Showing posts with label Mobile Tips. Show all posts
Showing posts with label Mobile Tips. Show all posts

কিভাবে নগদ একাউন্ট (Nagad Account) করতে হয় দেখে নিন বিস্তারিত

 কিভাবে নগদ একাউন্ট (Nagad Account) করতে হয়
আসসালামু আলাইকুম কেমন আছেন সবাই মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমতে ও আপনাদের দোয়ায় আমি অনেক ভালো আছি।

আপনারা আমাদের এই ওয়েবসাইট কে ভালোবেসে অনেক এগিয়ে নিয়েছেন আরও এগিয়ে নিয়ে যাবেন আপনাদেরকে ভালো কিছু দেওয়ার চেষ্টা করে ট্রিকবিডি সর্বদা।

আজকে আমি একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করব যার নাম নগদ মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট।

আপনারা নিশ্চয়ই এই Service নাম শুনেছেন যা Bkash এর মতন সকল সিস্টেম ।

তবে Bkash এর মতন system হলে ও Bkash এর চাইতে ভালো সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে এই নগদ মোবাইল ব্যাংকিং সার্ভিস ….

নগদ এর সার্ভিস নিয়ে কিছু আলোচনা করবো বিস্তারিত details post অবশ্যই মনোযোগ সহকারে পড়বেন
নগদ এর সুবিধা
  1.  টাকা লেনদেন করতে পারবেন মোবাইল এর মাধ্যমে।
  2.  সেন্ড মানি করতে পারবেন ফ্রিতে
  3.  ক্যাশ আউট করতে পারবেন খুব সহজে মোবাইল অ্যাপ এর মাধ্যমে 1.70% অর্ডার কোড এর মাধ্যমে 1.80% সার্ভিস চার্জ
  4.  মোবাইল রিচার্জ সম্পূর্ণ ফ্রি
  5.  প্রতি মাসে পাঁচ লক্ষ টাকা ক্যাশ আউট করতে
  6.  সেন্ড মানি 5 লক্ষ টাকা প্রতি মাসে করতে পারবেন।
সার্ভিস চার্জ এর পরিমাণ
সেবার নাম  চার্জ(App)চার্জ(USSD)
ক্যাশ ইনফ্রিফ্রি
সেন্ড মানিফ্রি,৳ 4
মুবাইল রিচার্জ   ফ্রিফ্রি
ক্যাশ আউট  1.70% 1.80%
দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ
সেবার নাম সংখ্যা পরিমাণ 
ক্যাশ ইন0/102,50,000
সেন্ড মানি0/502,50,000
মুবাইল রিচার্জ   0/5010,000
ক্যাশ আউট 0/102,50,000

মাসিক লেনদেনের পরিমাণ
সেবার নাম সংখ্যা পরিমাণ 
ক্যাশ ইন0/505,00,000
সেন্ড মানি0/1505,00,000
মুবাইল রিচার্জ   0/15001,00,000
ক্যাশ আউট 0/505,00,000
কাস্টমার কেয়ার নাম্বার
16167
এতক্ষণ আমরা আলোচনা করলাম নগর সার্ভিস সম্পর্কে এখন আমরা কিভাবে এই নব সার্ভিসটা নেব এবং কিভাবে রেজিস্ট্রেশন করব তার জন্য কি আমাদের বাজারে তাদের এজেন্টের কাছে যেতে হবে নাকি আমরা নিজেরাই তৈরি করতে পারব এই প্রশ্ন আপনার মনে অবশ্যই জেগেছে।
সমস্যা নেই আপনার বাজারে যেতে হবে না আপনার মোবাইল ফোন এর মাধ্যমে আপনি নগদ একাউন্ট তৈরি করতে পারবেন প্রথমে নিচের ডাউনলোড লিংক থেকে ডাউনলোড করে নিন প্লে স্টোর থেকে
নগদ একাউন্ট খুলতে যা লাগবে
আপনি মোবাইল দ্বারা একটি নগদ একাউন্ট তৈরি করতে চাইলে আপনার কাছে যা প্রয়োজন হবে….
1. ন্যাশনাল আইডি কার্ড।।
2. একটি অ্যাক্টিভ সিম কার্ড।।
3. আপনি যান ন্যাশনাল আইডি কার্ড দিয়ে নগদ একাউন্ট খুলবেন তার একটি সেলফি নিতে হবে।।
নগদ একাউন্ট কিভাবে খুলবেন
প্রথমে প্লে স্টোর থেকে ডাউনলোড করা অ্যাপ ওপেন করুন এবার নিচের দিকে একটু লক্ষ্য করুন দেখুন রয়েছে রেজিস্ট্রেশন ক্লিক করুন

এখন যে Number  দিয়ে Nagad Account  খুলতে চান সেই Number  দিয়ে (পরবর্তী ধাপ) রয়েছে  Click করুন

আপনি যে Number  দিয়ে Account  খুলেছেন সেই নাম্বারটা কি গ্রামীন, বাংলালিংক, এয়ারটেল, রবি, যে Number  হোক সেটা এখানে সিলেক্ট করে দিন তারপর (পরবর্তী ধাপ) রয়েছে Click করুন

এবার আপনাকে National ID card আপলোড করতে হবে যদি আপনার National ID card নতুন হয়ে থাকেন তাহলে নতুন
না হলে পুরাতন দিয়ে দিন
এখন ক্লিক করুন (পরবর্তী)

এখন আপনাকে National ID card আপলোড করতে হবে অর্থাৎ আপনি আপনার National ID card এর পিকচার তুলতে হবে ক্যামেরার মাধ্যমে
তার জন্য দেখুন ক্যামেরা ICone রয়েছে প্রথম ক্যামেরা আইকন icone এ আপনি আপনার National ID card এ প্রথম পেজ তুলে ক্রুপ করে আপলোড করে দিন
এবং দ্বিতীয় ক্যামেরা আইকনের ব্যাক পাট দিয়ে দিন
সবকিছু ঠিকঠাক করে আপলোড করে (পরবর্তী) ধাপ ক্লিক করুন

এখন দেখুন আপনার সমস্ত তথ্য ওরা নিয়ে নিয়েছে আপনাকে কষ্ট করে আর কিছু লিখতে হবে না
এখন (পরবর্তী) ধাপ ক্লিক করুন

তারপর আপনার ব্যক্তিগত তথ্য অর্থাৎ আপনি যদি পুরুষ অথবা মহিলা হন তাহলে দিয়ে দিন যাই হোন না কেন আপনার আইডি কার্ড এর তথ্য অনুযায়ী…
একদম নিচে রয়েছে দেখুন মুনাফা গ্রহীতা একাউন্ট আপনি (না) দিয়ে দিন
এবার ক্লিক করুন (পরবর্তী)

এবার আপনি যান National ID card আপলোড করেছেন অর্থাৎ যার National ID card দিয়ে একাউন্ট খুলতে চান
তার একটি সেলফি ছবি তুলতে হবে তার জন্য ক্যামেরা আইকন এ ক্লিক করে একটি সেলফি আপলোড করে দিন
তারপর (পরবর্তী) ধাপ ক্লিক করুন

যদি আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকে তাহলে আপলোড করুন না হলে স্কিপ করে চলে যান

এবার আপনি স্বাক্ষর দিয়ে দিন দেখতে পারছেন  যেখানে আমি লিখেছি হুসাইন এই জায়গাতে আপনি আপনার সিগনেচার দিয়ে দিন
তারপর (পরবর্তী) ধাপ ক্লিক করুন

এবার আপনার যত ডকুমেন্ট আপলোড করেছেন তাই একসাথে দেখাবে
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে (পরবর্তী) ধাপ ক্লিক করুন

এখানে আসার পর দেখুন আপনি যার নামে অ্যাকাউন্ট করেছেন দেখিয়ে দিচ্ছে আপনাকে
 কিছুই করতে হবে না ক্লিক করুন (পরবর্তী)

আপনি যে নাম্বার দিয়েছেন নগদ একাউন্ট খোলার জন্য  সেই নাম্বারে দেখুন একটি কোড চলে গিয়েছে  সেই কোড কপি করে এনে সেখানে বসিয়ে দিন
 তারপর ক্লিক করুন (যাচাই করুন)

এবার আপনাকে সেই মোবাইল  ফোন হাত নিতে হবে যে নাম্বার দিয়েছিলেেন প্রথমে আবার ডায়াল করুন *167# 
এখন দেখুন নতুন পিন কোড দেওয়ার জন্য অপশন এসেছে নতুন পিন কোড দিয়ে দিন ইচ্ছে মত চার পাঁচ ছয় ডিজিটের
আবার কনফার্ম পিন কোড দিন ওকে করে দিন আপনার একাউন্ট কমপ্লিট
এবার বিকাশ অ্যাপ এর মধ্যে যেভাবে ভিজিট করুন ঠিক সেভাবেই ভিজিট করতে পারবেন

এই পোস্ট পড়ে ভালো লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন । 

নোকিয়া (Nokia) ফোন Android Pie আপডেট ফিচার

বাজারে এসে গেছে এন্ড্রয়েড এর নতুন ভার্সন এন্ড্রয়েড পাই। Google এর Pixel সিরিজের স্মার্টফোন গুলি সবার আগেই Android Pie আপডেট পেয়ে গেছে। এবার এন্ড্রয়েড পাই আপডেট এর ঘোষণা দিয়েছে নোকিয়া ফোন প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এইচএমডি গ্লোবাল।

বর্তমানে এন্ড্রয়েড স্মার্টফোন প্রস্তুতকারী কোম্পানি গুলির মধ্যে গ্রাহকদের লেটেস্ট এন্ড্রয়েড আপডেট দেওয়ার সুনামে এক নম্বরে আছে নোকিয়া ব্র্যান্ড। শিঘ্রই কোম্পানির সকল স্মার্টফোনে  এন্ড্রয়েড পাই আপডেট পৌঁছে যাবে বলেছেন এইচ এমডি গ্লোবাল। যেসব ফোনে এখন এন্ড্রয়েড ওরিও ভার্সন চলছে সেই সকল মডেল গুলিতে এন্ড্রয়েড পাই আপডেট পাওয়া যাবে।
Android Pie আপডেট পাবে নোকিয়ার যে সকল ফোন
Nokia 1Nokia X5
Nokia 2Nokia 6
Nokia 2.1Nokia 6.1
Nokia 2.1Nokia X6 aka Nokia 6.1 Plus
Nokia 3Nokia 7
Nokia 3.1Nokia 7 Plus
Nokia 5Nokia 8
Nokia 5.1Nokia 8 Sirocco
সম্প্রতি Nokia কোম্পানি ব্যস্ত ব্যবহারকারীদের ফোনে Android Pie আপডেট পৌঁছে দেওয়ার কাজে। নকিয়ার যে সকল ফোনে স্ন্যাপড্রাগন ৬০০ সিরিজ এর চিপসেট রয়েছে সেই সব আগে ফোনে এন্ড্রয়েড এর এই লেটেস্ট আপডেট আগে দেওয়া হবে। এই তালিকায় আছে Nokia 6.1 এবং Nokia 6.1 Plus মডেলের ফোন। অক্টোবর মাসের মদ্ধেই এই দুই মডেলের ফোন Android Pie আপডেট পেয়ে যাবে।
পাশাপাশি Nokia 8 এবং Nokia 8 Sirocco মডেলের ফোন ব্যবহারকারীরা এন্ড্রয়েড পাই আপডেট পাবেন নভেম্বর মাসে।
এছাড়া এই বছরের শেষে Nokia কোম্পানির অন্যান্য ফোনগুলিতে লেটেস্ট Android Pie আপডেট পৌঁছে যাবে।

আইফোনের (Iphone) অটো আপডেট কিভাবে বন্ধ করতে হয় জেনে নিন


আইফোন অনেক সময় অ্যাপের অটো আপডেট নিয়ে থাকে। ব্যবহারকারীরা কিছু অ্যাপের আপডেট  করতে না চাইলেও সেগুলি অটো আপডেট নিয়ে থাকে। আইফোন আপডেট ব্যবহারকারীর ইন্টারনেট ডাটা ও ব্যাটারি চার্জ বেশি খরচ করে ফেলে। তবে আইফোন ব্যবহারকারীরা চাইলেই আইফোনের অটো আপডেট বন্ধ করে রাখতে পারেন।
কিভাবে আইফোন আপডেট বন্ধ করে রাখবেন তা নিচে ছবিসহ দেয়া হল।
প্রথমে আইফোনের সেটিংস অপশনে যেতে হবে, তারপর সেটিংস থেকে স্ক্রল করে ‘itunes & app store’ মেনুতে ক্লিক করতে হবে।
তারপর ‘automatic downloads’ মেনু থেকে Music, Apps, Books & Audiobooks এবং Updates অপশনগুলো অফ বা আনচেক করে দিতে হবে।

পরের ধাপে ‘Use Mobile Data’ অপশন ও আনচেক বা অফ করে রাখতে পারেন। তাহলে মোবাইল ডাটা দিয়ে কোনো অ্যাপ অটো আপডেট হবে না। এতে আইফোনের অটো আপডেট বন্ধ হয়ে বেঁচে যাবে মোবাইল ডেটা ও ব্যাটারি চার্জ।
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

কিভাবে বুঝবেন, আপনার ফোনের কথা অন্য কেউ শুনছে কিনা বিস্তারিত জেনে নিন

অনেকের অনেক টাইপের মতলব থাকতে পারে, যার জন্য আপনার ফোন ট্যাপ করা একেবারেই অবিশ্বাস্য কোন ব্যাপার নয়। হতে পারে আপনার অফিসের বস, আপনার প্রেমিক/প্রেমিকা, আপনার পরিবারের কেউ, অসৎ ব্যাক্তি, বা পুলিশও আপনার ফোন ট্যাপ, ট্র্যাক, বা মনিটর করতে পারে। বিশ্বাস করুণ, আপনি একেবারেই একা নয়, বহু মানুষের ফোন আজকাল নানানভাবে ট্যাপ করা হচ্ছে, আর আপনার কথোপকথন গুলো আড়ি পেতে শোনার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই স্মার্টফোনের যুগে ফোন ট্যাপিং জিনিষটা অনেক বেশি সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনার সেলফোন নেটওয়ার্ক হ্যাক করার দরকার পড়বে না, হ্যাকার জাস্ট আপনার ফোনের ভালনেরাবিলিটি খুঁজে বের করে সহজেই আপনার ফোনকে ট্যাপিং ডিভাইজে পরিণত করে ফেলতে পারে। অনেকে ফোনের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বা নানান টাইপের তৃতীয় পক্ষ অ্যাপ ব্যবহার করার জন্য ফোন রুট বা জেল ব্রেক করে থাকে, এতে এসকল ক্ষতিকর অ্যাপ সহজেই কাজ করার অনুমতি পেয়ে যায়।

যাই হোক, এই আর্টিকেলে কিছু ক্লেভার আইডিয়া প্রকাশ করলাম, যেগুলো থেকে বুঝতে পারবেন আপনার ফোন ট্যাপ করে কেউ আপনার কথোপকথনের উপর নজর রেখেছে কিনা।

আমার ফোন ট্যাপ করা হয়েছে কিনা?

ফোন বর্তমানে গোসল খানার চাইতেও অনেক বেশি প্রাইভেট জিনিষে পরিণত হয়েছে, আর ফোন ট্যাপিং করার মাধ্যমে আপনার সকল প্রাইভেসি গুড়িয়ে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। আপনি হয়তো চিন্তা করছেন সেলফোন কোম্পানির কারো সাহায্য ছাড়া কিংবা পুলিশ ছাড়া কেউ ফোন ট্যাপ করতে পারবে না। আসলে আপনার স্মার্টফোন ট্যাপিং বা মনিটর করা পানির মতো সহজ কাজ। জাস্ট আপনার ফোনে স্প্যাইং অ্যাপ একবার ইন্সটল করিয়ে দিতে পারলেই কাজ শেষ। বিশেষ করে আপনার ফোন যদি রুটেড হয়ে থাকে, তবে এরকম অ্যাপ আপনার ধারণার বাইরে আপনার ফোনে কাজ করবে, আর আপনি টু পর্যন্ত টের পাবেন না।
চিন্তা করে দেখুন, আপনি সাড়াদিন ফোনে কতো গুলো কল করেন, কতো টাইপের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গুলোর সাথে ডিল করেন, আর সেগুলো যদি কোন তৃতীয় পক্ষের কাছে চলে যায় সেটা কতো ভয়ংকর ব্যাপার হতে পারে। কল ট্যাপিং যেকোনো দিক থেকেই আপনার জন্য ক্ষতিকর হিসেবে প্রমাণিত হতে পারে। তবে চিন্তার খুব একটা বেশি কারণ নেই, নিচের প্যারাগ্রাফ গুলোতে আমি কিছু কৌশল শিখিয়ে দিচ্ছি, যেগুলো সঠিক অনুসরণ করলে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন আপনার ফোন কেউ স্প্যাইং করেছে কিনা।

১। অস্বাভাবিক ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ

ফোন ট্যাপ করা হলে বিশেষ করে কলিং এর সময় বা কথা বলার সময় আজব টাইপের ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ শুনতে পাওয়া যায়। আপনি যদি বিপবিপ সাউন্ড বা আজব টাইপের যেকোনো স্ট্যাটিক সাউন্ড শুনতে পান, হতে পারে আপনার ফোন কল অন্য কেউ শুনছে। বিশেষ করে যখন আপনি কথা না বলে চুপ থাকেন, সে সময়ও যদি ফোনে নয়েজ আসে, তাহলে হতে পারে আপনি ট্যাপিং এর শিকার হয়েছেন।
প্রয়োজনে আপনার ফোন কল রেকর্ড করুণ, Audacity সফটওয়্যার ব্যবহার করে আপনার কলের ভয়েজ বা অডিও স্ট্র্যাকচার চেক করে দেখুন, যদি অস্বাভাবিক ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ ফর্ম দেখতে পান, সেক্ষেত্রে ব্যাপারে ঝামেলা আছে বুঝে নিতে হবে। তবে সব সময় এমন নাও হতে পারে, নেটওয়ার্ক জনিত কারণেও এরকম হতে পারে, কিন্তু যদি সব সময়ই এরকম হয় তাহলে নিশ্চয় সমস্যা আছে। যদি আপনি ল্যান্ডলাইন ইউজ করে থাকেন সেক্ষেত্রে ফোন হুক থাকা অবস্থাতেও যদি বিপবিপ আওয়াজ করে সেক্ষেত্রে ফোন ট্যাপ করা হতে পারে।
আপনার ফোনে ভালো নেটওয়ার্ক থাকার পরেও যদি কথা ভেঙ্গে ভেঙ্গে যায়, তাহলে সেটা আড়ি পাতার লক্ষন হতে পারে, আবার বলছি এটা নেটওয়ার্ক জনিত কারনেও হতে পারে কিন্তু সর্বদাই যদি এমন হয় বা হঠাৎ করে এমন হতে শুরু করে অবশ্যই কোন সমস্যা হয়েছে, যেটা ভালো লক্ষন নয় মোটেও।

২। ব্যাটারি লাইফ চেক করুণ

হঠাৎ আপনার ফোনের ব্যাটারিতে বেশি চার্জ খেয়ে নেওয়া, আপনার ফোন ট্যাপ হওয়ার আরেকটি মোক্ষম কারণ হতে পারে। আপনার ফল কল গুলো অ্যাপের সাহায্যে তৃতীয়পক্ষ কারো কাছে সেন্ড করা হচ্ছে, এতে অবশ্যই ফোনকে দিগুন কাজ করতে হচ্ছে আর এর জন্য চাই বেশি পাওয়ার। আপনি যদি হঠাৎ লক্ষ্য করেন সেখানে আপনার ফোনের চার্জ সারাদিন চলে যেতো, সেখানে কেবল কয়েক ঘণ্টা যাচ্ছে, হতে পারে আপনার ফোন ট্যাপ করা হয়েছে।
তবে এই ব্যাপারে গভীর ধারণা পাওয়ার জন্য আপনার ব্যবহার আপনাকে ট্র্যাক করতে হবে। ভালো করে লক্ষ্য করে দেখুন, আপনার ফোনে কেন চার্জ থাকছে না। আপনি কি আগের থেকে বেশি কল করছেন, নাকি বেশি ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন। অ্যান্ড্রয়েড ফোন হোক আর আইফোন, প্রত্যেক অপারেটিং সিস্টেমে বিস্তারিত ব্যাটারি তথ্য থাকে, সেখানে খুব সহজেই চেক করতে পারবেন।
যদি আপনার ইউজ ঠিক আগের মতোই থাকে, কিন্তু তারপরেও ব্যাটারি লাইফ কমে যায়, তাহলে নিশ্চয় সমস্যা রয়েছে। তবে আপনার ফোনের ব্যাটারির বয়স যদি ১ বছরের বেশি হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে ব্যাটারি পারফর্মেন্স কমে যাওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার, আর এর জন্য এই আর্টিকেলটি দেখে নিতে পারেনঃ কীভাবে স্মার্টফোন ব্যাটারি এর সঠিক যত্ন নেবেন?
যখন আপনার ফোনের ব্যাটারি চার্জ ড্রেইন করবে অবশ্যই স্বাভাবিকের তুলনায় ফোন গরম হয়ে উঠবে। এখন আপনি যদি ফোন ব্যবহার না করেও লক্ষ্য করেন জে ফোনটি গরম হচ্ছে সেক্ষেত্রে অবশ্যই ব্যাকগ্রাউন্ডে কোন ট্যাস্ক কাজ করছে এবং এটিও একটি অন্যতম লক্ষণ।

৩। ফোনটি শাটডাউন করে দেখুন

আপনার ফোন ট্যাপ বা মনিটর করা হলে অবশ্যই ফোনে আজব আজব কর্মকাণ্ড ঘটতে দেখা যাবে। হয়তো আপনার ফোন কোন কারণ ছাড়ায় রিস্টার্ট নিতে আরম্ভ করবে বা হঠাৎ হঠাৎ করে ফোনের আলো জ্বলে উঠতে পারে, এতে আপনার বুঝে যেতে হবে ফোনে নিশ্চয় কারো রিমোট আক্সেস রয়েছে।
আরো পরিস্কার করে বোঝার জন্য আপনার ফোনটি শাটডাউন করে দেখুন। ফোন শাটডাউন হওয়ার সময় অপারেটিং সিস্টেম অবশ্যই সকল চলমান ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস টারমিনেট করে দেয়, যদি ব্যাকগ্রাউন্ডে কোন ম্যালিসিয়াস প্রসেস চলতে থাকে সেটাকে শাটডাউন করতে ফোনের সময় লেগে যাবে, ফলে শাটিং ডাউন প্রসেস অনেক লম্বা হয়ে যেতে পারে। যদি সম্পূর্ণ ফোন শাটডাউন হওয়ার পরেও স্ক্রীনে আলো জ্বলে থাকে বা শাটডাউন নিতে অনেক দেরি হয় কিংবা শাটডাউন ফেইল হয়ে যায়, তাহলে অবশ্যই কোন সমস্যা রয়েছে।
তবে অনেক সময় আলাদা কারণেও এরকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যদি আপনি রিসেন্টলি আপনার ফোন ওএস আপডেট দিয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে আপডেটে কোন সমস্যা থাকলে ফোন পাগলের মতো আচরন করতে পারে।

৪। আজব ফোন অ্যাক্টিভিটি

আপনার ফোনটি যদি ট্যাপ করা হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে ফোনের অ্যাক্টিভিটি গুলো অন্য টাইপের হতে আরম্ভ করবে। ফোন নিজে থেকেই রিস্টার্ট নেবে, শাটডাউন করবে বা আপনার অনুমতি বা কোন অ্যাক্টিভিটি ছাড়ায় বিভিন্ন অ্যাপ ইন্সটল করবে। হ্যাকার তার ইন্সটল করানো ম্যালিসিয়াস অ্যাপ থেকে আরো অ্যাপ ইন্সটল করানোর চেষ্টা করে, যাতে ফোনের আরো বেশি অংশে কন্ট্রোল গ্রহণ করা সম্ভব হয়।
আরেকটি ব্যাপার মাথায় রাখতে হবে, আপনার ফোন ট্যাপ করা হলে ফলে আজব টাইপের এসএমএস আসতে পারে। যদি কোন এসএমএস দেখতে শুধু কোড বা আলাদা টাইপের ভাষার হয়ে থাকে বিশেষ করে যেটার কোন অর্থই নেই, এতে অনেক সুযোগ বেড়ে যায় আপনার ফোনটি কেউ আড়ি পেতে রেখেছে। আসলে হ্যাকার বিভিন্ন ম্যালিসিয়াস এসএমএস ইউজ করে তার ম্যালিসিয়াস স্প্যাইং অ্যাপে কম্যান্ড দিয়ে থাকে।
তাছাড়া আপনার ফোনের পারফর্মেন্স ও কমে যেতে পারে, এবং আজব টাইপের পপআপ অ্যাডস আসতে শুরু করতে পারে। হঠাৎ করে ফোনের পারফর্মেন্স অনেক কমে গেলে বুঝে নিতে হবে ফোনে নিশ্চয় কোন ম্যালওয়্যার প্রবেশ করেছে, বিশেষ করে পপআপ দেখানো শুরু করলে।

৫। ইলেকট্রনিক ইন্টারফেরেন্স চেক করুণ

আপনি নিশ্চয় জানেন বা লক্ষ্য করে থাকবেন হয়তো, যখন আপনি ফোনে কল করেন আর ফোনটি যদি কোন স্পীকারের সামনে থাকে তো স্পীকারে বিপবিপ শব্দ করতে শুরু করে দেয়। তাছাড়া আপনার ল্যাপটপ, আলাদা ফোন, বা টিভিতেও বিপবিপ নয়েজ শোনা যেতে পারে। এখন আপনার যদি কলিং অবস্থায় না থাকে, সেক্ষেত্রে ইলেকট্রনিক ইন্টারফেরেন্স বা বিপবিপ শব্দ করা উচিৎ নয়।
যদি দেখেন, কল না করেও আপনার ফোন স্পীকারের সামনে বা টিভির সামনে নিয়ে গেলে বিপবিপ আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে, অবশ্যই সমস্যা রয়েছে, আপনার ফোন কেউ ট্যাপ করে রেখেছে এবং শুধু কল আড়ি পেতে শুনছে না বরং আপনার প্রত্যেক মুহূর্তের কথাবার্তা গুলোর উপরও নজর রাখা হয়েছে।

৬। হঠাৎ ফোন বিল বেড়ে যাওয়া

স্প্যাইং অ্যাপ গুলো আপনার ফোনের সেলুলার ডাটা ইউজ করতে পারে, যদি আপনার ফোনে কোন ডাটা প্ল্যান অ্যাক্টিভ করা না থাকে, সেক্ষেত্রে ফোনের বিল প্রচণ্ড হারে বেড়ে যেতে পারে। আপনি যদি পোস্ট পেইড প্ল্যান ব্যবহার করেন সেক্ষেত্রে মাসের শেষে বড় পরিমানে বিল চলে আসতে পারে, যদি প্রিপেইড প্ল্যান ব্যবহার করেন সেক্ষেত্রে ব্যালেন্স তুলতেই নাই হয়ে যেতে পারে।
ম্যালিসিয়াস অ্যাপ গুলো নিজে থেকেই ডাটা অন করে কাজ করতে পারে, এতে আপনি জানতেও পারবেন না। তবে হঠাৎ করে ফোনের ডাটা বেশি খরচ হওয়ার আরো বৈধ কারণ থাকতে পারে। যেমন ধরুন, আপনি নতুন কোন অ্যাপ ডাউনলোড করেছেন যেটা অনেক বেশি ডাটা কনজিউম করছে বা হতে পারে আপনার বাড়িতে বাচ্চা রয়েছে সে ভুল করে ডাটা চালু করে রেখে দিয়েছে, এতেও বিল বেড়ে যেতে পারে। তাছাড়া এসএমএস বিল এবং কলের বিলের উপরও নজর দিতে পারেন, যদি লক্ষ্য করে দেখেন আপনার হিসেবের বাইরে কল/এসএমএস সেন্ড করা হয়েছে এবং বেশি বিল এসেছে, সেক্ষেত্রে হতে পারে আপনার ফোনটি ট্যাপ করা হয়েছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই বিপদ থেকে দূরে থাকার উপায় কি? — সমস্যা নেই, নিচের পারাগ্রাফে আমি নিরাপত্তা নিয়েই আলোচনা করেছি। আশা করছি আপনার উপকারে আসবে!

কিভাবে নিরাপদে থাকবো?

নিরাপদ থাকতে অবশ্যই কমন সেন্স ব্যবহার করা জরুরী!
স্মার্টফোনে বিশেষ করে ম্যালিসিয়াস অ্যাপ ইন্সটল করানোর মাধ্যমেই ফোন ট্যাপিং করা হয়ে থাকে। তবে পুলিশ বা অপারেটর থেকে যদি ট্যাপ করার চেষ্টা করে সেক্ষেত্রে বিষয়টি আলাদা হতে পারে। এখন যেহেতু হ্যাকার অ্যাপ দ্বারাই আপানার ফোন আক্রান্ত করানোর চেষ্টা করবে, তাই সাইড লোড মানে গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপেল অ্যাপ স্টোর ব্যাতিত অ্যাপ ডাউনলোড করা উচিৎ হবে না। প্লে স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করলে আপনার ম্যালওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সুযোগ অনেক বেশি কমে যায়।
ফোনের অফিশিয়াল অ্যাপ স্টোরে প্রত্যেকটি অ্যাপ অ্যালাউ করার পূর্বে অবশ্যই তারা ম্যালওয়্যার স্ক্যান করে এবং অ্যাপটির সোর্স কোড নিরীক্ষা করে দেখা হয়। গুগলের প্লে প্রটেক্টনামের প্রজেক্ট বিশেষ করে ম্যালওয়্যার থেকে নিরাপত্তা প্রদান করার জন্যই কাজ করে। তবে তারপরেও অ্যাপের মধ্যে ম্যালিসিয়াস কোড লুকিয়ে থাকতে পারে, কিন্তু সেটা অত্যন্ত নগণ্য কেসে ঘটে।
তবে শুধু প্লে স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করলেই হবে না, আপনাকে নিজেকেও কমন সেন্স ব্যবহার করতে হবে। যদি দেখেন এমন কোন অ্যাপ যার ম্যাসেজ নিয়ে কোন কাজ নেই কিন্তু কল হিস্ট্রি বা ম্যাসেজ পারমিশন পেতে চাচ্ছে, শিউর কোন সমস্যা রয়েছে। অনেক গেমও কল হিস্ট্রি বা ম্যাসেজ পারমিশন চায়, এখন এর বৈধ কারণও থাকতে পারে, কিন্তু সেটা আপনাকে জাচায় করতে হবে। অ্যাপটি কতোটা ভরসা যোগ্য সেটা নির্ণয় করুণ এবং উল্টাপাল্টা পারমিশন অ্যালাউ করা থেকে বিরত থাকুন।
অনেক হ্যাকার জনপ্রিয় অ্যাপের নাম এবং আইকন কপি করে হুবহু স্টাইলের ফেক অ্যাপ তৈরি করে। এজন্য কোন অ্যাপ ডাউনলোড করার আগে অবশ্যই প্লে স্টোর থেকে অ্যাপটির ডেভেলপার নাম দেখে নিন তারপরে ডাউনলোড করুণ। ফেক অ্যাপ আপনার নানান ভাবে ক্ষতি করতে পারে। অনেক টাইপের ফেক অ্যাপ রয়েছে যেগুলো আপনার ব্যাংকের সব টাকা হাওয়া করে দিতে পারে।
বাসায় যদি ছোট বাচ্চা থাকে অবশ্যই ফোনে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল এনাবল করে রাখুন, এতে আপনার বাচ্চা ভুলবশত ম্যালিসিয়াস অ্যাপ ডাউনলোড করতে পারবে না। আর হ্যা, ফোন রুট করা বা জেল ব্রেক করা থেকে নিজেকে বিরত রাখুন, যদি করতেই হয় তাহলে অবশ্যই আপনাকে একজন পাওয়ার ইউজার হতে হবে। আপনি যদি নাইবা জানেন রুট কি, তাহলে এগুলো থেকে দূরে থাকুন।
উপরের প্যারাগ্রাফ গুলো থেকে যদি কতিপয় লক্ষণ আপনার সাথে ঘটে সেক্ষেত্রে অনেকটায় নিশ্চিত ভাবে বলা যেতে পারে আপনার ফোন ট্যাপ করা হয়েছে মানে কেউ আড়ি পেতে আপনার ফোনের সকল কথা শুনছে বা ইচ্ছা মতো ফোনকে রিমোট ভাবে কন্ট্রোল করছে। তবে যদি একটি বা দুইটি লক্ষণ দেখা যায় সেক্ষেত্রে আলাদা সমস্যাও হতে পারে, আর কি আলাদা টাইপের সমস্যা হতে পারে এগুলোতো উপরেই আলোচনা করে নিয়েছি।

কীভাবে মোবাইল এর ব্যাটারি ঠিক যত্ন নিতে হয় বিস্তারিত জেনে নিন

স্মার্টফোন ব্যাটারি এর ধরণ গত কয়েক বছরে অনেক বদলে গেছে। ব্যাটারি টেকনোলজির তেমন একটা পরিবর্তন না হলেও এর লাগানোর পদ্ধতি পরিবর্তন হয়ে গেছে। আজকালকার প্রায় সকল আধুনিক স্মার্টফোন এর ব্যাটারি বদ্ধভাবে লাগানো থাকে। অর্থাৎ একজন সাধারণ ব্যবহারকারী নিজে থেকে তার ফোন এর ব্যাটারি পরিবর্তন করতে পারবেন না। এবং কোনো কারনে আপনার ব্যাটারিটির ত্রুটি দেখা দিলে আপনাকে সার্ভিস সেন্টারে যেতে হবে।
এজন্য আজকাল স্মার্টফোন ব্যাটারি এর সঠিক যত্ন নেয়া আবশ্যক হয়ে পড়েছে। আজকের এই পোস্ট এ আমি আলোচনা করবো এমন কিছু বিশেষ উপায় নিয়ে যার মাধ্যমে আপনি আপনার স্মার্টফোনটির ব্যাটারির বিশেষ যত্ন নিতে পারবেন। এবং আপনাকে ব্যাটারি পরিবর্তন করতে বারবার সার্ভিস সেন্টারে যেতে হবে না। দেখুন আপনার ফোনটির মধ্যে কেবল ব্যাটারিই এমন একটি অংশ যা সবচেয়ে আগে নষ্ট হতে পারে। বাকী যেসকল যন্ত্রাংশ আছে যেমন মাদারবোর্ড, র‍্যাম, প্রসেসর ইত্যাদি এগুলোকে আপনি যদি সাধারন ব্যবহার করেন তবে সেগুলো অনেক দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। কিন্তু ব্যাটারি সাধারন ব্যবহার করার পরেও খারাপ হয়ে যেতে পারে। যাই হোক, আর ভূমিকা না বাড়িয়ে মূল আলোচনায় প্রবেশ করা যাক।
অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল এর ৬ টি কমন সমস্যা ও সমাধান

স্মার্টফোন ব্যাটারি এর চার্জিং অভ্যাস ঠিক করুন

স্মার্টফোন ব্যাটারি এর সঠিক যত্ন
ব্যাটারির বিশেষ যত্ন রাখতে যেটি প্রথম ধাপ তা হলো ব্যাটারির চার্জিং অভ্যাস ঠিক করা। আপনার কখনোয় ব্যাটারিকে ০% ডিসচার্জ করা উচিৎ নয়। বা এমনটাও করা যাবে না যে, আপনি ব্যাটারি প্রতিদিন ০% ডিসচার্জ করছেন তারপর আবার ১০০% চার্জ করছেন। কিংবা সারাদিন ফোন ব্যবহার করতে করতে ১০০% থেকে ০% ডিসচার্জ করে ফেললেন। আপনি মাসে একবার ০% ডিসচার্জ করতে পারেন, যাইহোক একটু পরে এ নিয়ে আলোচনা করছি।তাহলে সঠিক উপায় কি? জী, সঠিক উপায় হলো দিনে একাধিকবার স্মার্টফোন ব্যাটারি রিচার্জ করা। মনে করুন আপনি ২০% এর পরে চার্জ করা শুরু করলেন এবং ৭০% বা ৮০% পর্যন্ত চার্জ করলেন। আবার চার্জ ২০% বা ১৫% এ নেমে আসলো তারপর পুনরায় চার্জ এ লাগালেন।
ব্যাটারি চার্জিং এর এই অভ্যাসটি আপনি একটি মানুষের সাথে তুলনা করতে পারেন। যেমন একটি মানুষ সারাদিন কাজ করার সময় কাজের ফাঁকে ফাঁকে হালকা খাবার খেয়ে থাকে কিংবা পানি পান করে থাকে। এতে সে সুস্থ থাকবে এবং বেশি দীর্ঘস্থায়ী ভাবে কাজ করতে পারবে। কিন্তু কেউ যদি সারাদিন ননস্টপ ভাবে কাজ করে কিন্তু একবারও না খায় বা সারাদিন কাজ করলো তারপর ক্লান্ত এবং ক্ষুদার্থ হয়ে রাতে একবারে সারাদিনের খাবার খেলো তবে সে এই অনিয়মের জন্য খুব বেশিদিন সুস্থ থাকতে পারবে না। এবং ধিরেধিরে তার কার্যক্ষমতাও লোপ পাবে
দৈনন্দিন কাজকে সহজ করতে ১০ টি প্রয়োজনীয় অ্যাপ
স্মার্টফোন ব্যাটারি ও অনেকটা এই নীতিতেই কাজ করে। তাই ব্যাটারি এর চার্জিং অভ্যাস ঠিক খুবই প্রয়োজন। আরেকটি বিষয় আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে যে, অন্তত মাসে একবার বা ২০-২৫ দিনে একবার আপনার ফোনের ব্যাটারি ০% ডিসচার্জ করে ১০০% চার্জ করতে হবে। ব্যাটারির ভেতর অবস্থিত সেল গুলো বারবার চার্জ এবং ডিসচার্জ হওয়ার ফলে দুর্বল হয়ে পড়ে। তো আপনি যদি একমাসের ভেতর একবার পুরা ডিসচার্জ করে রিচার্জ করেন তবে সেল গুলোর আগের ক্ষমতা ফেরত পেয়ে যায়। যেমনটা আমাদের রক্তদান করার সময় হয়ে থাকে।
আরেকটি বিষয় জেনে রাখুন যে প্রতিটি ব্যাটারির একটি নির্দিষ্ট জীবনচক্র বা লাইফ সাইকেল থাকে। সেটা স্মার্টফোন ব্যাটারি হোক আর ল্যাপটপ ব্যাটারি হোক কিংবা আপনার ট্যাবলেট এর ব্যাটারি হোক। সাধারনত একটি ফোন এর ব্যাটারিতে ১০০০ লাইফ সাইকেল থাকে। ১০০০ লাইফ সাইকেল থাকার মানে হচ্ছে এই ব্যাটারিটি ১০০০ বার ডিসচার্জ এবং চার্জ হতে পারবে। এমনটা নয় যে ১০০০ লাইফ সাইকেল পার হয়ে যাবার পরে ব্যাটারিটি কাজ করা বন্ধ করে দেবে। এমনটা হতে পারে যে আগে যে চার্জ সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকতো তা এখন বেলা ১ টা পর্যন্ত থাকছে। ১০০০ লাইফ সাইকেল এর দিকে লক্ষ্ করলে, একটি ব্যাটারির আয়্যু প্রায় ৩ বছরের মতো।

আমি এ কথা বারবার বলতে চাই যে যেসকল ফোন এর ব্যাটারি খোলা যায় না অর্থাৎ নন-রিমুভআবোল ব্যাটারি রয়েছে সেসকল ব্যাটারির জন্য চার্জিং অভ্যাস ঠিক করাটা বিশেষ জরুরী। তা না হলে এমনটাও হতে পারে যে ফোন কেনার ৬ মাস এর মাথায় ব্যাটারি পরিবর্তন করার জন্য সার্ভিস সেন্টারে যেতে হচ্ছে, তাও শুধু মাত্র এ জন্য যে আপনার চার্জিং অভ্যাস ঠিক ছিল না। যেসকল ফোন এর ব্যাটারি খোলা যায় সে ফোন গুলোর কথা আলাদা। সেই ফোনগুলোতে আপনি যখন চাইবেন যেভাবে চাইবেন ব্যাটারি পরিবর্তন করতে পারবেন।

ভালো এবং সঠিক চার্জার ব্যবহার করুন

স্মার্টফোন ব্যাটারি যত্ন
স্মার্টফোন ব্যাটারি সুস্থ রাখতে সঠিক এবং ভালো চার্জার ব্যবহার করা খুবই প্রয়োজন। কোনো কারনে আপনার যদি মনে হয় যে আপনার চার্জার দিয়ে আপনার ফোনটি ভালোভাবে চার্জ হচ্ছে না তবে আপনি বিনা দ্বিধায় অন্য চার্জার ব্যবহার করতে পারেন। অথবা আপনার ফোনটি যদি কুইক চার্জিং সমর্থন করে তবে আপনি যেকোনো কুইক চার্জার ব্যবহার করতে পারেন। কুইক চার্জিং প্রযুক্তি সম্পর্কে লেখা আমার পোস্ট টি যদি না পড়ে থাকেন তবে পড়ে আসতে পারেন। তবে হাঁ, একটা বিষয়ের উপর খেয়াল রাখা বিশেষ প্রয়োজন আছে। আপনি যে তৃতীয় পক্ষ চার্জারই ব্যবহার করুন না কেনো এর ভোল্ট যেন আপনার আসল চার্জার এর সাথে মিল থাকে। চার্জারটি কত মিলি অ্যাম্পিয়ার বা এর কারেন্ট কত এতে কোনো যায় আসে না।
কেনোনা আপনার ফোনটির ভেতর অবস্থিত চার্জিং সার্কিট ঠিক ততটায় কারেন্ট গ্রহন করবে ঠিক যতটা তার করা দরকার। আপনাকে শুধু চার্জারটির আউটপুট ভোল্ট এর দিকে খেয়াল রাখতে হবে। চার্জার এর চার্জারটির আউটপুট ভোল্ট সম্পর্কে আরো বিস্তারিত জানতে আপনি আমার লেখা এই পোস্ট টি পড়ে আসতে পারেন।

ব্যাটারি ওভার চার্জের ভয় একদম করবেন না

স্মার্টফোন ব্যাটারি
অনেকের মনে এই ভুল ধারনাটি থেকে থাকে যে সারা রাত ধরে চার্জ করতে ব্যাটারি ওভার চার্জ হয়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আসলে ব্যাপারটি মোটে সত্যি নয়। গত ৪-৫ বছরে বাজারে যতো স্মার্টফোন আসছে তার সবগুলোতেই ওভার চার্জিং প্রোটেকশন এর এক বিশেষ সার্কিট থাকে। যার ফলে আপনার ব্যাটারির চার্জ ১০০% হয়ে যাবার পরে আর চার্জ গ্রহন করে না। এই সমস্যাটি আজ থেকে ৮-১০ বছর আগে ছিল। আপনারা হয়তো খেয়াল করে থাকবেন যে নকিয়া ফোন গুলোর ব্যাটারি ফুলে যেতো। কিন্তু আজকের দিনে এই বিষয় নিয়ে ভয় করার মতো মোটেও কিছু নেই।

ইন্টারনেট (Internet) ব্রাউজিং যেভাবে আপনার শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে!

একনজরে স্মার্টফোন ব্যাটারি এর সঠিক যত্ন নেয়ার উপায় সমূহ

স্মার্টফোন ব্যাটারি এর সঠিক যত্ন
  • প্রথম কথা তো এটা যে, প্রতিদিন ব্যাটারি ০% ডিসচার্জ তারপর ১০০% রিচার্জ করা যাবে না। এটি মাসে একবার করলে ভালো হয়।
  • নিয়মিত ব্যাটারি চার্জ করতে থাকুন, যদি সম্ভব হয় তবে দিনে অল্প অল্প করে চার্জ করতে থাকুন।
  • আপনি যদি অন্য চার্জার বা অন্য কোম্পানির চার্জার ব্যবহার করতে চান তবে এর ভোল্ট মিল করে নিন। যতো সম্ভব ভালো চার্জার কেনার চেষ্টা করুন। একেবারে সস্তা চার্জার না কেনায় ভালো।
  • এবং শেষ কথা, আপনি আপনার ফোন এর ওভার চার্জিং এর ভয় থেকে বিরত থাকুন।

ইন্টারনেট কি? | কীভাবে ইন্টারনেট কাজ করে? | বিস্তারিত জেনে নিন

শেষ কথা

আশা করি আজকের এই পোস্ট টি আপনাদের অনেক অনেক উপকার এ আসবে। এবং এখন থেকে আপনারা আপনাদের স্মার্টফোন ব্যাটারির সঠিক যত্ন নিতে পারবেন। পোস্ট টি ভালো লেগে থাকলে এবং উপকৃত হয়ে থাকলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। এই সাইট টি নিয়মিত ভিসিট করতে থাকুন। কেনোনা আমি প্রতিদিন এইভাবেই এই রকম বিভিন্ন পোস্ট নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হতে থাকি।

বাংলাদেশে ৪জি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্যগুলো জেনে নিন

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ বাংলাদেশে ফোরজি বা চতুর্থ প্রজন্মের টেলিযোগাযোগ সেবার তরঙ্গ নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর সাথে সাথে ৪জি যুগে প্রবেশের ক্ষেত্রে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করল বাংলাদেশ। ৪জি নেটওয়ার্ক চালু হলে মোবাইলে থ্রিজির চেয়েও দ্রুতগতির ইন্টারনেট সেবা পাওয়া যাবে। তখন আরও ঝকঝকে ও স্পষ্ট ভিডিও/অডিও কল করা যাবে। চলুন জেনে নিই বাংলাদেশে ফোরজি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় কিছু তথ্য।

৪জি এর সুবিধা কী?

ফোরজি হচ্ছে ৪র্থ প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা। ৪জি/এলটিই’র মাধ্যমে দ্রুতগতির তারবিহীন নেটওয়ার্ক কাভারেজ দেয়া যায়। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বর্তমানে চলমান সর্বাধুনিক মোবাইল নেটওয়ার্ক হচ্ছে ফোরজি, যার মাধ্যমে ইন্টারনেটে নিরবিচ্ছিন্ন এইচডি ভিডিও, ঝকঝকে ভিডিও কল, লাইভ টিভি স্ট্রিমিং, এবং অত্যন্ত দ্রুতগতিতে ব্রাউজিং ও ফাইল ডাউনলোড/আপলোড করা যায়।

ফেব্রুয়ারিতেই ৪জি চালু

২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ আনুষ্ঠানিকভাবে ফোরজি চালুর লাইসেন্স পাবে আবেদনকারী মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলো। এর পর যত দ্রুত সম্ভব ৪জি সেবা চালু হবে। ঢাকায় ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই ৪জি সেবা দিতে প্রস্তুত গ্রামীণফোন, রবি-এয়ারটেল, বাংলালিংক ও টেলিটক। বন্ধ হয়ে যাওয়া অপারেটর সিটিসেল তরঙ্গ নিলামে অংশ নেয়নি। ফলে সিটিসেলের পুনরায় চালু হওয়ার সম্ভাবনা দৃশ্যত আর রইলনা।

প্রাথমিকভাবে বড় শহরে

আশা করা যায় ফেব্রুয়ারির ২০ বা ২১ তারিখ থেকেই ঢাকা সহ দেশের বড় শহরগুলোতে ফোরজি সেবা চালু হবে। বিটিআরসির ৪জি নীতিমালা অনুযায়ী, মোবাইল অপারেটরগুলো লাইসেন্স পাওয়ার দেড় বছরের মধ্যে দেশের সব জেলা শহরে সেবাটি চালু করতে হবে, তিন বছরের মধ্যে সব উপজেলায় ৪জি নিতে হবে।

কমপক্ষে থ্রিজির দ্বিগুণ স্পিড

প্রথম আলো জানাচ্ছে, অপারেটরগুলো বলছে তারা মোবাইলে থ্রিজির চেয়ে কমপক্ষে দ্বিগুণ গতির ইন্টারনেট সেবা দেবে ফোরজির মাধ্যমে। সেটা হতে পারে ৭ মেগাবিট/সেকেন্ড বা তার আশেপাশে (সেকেন্ডে কমপক্ষে ১ মেগাবাইট ডেটা ট্র্যান্সফার হবে; ৫এমবি একটি ফাইল ৫ সেকেন্ডে ডাউনলোড হবে)। মোবাইল নেটওয়ার্ক পারফর্মেন্স নিরূপণকারী যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওপেনসিগনালের তথ্যানুযায়ী বর্তমানে বিশ্বে ফোর-জি প্রযুক্তির অ্যাভারেজ স্পিড ১৬.৬ এমবিপিএস। সাইটটি বলছে, গড়ে ভারতে বর্তমানে ৬.১৩ এমবিপিএস এবং পাকিস্তানে ১১.৬৭ এমবিপিএস ফোরজি স্পিড আছে। সিঙ্গাপুরে সবচেয়ে বেশি ৪৬.৬৪ এমবিপিএস ফোরজি স্পিড।

সিম রিপ্লেসমেন্ট/বিশেষ ৪জি সিম দরকার হবে

প্রযুক্তিগত কারণে আপনার বিদ্যমান সিম কার্ডের সাহায্যে শুধুমাত্র ২জি এবং ৩জি নেটওয়ার্ক রিসিভ করতে পারবেন। টুজি/থ্রিজি স্পেসিফিক সিম ৪জি নেটওয়ার্ক সাপোর্ট করবেনা। সুতরাং ফোরজি উপভোগ করতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই ফোরজি সাপোর্টেড সিম কার্ড (প্রয়োজনে রিপ্লেস করে) নিতে হবে। সিম রিপ্লেস করলে আপনার মোবাইল নম্বর আগেরটাই থাকবে। সিম কার্ডটা নতুন পাবেন। ৪জি সাপোর্টেড সিমগুলো ইউসিম / USIM  নামে পরিচিত। এগুলো ২জি, ৩জি এবং ৪জি নেটওয়ার্ক সাপোর্ট করে। এ সংক্রান্ত কোনো তথ্যের দরকার হলে মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার সার্ভিসে যোগাযোগ করুন। সিম রিপ্লেস করতে ১০০ টাকার মত খরচ হবে। তবে অপারেটরগুলো অফার দিলে খরচ নাও লাগতে পারে, এবং ফ্রি ডেটা পেতে পারেন। নতুন সংযোগ নিলে শুরুতেই ৪জি সিম পাবেন বলে আশা করা যায়।

ফোরজি ইন্টারনেটে খরচ কেমন?

প্রযুক্তিগতভাবে থ্রিজি’র চেয়ে ফোরজিতে তুলনামূলক কম খরচ হয়। ফোরজি চালু হলে মোবাইল ইন্টারনেট প্যাকেজের দাম বর্তমানের তুলনায় খুব বেশি বাড়বে না বলে জানিয়েছেন গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফোলি।

আপনার মোবাইল কি 4G সাপোর্ট করবে?

বর্তমানে যেসব স্মার্টফোন বাজারে বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোর বেশিরভাগই ফোরজি সাপোর্ট করে। আপনার স্মার্টফোনের স্পেসিফিকেশন চেক করলেই জানতে পারবেন এটি ৪জি/এলটিই সুবিধা সমর্থন করে কিনা।

ফোরজি এলে থ্রিজির স্পিডও বাড়বে!

ফোরজি চালু হলে ৪জি উপভোগকারী গ্রাহকরা নতুন নেটওয়ার্কের আওতায় চলে আসবেন, তখন ট্রাফিক কমে যাওয়ায় টুজি ও থ্রিজি গ্রাহকরাও ভাল স্পিড পাবেন বলে জানিয়েছেন গ্রামীণফোন সিইও মাইকেল ফোলি।

IMEI নাম্বার কি? আইএমইআই নম্বর কাজ কি | এটি আসলে কীসের জন্য? — বিস্তারিত!

আমরা সবাই কমবেশি একটা জিনিসের নাম অবশ্যই শুনেছি, তা হল আইএমইআই নাম্বার (IMEI)। মোবাইল বা স্মার্টফোনের প্যাকেজিং এর সাথে আমরা কিছু স্টিকার দেখতে পাই, আর এখানে এইসব IMEI নাম্বার লেখা থাকে। এই IMEI নাম্বার দ্বারা আসলে কি বোঝায় এবং এই IMEI নম্বর এর কাজ কি, সে সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানি না।
তবে প্রথমত বলে রাখি, আপনার ফোনের জন্য এই আইএমইআই (iMEI) নাম্বার অতি জরুরী। আর ফোন কেনার পরপরই আপনার উচিত এই আইএমইআই নম্বরটি কোথাও নোট করে রাখা। আপনার বিদ্যালয়ে বা কলেজে আপনার যেমন আলাদা আইডেন্টিটি ছিলো বা আছে, তেমনই আইএমইআই একেকটি মোবাইল ফোন বা সমমানের ডিভাইসের একেকটি ইউনিক আইডেন্টিটি। আর এইসব আইএমইআই (IMEI) নাম্বার থেকে ফোনের ফোনের মডেল থেকে শুরু করে সিরিয়াল নাম্বার সকল কিছুই বের করা সম্ভব।
বর্তমান সময়ে স্মার্টফোন খুবই প্রচলিত একটি প্রযুক্তি পন্য। আর ধীরে ধীরে এটি আরও ফিচারফুল এবং আরো দামি হয়ে যাচ্ছে। কমবেশি সবাই ইচ্ছা করে অন্তত একটা স্মার্টফোন তো কিনছেনই। আর সেকারনে এইসব স্মার্টফোনের ব্যাপক প্রসারের ফলে চোরদেরও অন্যতম টার্গেট হয়ে দাড়িয়েছে। তো আপনার স্মার্টফোনটি হয়ত আপনি দূর্ঘটনাবশত হারিয়ে ফেললেন; কেউ চুরি করল। তখন সেই স্মার্টফোন কিভাবে ফিরে পাবেন,বা নজর রাখবেন? চোর তো সীমকার্ড খুলেও ফেলতে পারে,এমন কোন নাম্বার আছে,যা পরিবর্তন করা যায় না? এইসময় আপনাকে সাহায্য করবে আপনার ফোনের IMEI নাম্বার। আজ আমরা জানব IMEI সম্পর্কে বিস্তারিত।
আইএমইআই নাম্বার কি?
আইএমইআই(IMEI) এর পূর্নরূপ হলো International Mobile Equipment Identity। এই IMEI প্রতিটি মোবাইল ডিভাইসের জন্য একটি সংখ্যাসূচক পরিচয় বা সংখ্যাসূচক আইডিন্টিটি। আর এই কারনে প্রতিটি আইএমইআই নম্বরই অনন্য তথা একটি আরেকটির থেকে ভিন্ন।
আইএমইআই নাম্বার কি?
মোবাইল ফোন প্রস্তুতকারক কোম্পানির কাছে আপনার ফোনের সব তথ্য এই আইএমইআই নম্বরের মাধ্যমে সংরক্ষিত থাকে। আর তাই আপনি হয়ত যখন কোন কারনে আপনার ফোন সার্ভিসিং এ নিয়ে গিয়েছেন কাস্টমার কেয়ারে, তারা আপনার ফোন খুলে আইএমইআই নম্বরটি চেক করে ফোনের সব ডাটা বের করেছে ; যেমনঃ ওয়ারেন্টি আছে কিনা, কবে বিক্রি হয়েছে ইত্যাদি ইত্যাদি। সাধারনত মূল আইএমইআই নম্বরটি হয়ে থাকে ১৪ ডিজিটের। তবে পুরো আইএমইআই নম্বরটি ভেরিভাই এর জন্য এর সামনে আরো একটি সংখ্যা থাকে যা মিলে পুরো আইএমইআই নম্বরটি হয়ে যায় ১৫ ডিজিটের। তবে এখন অনেক আইএমইআই নম্বরে ডিভাইসের সফটওয়্যার ভার্সন সংস্করন এর জন্য আরেকটি সংখ্যা থাকে, যার ফলে আইএমইআই নম্বরটি হয়ে যায় ১৬ ডিজিটের। আর এসব আইএমইআই নম্বরকে IMEISV’ও বলা হয়।
২০০৪ সাল থেকে আইএমইআই (IMEI) নাম্বার AA-BBBBBB-CCCCCC-D ফরম্যাটে বিন্যাস্থ হয়ে আসছে। আর এখানে A এবং B সেকশনকে বলা হয়ে থাকে Type Allocation Code বা TAC। আর IMEI নম্বরের এই TAC অংশ থেকে ফোনটির ম্যানুফ্যাকচারার বা তৈরিকারক এবং ফোনটির মডেল নম্বর সম্পর্কে জানা যায়। যেমনঃ স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৭ এর TAC কোড হল 32-930400, গুগল নেক্সাস ৪ বা এলজি E960 এর TAC কোড হল 35-391805 ইত্যাদি। অর্থাত ১৫ ডিজিট বা ১৬ ডিজিটের সম্পূর্ণ আইএমইআই নম্বরে এই TAC হয়ে থাকে ৮ ডিজিটের, এই ৮ ডিজিট এর ভেতর ২ টি ডিজিট আবারও  ভেরিভাই এর জন্য, তাই মূল TAC হয়ে থাকে ৬ ডিজিটের ।
এবার আসি C সেকশনের কথায়। আইএমইআই নম্বরের ভেতরকার C সেকশনটি মোবাইল ফোনের একটি ইউনিক বা অনন্য সিরিয়াল নম্বর নির্দেশ করে। এখানে স্মার্টফোন তৈরিকারকরা একেকটি স্মার্টফোনে তাদের পছন্দমত ইউনিক নম্বর দিয়ে থাকে। আর এই D সেকশনে যে একটি নম্বর থাকে তা সম্পূর্ণ আইএমইআই নম্বরটি ভেরিফিকেশনের জন্য। ব্যাস! এইসব নিয়ে আপনার স্মার্টফোনের আইএমইআই (IMEI) নম্বর।
আইএমইআই নাম্বার দেখবেন কিভাবে?
আইএমইআই নাম্বার
আপনি অনেক উপায়ে আইএমইআই(IMEI) নম্বরটি দেখতে পারেন । তবে আমার কাছে ফোনের ডায়ালার অ্যাপ থেকে এই নম্বরটি চেক করা সবচাইতে সহজ লাগে। আপনার ফোনের  ডায়ালর অ্যাপে *#06# ডায়াল করলেই ফোনের আইএমইআই নম্বরটি দেখতে পারবেন।
আবার এন্ড্রয়েড ডিভাইসের  Settings>About>Phone>Status এ গিয়ে আপনি আপনার IMEI নম্বরটি দেখতে পারবেন। আবার অ্যাপেল ইউজাররা  Settings>General>About এ গিয়ে IMEI নম্বর দেখতে পারবেন। আপনার আপনার ফোনের বক্সে এবং ওয়ারেন্টি কার্ডেও আপনি IMEI নম্বরটি খুঁজে পাবেন। যাই হোক,যেখান থেকেই দেখুন না কেন,অবশ্যই নম্বরটি নোট করে রাখবেন।
আইএমইআই নাম্বার কতটা দরকারি

Source : Pexels

অনেক জাল মোবাইল ফোন, যেমন: নকল আইফোন এগুলোতে IMEI নাম্বার থাকে না। আবার অনেক নকল বা জাল ফোনে খারাপ বা কারাপ্টেড IMEI নম্বর থাকে। তাই আপনার ফোন আসল কিনা, বা IMEI নম্বর ভ্যালিড কিনা তা জানতে IMEI.info এর মত অনলাইন চেকার ব্যবহার করতে পারেন। একটা কথা মনে রাখবেন, যে ফোনে IMEI নেই বা কারাপ্টেড IMEI -এর মানে সে ফোন নকল এবং আপনি কেনার আগে IMEI চেক করে কিনবেন।
এখন অ্যাপেল বা শাওমির মত ওয়েবসাইটে তাদের ডিভাইসের IMEI ভেরিফাই করার অপশন থাকে, তাই কেনার আগে IMEI ভেরিফাই করে আসলটা কিনবেন।
আইএমইআই নাম্বার দিয়ে কি হয়
IMEI হল একটি মোবাইল ডিভাইসের কমপ্লিট আইডেন্টিটি। ধরুন আপনার ফোন হারিয়ে গেছে, তবে আপনি নানা এনড্রয়েড ও আইওএস অ্যাপ ব্যবহার করে, কেবল IMEI দিয়ে ফোনটি ট্র্যাক করতে পারেন। আবার আপনি আপনার হারিয়ে যাওয়া ফোনের জন্য থানায় অভিযোগ করতে গেলে, তারাও IMEI নাম্বার চাবে এবং তা দিয়ে আপনার ফোন ট্র্যাক করতে পারবে।

পরিশেষে 
গাড়িঘোরার জন্য একটি নম্বর থাকে যাকে বলা হয়, Vehicle Identification Number বা VIN ; আর মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে ঠিক একই IMEI। এই নম্বরটি আপনার প্রিয় মোবাইল ফোনের জন্মসনদ। আবার আপনার সীম নম্বরের সাথে এর তুলনা করবেন না, কেননা IMEI নাম্বার সাধারনত পরিবর্তন যোগ্য নয়। IMEI পরিবর্তন বা ক্লোন নিয়ে পরবর্তীতে কোনো আর্টিকেল প্রকাশ করব। আশা করি আর্টিকেলটি আপনার ভালো লেগেছে। নিচে আপনার  মতামত জানাতে ভুলবেন না।