি না থাকলে  http://keep.google.com এই সাইটে প্রবেশ করে আপনার সকল ডাটা দেখতে ও ডাউনলোড করতে পারবেন যে কোন ডিভাইস থেকে।

২)FAST SCANNER


Fast-Scanner-best5trick

Fast Scanner অ্যাপের সাহায্যে আপনি যেকোন ডকুমেন্টকে স্কেন করে PDF ফাইলে রূপান্তর করতে পারবেন।


৩)MICROSOFT REMOTE APP


Remotely-Control-Pc-best5trick

Microsoft Remote App আপনাকে মোবাইল থেকে কম্পিউটারকে নিয়ন্ত্রন করার সুবিধা প্রদান করে। কখনও কখনও আমরা পিসি ব্যবহার করতে মন চায় না , কিন্তু আপনার কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার প্রয়োজন । তাহলে দেরি না করে আপনার মোবাইলে ডাউনলোড করে ফেলুন এই অ্যাপ্লিকেশনটি এবং মোবাইল ফোন থেকে পিসিকে কন্ট্রোল করুন আপনার উইন্ডোজ চালিত কম্পিউটারটি।


৪)GOOGLE NOW


google-now-best5trick

Google Now আপণাড় মোবাইলের জন্য সবচেয়ে ভালো ব্যক্তিগত সহকারী। Google Now-এ আপনি যে কোন প্রশ্ন করতে পারবেন আর Google Now আপনাকে সকল প্রশ্নের উত্তর প্রদান করতে এক পায়ে খাঁড়া।(its bengali style)


৫)TRUECALLER


iphone-4-0-post

Truecaller আপনার স্মার্টফোনের জন্য অজানা নাম্বার ও কল সনাক্ত করার জন্য শ্রেষ্ঠ অ্যাপ। এছাড়া আপনি এই অ্যাপের সাহায্যে মোবাইলে সেইভ থাকা স্প্যাম নাম্বার এবং পরিচিত নাম্বার ব্লক করতে পারবেন।


৬) GOOGLE DRIVE


google-drive-best5trick

আপনার ছবি আপলোড করুন গুগল ক্লাউডে এবং Google Drive এর সাহা্য্যে যে কোন জায়গা থেকে অ্যাক্সেস করতে পারবেন আপনার ফটোতে।


৭) CLEAN MASTER


image05

আপনার মোবাইল ভালো পারফমেন্সের জন্য এই অ্যাপটি আপনার মোবাইলে থাকা অত্যাবশ্যক। এই অ্যাপ্টির সাহায্যে খুব সহজে মোবাইলে থাকা জাঙ্ক ফাইল মুছে নিয়মিত র‍্যামকে পরিষ্কার করে আপনার মোবাইলের ভালো পারফমেন্স বজায় রাখে।


৮) PHOTOMATH


photomath-best5trick

অল্প কথায় ক্যামেরা থেকে ছবি গ্রহণ করে গাণিতিক সমস্যার সমাধান দেওয়ার জন্য পটু এই Photomath অ্যাপটি।


৯) PIXLR


image081.jpg

pixlr হচ্ছে যেকোনো স্মার্টফোন-এর জন্য সবচেয়ে ভালো একটা ফটো এডিটিং অ্যাপ। আর এই অ্যাপটি জনপ্রিয় থাকার কারন হচ্ছে এর অসাধারণ সব এফেক্ট। এই সকল এফেক্টের সাহায্যে আপনার ফটোকে সাজিয়ে নিতে পারবেন অনেক সুন্দরভাবে।


১০) WPS OFFICE


screenshot_2015-07-19-14-41

অ্যান্ড্রয়েড বা আইফোনে এই অ্যাপ্লিকেশনের সাহায্যে আপনার প্রিয় নথি বা ডকুমেন্ট সহজে পড়তে ও এডিট করতে পারবেন। এছাড়াও আপনি এই মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন থেকে যে কোনো ফরম্যাটে নথি বা ডকুমেন্ট  তৈরি করতে পারবেন। 
তো আজ এই পর্যন্ত। পোস্টটি ভাল লাগলে বন্ধুদের সঙ্গে শেয়ার করে সবাই কে জানিয়ে দিন । কেমন লাগলো তা কমেন্ট করে জানাতে ভুলবেন না । ধন্যবাদ সকলকেই।