কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এর প্রয়োজনীয় কিছু সফটওয়ার এর নাম ও ডাউনলোড লিংক


আজ জেনে নিবো কম্পিউটারের প্রয়োজনীয় কিছু সফটওয়ারের নাম। বিশেষ করে নতুন হিসাবে মনে অনেক প্রশ্ন থাকে যে, আপনি কোন কাজের জন্য কোন সফটওয়ার ব্যবহার করবেন। তাই চলুন দেরি না করে জেনে নেই কোন কাজের জন্য আমরা কোন সফটওয়ার ব্যবহার করবো।

ড্রাইভার সফটওয়ার সমূহঃ

প্রথমেই আপনার কম্পিউটারে ইউন্ডোজ দেওয়ার পর আপনাকে কিছু ড্রাইভার ইনষ্টল করতে হবে। তার মধ্যে রয়েছে Graphics Driver, Audio Driver, LAN Driver, WLAN Driver, Camera Driver, Bluetooth Driver. যেহেতু এক এক ধরনের পিসি অনুযায়ী এক এক ধরনের ড্রাইভার হয় তাই কোন ড্রাইভারের লিংক দিতে পারছি না। তবে আপনি অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যেনো, আপনার প্রয়োজনীয় ড্রাইভার এর সফটওয়ারগুলি আপনার কাছে সংরক্ষিত থাকে। কারন আপনি যখনই নতুন করে উইন্ডোজ সেটাপ করবেন তখনই আপনার নতুন করে সকল ড্রাইভারগুলি ইনষ্টল করতে হবে।

অফিসিয়াল সফটওয়ারঃ

বিশেষ করে লেখালেখি করা জন্য ও হিসাব নিকাশ করার জন্য আমরা যে সকল সফটওয়ার ব্যবহার করবো সেগুলি হলোঃ

Microsoft World: এইটা হলো সাধারনত লেখালেখি করার সফটওয়ার। লেখালেখি করার জন্য এই সফটওয়ার ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন পেজ এ লিখে তা কাগজে প্রিণ্ট করার জন্য এই সফটওয়ারটি ব্যবহার করা হয়।

Microsoft Excel: গানিতিক হিসাব নিকাশ করার জন্য এই সফটওয়ারটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

Microsoft Powerpoint: প্রেজেন্টেশন তৈরি করার জন্য এই সফটওয়ারটি ব্যবহার করা হয়। স্লাইডশো করার জন্য এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় সফটওয়ার।



VLC Media Player: এটি হলো সবচেয়ে জনপ্রিয় মিডিয়া প্লেয়ার। আমি এই প্লেয়ারটি ব্যবহার করি। Mp3, mp4, mpeg, avi, mkv ফাইলসমূহ প্লে করার জন্য এই প্লেয়ার সবচেয়ে জনপ্রিয়।

Download Link:  http://www.videolan.org/vlc/index.html

ওয়েব ব্রাউজারঃ

Google Chrome: গুগল ক্রোম হলো সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েব ব্রাউজার। গুগলের প্রোডাক্ট যেহেতু আর কোন কথা বলার প্রয়োজন নেই বলে আমি মনে করি। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই ব্রাউজারটি ব্যবহার করি সবসময়। আমার পছন্দের ব্রাউজার।
Download Link: https://www.google.com/chrome/

Mozila Firefox: Mozila ফায়ারফক্স হলো সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্রাউজার গুলির মধ্যে একটি। আপনি যদি কোন কারনে গুগল ক্রোম ব্যবহার না করেন তবে আপনি মজিলা ফায়ারফক্স ব্যবহার করবেন।
Download Link: https://www.mozilla.org/en-US/firefox/new/

তবে আমি মনে করি না নতুন ব্যবহারকারী হিসাবে আপনার অন্য কোন ব্রাউজার দরকার আছে। আমার মনে হয় যে, এই দুইটি এ যথেষ্ট।

ডিজাইনিং রিলেটেড সফটওয়ারঃ

Adobe Photoshop: এডোবি ফটোশপ হচ্ছে বিশ্বের এক নাম্বার গ্রাফিক্স ডিজাইনিং সফটওয়ার। যা দিয়ে আপনি Photo Retouching, গ্রাফিক্স ডিজাইনিং সহ যাবতীয় কাজ করতে পারবেন।

Adobe Illustrator: এডোবি ফটোশপের সাথে আপনার দরকার হবে Adobe Illustrator. যা দিয়ে আপনি ভেক্টর বেসড কাজ করতে পারবেন।

Adobe Premier Pro: ভিডিও ইডিটিং করার জন্য আপনার দরকার হবে এডোবি প্রিমিয়ার প্রো। এটি মূলত ভিডিও ইডিটিং সফটওয়ার।

Adobe After Effects: ইফেক্ট তৈরি করার জন্য এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় সফটওয়ার।

প্রাপ্তিস্থানঃ আপনি বাজারের যে কোন কম্পিউটারের দোকানে গেলে Adobe Master Collection নামে সিডি পাবেন। সেখান থেকে ঠিকঠাকমতো ইনষ্টল করলে আপনার ঝামেলা শেষ।



অন্যান্য প্রয়োজনীয় সফওয়ারের বর্ননাঃ

Net Speed Monitor: আপনার কম্পিউটারে কি পরিমান ইন্টারনেট ব্যবহৃত হচ্ছে তা এই সফটওয়ারের মাধ্যমে আপনি দেখে নিতে পারবেন। অত্যন্ত কাজের সফটওয়ার এটি।
Download Link:
https://netspeedmonitor.en.softonic.com/ (32 bit)
https://netspeedmonitor64.en.softonic.com/  (64 bit)

PostImage: এটি হলো কম্পিউটারের স্ক্রিনশট নেওয়ার জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয় সফটওয়ার। এই সফটওয়ারের বিভিন্ন সুবিধা থাকার কারনে আমি ব্যক্তিগত ভাবে এটি ব্যবহার করি।
Download Link: https://postimage.org/app.php

Winrar: আপনার যে কোন .zip ফাইলকে এক্সট্রাক্ট করার জন্য এই সফটওয়ারটি ব্যবহার করতে পারেন। যে কোন ফাইলকে আপনি চাইলে .zip ফাইল বানাতেও পারবেন এটি দিয়ে।
Download Link: http://www.win-rar.com/start.html?&L=0

Audacity: এটি হলো আপনার সবচেয়ে ভালো সাউন্ড রেকর্ডার। আপনি যদি প্রফেশনাল ভয়েস রেকর্ড করতে চান তবে এটি সবচেয়ে ভালো সফটওয়ার।
Download Link: http://www.audacityteam.org/download/

Color Pic: আপনি যদি গ্রাফিক্স ডিজাইনিং বা ওয়েব ডিজাইনিং এ কাজ করে থাকেন তবে Color Pic হচ্ছে কালার নেওয়ার জন্য খুবই চমৎকার একটি সফওয়ার।

Download Link: https://www.iconico.com/colorpic/

Shareit: আপনার কম্পিউটার থেকে যদি আপনি আপনার স্মার্টফোনে কোন ফাইল পাঠাতে চান কিংবা আপনি যদি স্মার্টফোন থেকে আপনি কম্পিউটারে নিতে চান তবে এটি হলো বেশ জনপ্রিয় সফওয়ার।
Download link: http://filehippo.com/download_shareit/

Adobe Reader: PDF ফাইল সমূহ ওপেন করার জন্য এই সফটওয়ারটি ব্যবহার কর হয়।
Download Link: https://get.adobe.com/reader/

Avro Keyboard: আপনি যদি অভ্র দিয়ে বাংলা লিখতে চান তবে এই সফটওয়ার দিয়ে আপনি বাংলিশ ষ্টাইলে বাংলা লিখতে পারেন।
Download Link: https://www.omicronlab.com/avro-keyboard.html

Bijoy Ekushe: বিজয় কী বোর্ড দিয়ে যারা বাংলা লিখতে চান তাদের জন্য এই সফটওয়ার।
Download Link: http://www.bijoyekushe.net/html/ekuDownload.html

Camtasia: আপনি যদি ভিডিও রেকর্ড করতে চান  এবং হালকা ইডিটিং করে তা ব্যবহার করতে চান তবে এটি হলো অত্যন্ত সহজ ও বেশ কাজের একটি সফটওয়ার।
Download Link: https://www.techsmith.com/camtasia.html

CC Cleaner: আপনার কম্পিউটারে জমা হওয়া অপ্রয়োজনীয় ফাইল সমূহ ডিলিট করার জন্য এই সফটওয়ারটি ব্যবহার করতে পারেন।
Download Link: http://filehippo.com/download_ccleaner

Internet Download Manager: এটি হলো ইন্টারনেট থেকে ফাইল ডাউনলোড করার জন্য সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত ও জনপ্রিয় সফটওয়ার।
Download Link: https://www.internetdownloadmanager.com/

Ease Video Joiner: আপনার যদি ইডিটিং সফটওয়ার ছাড়া দুইটি ভিডিও ফাইলকে একত্রিত করার দরকার হয় তাহলে এই সফওয়ারটি আপনার খুব বেশি সহজে তা করে দিবে।
Download Link: http://www.brothersoft.com/easy-video-joiner-14213.html

Easus Data Ricovery Sotware: আপনার ডিলিট হয়ে যাওয়া ফাইল পূনরায় ফিরে পাওয়ার জন্য এই সফটওয়ারটি ব্যবহার করতে পারবেন।
Download Link: http://www.easeus.com/datarecoverywizard/free-data-recovery-software.htm

Easus Partition Master: আপনার হার্ডডিস্কের যদি পার্টিশনে কোন পরিবর্তন করতে চান তাহলে এই সফটওয়ারটি আপনার জন্য খুব উপকারে আসবে।
Download Link: http://www.partition-tool.com/

Everything Search Engine: আপনার কম্পিটারের সকল ফাইলগুলিকে হাতের তুড়িতে খুজে বের করতে পারেন এই সফটওয়ারের মাধ্যমে। যদিও উইন্ডোজে একটা সার্চ করার অপশন থাকে তবও এটি ব্যবহার করলে মজা পাবেন।
Download Link: https://www.voidtools.com/

Fast Stone: আপনি যদি সহজে ভিডিও রেকর্ড করতে চান তাহলে এই সফটওয়ারটি বেশ কাজে দিবে। এটি খুব সহজে ব্যবহার করা যায়।
Download Link: http://www.faststone.org/FSCapturerDownload.htm



Hotspot sheild: আপনি যদি আপনার কম্পিটারের আইপি পরিবর্তন করতে চান তাহলে এই সফটওয়ারটি আপনাকে ব্যবহার করতে হবে। এটি ফ্রি। তবে পেইড ভার্সন ও আছে।
Download Link: https://www.hotspotshield.com/

Multi Skype Launcher: যদি আপনার একসাথে একাধিক স্কাইপ একাউন্টে লগিন করার দরকার হয় তবে আপনি এই সফটওয়ারটি ব্যবহার করতে পারেন।
Download Link: http://multi-skype-launcher.com/

Open Broadcaster Software: আপনি যদি ফেসবুক বা অন্য কোন ওয়েব এপ্লিকেশনের মাধ্যমে আপনার স্ক্রিনকে লাইভ ব্রডকাষ্ট করতে চান তবে এ সফটওয়ারটি আপনাকে ব্যবহার করতে হবে।
Download Link: https://obsproject.com/

Skype: স্কাইপ হলো ভিডিও কলিং, ম্যাসেজিং ও অডিও কলিং  এর জন্য ইউন্ডেজ বেসড সবচেয়ে জনপ্রিয় সফটওয়ার।
Download Link: https://www.skype.com/en/

Team Viewer: দূরের কম্পিউটারকে নিয়ন্ত্রন করার জন্য একটি চমংকার সফটওয়ার হলো Team Viewer. আপনি চাইলে অনলাইনের মাধ্যমে আপনার বন্ধুর কম্পিউটারের সমস্যা সমাধান করে দিতে পারেন।
Download Link: https://www.teamviewer.com/en/

Utorrent: টরেন্ট ওয়েবসাইট থেকে টরেন্ড ডাউনলোড করতে হলে আপনাকে এই সফটওয়ারের সাহায্য নিতে হবে। বেশ দারুন একটি সফওয়ার।
Download Link: http://www.utorrent.com/intl/en/

Viber: কম্পিউটারে যদি আপনি ভাইবার চালাতে চান তবে আপনি এই সফটওয়ারটি ব্যবহার করতে পারবেন।
Download Link: https://www.viber.com/en/products/windows



ওয়েব ডিজাইনার ও ডেভেলাপারদের প্রয়োজনীয় সফটওয়ারঃ

Xampp: আপনার কম্পিউটারকে যদি আপনি একটি সার্ভার বানাতে চান তাহলে আপনি এই সফটওয়ারটি ব্যবহার করতে পারেন। এটি অনেক জনপ্রিয় একটি সফটওয়ার।
Download Link: https://www.apachefriends.org/index.html

Sublime Text 3: এক্সপার্ট কোডার দের সবচেয়ে জনপ্রিয় সফটওয়ার হলো Sublime Text 3. Notepad++ দিয়ে শুরু করলেও আপনি এই সফটওয়ারটি দিয়ে আরো দ্রুত ও খুব সহজে কোডিং করতে পারবেন।
Download Link: https://www.sublimetext.com/3

Notepad++: এটি হলো একটি কোড ইডিটর। আপনি যদি কোডিং নিয়ে কাজ করেন তাহলে আপনি এই সফটওয়ারটি ব্যবহার করতে  পারেন। নতুনদের জন্য অনেক চতৎকার একটি সফটওয়ার।
Download Link: https://notepad-plus-plus.org/download/v7.2.2.html

HTTrack: কোন HTML ওয়েবসাইটকে কপি করার জন্য এই সফওয়ারটি দারুন কাজে দেয়।
Download Link: https://www.httrack.com/page/2/en/index.html

File Zilla: আপনি যদি ওয়েবসাইট সম্পর্কিত কোন কাজ করেন এবং আপনার কম্পিউটার থেকে আপনার সার্ভারে ডাটা ট্রান্সফার করতে হয় তবে আপনি এই সফটওয়ারটি ব্যবহার করতে পারেন। এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় সফওয়ার এ কাজটি করার জন্য।
Download Link: https://filezilla-project.org/

GrepWin: যদি আপনি যদি কোডিং এর কাজ করে থাকেন তাহলে এই সফটওয়ারটি আপনার অনেক সময় বাচিয়ে দিবে। আপনার কোন নির্দিষ্ট কোড আপনার ফোল্ডারের কোন ফাইলে এবং তা কত নাম্বার লাইনে আছে তা বুঝার জন্য আপনি এ সফটওয়ারটি ব্যবহার করতে পারেন। এটি অত্যন্ত চমৎকার একটি সফওয়ার।
Download Link: https://sourceforge.net/projects/grepwin/



(বিঃদ্রঃ এই পোষ্টটি  প্রয়োজন অনুসারে আপডেট করা হবে। )

Bangla Bloging Full Tutorial বাংলায় ব্লগিং পূর্ণাঙ্গ গাইড।

বর্তমানে বাংলাদেশের আনাচে কানাচে অনেক প্রতিভাবান লোক রয়েছে যারা মানে লক্ষাধিক টাকা উপর্জন করছে ব্লগিং করে। তাও আবার ঘরে বসে। এমনকি তারা ব্লগিংটাকে নিজের পেশা হিসাবে নিয়েছে। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি বর্তমানে কেও যদি ব্লগিংটাকে পেশাহিসাবে নিয়ে তার লক্ষ অনুযায়ী এগিয়ে যায় তারা অবশ্যই সফল হবে। আমার অনেকেই আছে যারা আগ্রহী কিন্তু কোন গাইডলাইন পাচ্ছে না। এমনকি অনেকেই গুগল, ও ইউটিউব হন্য হয়ে খোজছে কিভাবে ব্লগিং শুরু করবে, আবার অনেকেই আছে সিডি, ডিভিডি ক্রয় করেছে শিখার জন্য, আমার এই টিউটরিয়াল তাদের জন্য । বাংলায় এই প্রথম  পূর্ণাঙ্গ  ব্লগিং গাইড।

ব্লগিং কি ?

ব্লগি হলো ভার্চুয়াল বা ইন্টারনেট এ নিজের ব্যবসা, সার্ভিস বা কোন পন্য প্রমোট করার উপযুক্ত মাধ্যম। বা কোন ইরফর্মেশন পাঠক এর কাছে পৌছে দেয়ার মাধ্যম। ব্লগ ও ওয়েবসাইট এর মধ্যে আর্থিক কোন পার্থক্য নেই তবে যে ওয়েবসাই রেগুলার কোন তথ্য আপডেট করা হয় বা নতুন নতুন তথ্য তুলে ধরা হয় তাকে ব্লগ বলে আর আর যেটি কোন ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান এর তথ্য  ধারন করা হয় সেটাকে আমরা ওয়েবসাই হিসাবে গননা করি। যেমন “প্রথম আলো” একটি ব্লগ আমার আন্য দিকে “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এর ওয়েব সাইট” হলো ওয়েবসাইট। ব্লগ সম্পর্কে বিস্তারিত দেখুন………..

ব্লগ এর প্রকার ভেদঃ

আমরা যদি ব্লগকে বিভক্ত করে দেখি তাহলে ব্লগ হলঃ- ১. ব্যাক্তিগত ব্লগ। ২. সামাজিক ব্লগ। ৩. ব্যবসায়িক ব্লগ। ৪. প্রশ্ন উত্তর বিষয়ক  ব্লগ। ৫. খবর বা নিউজপেপার ব্লগ:  ব্লগএর প্রকারভেদ সম্পর্কে  বিস্তারিত দেখুন এখানে ………………

এবার আসি মূল আলোচনায়ঃ আমরা কিভাবে অতি সহজেই নিজের একটি ব্লগ বানাব এবং ব্লগ থেকে উপার্জন করা করতে পরবো। আশা করি নিচের এই ষ্টেপগুলো যদি কেউ পূর্ণাঙ্গভাবে অধ্যয়ন করে ও সেই মোতাবেক কাজ করে সে অবশ্যই সেখান থেকে ভালো পরিমানে উপার্জন করতে পারবে গ্যারান্টি। এবার আমরা দেখব কিভাবে একটা ব্লগ তৈরি করব ও সেখান থেকে উপার্জন করব।

আর এই টিউটরিয়াল টি এমন ভাবে সাজানো হয়েছে যে একজন নতুন (নিউবাই) লোক থেকে শুরু করে প্রফেশনাল পর্যন্ত সকল ষ্টেপ আলোচনা করা হয়েছে। তো চলুন শুরু করা যাক………..

কিভাবে একটি ব্লগ শুরু করবেন?

৮ স্টেপ  এ একটি পূর্ণাঙ্গ ব্লগ । এখানে ব্লগের যাবতীয় খুটিনাটি সহ সকল প্রয়োজনীয় বিষয়বস্তু তুলে ধরা হবে। আর এখানের প্রত্যেকটা ষ্টেপ খোবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি স্ট্যাপ এর সাথে অন্যটি গভীর ভাবে যোগাযোগ রয়েছে । সুতরাং কোন একটা ষ্টেপ বাদ দেয়া যাবে না।

১। যেভাবে ওয়েব সাইট এর নিশ (ক্যাটাগরী) নির্বাচন করবেন।

একটি ব্লগ শুরু করার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ব্লগের বিষয় নির্ধারণ করা । এটা নিয়ে অনেকেই অনেক সময় লাগিয়ে ফেলে আবার অনেকেই হুটহাট করে ব্লগ এর বিষয় নির্ধারণ করে ফেলে। আমি মনে করি একটি ব্লগ শুরু করার আগে অবশ্যই ভাবা উচিৎ আপনি যে বিষয়ে ব্লগিং শুরু করতে চচ্ছেন সে বিষয়টি কি আদৌ মানুষ পছন্দ করবে নাকি করবে না। একটি ব্লগ তৈরি করা আগে যে বিষয়গুলির উপর গুরুত্ব দেয়া উচিৎ।

ক) রিডার এর চাহিদাঃ
আপনি যে বিষয়টি নিয়ে ব্লগিং শুরু করতে চাচ্ছেন তা মানুষের চাহিদা আছে কিনা। মনে করুন আপনি এমন একটি বিষয় পছন্দ করলেন যা মানুষের কোন দরকার নেই। তাহলে আপনার ব্লগ এর কোন ভ্যালু থাকবে না। সব সময় এমন কিছু আপনার ব্লগে রাখতে হবে যেটি  পাঠকরা চায়।

খ) আপনার দক্ষতাঃ
দ্বিতিয়ত দেখতে হবে আপনি এমন একটি নিশ পছন্দ করেছে যা রিডাররা খোবই পছন্দ করে কিন্তু আপনি সেই বিষয়ে কিছুই জানেন না তাহলে এমন বিষয় পছন্দ করে কোনই লাভ হবে না। যেমন মনে করুন আপনি নৌকায় উঠতে খোবই ভালবাসেন তাই একটি নৌকা আর বৈঠা নিয়ে নদিতে নেমে পড়লেন । নৌকা ছাড়ার পর দেখলেন আপনি নৌকা চালাতে পারেন না।তখন বলুন আপনার অবস্থা কি হবে। ঠিক এমনই আপনি যে বিষয় খোব ভাল বুঝেন ভাল ক্রিয়েটিভিটি আছে সেই বিষয় নির্ধারন করুন ব্লগিং এর জন্য।

গ) প্রতিযোগিতাঃ
একটি ব্লগ এর মূল জিনিস হল আপনার কম্পিটিটর এনালাইসিসি করা। যখন আপনি একটি ব্লগ এর পরিকল্পনা করেন তখন আপনার অবশ্যই দেখতে হবে আপনি যে বিষয় নিয়ে ব্লগিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সে বিষয়ে অনেকে সার্চ ইঞ্জিন এর প্রথম পেজে স্থান দখল করে আছে। তখন সেই ব্লগ পেজ গুলো এনালইসিস করে বের করতে হবে তারা আসলে কি কি কারনে প্রথমে আছে, অতপর তাদের থেকে ভাল কন্টেন্ট, ভ্যালো, ব্যাকলিংক, ইমেজ, ভিডিও এড করে তাদের উপরে আসতে পারলেই পাঠক আপনার ব্লগে আসবে। কিভাবে কম্পিটিটর এনালাইসিস করবেন?এখানে আলোচনা করা হয়েছে।

ঘ) ভবিষ্যাত এর পরিকল্পনাঃ
একটি ব্লগ শুরু করার আগে অবশ্যই ভবিষ্যত পরিকল্পনা করে নিতে হবে যে আপনি যে বিষয় নিয়ে ব্লগিং শুরু করতে চাচ্ছেন সেটা কত দিন লোকে খোজবে। যেমন আপনি ব্লগ ডিজাইন করলেন “আই.পি. এল 2019 ” তখন আই. পি. এল চলাকালিন সময়ে প্রচুর ভিজিটর আসবে আপনার ভাল পরিমানে ইনকামও হবে। কিন্তু যখন আই. পি. এল শেষ হয়ে যাবে তখন আপনার ভিজিটর আস্তে আস্তে কমে যাবে। এমনকি এক সময় শুন্য কোটায় এসে দাড়াবে। এমন কিছু টপিক আছে যা বছরের কিছু সময় প্রচুর সার্চ হয় আবার পরবর্তীতে সেটা শেষ হয়ে যা এমন টপিক নিয়ে ব্লগিং করাকে ইভেন্ট ব্লগিং বলে। আবার আপনি এমন একটি নিস বা টপিক পছন্দ করলেন যা সারা বছর কিছু না কিছু সার্চ হয় এমনটি পরবর্তী ১০ বছর পরও এমন টপিক সার্চ হবে।যেমন, স্বাস্থ, অনলাইনে আয়, বাচ্চাদের পরিচ্চর্যা, এমনকি ব্যবসা প্লান ইত্যাদি ইত্যাদি। এখানে দেখুন যেভাবে একটি ব্লগ এর বিষয় পছন্দ করবেন।

 ২। যেভাবে ডোমেইন নাম রেজিস্ট্রেশন করবেন।

ডমেইন নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনার যে বিষয়গুলি অবষ্যই খেয়াল রাখতে হবে, তা সংক্ষেপে আলোচনা করছি।

ক। এক্সটেনশন পছন্দ করাঃ
ডমেইন রেজিষ্ট্রেশন করার ক্ষেত্রে অনেকেই দিধার ভিতর পরে যায় কি এক্সটেনশন নিবে (.com, .net, .org, .info, নাকি .us, .me) আপনার পছন্দ অনুযায়ী নিতে পারেন। এস. ই.ও করার ক্ষেত্রে বা র‌্যাংক এর ক্ষেত্রে এক্সটেনশন কোন সমস্যা নয়। আপনার সাইটে কিরকম ইসফরমেশন আছে সেটাই বড় কথা। তবে আমাদের দেশে (.com, .net, .org, .info) বেশি স্ট্যান্ডার লাগে। মনে করুন আপনি একটি ব্লগ বানাবেন “Beautifulpicnicspot” সম্পর্কে আপনার মত আরও বিষ জন এই টপিক নিয়ে কাজ করবে সেক্ষেত্রে (.com, .net, .org, .info)একটি এক্সটেনশন একজনই নিতে পারবে। তবে কি যারা (.com, .net, .org, .info) রেজিষ্ট্রেশন করতে না পারবে তার ব্লগ র‌্যাংক হবে না। ১০০% হবে। কেননা ৯০ভাগ ভিজিটর টাইটেল ও মেটা ডিসক্রিপশন দেখেই সাইটে প্রবেম করে।

খ) সাইট রিলেটেড:
আপনার সাইট যে বিষয়ের উপর সেই বিষয়ের উপর কোন কিওয়ার্ড ডমেইন এ রাখুন। তাহলে ভিজিটর এর বুঝতে সহজ হবে যে আপনি কি বিষয়ের উপর লিখছেন। মনে করুন আপনি চাকরির বিজ্ঞাপন বা পরীক্ষার রেজাল্ট বিষয়ে ব্লগিং করবেন। আপনি যদি (banglahotnews.com) নেন তাহলে মানাবে না আর যদি(jonsnews, jobsinfo, educationinfo) ইত্যাদি ইত্যাদি নেন তবে সাইট এর সাথে সামঞ্জস্য থাকবে।

গ) সহজ ও ছোট শব্দঃ
ডমেইন নেয়ার ক্ষেত্রে সহজ ও শব্দ ও ভাষা ব্যাবহার করা উচিৎ যা মানুষের লিখতে, টাইপ করতে, পড়তে ও মনে রাখতে সহজ হয়। যখন আপনার সাইটে ভিজিটর ভাল কোন ইনফরমেশন পাবে তখন তারা আপনার সাইটা মনে রাখার চেষ্টা করবে তাই যাতে সহজে মনে রাখা যায় এমন ডমেইন রেজিষ্ট্রেশন করুন। মনে করুনঃ আপনার সাইট T-Shirt Design সম্পর্কে আপনি ডমেইন নিলেন (firmdesignshirt.com) এটা মনে রাখা কঠিন হবে। আর যদি (tshirtdesignfirm.com)নেন তবে মনে রাখা সহজ হবে।

ঘ) সংখ্যা ও বিরাম চিহ্ন এর ব্যবহারঃ
ডমেইন এর ক্ষেত্রে সংখ্যা, বিরাম চিহ্ন ব্যাবহার না করাই ভাল। যেমন, (jobs247, 24information, jobs-circular) ইত্যাদি।

ঙ) তারিখ ও সন এর ব্যবহারঃ
ডমেইন নেয়ার ক্ষেত্রে তারিখ বা সন না নেয়াই ভাল্। যেমন (bloggintips2019, tips2019) ইত্যাদি। তবে ইভেন্ট ব্লগিং এর ক্ষেত্রে নিলে ভাল দেখায় কেননা ইভেন্ট এর শেষে সেই সাইট এর আর কোন প্রয়োজন হয় না। যেমন, (happynewyear2019.com, Valentineday2019.net) ইত্যাদি।

চ) সোসিয়াল মিডিয়া লিংকঃ
আমাদের চেষ্টা করা উচিৎ যে ডমেইন নাম টা নিচ্ছি সেটা সোসিয়াল লিংক (ফেইসবুক, টুইটার, পিন্টারেস্ট) সচারাচর আছে কিনা। যেমন আপনার ডমেইন (jobsinfo) সেত্রে (fb.com/jobsinfo) খালি আছে কিনা।

ছ) ট্রেডমার্ক ও বিভ্রান্তিযুক্ত ডমেইন ত্যাগ করুনঃ
ট্রেডমার্ক ডমেইন রেজিষ্ট্রেশন করা উচিৎ নয় যা অন্য কোন ট্রেডমার্ক কোম্পানীর সাথে মিলে যায়। তাতে ভিজিটর বিভ্রান্তির মাঝে পরে যাবে। যেমন (facebookmarketing, whatsapptips) ইত্যাদি কেননা (facebook ও whatsapp)এই দুইটা প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট ।

৩।ব্লগের জন্য কোন প্লাটফর্ম  নির্বাচন করবেন (ব্লগার নাকি ওয়ার্ডপ্রেস)।

আপনি যখন নিজের কোন ওয়েবসাইট তৈরির কথা ভাবছেন বিশেষ করে ব্লগ ; তখন আপনার মনে একটি জিজ্ঞাসা নিশ্চয়ই আসে যে , ব্লগার দিয়ে বানাব? নাকি ওয়ার্ডপ্রেস দিয়ে? আর যেহেতু ইতিমধ্যে টেকহাবসে ওয়ার্ডপ্রেস নিয়ে বেশ কিছু আর্টিকেল এবং টিউটোরিয়াল রয়েছে ; সেহেতু আমার উচিত এই বহু জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন নিয়ে একটু বিস্তারিত লেখা। আপনি হয়ত অনলাইনে ব্লগিং বা লেখালেখি নিয়ে ভাবছেন, তবে আপনার জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি আসলে কোন প্ল্যাটফর্মটি ব্যাবহার করছেন। কেননা এই প্ল্যাটফর্মটির অপরই নির্ভর করে আপনার নিজের ব্লগ বা ওয়েবসাইট এর ডিজাইন কেমন হবে, আপনার ওয়েবসাইটে আপনি কি কি কনটেন্ট দিতে পারবেন, আপনার ওয়েবসাইটে আপনি কি কি সুবিধা পাবেন এমনকি আপনার ওয়েবসাইট থেকে উপার্জন করা কতটা সুবিধা হবে।

ব্লগার নাকি ওয়ার্ডপ্রেস ? কোনটা দিয়ে শুরু করবেন? বিস্তারিত এখানে।

৪। যেভাবে ওয়েবসাইট সেটাপ ও কাষ্টমাইজ করবেন।

সিএম এস নিশ্চিত করার পর আপনি ওয়েবসাইট সেটাপ করার জন্য প্রস্তুত। যেহেতু নতুনদের জন্য আমার এই টিউটরিয়াল তাই বর্তমানে জনপ্রিয় সি.এম.এস গুলোর মধ্য থেকে ওয়ার্ডপ্রেস ও ব্লগার সেটাপ ষ্টেপ বাই স্টেপ দেখাব।


৫। ভাল মানের আর্টিকেল বা ব্লগ পোস্ট 

আর্টিকেল বা ব্লগ পোষ্ট হল বিভিন্ন টপিকের উপর লিখিত কন্টেন্ট। আপনার ওয়েবসাইট থেকে ভালো আয় করতে হলে আপনাকে বেশি বেশি আর্টিকেল ও ব্লগপোস্ট লিখতে হবে।

SEO মেইনটেইন করতে হয় গুগল ও অন্যন্য সার্চ এঞ্জিনে আপনার আর্টিকেলগুলো রাঙ্ক করানোর জন্য। আর্টিকেল গুগলের প্রথম পেইজে রাঙ্ক করানো মানে আপনি আপনার অনেক অডিয়েন্স সার্চ এর মাধ্যমেই পেতে পারেন। আর এই সার্চ করে ওয়েবসাইটে আসা ভিজিটরগুলো খুবই কাজের হয় কারণ তারা একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়েই আপনার সাইটে প্রবেশ করেছে।ধরুন কেউ একজোড়া জুতা কিনবে এবং সে তা কিনতে একটি জুতার দোকানে গেলো। এক্ষেত্রে তার জুতা কেনার সম্ভাবনা অনেক।

একটি ওয়েবসাইটের জন্য কনটেন্ট তৈরি করার ক্ষেত্রে প্রথমেই যে জিনিসটি খেয়াল রাখতে হবে সেটি হল আপনার ওয়েবসাইটের বিষয়।

তো আমি আগেই বলেছি যে  একটি ওয়েব সাইট এর বিষয় নির্বাচন কারা খুবই জরুরী। কখনোই আপনার ওয়েবসাইটের টপিকের বাইরের কোনো কনটেন্ট তৈরি করা ঠিক না। এর কারণে যে তখন আপনার অডিয়েন্স কিছুটা বিভ্রান্ত হতে পারে।

ধারাবাহিকভাবে আর্টিকেল বা ব্লগপোষ্ট করার নিয়ম:

নিচের পর্যায়গুলো একে একে ভালো করে অনুসরণ করুন তাহলে আপনি খুব সুন্দর একটি আর্টিকেল বা ব্লগপোস্ট লিখতে পারবেন:

ব্লগ এর বিষয় নির্বাচন:

প্রথমেই আপনার ওয়েবসাইটের বিষয় এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কিওয়ার্ডগুলো রিসার্চ করে বের করে আনতে হবে। এরপর তা একটি ডকুমেন্টে সেভ রাখতে হবে। এটা করতে হবে এই কারণে যাতে করে আপনি নিয়মিত বিভিন্ন নিশ রিলেটেড কিওয়ার্ড এর উপর কনটেন্ট তৈরি করতে পারেন।

রির্সাচ: 

আপনি যে বিষয়ের লিখবেন অবশ্যাই সেই বিষয়ে আপনাকে রিসার্চ করতে হবে। গুগল, ইউটিউব বা অন্যন্য জায়গা থেকে একাধিক রিসার্চ করে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। তারপর তা নিজের ভাষায় সুন্দর ও সহজলভ্য ভাষায় উপস্থাপন করতে হবে।

 হেডলাইন এর ব্যবহার:

ব্লগে লেখার সময় অবশ্যই হিডলাইন এর ব্যবহার করতে হবে। বিষেশ করে (H2, H3) এর ব্যবহার । আবার খেয়াল রাখতে হবে যাতে হিডিং স্টাফিং না হয়।

গ্রামার ও শুদ্ধ বানান:

ব্লগ রাইটিং এর ক্ষেত্রে গ্রামার ও শুদ্ধ বানান খুবই গুরুত্বপূর্ণ । কেনানা গ্রামার ও বানান অশুদ্ধ থাকলে আপনার রিডার আস্থা হাড়িয়ে ফেলবে। আপনার উপর হতে তার আস্থা হাড়িয়ে ফেলবে । তাই একটি পোস্ট বা আর্টিকেল প্রকাশ করার পূর্বে অবশ্যই রিভিশন করতে হবে।

ভিজিটরদের আকর্ষন:


  • ইমেজ ও ভিডিও অপটিমাইজড
  • মোটিভেশনাল সমাপনী।
  • থাম্বনেইল ইমেজ ব্যবহার
  • ক্যাটাগরি সিলেক্ট
  • ট্যাগ এর ব্যবহার
  • টেবিল কন্টেন্ট এর ব্যবহার


৬। ওয়েবসাইটে ভিজিটর বাড়ানোর উপায়

ওয়েবসাইট তৈরির পর আমরা প্রথমেই যে জিনিসটার উপর গুরুত্ব দেই তা হলো ভিজটর। ভিজিটর ই মূলত একটি ওয়েবসাইটের প্রান। এখন আমরা ওয়েবসাইটে ভিজিটর বাড়ানো এবং ভিজিটর ধরে রাখার কয়েকটি অব্যার্থ উপায় সম্পর্কে আলোচনা করব। প্রথমে আমাদের জনতে হবে , সাইটে ভিজিটর কিভাবে নিয়ে আসা যায়।

প্রাথমিক অবস্থায় আমরা ভিজিটর আনার জন্য কয়েকটি মাধ্যম এপ্লাই করব।

যেমন:

১। সোসাল মিডিয়া। ২। সার্চ ইঞ্জিন। ৩।ফোরাম পোষ্টিং/ প্রশ্নউত্তর সাইট। ৪।ভিডিও মার্কেটিং ও ৫। ব্লগ কমেন্টিং।

ক) সোশ্যাল মিডিয়া

একটি ওয়েবসাইট যখন নতুন তখন সে ওয়েবসাইট সম্পর্কে কেউ জানে না। তাই আপনার ওয়েবসাইটের টার্গেট ভিজিটরদের কাছে পৌছানোর সব থেকে সহজ এবং কার্যকরী উপায় হতে পারে সোশ্যাল মিডিয়া।

এক্ষেত্রে আপনি যদি ফেসবুক, ইউটিউব, ইন্সটাগ্রাম, টুইটার, স্নাপচ্যাট, রেডিট সম্পর্কে ভালো ধারনা রাখেন তাহলে খুব সহজেই আপনি আপনার ওয়েবসাইটের জন্য এইসব সোশ্যাল মিডিয়া সাইট থেকে ভিজিটর কে আপনার ওয়েবসাইটে নিতে পারেন।

বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে সোশ্যাল মিডিয়া ছাড়া কোনো ওয়েবসাইটই খুব ভালো পজিশনে যেতে পারে না। একজন টিনেজার দিনের মধ্যে ৯ ঘন্টা সময় সোশ্যাল মিডিয়াতে ব্যায় করে। যেখানে একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষ দিনে ইউটিউবে ৪০মিনিট, ফেসবুকে ৩৫ মিনিট, স্নাপচ্যাটে ২৫মিনিট, ইন্সটাগ্রামে ১৫ মিনিট এবং টুইটারে ১ মিনিট সময় ব্যায় করে। এ থেকে বুঝে নেয়া যেতে পরে সোশ্যাল মিডিয়াগুলো ওয়েবসাইটের ভিজিটর বাড়ানোর জন্য কতোটা গুরুত্বপূর্ন।

খ) সার্চ  ইঞ্জির (google, yagoo, bing) ইত্যাদি

নতুন কিংবা পুরনো যেকোনো ধরনের ওয়েবসাইটেই ভিজিটর বাড়ানোর অন্যতম প্রধান একটি উপায় হতে পারে সার্চ ইন্জিন অপটিমাইজেশন (SEO)। সার্চ ইঞ্জিন গুলোতে আমরা বিভিন্ন কী-ওয়ার্ড লিখে সার্চ করি, সার্চ রেজাল্টে প্রথমে যে ওয়েবসাইট গুলো আসে সেখান থেকে প্রথম ২-৩ টা ওয়েবসাইট ই আমরা সাধারনত ভিজিট করে থাকি।

সার্চ ইন্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) এর মূল কাজই হলো ওয়েবসাইটকে সার্চ রেজাল্টের উপরে তুলে আনা। তবে সার্চ ইন্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) এর ব্যাপ্তি অনেক বড়, এটি শুরু করার আগে অনপেজ, অফপেজ, টাইটেল এবং ইমেজ অপটিাইজেশন, কীওয়ার্ড রিসার্চ, ব্যাকলিংক এই ব্যাপার গুলো সম্পর্কে পরিপূর্ন ধারনা থাকা প্রয়োজন।

সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) এখান থেকে শিখুন

গ) ফোরম পোষ্টিং / প্রশ্ন-উত্তর সাইট
ওয়েবসাইটে ভিজিটর আনার অরেকটি চমৎকার উপায় হলো ফোরাম পোষ্টিং এবং প্রশ্ন-উত্তর সাইট। ফোরাম এবং প্রশ্ন-উত্তর সাইটগুলোতে মানুষ বিভিন্ন ব্যাপারে জানতে চেয়ে পোষ্ট করে। সেখানে ভিজিটর যে বিষয়ে জানতে চায় সে সম্পর্কে কিছু ইনফরমেশন দিয়ে আপনার ওয়েবসাইটের লিংক দিয়ে দিলে ওই সাইট গুলো থেকে ট্রাফিক আপনার সাইটে যাবে। তবে খেয়াল রাখতে হবে ফোরাম সাইট কিংবা প্রশ্ন-উত্তর সাইট গুলোতে উত্তর দেয়ার সময় সেটা যেনো সঠিক নিয়মে করা হয়। অনেক ফোরাম সাইট আছে যেগুলো অন্য ওয়েবসাইটের লিংক শেয়ার করা পছন্দ করে না। তো এসকল সাইটে কাজ শুরু করার আগেই আপনাকে এদের নিয়মগুলি ভালো ভাবে দেখে নিতে হবে।

ঘ) ভিডিও মার্কেটিং
ভিডিও মার্কেটিং হতে পারে ওয়েবসাইটে ভিজিটর আনার আরেকটি মাধ্যম। ভিডিও শেয়ারিং ওয়বেসোইট গুলোতে নিশ রিলেটেড ভিডিও পোষ্ট করে ডিসক্রিপশনে ওয়েবসাইটের লিংক শেয়ার করলে ওই ভিডিও থেকে ভিজিটরকে নিজের ওয়বেসোইটে পাঠিয়ে ওয়েবসাইটের ভিজিটর বাড়ানো যেতে পারে।

জনপ্রিয় কিছু ভিডিও শেয়ারিং সাইট নিম্নে দেয়া হলঃ

https://www.youtube.com

https://vimeo.com

http://www.ustream.tv

https://vine.co

http://www.hulu.com

ঙ) ব্লগ কমেন্টিং
ওয়েবসাইটে ভিজিটর অনার আরেকটি অণ্যতম পদ্ধতি হতে পারে ব্লগ কমেন্ট।আপনার সাইট এর নিশ রিলেটেড ব্লগ গুলো খুজে বের করে কমেন্ট অপশনে কমেন্ট করে সাইটের লিংক হাইপার লিংক করে দিতে হয়। এর ফলে সেই লিংকের মাধ্যমে ওই ব্লগের ভিজিটর রা আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করবে।

এটি সার্চ ইন্জিন অপটিমাইজেশন (SEO) এর ভাষায় বলা হয় ব্যাক লিংক। এর ফলে সাইটে যেমন ভিজিটর আসে তেমনি গুগল সার্চ রেজাল্টেও সাইট উপরের দিকে চলে আসে। তবে ব্লগ কমেন্ট বা ব্যাংকলিংক ক্রিয়েট করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে সাইট থেকে আমরা ব্যাকলিংক নিচ্ছি সেটা যেনো অবশ্যই নিশ রিলেটেড হয়। তা না হলে গুগস সেই ব্যাক লিংককে ভ্যালু দিবে না।

উপরের আলোচনার মাধ্যমে আমরা এতক্ষন ওয়বসাইটে কিভাবে ভিজিটর আনা যায় সে ব্যাপারে ধারনা পেলাম। তবে মূল কাজটা কিন্তু এখানেই শেষ না। বরং মূল কাজটা মাত্র শুরু। কারন একটা ওয়েবসাইটে শুধু ভিজিটর আনলেই হবে না। সেই ভিজিটরকে অবশ্যই ধরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। এর বাইরে দেখাযায় অনেক ভিজিটর ওয়েবসাইট লোড হওয়ার পরপর ই ভিজিটর সাইট টি বন্ধ করে দেন। এটা যেকোনো ওয়েবসাইটের জন্য খুবই খারাপ লক্ষন। ওর ফলে ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট বেড়ে যায়।

৭। বাউন্স রেট কি? বাউন্স রেট কেন বাড়ে?

আমরা দেখি বাউন্স রেট সব সময় % হিসেবে প্রকাশ করা হয়। বাউন্স রেট হলো এমন একটা % যেটা দ্বারা বোঝানো হয় “আপনার ওয়েসাইটে আসার পর মোট ভিজিটরের কতো % অন্য কোনো পেজ ভিজিট না করেই বন্ধ করে দিয়েছে” অর্থা যদি আপনার ওয়েবসাইটের মোট ভিজিটর যদি হয় ১০০০ জন তার মধ্যে ৬০০ জন্যই আপনার হোম পেজ লোড হওয়ার পর অণ্য কোনো পেজ ভিজিট না করেই আপনার ওয়েবসাইট টি বন্ধ করে দেয় তবে আপনার ওয়েবসাইটের বাউন্সরেট হবে ৬০%।

প্রশ্ন আসতে পারে ওয়বেসাইটের বাউন্স রেট এর স্টান্ডার্ড এমাইন্ট কতো। অনলাইন ইন্ডাস্ট্রিতে নিচের বাউন্স রেটের % কে স্টান্ডার্ড হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বাউন্স রেট স্টান্ডার্ড

৩০% এর কম খুব ভালো

৪১% – ৫৫% ভালো

৫৬% – ৭০% ভালো নয়

৭০% এর বেশী খারাপ

এবার আমরা বুঝতে পারলাম একজন ভিজিটরকে শুধু ওয়েবসাইটে নিয়ে আসলেই হবে না। তাকে ওযেবসাইটের অন্যান্ন পেজগুলোতে নিয়ে যাওয়ার মতো কন্টেন্ট ওয়েবসাইটে রাখতে হবে।

চলুন এখন জেনে নেই ওয়েবসাইটের বাউন্স রেট কিভাবে বাড়ে। অর্থাৎ কেনো একজন ভিজিটর আপনার ওয়বেসোইট টি ভিজিট করার পর হোমপেজ থেকে অন্য কোনো পেজ ভিজিট না করেই চলে যান।

ক) চাহিদা পূরণ না হওয়া
এটা খুবই গুরুত্বপূর্ন একটা ব্যাপার যে, আপনার ধারনা থাকতে হবে একজন ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইট থেকে কি ধরনের কন্টেন্ট এক্সপেক্ট করতে পারে। অপনার অবশ্যই উচিত হবে সেই ধরনের কান্টেন্ট ই ওয়েবসইটে রাখা। ধরা যাক একজন ভিজিটর একটা বই কিনতে একটা ওয়েবসাইটে ঢুকলেন। কিন্তু তিনি যে সাইট টা ভিজিট করছেন সেটা একটি বই রিভিউ এর সাইট। এখানে ভিজিটরের এক্সপেক্টেশন ফুলফিল না হওয়ার কারনে ভিজিটর সাথে সাথে সেই ওয়েবসাইট টি বন্ধ করে দিবে।

খ) সাইট এর ডিজাইন সাদাসিধা
অনেকসময় ওয়েবসইট কে ডায়নামিক করতে গিয়ে আমরা সাইটের লুক ই চেন্জ করে দেই। এর ফলে ভিজিটর বিরক্ত হন এবং সাইট ভিজিট করা বন্ধ করে দেন।এক্সেত্রে ওয়বেসোইট বানানোর আগেই ওয়েবসাইটের কালার এবং থিম নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া উচিত। মূলকথা সাইটের ভিজিটর ই একটা সাইটের প্রান। তাই ওয়েবসাইট বানানোর আগে ইউজার এক্সপেরিয়েন্স সম্পর্কে ভালো ধারনা থাকা প্রয়োজন।

আমরা বুঝলাম যে ওয়েবসাইটে শুধু ভিজিটর আনাই প্রধান কাজ নয় বরং তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ন ওয়েবসাইটের ভিজিটরকে ধরে রাখা এবং ভিজিটর যে পরবর্তীতে আবার ওয়েবসাইট টি ভিজিট করে সে ব্যবস্থা গ্রহন করা। অর্থাৎ ভিজিটরকে এনশিওর করতে হবে যে, “তুমি যে ধরনের ওয়েবসাইট বা কন্টেন্ট খুজছো তার জন্য এই ওয়েবসাইট টাই পারফেক্ট” এবার চলুন জেনে নেই ওয়েবসাইটে ভিজিটর ধরে রাখার কয়েকটি উপায়।

৮। ওয়েবসাইটে ভিজিটর ধরে রাখার উপায়

ক) ইউনিক এবং ইনফরমেটিভ কন্টেন্ট পোষ্ট করা
কন্টেন্টের ব্যাপারে একটা ব্যাপার আমরা সবাই জানি। তা হলো “Content Is King” যেকোন ধরনের ওয়েবসাইট ই হোক না কেনো কন্টেন্ট সবসময়ই গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে।কন্টেন্ট লেখা এবং সাইটে পাবলিশ করার আগে খেয়াল রাখতে লেখাটি ইউনিক এবং ইনফরমেটিভ কিনা। কন্টেন্ট ইউনিক এবং ইনফরমেটিভ হলে ভিজিটর সেই সাইটে বেশি এংগেজ থাকে।

খ) আকর্ষনীয় ছবি
ফটো / ইমেজ যেকোনো ওয়েবসাইটের ভিজিটর বাড়াতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে থাকে।সোশ্যাল মিডিয়া এবং অন্যন্ন প্লাটফর্মে একটি সুন্দর আইক্যাচিং ফটোর সাথে ওয়েবসাইটের লিংক দেয়া থাকলে নরমাল যেকেনো সময়ের থেকে ওয়েবসাইট বেশি ভিজিটর পেয়ে থাকে।

গ) ওয়েসবাইট দ্রুত লোড নেয়া
একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে একজন ভিজিটর একটি ওয়েবসাইট ভিজিট করার জন্য নরমালি ৩ সেকেন্ড সময় নেন। অর্থাৎ যদি ৩ সেকেন্ডের মধ্যে কোনো সাইট লোড না নেয় তবে ভিজিটর বিরক্ত হয় এবং সাইট ভিজিট করা থেকে বিরত থাকেন । তাই বোঝাই যাচ্ছে ভিজিটর বাড়ানো জন্য ওয়েবসাইট স্পিড গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে থাকে।

ঘ) রেসপন্সিভ বা ইউজার ফ্রেন্ডলি সাইট ডিজাইন
পিসি, ল্যাপটপ, ফোন, ট্যাবলেট সবকিছুর স্ক্রিন একই রকম না, রেসপন্সিভ বলতে বুঝানো হয়েছে যে সাইট গুলো পিসি, ল্যাপটপ, ফোন, ট্যাবলেট সবকিছুতেই সমান ভাবে লোড নিতে পারে এবং ডাটা রিসিভ করতে কোনো সমস্যা হয় না। ওয়েবসাইট বানানোর আগে খেয়াল করতে হবে সাইট টি রেসপন্সিভ কিনা।

ঙ) সাইটে কমেন্ট করার অপশন রাখা এবং রেগুলার রিপ্লাই দেয়া
কমেন্ট সেকশনে এংগেজ থাকলে ওয়েবসাইটের রেগুরার ভিজিটরের সংখ্যা কয়েকগুন বেড়ে যায়।এজন্য সাইটের কন্টেন্ট অপশনের কমেন্ট সেকশন টা চালু করে দিতে হবে। এর ফলে যা হবে ভিজিটর রা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন করে থাকে। এই প্রশ্নগুলোর উত্তর যখন সাইটের অথরের কাছে যায় তখন তিনি রিপলে দেন। এর ফলে কোয়েশ্চেনকারীর মেইলে একটা ইমেইল যায়। যারফলে কোয়েশ্চেনকারী অথরের রিপলে পড়ার জন্য হলেও আবার ওয়েবসাইট টি আরেকবার ভিজিট করে।

চ)  ডাটা এনালাইসিস করা
ওয়েবসাইট অথরিটিদের একটি গুরুত্বপূর্ন কাজ হলে ডাটা এনালাইসিস কর। এর থেকে বোঝা যায় কোন বয়স এবং কারা কিংবা কোন তারিখ বা সময়ে ভিজিটর বেশি থাকে। সেই অনুযায়ী ডাটা এনালাইসিস করে পরবর্তী পোষ্ট গুলোতে এটা ইমপ্লিমেন্ট করলে ভিজিটর সংখ্যা অবশ্যই বাড়বে। এর জন্য আপনি চাইলে গুগল এ্যানালাইটিকস ব্যবহার করতে পারেন।

ছ)  সোশ্যাল মিডিয়াতে একটিভ থাকা
আরেকটি গুরুত্বপূর্ন কাজ হলো বিভিন্স সোশ্যাল মিডিয়াতে একটভি থাকা। এর ফলে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ভিজিটর আসার চান্স বেড়ে যায়।

জ)  হাইপার লিংক / ইন্টানাল লিংক বৃদ্ধি করা
যেকোনো পোষ্টে হাইপার লিংক / ইন্টারর্নাল লিংক যেকোনো একটি খুবই গুরুত্বপূর্ন।মনেকরা যাক আপনি একটা আর্টিকেল লিখছেন থাইল্যান্ড এর জনপ্রিয় যায়গা গুলো নিয়ে। কিন্তু আপনি এর আগেই থাইল্যান্ড এর স্ট্রিট ফুড নিয়েএকটি আর্টিকেল লিখেছেন। আপনি চাইলে আপনি আপনার মেইন আর্টিকেল এর সাথ স্ট্রিট ফুড এর টাইটেলটি ট্যাগ করে দিতে পারেন। এরফলে যা হবে মেইন কন্টেন্ট এর জন্য আপনি তো ভিজিটর পাচ্ছেন ই এর পাশাপাশি ইন্টার্নাল লিংক করা পেজটি ভিজিট করার একটা চান্স থাকবে।

আশাকরি কিভাবে ওয়েবসাইটের ভিজিটর বাড়ানো এবং কিভাবে সেই ভিজিটরে ধরে রাখা যায় সে ব্যাপার গুরুত্বপূর্ন কিছু ধারনা পেয়ছেন।

৯। যেভাবে সহজেই পাবেন গুগল এডসেন্স (Google AdSense) একাউন্ট।

যারা টুক টাক ব্লগিং করেন বা করার চেষ্টা করেছেন তাদের সবাই গুগল এডসেন্সের কথা শুনেছেন।ইউটিউব চ্যানেল, ব্লগ বা একটি নিজস্ব ওয়েবসাইট থাকলে AdSense থেকে আয় করা যায়। অনেকেই, যাদের ইউটিউব চ্যানেল বা ব্লগ আছে তারা নিজেও একটা এডসেন্স একাউন্ট পাওয়ার আশা করেন। আমি এখানে ইউটিউব চ্যানেলে এডসেন্স সম্পর্কে আলোচনা করবোনা, বলবো ব্লগে গুগল এডসেন্স সম্পর্কে। নেটে গুগল এডসেন্স লিখে সার্চ করলেই দেখতে পাবেন হরেক রকমের তথ্য! কেউবা বলেন এটি পাওয়াই প্রায় অসম্ভব ব্যাপার আবার কেউবা বলেন পেলেও রক্ষা করা কঠিন আবার অনেকেই পরামর্শ দেন এর বিকল্প খোঁজার! আবার অনেকেই হতাশ হয়ে Google AdSense এর নাম দিয়েছেন সোনার হরিণ! আমাদের দেশে সরকারি চাকুরীকে যেমন সোনার হরিণ বলা হয় আরকি!

সত্যি কথা বলতে কি আমার নিজেরও প্রথমে এরকমই ধারণা ছিলো নেট থেকে পাওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ঘুরে ফিরে সকল ব্লগাররাই স্বীকার করে Google AdSense ই সবদিক থেকে সুবিধাজনক এবং ভালো ও বিশ্বস্ত!

এখানে আজে বাজে কোন বলার সুযোগ নেই। সম্পূর্ণ আমার অভিজ্ঞতা ও আমার রিসার্চ এর আলোকে আলোচনা করছি। এবার আসল কথায় আসা যাক।

গুগল এডসেন্স কি? কিভাবে এডসেন্স থেকে আয় করা যায়?

গুগল এডসেন্স হলো গুগলের এড নেটওয়ার্ক প্রোগ্রাম। Google Ads যার পূর্বনাম Google Adwords এর মাধ্যমে গুগল বিভিন্ন কোম্পানির কাছ থেকে যেসব বিজ্ঞাপন পায় তা AdSense এর মাধ্যমে পাবলিশারদের দিয়ে থাকে। Publisher গণ তাদের ওয়েবসাইটে উক্ত বিজ্ঞাপণগুলো প্রচার করলে এ থেকে গুগলের যা আয় হয় তার ৬৮% তারা পাবলিশারদের দিয়ে থাকে। ওয়েবসাইট ছাড়াও বিজ্ঞাপনগুলী ইউটিউব চ্যানেল এবং মোবাইল এপসেও প্রদর্শন করা যায় তবে এজন্য ভিন্ন ভিন্ন শর্ত এবং নিয়মাবলী প্রযোজ্য।আমরা যারা ব্লগে এড ব্যবহার করব আমরা সবাই পাবলিশার।

বাংলা কনটেন্টে কি AdSense পাওয়া যায়?
জ্বী  বর্তমানে বাংলা কন্টেন্ট এ গুলগ এডসেন্স সাপর্ট করে। আর এটি 2018 সালেই অনুমোদন দিয়েছ।এমনকি ব্লগার এর ফ্রি ব্লগে অর্থাৎ blogspot subdomain ব্লগেও খুব সহজেই এডসেন্স পাওয়া যায়। একে বলে হোস্টেড এডসেন্স (Hosted AdSense)। এমন বাধ্যবাধকতা নেই যে আগে কোনো টপ লেভেল ডোমেইন (.com .net .org .info) নিয়েই শুরু করতে হবে! অনেকেই ব্লগার এর সাব ডোমেইন তথা blogspot.com এ ব্লগিং করে এডসেন্স দিয়ে আয় করছে।তবে টপ লেভেল।

আর বাংলা লেখায় গুগল এড দেয় এটা এখন পুরনো খবর। গত ২৬শে সেপ্টেম্বর ২০১৭ থেকে গুগল এডসেন্স বাংলা ভাষার ওয়েবসাইটে এড দেয়া শুরু করেছে।পড়ুন : কিভাবে আপনার হোস্টেড এডসেন্স আপগ্রেড করে নন হোস্টেড এডসেন্স করবেন।

কিভাবে এডসেন্স একাউন্ট পাওয়ার জন্য এপ্লিকেশন করতে হয়?
গুগল এডসেন্স একাউন্টের জন্য আবেদন করার আগে অবশ্যই আগে যাচাই করে নিতে হবে আপনার ওয়েবসাইটটি এডসেন্স পাওয়ার জন্য Eligible কিনা।যদি নিশ্চিত হন আপনার ওয়েবসাইটি গুগল এডসেন্সের Program policy এবং Terms and Conditions সম্পূর্ণরূপে অনুসরণ করার উপযুক্ত তাহলে এই Form টি পূরন করে sign up করুন।

তবে যদি ব্লগার ব্লগে(Blogger blog) হোস্টেড(Hosted) একাউন্টের জন্য আবেদন করতে চান তাহলে এই ফরমের মাধ্যমে আবেদন করার প্রয়োজন নেই। সেক্ষেত্রে আপনার ব্লগার ব্লগ থেকেই আবেদন করতে পারবেন।

এপ্লিকেশন করার আগে ব্লগের বয়স কতোদিন হতে হবে?
এইটা নিয়েই অনেকে বিভ্রান্তি ছড়ায়! কেউ বলে ব্লগের বয়স কমপক্ষে ছয়মাস হতে হবে আবার কেউ বলে ছয়মাস হওয়ার প্রয়োজন নেই! ভালো লেখা হলে তিন চার মাসেই এডসেন্স পাওয়া যায়! তাহলে কার কথা বিশ্বাস করবেন? এক্ষেত্রে আমি বলবো আমার নিজের অভিজ্ঞতার কথা! আমি আমার ১৫ দিন বয়সের ব্লগেও এডসেন্স এপ্লিকেশন করে এপ্রুভ পেয়েছি। তবে হোস্টেড এডসেন্স এর ক্ষেত্রে ব্লগ এর বয়স একটু বেশি হলে ভাল।

দেখুন গুগল নিজেই কি বলে এ বিষয়ে:

Has your site been active for at least six months?
In some locations, we may require your site to have been active for at least six months before it will be considered. We’ve taken this step to ensure the quality of our advertising network and protect the interests of our advertisers and existing publishers.

এপ্লিকেশন করার আগে ব্লগে মোট কতোটি পোস্ট থাকতে হবে?
এটি নিয়েও আপনি অনেক বিভ্রান্তি দেখতে পাবেন গুগলে সার্চ করলে! কেউ বলে ২৫/৩০ কেউ বলে ৫০+ আবার কেউবা বলে ১০০+! এক্ষেত্রে আমার অভিজ্ঞতা হলো: আমার ১০ টি পোষ্ট দিয়েও এডসেন্স এর এপ্রুভাল পেয়েছি। কাজেই নতুনদের ঘাবড়ানোর কারণ নেই। ২০- ২৫ টা পোস্ট লেখার পরই এপ্লাই করুন।আমার ব্লগার ইতিহাসে কোন ব্লগ দিয়ে দ্বিতীয়বার এপ্লাই করতে হয়নি ১ম বারেই এপ্রুভাল পেয়েছি।যদি কোন কারনে আপনার ব্লগ এর জ্ন্য এডসেন্স এপ্রুভ না হয় ভয়ের কারন নেই।কি কারনে অনুমোদন হয়নি তা মেইলে বিস্তারিত লেখা থাকবে। সেই বিষয়গুলি সমাধান করার পর পুন:রায় আবেদন করুন। তবে লেখা যেনো অবশ্যই ইউনিক হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

পোষ্ট কমপক্ষে কতো শব্দের হতে হবে?
কেউ বলে ৫০০ আবার কেউ বলে ১০০০ শব্দের হতে হবে! গুগলের ভাষ্য মতে ৩০০+ শব্দের পোষ্ট মান সম্যত যদি আপনার পোষ্ট ৩০০ শব্দের কম হয় তবে আমার মতে কয়েকটা পোষ্ট আবেদন করার আগে বেশ কিছু ১০০০+ শব্দের আর্টিকেল প্রকাশ করে নিন। তাতে করে ইনসাফিসিয়েন্ট কন্টেন্ট ইস্যু থাকবে না। অনেকেই এই সমস্যার সম্মুখিন হয়। তবে লেখার মান যত ভালো হবে , লেখা যতো তথ্যবহুল হবে, লেখার আকার যতো বড় হবে ততো তাড়াতাড়ি এপ্রুভ হবে। কিন্তু লেখার আকার বড় করতে গিয়ে অর্থহীন বাক্য দিয়ে Content ভরিয়ে ফেলা ঠিক হবেনা। মনে রাখতে হবে আমাদের সাইট ভিজিটরদের জন্য।

কপি পেস্ট করা যাবে কিনা?
কপি পেস্ট যে করা যাবেনা সেটা গুগল স্পস্টই বলে দিয়েছে! তবে তারমানে এই নয় যে নেট থেকে কোনো তথ্য নেয়া যাবেনা। প্রয়োজনীয় তথ্য নেট থেকে সংগ্রহ করে নিজের ভাষায় লেখা যাবে।


কোন বিষয়ের উপর লিখলে এডসেন্স দেয় না:
সেক্স, পর্ণগ্রাফি, ভায়োলেন্স, (prohibited content ) এই ধরনের পোষ্ট দেয়া যাবে না। এমনকি কোন ধর্ম, গুত্র, বংষ ও কোন গোষ্টিকে হেয় করে কোন পোষ্ট দিলে সেটা গুগল এর এডসেন্স পলিসির বাইরে । ড্রাগ বেচাকেনা, অস্ত্র বেচাকেনা বা উৎসাহ মূলক কোন কন্টেন্ট দেয়া যাবে না।

এডসেন্স কন্টেন্ট পলিসি দেখুন এখানে।

আবেদন করার সময় কি কি তথ্য থাকতে হবে?
ব্লগে Privacy policy, Contact information, Privacy policy  ইত্যাদি পেজ থাকতে হবে।গুগল এগুলো স্পষ্টভাবেই ব্যাবহার করতে বলেছে। তবে ওয়েবসাইটে বিশেষ করে Privacy policy অবশ্যই রাখতে হবে। এ বিষয়ে Google বলেছে :

Privacy
You must disclose clearly any data collection, sharing and usage that takes place on any site, app or other property as a consequence of your use of any Google advertising service. To comply with this disclosure obligation with respect to Google’s use of data, you have the option to display a prominent link to How Google uses data when you use our partners’ sites or apps

কাদের জন্য এডসেন্স নয়?

  • যারা ওয়েবসাইট নিয়ে সঠিক পরিকল্পনা করার আগেই দ্রুত টাকা রোজগার করতে চায়।
  • যাদের ধৈর্য্যের অভাব আছে ।
  • লেখালেখির প্রতি আগ্রহ কম। অন্যের লেখা কপি করার প্রবনতা আছে।
  • ওয়েবসাইটে শুধু ফেসবুক ভিজিটরের উপর নির্ভরশীল।
  • SEO এর মাধ্যমে Organic visitor আনার পরিকল্পনা নেই।
  • মনে করে একটি AdSense account পেয়ে গেলেই হাজার হাজার ডলার আসতে থাকবে।
  • প্রচুর পড়াশোনা করার আগ্রহ ও ধৈর্য্য নেই।


১০। ব্লগ থেকে উপার্জন এর সহজ উপায়

ঘরে ঘরে ইন্টারনেট আসার হাত ধরেই এসেছে ব্লগিং। নিজের মতামত, লেখা, ছবি সবকিছুই মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সহজ উপায় ব্লগ। নিয়মিত লিখতে লিখতে তৈরি হয়ে যায় পাঠককূলও। আর হ্যাঁ এই ব্লগই হয়ে উঠতে পারে আপনার আয়ের উত্সও।

অনেকেই বলে থাকেন, বাংলাদেশে এখনও ব্লগ থেকে যথেষ্ট আয়ের সুযোগ নেই। কিন্তু এই দেশেই এমন ব্লগাররা রয়েছেন যারা তাঁদের ব্লগ থেকেই আয় করছেন লাখ লাখ টাকা। উপায় আছে হাতের কাছেই। জানতে হবে কয়েকটি সহজ পদ্ধতি, আর তাহলেই আপনার ব্লগটিই হবে আপনার ভবিষ্যতের আয়ের পথ।

ব্লগিং করে আয়ের সহজ কয়েকটি মাধ্যম।

১। বিজ্ঞাপন প্রকাশ
সবথেকে সহজ ও প্রচলিত উপায় এটি। যদি আপনি প্রথমবার আপনার ব্লগ থেকে আয়ের কথা ভাবেন তাহলে বেছে নিন এই উপায়টিই। সারা পৃথিবীতেই ব্লগে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে তা থেকে আয় একটি চালু উপায়, আর আমাদের দেশেও তা সমান জনপ্রিয়। আপনার ব্লগে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করুন, পাঠক যদি সেই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করেন তাহলেই মিলবে কমিশন।

আপনার ব্লগে কীভাবে এটি ব্যবহার করবেন-
প্রথমেই বেছে নিন একটি বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক। ব্লগার এবং বিজ্ঞাপনদাতা উভয়ের মধ্যেই সবচেয়ে জনপ্রিয় বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কটি হল গুগলের AdSense। রয়েছে BidVertiser, Infolinks এর মতো হাজারো এড নেটওয়ার্ক।

আপনার পছন্দের নেটওয়ার্কে বিজ্ঞাপন প্রকাশক হওয়ার জন্য আবেদন করুন। অন্যান্য তথ্যের সঙ্গে আপনার ব্যাঙ্ক আকাউন্ট, যেখানে কমিশনের টাকা পাঠানো হবে তার বিবরণও দিতে হবে আবেদনপত্রে, তাই সেই বিবরণ তৈরি রাখুন।

আপনার আবেদন মঞ্জুর হলে বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কের তরফ থেকে তা জানিয়ে আপনাকে একটি ইমেইল করা হবে। এরপর আপনাকে পাঠানো হবে বিজ্ঞাপন কোড যা আপনি আপনার ব্লগে প্রকাশ করবেন। আপনি আপনার পছন্দ মতো জায়গায় এটি প্রকাশ করতে পারেন, যেমন আপনি এটিকে লেখার মাঝে বা লেখার পাশের বারে রাখতে পারেন।

আপনি বিজ্ঞাপন কোডটি ঠিক স্থানে রাখার পর অল্প সময়ের মধ্যেই বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে তা আপনার ব্লগে প্রকাশ করা হবে এবং বিজ্ঞাপনটি আপনার ব্লগে দেখাবে।আপনার কাজ শেষ। এবার আপনার পাঠকরা ওই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলেই পয়সা জমা পড়বে আপনার অ্যাকাউন্টে।

কত টাকা পেতে পারেন
প্রতি ক্লিকে ০.০১ থেকে ৫০ ডলার পর্যন্ত আয় করা যেতে পারে। আপনার ব্লগের বিষয়ের ওপরই নির্ভর করে এই আয়, কারণ ব্লগের বিষয়ের ভিত্তিতেই দেওয়া হয় বিজ্ঞাপন। আপনার আয়ের পরিমাণ নির্ভর করছে কতজন বিজ্ঞাপনটি ক্লিক করছেন তার ওপর।

বেশি আয় করবেন কীভাবে- আপনার ব্লগে কোন জায়গায় বিজ্ঞাপন দিলে সবথেকে বেশি পাঠকের চোখে পড়বে ও তাঁরা তা ক্লিক করতে উত্সাহিত হবেন, সেটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। ঠিক করুন বিজ্ঞাপনের ধরণও। যেমন কোনও ব্লগে ছবিসহ বিজ্ঞাপনে বেশি ক্লিক হয় আবার অন্য কোনও ব্লগে, লেখা বিজ্ঞাপনের পাঠক বেশি।

২। অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

বেশ ভালরকমের আয় হতে পারে এই উপায়। ব্লগে লেখার মাধ্যমে কোনও একটি পণ্য বা পরিষেবার প্রচার করতে হবে আপনাকে। পণ্য বা পরিষেবাটি বাছার বিষয় সতর্ক হোন। আপনার পাঠকরা কী কিনতে চাইতে পারে সেটি বুঝে নিতে হবে আপনাকে। এরজন্য প্রয়োজন গবেষণা ও বিশ্লেষণ। প্রচার করার সময়ও হতে হবে সাবধানী, পাঠক আপনার লেখা পড়তে আপনার ব্লগে আসেন, সারাক্ষণ পণ্য বা পরিষেবার প্রচার দেখলে তিনি বিরক্ত হতে পারেন।

লেখার সঙ্গে পণ্য বা পরিষেবাটির লিঙ্ক আপনার ব্লগে প্রকাশ করতে হবে। যখন পাঠক সেই লিঙ্কে ক্লিক করবেন বা কিনবেন আপনি কমিশন পাবেন।

আপনার ব্লগে কীভাবে এটি ব্যবহার করবেন-
প্রথমেই বেছে নিন কোন পণ্য বা পরিষেবার মার্কেটিং করতে চান। কয়েকটি প্রচলিত অ্যাফিলিয়েট নেটওয়ার্ক হল Amazon, Clickbank, OMG India, Trootrac media। এছাড়াও ফ্লিপকার্ট বা ইবে মতো কোম্পানিতে মার্কেটিং অ্যাফিলিয়েট হিসেবে সরাসরি যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। পছন্দের ওয়েবসাইটে গিয়ে আবেদন পত্র পূরণ করুন। আপনি মার্কেটিং-এর জন্য কী কী কৌশল ও পদ্ধতি ঠিক করেছেন, তা জানাতে হতে পারে আবেদনের সময়।

বেশিরভাগ ওয়েবসাইটই ২৪-৭২ ঘন্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয় আপনার আবেদন গৃহীত হল কি না। আবেদন গৃহীত হলে আপনার অ্যাফিলিয়েট অ্যাকাউন্টটিতে লগ-ইন করে বেছে নিতে পারেন আপনার ব্লগের জন্য উপযুক্ত লিঙ্কটি। উপযুক্ত লিঙ্ক বা বিজ্ঞাপনটি আপনার ব্লগে যোগ করার পর দেখে নিন তা ঠিক মতো কাজ করছে কি না।

অ্যাফিলিয়েট হিসেবে আয় করার জন্য আপনি এবার প্রস্তুত। এরপর যখনই কেউ ওই লিঙ্কে ক্লিক করবে অথবা পণ্য বা পরিষেবাটি কিনবে আপনি তা থেকে কমিশন পাবেন।

কত টাকা পেতে পারেন-
বিক্রয়মূল্যের ২.৫ শতাংশ থেকে ৫০ শতাংশ অবধি পেতে পারেন আপনি। কমিশনের মূল্য নির্ভর করে পণ্য বা ওয়েবসাইটের ওপর। যেমন আপনি যদি ফ্লিপকার্টের বিজ্ঞাপন দেন, তাহলে কোনও ক্রেতা মোবাইল ফোন কিনলে আপনি যে কমিশন পাবেন, তার থেকে অনেক বেশি কমিশন পাবেন কেউ জামাকাপড় কিনলে।

বেশি আয় করবেন কীভাবে- আপনার পাঠকের কথা মাথায় রেখে পণ্য বা পরিষেবা নির্বাচন করুন। যে জিনিসের বিক্রি বেশি তার কমিশন কম, তাই পণ্য বা পরিষেবা নির্বাচনের সময় এমন জিনিস বাছুন যা তুলনামূলকভাবে কম বিক্রি হয় কিন্তু আপনার পাঠক তা কিনতে উত্সাহী।

৩। নিজের পণ্য বিক্রি

সবথেকে স্থায়ী ও নিশ্চিত আয়ের পদ্ধতি ব্লগের সাহায্যে নিজের পণ্য বিক্রি করা। এক্ষেত্রে আয়ের ওপর সবথেকে বেশি নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব। যেহেতু পণ্য ডিজাইন, দাম নির্ধারণ, মার্কেটিং পুরোটাই ব্লগার নিজে করেন তাই আয়ও তাঁর ওপরই নির্ভর করে। কীভাবে কাজ করে- নিজের দক্ষতা অনুযায়ী একটি পণ্য বা পরিষেবা তৈরি করুন। তারপর ব্লগের মাধ্যমে সেটি বিক্রি করুন।

আপনার ব্লগে কীভাবে এটি ব্যবহার করবেন-
নিজে হাতে বা কাউকে দিয়ে কোনও একটি পণ্য বা পরিষেবা তৈরি করুন। ইবুক, ভিডিওকোর্সের মত ডিজিটাল পণ্য বা বই, কুকি ইত্যাদি যা ইচ্ছে তৈরি করতে পারেন আপনি। পণ্য বা পরিষেবার মূল্য নির্ধারণ করুন। পণ্যটি কিভাবে ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেবেন, ক্যুরিয়র বা পোস্টে না কি ক্রেতাকে নিজে এসে সংগ্রহ করতে হবে তা ঠিক করুন। ঠিক করুন বিক্রয়মূল্য সংগ্রহের পদ্ধতি, পে-প্যাল, নগদ, চেক, ব্যাঙ্কে সরাসরি টাকা পাঠানো, আপনার এবং ক্রেতার দুজনের জন্যই সবথেকে বেশি সুবিধাজনক পদ্ধতিটি বেছে নিন।

ব্লগে একটি ল্যান্ডিং পাতা যোগ করুন, সেখানে আপনার তৈরি পণ্যের বিবরণ দিন, পণ্যটির ব্যবহার, উপযোগীতা সম্পর্কে বিশদে লিখুন, যোগ করুন কেনার বোতাম। নিজের পাঠকের বাইরে অন্যদের মধ্যেও আপনার পণ্যের প্রচার করুন। ব্যবহার করুন সোশ্যাল মিডিয়া, ইমেল মার্কেটিং বা অ্যাডওয়ার্ডের মত মাধ্যমগুলি।

আপনার পণ্য বিক্রি করুন ও তা থেকে আয় করুন।

কত টাকা আয় করতে পারেন-
এর কোনও উচ্চসীমা নেই। দাম, উত্পাদনমূল্য সবই যেহেতু আপনিই ঠিক করবেন তাই আয়ও আপনার হাতে, যত ভাল পণ্য, বিক্রিও তত বেশি, আর তা থেকে আয়ও।

বেশি আয় করবেন কীভাবে- পাঠকের চাহিদা বিশ্লেষণ করুন, এমন পণ্য তৈরি করুন যা আপনার পাঠক কিনতে উৎসাহী.

৪। ব্লগে সরাসরি বিজ্ঞাপন প্রকাশ

ব্লগ থেকে টাকা রোজগারের খুবই চালু উপায় হল কোনও কোম্পানির সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের বিজ্ঞাপন ব্লগে দেওয়া। এরফলে অ্যাডনেটওয়ার্ককে বাদ দিয়েই বিজ্ঞাপন দিতে পারছেন আপনি, বাড়ছে আয়। এছাড়াও আপনিই ঠিক করছেন কোন বিজ্ঞাপন দেবেন ও তার জন্য কতটাকা ধার্য্য করবেন, ফলে নিয়ন্ত্রণ থাকছে আপনার হাতে। তবে কোনও কোনও ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি খুবই ভাল কাজ করলেও অনেকক্ষেত্রে একেবারেই কার্যকরী হয়না।

কীভাবে কাজ করে
আপনি ব্লগে বিজ্ঞাপনটি প্রকাশ করবেন, যখনই কেউ সেই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করবে আপনি টাকা পাবেন। অথবা মাসিক বা সাপ্তাহিক মূল্যও ধার্য্য করা যেতে পারে, যেখানে পাঠকের ক্লিক করার ওপর নির্ভর করবে না আয়।

আপনার ব্লগে এটি ব্যবহার করবেন কীভাবে-
ব্লগের কোন জায়গায় বিজ্ঞাপনটি দিতে চান ঠিক করুন. হেডার, ফুটার, সাইডবার বা লেখার মধ্যে যেকোনও জায়গায় দিতে পারেন বিজ্ঞাপনটি। আপনার ব্লগে বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য কী করতে হবে সেই বিবরণ দিয়ে একটি পাতা তৈরি করুন। সেখানে লিখুন আপনার পাঠক কারা, আপনি কী বিষয় লেখেন, এবং আপনার ব্লগে বিজ্ঞাপনের মূল্য কত। ব্লগের বিভিন্ন জায়গার জন্য বিভিন্ন মূল্য নির্ধারণ করতে পারেন, যেমন হেডারে হয়তো আপনি বেশি মূল্য ঠিক করলেন আর লেখার মধ্যে কম। আপনার যোগযোগ নম্বর বা ই-মেইল আইডিও উল্লেখ করুন।

মানিটাইজেশন নেটওয়ার্ক-এ নিজের ব্লগকে নথিভুক্ত করান। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে আপনি অনেক বিজ্ঞাপনদাতার কাছে পৌঁছতে পারবেন। BuySell Ads এরকম একটি জনপ্রিয় নেটওয়ার্ক। ব্লগের যে জায়গায় আপনি বিজ্ঞাপন দিতে চান শেখানে বক্স করে লিখুন “এখানে বিজ্ঞাপন দিন”। এটি বিজ্ঞাপনদাতার দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। অনেক সময়ই বিজ্ঞাপনদাতা মূল্যের বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে স্থির করতে চায়, সেই সুযোগ রাখুন। মূল্যের বিষয় সহমতে এলে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করুন ও টাকা পান।

কত আয় হতে পারে-
আপনিই যেহেতু মূল্য নির্ধারণ করবেন তাই আপনার ওপরই নির্ভর করছে আয়ের পরিমাণ। তবে যত বেশি সংখ্যক পাঠক আয়ও ততই বেশি। বেশি আয় করবেন কী ভাবে- ব্লগের যে যে জায়গায় বিজ্ঞাপন দেবেন প্রতি জায়গাতেই “এখানে বিজ্ঞাপন দিন” লিখবেন না। আমার মতে কোনও কোনও জায়গায় কিছু নকল বিজ্ঞাপন দিন, এতে বিজ্ঞাপনদাতার আপনার ব্লগে বিজ্ঞাপন দিতে উৎসাহী হবেন।

এই উপায়গুলোই হল ব্লগ থেকে আয়ের সবথেকে প্রচলিত উপায়। ব্লগ থেকে রোজগার করা যেমন কোনও রকেট সায়েন্স নয় তেমনই ছেলেখেলাও নয়। পণ্য বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে খুবই সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। এবং ব্লগের নিয়মিত পাঠক তৈরি করার জন্য পরিশ্রম করতে হবে, যত বেশি সংখ্যক নিয়মিত পাঠক তৈরি করতে পারবেন আয় ততই বাড়বে। প্রয়োজন ব্লগের প্রচার করাও। অনেক ব্লগারই খুব ভাল প্রবন্ধ লেখেন কিন্তু প্রচার করেন না, তাই তা তাদের ব্যক্তিগত ডায়েরির মতই রয়ে যায়। প্রচারের মাধ্যমেই একমাত্র সম্ভাব্য পাঠকের কাছে পৌঁছনো সম্ভব। তাই ব্লগের প্রচার করুন, যেকোনও একটি উপায় বেছে নিন আর আয় করুন ব্লগ থেকে।

আপনি এখন ব্লগিং শুরু করতে পারেন। প্রতিটি ষ্টেপই ভিডিও টিউটরিয়াল ও লাইভ চ্যাট এর মধ্যমে সম্পূর্ণ করতে পারবেন। আমার সাথেই থাকুন।

কিভাবে YouTube থেকে আয় শুরু করবেন যেভাবে। নতুনদের জানা জরুরী।


আসসালামুয়ালাইকুম, কেমন আছেন সবাই, আশা করি সবাই ভালো আছেন, YouTube হল বিশ্বের প্রথম ভিডিও Search Engine প্লাটফরম। YouTube থেকে আয় করার ও সুযোগ করে দিয়েছে এই ভিডিও প্লাটফরম।যারা ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করে আয় করে তাদেরকে বলে Content Creator. কিন্তু কিভাবে আপনি একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হবেন ? এবং একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হয়ে কিভাবে YouTube থেকে আয় করবেন তা নিয়েই আজ আলোচনা করব। নিম্নে ধাপে ধাপে প্রতিটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আশা করি সবাই উপকৃত হবেন।

[বিঃ দ্রঃ আমার এই ছোট্ট টিউনটি মনযোগ  এবং গুরুত্বসহকারে পড়বেন, আশা করি আপনি সফল হবেন]
চলুন দেখে নেই কি কি ভাবে আপনি ইউটিউব থেকে আয় করতে পারবেন।

আপনার যা যা করতে হবে/লাগবেঃএকটি ক্যামেরা/আন্ড্রয়েড ফোন, কম্পিউটার/ল্যাপটপ এবং ইন্টারনেট
  • Gmail ID লাগবে
  • YouTube Channel তৈরী করা
  • YouTube Partner হওয়া
  • ভিডিও আপলোড করা
  • AdSense এ Apply করা
  • নিয়মিত ভিডিও তৈরী করা
  • ভিডিও শেয়ার করা
লিস্ট দেখে ভয় পাবেন না, আপনারা যারা আমার টিউন পড়ছেন তাদের প্রায় সবারই ডেস্কটপ/ ল্যাপটপ আছেই আর লাগবে ইন্টারনেট। আর একটা বিষয় লাগবে তা হলো আপনার আগ্রহ বা ইচ্ছা। চিন্তার কোন কারন নাই, আমি আপনাদের ফ্রি ভিডিও নিয়ে কাজ করবেন তা দেখাব। আমি আপনাদের জন্য প্রতিটি বিষয় খুব সহজভাবে আলোচনা করেছি, আমার টিউন শেষে লিঙ্ক দিব।[আমার এই ছোট্ট টিউনটি মনযোগ  এবং গুরুত্বসহকারে পড়বেন, আশা করি আপনি সফল হবেন]

শুরু করা যাক-

জিমেইলঃ প্রথমে লাগবে Gmail ID, আশা করি সবারই আছে। যাদের নাই ভাববেন না আমার আর হলো না। একটা জেমিইল আইডি খোলা খুব সহজ, সাথে থাকুন আমি আছি।

ইউটিউব চ্যানেলঃ YouTube এ গিয়ে সাইন ইন করে একটা Channel তৈরী করুন। একাউন্ট তৈরী করার সময় যেকোন নাম না দিয়ে এমন নাম দেন যার সার্চ বেশী হয়, চ্যানেল নেম খুব গুরুত্বপুর্ন।


ভিডিও তৈরীঃ ভিডিও তৈরীর জন্য আসলে দুইভাবে করা যায়। প্রথমটা হল- ভিডিও ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও তৈরি করা।দ্বিতীয়টি হলো-আপনি আপনার  কম্পিউটার অথবা আন্ড্রয়েড ফোনের স্ক্রিন ক্যাপচার করতে পারেন। স্ক্রিন ক্যাপচার এবং ভিডিও এডিটিং সফটওয়্যার যদি লাগে আমি দিব।


Partnar ভেরিফাইডঃ আপনার ইউটিউব চ্যানেলে সেটিং থেকে আপনার মোবাইল নম্বর দিয়ে ভেরিফাইড করে নিতে হবে।ভেরিফাইড হলে আপনি Youtube Partnar হয়ে যাবেন।

ভিডিও আপলোডঃ আপনার চ্যানেলে ভিডিও আপলোড দিবেন। অবশ্যই আপলোড দেওয়ার সময় আপনারা ভালো টাইটেল,ট্যাগ এবং ভিডিও এর ডেসক্রিপশনটা দিয়ে দিবেন। আপনার ভিডিও ডেসক্রিপশন এর সাথে আপনার ওয়েবসাইটের URL,Facebook page/Group/Twitter দিয়ে দিবেন।

 Google AdSense: আপনি যদি উন্নতমানের জনপ্রিয় ভিডিও তৈরি করতে পারেন, বা আপনার চ্যানেল জনপ্রিয় হয় তাহলে আপনি ইউটিউবের অ্যাডসেন্স পার্টনারশিপ থেকেই একটা অফার পেতে পারেন। অথবা আপনি  Country চেঞ্জ করে YouTube এর মাধ্যমে খুব সহজেই Google AdSense অনুমোদন পাওয়া যায়।

সেয়ারঃ আপনার আপলোডকৃত ভিডিও বিভিন্ন সোসিয়াল নেটওয়ার্কিং সাইটে শেয়ার করুন। Video শুধু Youtube-এ রাখলেই হবে না। আপনার ব্লগে, Facebook page/Group/Twitter/google+/pinterest সব জায়গায় Video শেয়ার করুন।

Plan Your Content


ইউটিউব Content Creator বা YouTube থেকে আয় করার কথা যখন চিন্তা করছেন প্রথমে যে বিষয়টা নিয়েআপনি কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না। তা হল কি নিয়ে আপনি ভিডিও তৈরী করবেন।
Video Topics নিয়ে চিন্তা করতে করতে বছরের পর বছর চলে যায় আবার অনেকেই কোন চিন্তা ভাবনা না করে একটা টপিকস নিয়ে ভিডিও তৈরী করা শুরু করে দিয়েছেন কিন্তু কিছু দিন পর আর এই টপিকস নিয়ে আর ভিডিও বানাতে পারছেন না। তাই ভিডিও টপিকস নিয়ে চিন্তা করার আগে আপনি চিন্তা করুন আপনিকোন বিষয়গুলো সবচেয়ে ভালবাসেন। এবং কোন বিষয় গুলোতে আপনি খুবই Expert বা কোন বিষয়টা নিয়ে ভিডিও বানাতে আপনি Enjoy Feel করেন।
যেমন ধরেন আপনি ছবি আকতে ভালবাসেন। কিন্তু আপনি ভিডিও বানাচ্ছেন Technology Related। কিন্তু টেকনোলজি নিয়ে আপনার তেমন কোন আইডিয়া নেই। যার ফলে আপনি কয়েকটি ভিডিও হয়ত বানাতে পারবেন কিন্তু বেশী দূর আগাতে পারবেন না।কিন্তু আপনি যেহেতু ছবি আকতে ভালবাসেন আর যদি আপনি যখন ছবি আকবেন তখন একটা ক্যামেরা দিয়ে তা Record করবেন আর কিছু গুরুত্বপূর্ন টিপস দিবেন। তাতে আপনার শখ ও পূরন হল আরসাথে একটা ভিডিও’ও তৈরী হয়ে গেল।
আর একটা কথা সবার মনে রাখা ভাল যে ইউটিউব এমন একটা প্লাটফরম যেখানে রান্না, চুল বাধা থেকে শুরু করে নাসায় কিভাবে নভোযান পাঠায় সব ধরনের ভিডিও ইউটিউবে আছে। তাই আপনি  যে বিষয়ে পারদর্শী সেই টপিকস নিয়ে ভিডিও তৈরী করুন।আর ইউটিউবে সাকসেস হতে হলে আপনাকে ইউনিক ও ক্রিয়েটিভ ভিডিও তৈরী করতে হবে।

ভিডিও তৈরীর Equipment সংগ্রহ করা


আপনার টপিকস সিলেকশন হয়ে গেলে আপনাকে কিছু সরঞ্জাম সংগ্রহ করতে হবে। যেমন আপনি ভিডিও স্যুট করারজন্য ক্যামেরা বা মোবাইল, ভয়েজ রেকর্ড করার জন্য Microphone, ক্যামেরা রাখার জন্য Tripod এবং ভাল মানের ক্যামেরা লেন্স। 
আপনি যে জায়গায় বসে বা দাড়িয়ে কথা বলবেন তারপিছনে Background ওয়ালপেপার বা Green Screen। ভাল মানের লাইটিং সিস্টেম খুবই গুরুত্বপূর্ন্।ইউটিউবে প্রফেশনাল ভাবে কাজ করতে হলে আপনাকে কিছু ইনভেস্ট করতে হবে। সেই সাথে ভাল কোয়ালিটির ভিডিও তৈরী করতে হবে।
আপনি যখন ইউটিউবে ভিডিও দেখেন তখন অবশ্যই আপনি HD Quality এবং ভাল সাউন্ড এর ভিডিও বা সিনেমা দেখেন।কিন্তু কোন সিনেমা বা ভিডিও যদি দেখতে ভাল কোয়ালিটির না হয় বা সাউন্ড কোয়ালিটি ভালনা হয় তাহলে আপনি কি দেখবেন? ঠিক সেই দিকটা আপনার ভিডিও’র ক্ষেত্রে ফলো করবেন। কারন আপনার ভিডিও কোয়ালিটি যদি ভাল না হয় তাহলে Viewers রা বিরক্ত হবে। তাতে আপনার ভিডিও ভিউ তেমন ভাল হবে না। তাই ভিডিও কোয়ালিটি ভাল করার জন্য উপরের সরঞ্জাম গুলো অবশ্যই আপনাকে ম্যানেজ করতে হবে

Watch Inspiration Videos


ভাল মানেরও প্রফেশনাল YouTuber বা Content Creator হয়ে YouTube থেকে আয় করতে হলে আপনাকে নিয়মিত ভাল মানের Inspiration ভিডিও আপনাকে দেখতে হবে। তারা কিভাবে কথা বলে, তাদের ভিডিও কোয়ালিটি কেমন, সেই সব ভিডিও’র সাউন্ড কোয়ালিটি কেমন। বিশেষ করে ভাল মানের ইউটিউবারদের কথা বলার স্টাইল ফলো করবেন। বিশেষ করে মটিভেশনাল ভিডিও নিয়মিত দেখলে আপনার কাজের উৎসাহ আরো বেড়ে যাবে।

Make Every Second Count


আপনি যখন একটা টপিকস নিয়ে ভিডিও তৈরী করবেন সবার প্রথমে আপনাকে মনে রাখতে হবে ভিডিওতে ভিউয়ারদের ভাল কিছু ইনফরমেশন দেওয়ার পাশাপাশি আপনার আসল উদ্দেশ্য YouTube থেকে আয় করা।
তাই আপনার ভিডিও’র প্রতিটি সেকেন্ডই যেন তথ্য বহুল হয়। ভিডিওতে কখনও টপিকসের বাহিরে বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে Viewer দের বিভ্রান্ত করবেন না। আপনার ভিডিও’র প্রথম ১ মিনিটে বা ৩০ সেকেন্ডেই যেন বুঝিয়ে দিতে পারেন আপনি আসলে পুরো ভিডিওতে কি তথ্য দিচ্ছেন আপনার ভিউয়ারদের।
ভিডিও’র মাঝে কোন প্রশ্ন রাখতে পারেন যেন ভিউয়াররা আপনার ভিডিওতে কমেন্ট করে তার উত্তর দেয় তাতে আপনার চ্যানেল খুব তাড়াতাড়ি রেঙ্ক করবে। ভিডিও তৈরীর সময় একটা বিষয় সব সময় মনেরাখবেন যে ভিডিও যেন খুব বেশী দীর্ঘ্ না হয়। তাতে ভিউয়াররা বিরক্ত হয়ে যাবে। তাই ভিডিও ৫ থেকে ১০ মিনিটের মধ্যে রাখার চেষ্টা করাই ভাল।

Simple Editing Software ব্যবহার করুন


আপনার ভিডিওস্যুট করবেন। ভিডিও স্যুটিং শেষে দরকার সঠিক এডিটিং। তার জন্য অনেক বিখ্যাত বিখ্যাত Software আছে।
যারা প্রফেশনাল ভিডিও এডিটিং করেন তারা অনেক উন্নত মানের সফটওয়্যার দিয়ে ভিডিও এডিটিং করে। কিন্তু যারা প্রফেশনাল ভিডিও এডিটর না তারা Windows Movie Maker, Camtasia Studio, Apple iMovie এই সফটওয়্যারগুলো ব্যবহার করে আপনি খুবই সহজে ভিডিও এডিটিং করতে পারেন। তবে ভিডিও এডিটিং করার সময় লক্ষ রাখবেন যেন খুব বেশী এনিমেশন বা ইমোশন ব্যবহার না করেন।
ভিডিওর মাঝে আপনি Subscribe my Channel, Like my Social Media এগুলো ব্যবহার করেন। ভিডিও রেন্ডারিং করার সময় সর্বনিম্ন 720p, 1080p রেজুলেশন এ Save করতে চেষ্টা করবেন। আর একটা বিষয় লক্ষ্য রাখবেন ভিডিও সাইজ যে খুব বেশী না হয়।

Optimize Your Videos

কম বেশী প্রায় সবারই আসল উদ্দেশ্য হল YouTube থেক আয় করা তাই আপনার প্রয়োজন লক্ষ লক্ষ ভিউয়ার আর সাবস্ক্রাইবার। তাই ভিডিও সুটিং ও  এডিটিং শেষ হলে আপনার Video Optimize করা প্রয়োজন।
যখন আপনি ভিডিও রেন্ডারিং বা Export করবেন তখন ভিডিও’র নাম ডিফল্টভাবে Save হয়। যেমন: Video001, Videomr54 ইত্যাদি। আপনি যদি হুবহু এই ভাবেই ভিডিওটি আপলোড করে দেন তাহলে আপনার ভিডিওটি রেঙ্ক হবে না। প্রথমে আপনার ভিডিও’র সুন্দর একটা টাইটেল Rename  করে নিবেন।
আপনি যদি Google Adword এর একটি ফ্রি টুলস Google Keyword Planner দিয়ে Keyword রিসার্স্ করতে যানেন তাহলে আপনি Keyword Research করে ভাল একটি টাইটেল, এবং কিছু Keyword সিলেক্ট করে নিবেন। Keyword Research নিয়ে এই পোষ্টটি দেখতে পারেন। ভিডিও আপলোড করার পর টাইটেল, ডেসক্রিপশনও ট্যাগ দিবেন। এবং সুন্দর একটি Thumbnail বানিয়ে আপলোড করতে পারেন। Thumbnail বানাতে www.fotojet.com এই সাইটটি থেকে ফ্রিতে ভাল মানের থাম্বনেল বানাতে পারেন। ইউটিউব SEO নিয়ে আরো কয়েকটি পোষ্ট খুবই তাড়াতাড়ি আপলোড করা হবে।

Customize Your Channel


আপনার চ্যানেলের টপিকস বিষয়ক Channel Art Image ও প্রফেশনাল লগো চ্যানেলের সুন্দর্য্ বাড়িয়ে তুলো।
গুগুলে সার্চ্  করে এমন অনেক ফ্রি ওয়েবাসইট পাবেন যার সাহায্যে আপনি Channel art or Logo বানাতে পারবেন। গুগুলে How to make Free Channel art for YouTube লিখে সার্চ্ করুন। আপনার চ্যানেলের ব্যানারের নিচে Facebook,Twitter, Linkdin, Pinterest  বা আপনার কোনওয়েবসাইট থাকলে তার লিংক সেট করে দিন। আপনার চ্যানেলের হোম পেইজকে সুন্দর ভাবে কাস্টমাইজ করুন। প্রথমে একটা ভাল মানের ইন্ট্রো বানান ও তা হোম পেইজের প্রথমে রাখুন। তারপর Popular Video গুলো তারপর জনপ্রিয় ট্যাগ গুলো সেট করুন।

Build Your Network


আপনি একজন প্রফেশনাল ইউটিউবার বা Content Creator হতে হলে আপনাকে জনপ্রিয় সকল স্যোসাল মিডিয়াতে যেমন, Facebook, Twitter, Linkdin, Pinterest ইত্যাদিতে আপনার অডিয়েন্স তৈরী করতে হবে। সকল Social Media তে আপনার পেইজ,Group তৈরী আপনার ভিডিওগুলো শেয়ার করতে হবে।
কিভাবে আপনি সোস্যাল মিডিয়াতে আপনার ভিডিও শেয়ার করবেন তার জন্য এই ভিডিওটি দেখতে পারেন। একটা কথা সব সময় মনে রাখতে হবে যে, আপনার ভিডিও কখনও স্প্যামিং করা যাবে না। স্প্যামিং কি তা যদি না জানেন তাহলে এই ভিডিওটি দেখুন তাহলে আপনার স্প্যামিং বিষয়ে সুন্দর ধারনা হয়ে যাবেন। এভাবেই আপনাকে আপনার ভিডিও ভিউ ও চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার বাড়াতে আপনার সোস্যাল মিডিয়াতে একটা নেটওয়ার্ক্ গড়েতুলতে হবে।
আরো একটা বিষয় হল আপনার চ্যানেলের ভিউ ও সাবস্ক্রাইবার বাড়াতে হলে Collaboration হল গুরুত্বপূর্ন বিষয়। Collaboration হল আপনি Popular কোন চ্যানেলে আপনার চ্যানেল নিয়ে রিভিউ বা ইন্টারভিউ বিষয়ক ভিডিও এক অপরের চ্যানেলে আপলোড করতে পারেন তাতে আপনার চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবারও ভিউ বেড়ে যাবে।

সকল Comments এ গুরুত্ব দেন


আপনার চ্যানেলের ভিডিওতে আপনার ভিউয়ার রা যখন কোন মন্তব্য করবে তাহলে আপনি সেই মন্তব্যগুলো মনযোগ দিয়ে দেখবেন। কেউ প্রশ্ন করলে তার সঠিক উত্তর দিবেন। কেউ আপনার ভিডিও’র প্রসংসা করলে তাকে ধন্যবাদ দিন। আবার কেউ যদি নেগেটিভ মন্তব্য করেন তাহলে আপনিও সাথে সাথে নেগেটিভ মন্তব্য করবেন না। তাকে বুঝাতে চেষ্টা করুন। কেন সে নেগেটিভ মন্তব্য করেছে তা সমাধানের চেষ্টা করুন।
আপনি অন্য চ্যানেলের ভিডিওতে মন্তব্য করুন, প্রশ্ন করুন কিংবা ধন্যবাদ দিন।  এতে আপনার চ্যানেলের এনগেজমেন্ট বেড়ে যাবে  এবং ভিউ, সাবস্ক্রাইবার বাড়বে। তবে কখনও অন্যের ভিডিওতে কোন লিংক শেয়ার  বা আমার চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন, আমার চ্যানেল ভিজিট করুন এই ধরনের মন্তব্য করবেন না। এই  ধরনের মন্তব্য করলে স্প্যামিং হবে এবং কেউ রিপোর্ট্করলে তাতে আপনার চ্যানেল সাসপেন্ড হওয়ার ও আশঙ্কা আছে।
বন্ধুরা YouTube থেকে আয় করার প্রথম ও প্রাথমিক ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করেছি এই পোষ্টে আশা করি যারা নতুনতারা উপকৃত হবেন্। আমাদের ওয়েবসাইটে প্রতিটি ক্যাটাগরিতে Basic থেকে Advanced লেভেল পর্যন্ত টিউটোরিয়াল দেওয়ার চেষ্টা করব। আশা করি সাথেই থাকবেন।
বুঝতে কোনসমস্যা হলে বা কোন ধরনের প্রশ্ন থাকলে কমেন্টে জানাবেন। সব সময় উত্তর দিতে চেষ্টা করব।
পোষ্টটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন। প্রতিটি পোষ্ট নিয়মিত ভাবে আমাদের পেইজে শেয়ার করে থাকি।

প্রেরণামূলক: স্বপ্ন থেকে বাস্তবতা



স্বপ্ন তো আমরা সবাই দেখি। শৈশবে করা চিরপরিচিত প্রশ্ন বড় হয়ে কী হতে চাই- এর জবাবে তো অনেকেই অনেক কিছু করার, অনেক কিছু হবার স্বপ্নের কথা বলতাম। পরীক্ষার খাতায় আমার জীবনের লক্ষ্য রচনায় সুন্দর করে লিখতাম নিজেদের স্বপ্ন আর লক্ষ্যের কথা। কিন্তু দিনশেষে আমাদের অধিকাংশের স্বপ্নগুলো স্বপ্নই রয়ে যায়। অথচ, এ স্বপ্নগুলো বাস্তবে রূপ দেওয়াটা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়।

স্বপ্নকে বাস্তবতায় রূপ দেওয়ার জন্যে প্রয়োজন অধ্যবসায়, অদম্য ইচ্ছাশক্তি, চেষ্টা আর পরিশ্রম। আমাদের দেখা স্বপ্নগুলো পরিণত হবে বাস্তবতায়- তবে, এ স্বপ্নটা পূরণ করতে হলেও পোড়াতে হবে কিছু কাঠ-খড়। স্বপ্নকে বাস্তবতায় টেনে আনার একটি চমৎকার রূপকল্প আছে। যেটার শুরুটা হয় স্বপ্ন থেকেই।

স্বপ্ন:

“স্বপ্ন সেটা নয় যা তুমি ঘুমিয়ে দেখো; স্বপ্ন হলো সেটা যা তোমাকে ঘুমাতে দেয় না।”

– এ. পি. জে আব্দুল কালাম

আশা করতেই পারি যে, স্বপ্নের প্রকৃত সংজ্ঞাটা এবার বুঝতে পেরেছি আমরা। কিন্তু সমস্যাটা হলো স্বপ্ন দেখাটাই তো সব নয়। স্বপ্ন দেখা হয়ে গেলে সেটাকে সত্যি করার মিশনে নামতে হবে। আর সেই মিশনের প্রথম পদক্ষেপ হলো স্বপ্নটাকে লিখে রাখা। অবাক হওয়ার মতো হলেও এটাই আসলে স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপ! অনেকেই ভাবতে পারো যে লিখে রাখার বাড়তি সুবিধাটা কোথায়? সুবিধাটা হলো, এই লিখিত স্বপ্নটাই আসলে তোমার স্বপ্ন পূরণের প্রধান রিমাইন্ডার। এবং এতে স্বপ্ন পূরণে সফল হওয়ার নিশ্চয়তাও অনেকখানি বেড়ে যায়।

লক্ষ্য:

 স্বপ্ন দেখা হয়ে গেলো, লিখে রাখাও হলো। এবার পালা লক্ষ্য নির্ধারণের। আমরা অনেকেই স্বপ্ন আর লক্ষ্যকে এক ভেবে ভুল করে বসি। কিন্তু স্বপ্ন আর লক্ষ্যের মাঝে কিছুটা তফাত রয়েছে। স্বপ্নটাকে যখন কাগজে কলমে, ডেডলাইন সহ লিখে রাখা হয় তখন সেটা লক্ষ্যে পরিণত হয়। ব্যাপারটা খোলাসা করা যাক।

ধরা যাক, আমি চাই বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় একটা বিশাল পরিবর্তন আনতে। এটা একটা বড় স্বপ্ন।

কিন্তু, আমি চাই ২০১৯ এর জুনের মধ্যে টেন মিনিট স্কুলের সহায়তায় প্রতিদিন একসাথে ৫,০০,০০০ শিক্ষার্থী ফ্রি-তে পড়াশোনা করবে। এটা হলো লক্ষ্য। কারণ এতে সময়সীমা নির্ধারিত।

পরিকল্পনা: 

স্বপ্ন দেখা হলো, লক্ষ্যও নির্ধারন করা হলো। এবার পালা লক্ষ্য অর্জনের জন্যে কর্মপরিকল্পনা করে ফেলা।

আমরা স্বপ্নটা নিয়েই যদি পরিকল্পনা করতে বলা হয় সেক্ষেত্রে প্রতিদিন যদি ৫,০০,০০০ শিক্ষার্থীকে শিক্ষাসেবা দিতে হয় তাহলে আমাদের আরো ভিডিও তৈরি করতে হবে। কুইজের সংখ্যা বাড়াতে হবে। প্লাটফর্মের সার্ভারটাকে সম্প্রসারিত করতে হবে। ফেসবুক, ইউটিউবে নিয়মিত কমিউনিটি ম্যানেজ করতে হবে।

এবং এই পরিকল্পনাটা যতখানি গোছানো হবে পুরো বিষয়টা ততখানি দৃশ্যমান হবে।

পরিকল্পনা মোতাবেক যখন প্রতিনিয়ত কাজ করা হবে তখনই তোমার স্বপ্ন পরিণত হবে বহু প্রতীক্ষিত বাস্তবতায়।

সবই তো হলো কিন্তু তবুও একটা “কিন্তু”-ও কিন্তু রয়েই যায় দিন শেষে। সেটা হলো স্বপ্ন পূরণের প্রথম ধাপ অর্থাৎ, স্বপ্নটাকে ডেডলাইনসহ লিখে রাখার মাধ্যমে লক্ষ্য নির্ধারণ করা; এই লিখবার কাজটাই আমরা অনেকে করি না। তারপর হতাশ হয়ে আক্ষেপের সুরে বলে বসি যে, “আমাকে দিয়ে হবে না। সম্ভব না। এ আমার কর্ম নয়।” ইত্যাদি ইত্যাদি আরো কত কী! অথচ এই আমরাই আমাদের স্বপ্নগুলোকে একটা পর্যায়ে আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে পাঠিয়ে দেই। আমাদের কারণেই আমাদের স্বপ্নগুলো স্বপ্ন থেকে লক্ষ্যে পৌঁছায় না।

তুমি যদি এই পরিস্থিতিতে অবস্থান করে থাকো তাহলে তোমাকে বলছি, এখনই খুঁজে বের করো তোমার স্বপ্নটার লক্ষ্য পর্যন্ত আসার পথে প্রতিবন্ধকতা আসলে ঠিক কোথায়? তারপর সেটাকে সরানোর চেষ্টা করো, স্বপ্নটাকে লক্ষ্যে পরিণত করো।


যারা স্বপ্নটাকে লক্ষ্যে পরিণত করতে এরই মধ্যে সফল হয়েছো, কিন্তু পরিকল্পনা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছো তাদের কাজ হলো ঠিক কেন পরিকল্পনা করতে সমস্যা হচ্ছে সেটা খুঁজে বের করা। জানার চেষ্টা করা তোমার সীমাবদ্ধতা কোথায় কোথায়? তারপর সেটা নিয়ে কাজ করা এবং তারপর লক্ষ্যটাকে অর্জন করার জন্যে পরিকল্পনা করা।

পরিকল্পনা করার পর সেটা অনুযায়ী প্রতিদিন, প্রতিনিয়ত কাজ করে গেলেই স্বপ্ন বাস্তবতায় পূর্ণতা পাবে। তবে, পরিকল্পনা করা হয়ে যাবার পরের ধাপগুলোই বেশ কঠিন। কারণ, পরিকল্পনা আর বাস্তবতার মাঝে আরও কিছু বাঁধা আছে। “ভাল্লাগে না”, “টায়ার্ড”, “নট প্রোডাক্টিভ”, “কালকে করবো”…… নামের গাদাগাদা অনুভূতির প্ররোচনায় পরিকল্পনা করার পর সে অনুযায়ী প্রতিনিয়ত একইভাবে শ্রম ও সময় দেওয়াটা চালু রাখা সবার পক্ষে সম্ভব হয় না। এই বাঁধা আর প্ররোচনাকে এড়িয়ে গিয়ে প্রতিনিয়ত স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্য অর্জনের নিমিত্তে করা পরিকল্পনা মোতাবেক কাজ করে গেলে সফলতা আসবেই। স্বপ্নগুলো সত্যি হবেই।

মনে রেখো,

“A dream written down with a date becomes a goal.

A goal breaks down with steps becomes a plan.

A plan backed by action becomes reality.”

– Greg S. Reid

তাই, আজই খুঁজে বের করো তোমার স্বপ্ন পূরণের পথে ঠিক কোন ধাপে আছো তুমি আর পরবর্তী ধাপে অগ্রসরের পথে বাঁধাটাই বা কোথায়? তারপর সেটাকে সরিয়ে দিয়ে একের একের পর এক ধাপ অতিক্রম করে তোমার স্বপ্নকে পরিণতি দাও বাস্তবতায়।

জীবনের বাস্তবতা বড়ই নিষ্ঠুর। এটাই জীবন। জীবনের বাস্তবতার বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, যতই নিষ্ঠুর হউক বা যতই কষ্ট হউক তা সয়ে নিতে হয়, মেনে নিতে হয় জীবনের প্রয়োজনেই। জীবনে কষ্ট আসলে মানসিক ভাকে যতটুকু ভেঙ্গে পড়বে জীবন তার দ্বিগুন পিছিয়ে যাবে। জীবনের সকল দূঃখ কষ্ট ও বাস্তবতাকে জীবনের অংশ হিসাবে মেনে নিয়ে স্বাভাবিক ভাবে গ্রহন করার নামই হচ্ছে সুখ।
জীবনের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে , সে কখনও এক পথে চলেনা। মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী চলেনা। জীবনের এই বৈশিষ্ট্যকে যারা মেনে নিতে পারেনা তারাই হতাশ জীবন যাপন করে। যারা মেনে নিতে পারে তারাই সুখী । কিন্তু সবাই কি পারে সব অবস্থা মেনে নিতে ? কিন্তু মেনে নিতে হয় জীবনের জন্য। জীবনের বাস্তবতা যারা মেনে নেয় তারা জীবনের আনন্দগুলো উপভোগ করে, জীবনকে উপভোগ করে। কষ্ট ও দুঃখগুলো থেকে তারা শিক্ষা নেয়। গৃহীত শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে তারা জীবন সাজায়। ফলে তাদের জীবনের দুঃখ কষ্টগুলো বাহির থেকে দেখা যায়না বা তারা তা দেখাতে চায়না। দুঃখ কষ্ট তারা সামলে নিয়ে সেখান থেকে শিক্ষা গ্রহন করে। তাদের সহনমাত্রা অনেক বেশী থাকায় একটা সময় এসে দুঃখ কষ্ট তাদেরকে ছুঁতে চায়না , ছুঁয় না। আমরা বলি চীরসূখী মানুষ । আসলে তা নয়। তারা দুঃখ কষ্টকে জীবনের অংশ হিসাবে স্বাভাবিক ভাবে মেনে নেয়। তারা অনেক কষ্ট সয়ে , মেনে নিয়ে কষ্টকে জয় করে নিয়েছে।

জীবনের বাস্তবতায় আসা কষ্টকে মেনে না নিয়ে হতাশ হলেই জীবন হতাশ হয়। কিছু কিছু কষ্ট জীবনে আসে যা ক্ষুদ্র জীবনের কাছে পাহাড় তুল্য। হতাশ নয়, ধৈর্য্য ও সময়ই অনেক সমস্যার সমাধান দেয়।
কষ্ট কখনও কখনও এমন ভাবে আসে যখন চোখ বন্ধ হয়ে যায়। কান বধির হয়ে যায়।কন্ঠ বোবা হয়ে যায়। বুদ্ধি নির্বোধ হয়ে যায়। শরীর পঙ্গু হয়ে যায়। দিশেহারা জীবনে সব পরিকল্পনা ছাড়খার হয়ে যায়। তারপরও মানুষকে বেঁচে থাকতে হয় জীবনের অদৃশ্য প্রয়োজনে। আমি জানিনা কী সে প্রয়োজন। জীবনের কোথায় যেন কিসের একটা অদৃশ্য টান। আমার অনুপস্থিতিতে সব চলবে যথারীতি। তারপরও মনে হয় আমিই যেন সব সমস্যা সমাধানের একমাত্র ভরষা। মনে হয়, আমি ছাড়া সমস্যা সমাধানের আর কেউ নাই। আমাকে ছাড়া ? অসম্ভব। এই মনে করে বলেই হয়তো হাজার যন্ত্রনা সয়ে বেঁচে থাকা।

জীবনের অত্যাশিত বাস্তবতা কি যে কঠিন তা বোধ হয় মানুষ মাত্রই বুঝেন।
আপনার মা আপনার এতই প্রিয় যে, এক মুহুর্ত চোখের আড়াল করেননি। কিন্ত একদিন হয়তো দেখা গেল আপনারই কোলে শুয়ে আপনার মা পৃথিবী থেকে বিদায় নিল। আপনি কি তা ভূলেও কোন দিন প্রত্যাশা করেছিলেন ? তারপরও কিন্ত স্বভাবিক ভাবে বেঁচে আছেন। থাকতে হবে , থাকতে হয়। আমার এক বন্ধুর কথা বলি। নাম অর্পি। বিবাহিত । মা হতে যাচ্ছে। স্বামী বিপ্লব চট্রগ্রামে চাকুরী করে বিধায় অর্পি এই অবস্থায় ঢাকার মিরপুরে বাবার বাসায় থাকেন। একদিন বিকালে হঠাৎ অর্পির বাবা ষ্টোক করে। হাসপাতালে ভর্তি হয়। সেদিন অর্পি কে খুব পরিশ্রম করতে হয়েছে, কারণ অর্পির কোন ভাই নাই। সাড়ে সাত মাসের গর্ভবতী অর্পি সন্ধায় অসুস্থ হয়ে পড়ে। ভর্তি হতে হয় মাতৃসদনে। ডাক্তার জানায়, জরুরী ভিত্তিতে সীজার না করলে মা ও সন্তান দুজনের জন্যই বিপদ হতে পারে। বিপ্লব কে সংবাদ দেয়া হয়। পরদিন ভোরে বিপ্লব ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। পথিমধ্যে সংবাদ পায় অর্পির বাবা মারা গেছেন। দুপুরের পরে অর্পির সীজার হবে। বিপ্লব দিশেহারা হয়ে যায়, এখন সে কি করবে। কোথায় যাবে ? ভাইহীন অর্পির বাবার লাশ দেখতে হাসপাতালে ? নাকি নিজের স্ত্রী, সন্তানের কাছে।
বিপ্লব গাড়ী থেকে নেমে চলে যায় লাশ সামলাতে। অর্পির বাবার লাশ দেখে চিৎকার করে কাঁদতে থাকে বিপ্লব। কারণ মাত্র ১ মাস আগেই সে তার বাবাকে হারিয়েছে । নিজেকে সে অভিবাবকহীন, অসহায় ভাবছে। এক সময় তার বুকে ব্যথা উঠে এবং ঐ হাসপাতালেই ভর্তি করানো হয়। অর্পির বাবার লাশ বের করতে সময় লাগে অনেক বেশী, কারণ ভর্তির ১ ঘন্টা পর নার্স ট্রলিতে করে সামনে নিয়ে আসে বিপ্লবের লাশ।

সীজার শেষে বিকাল নাগাদ অর্পি কিছুটা সুস্থ বোধ করে। দেখে পাশে তার সন্তান নাই। জানতে পারে ,অপরিপক্ক শিশু জন্ম হওয়ায় ইনকিবিউটরে রাখা হয়েছে। সন্ধায় পর নার্স এসে জানায় “ ডাক্তাররা অনেক চেষ্টা করেছিল,,,,,, কিন্তু ,,,,, দুঃখিত,,,,”।

একই দিনে অর্পি তার তিনটি আশ্রয় হারায়। বাবা, স্বামী, সন্তান। আমাদের সমাজে নারীর বেঁচে থাকার এই তিনটিই স্থান। অর্পি বেঁচে আছে। থাকবে। বাহির থেকে কেউ কি বুঝবে এই বেঁচে থাকার ভিতরকার রূপটি কেমন।

আমি জানিনা অর্পি কেমন করে বেঁচে আছে। কেন , কিসের আশায় বেঁেচে আছে। তবু তাকে বেঁচে থাকতে হবে কষ্টের স্মৃতি নিয়ে। প্রতি বছর একই দিনে অর্পি তিনটি কবর জিয়ারত করে যে কবরে প্রতিটি বাসিন্দা তার এক একটা আত্মা।
অর্পি বেঁচে আছে,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
এটাই হচ্ছে জীবন ও বাস্তবতা।

বাস্তবতা অনেক কঠিন, জীবন ও বাস্তবতা, জীবন বড় কঠিন, স্বপ্ন এবং বাস্তবতা, জীবন এবং বাস্তবতা, বাস্তবতার ছবি

কম বাজেট বা ৫০০০ টাকার মধ্যে 4G মোবাইল। ওয়ালটন Primo EF8 4G Review and Price 2019


কম বাজেটে ৪জি স্মার্টফোন খুজছেন ? গ্রাহকদের কথা চিন্তা করে দেশি কোম্পানি ওয়ালটন বিভিন্ন রেঞ্জের স্মার্টফোন বাজারে লঞ্চ করে আসছে। সম্প্রতি তাদের নিজস্ব কারখানায় তৈরি প্রিমো ইএফ সিরিজের নতুন এন্ট্রি লেভেলের এন্ড্রয়েড স্মার্টফোন প্রিমো ইএফ ৮ ৪জি বাজারে লঞ্চ করেছে। নাম শুনে বুঝতে পেরেছেন ডিভাইসটি ৪জি সাপোর্টেড। এতে অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে রয়েছে আন্ড্রয়েড আপডেট ভার্সন অরিও ৮.১ ( গো এডিটেশন) এ ছাড়াও ১ জিবি ডিডিআর থ্রী র‍্যাম ও ইন্টারনাল স্টোরেজ হিসেবে ৮ জিবি রম এবং ৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা । ডিভাইসটি পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪,৯৯৯ টাকায়। লো রেঞ্জের এমন মাস্টার কম্বিনেশনে অন্য একটি ডিভাইস খুঁজে পাওয়া আসলেই দুষ্কর।  ৫০০০ টাকা বাজেট এর ভেতর ভালো ৪জি স্মার্টফোন কেনার ইচ্ছা আমাদের সবারই থাকে। তবে এই দামের ভেতর ভালো একটি ৪জি কানেকটিভিটি মানের স্মার্টফোন বাছাই করা আমাদের পক্ষে অনেক চিন্তার হয়ে যায়। তো আজ আমি আলোচনা করব এমন একটি স্মার্টফোন নিয়ে আপনার এই বাজেট এর ভেতর একটা ভালো ৪জি স্মার্টফোন এর শূন্যস্থানটি পুরন করতে পারবে। স্মার্টফোনটির নাম ওয়ালটন প্রিমো ইএফ৮ ৪জি।

একনজরে ওয়ালটন প্রিমো ইএফ ৮ ৪জি

  • ৪জি সাপোর্টেড
  • ৪.৯৫ ইঞ্চি, ১৮ঃ৯ রেসিও ফুল ভিউ ডিসপ্লে
  • আন্ড্রয়েড অরিও ৮.১ ( গো এডিটেশন)
  • ১.৪০ গিগাহার্জ কোয়াড কোর প্রসেসর
  • মালি টি ৮২০ জিপিউ
  • ডিডিআর থ্রী ১ জিবি র‍্যাম এবং রম ৮ জিবি
  • বিএসআই ৫ মেগাপিক্সেল রিয়ার ক্যামেরা সাথে এলইডি ফ্ল্যাশ
  • সফট এলইডি ফ্ল্যাশ সহ বিএসআই ৫ মেগাপিক্সেল ফ্রন্ট ক্যামেরা
  • ২,০৫০ এমএএইচ লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি
বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন এখানে

ইউজার ইন্টারফেস

ক্যামেরা

ডিভাইসটির রিয়ার প্যানেলে রয়েছে একটি ৫ মেগাপিক্সেল BSI সেন্সর যুক্ত অটোফোকাস ক্যামেরা । আর এই ক্যামেরাটিতে ডিজিটাল জুম, সেলফি টাইমার, এআই ডিটেক্ট এর মতন ফিচারস রয়েছে। ক্যামেরা সেটিংস হিসেবে রয়েছে: এক্সপোজার কন্ট্রোল, হোয়াইট ব্যালেন্স প্রিসেট ,  আইএসও ব্যালেন্স, কালার কন্ট্রোল। শুটিং মোড হিসেবে রয়েছেঅটো মুড, মেনুয়াল মুড, ফেস বিউটি, এইচডিআর, প্যানোরামা । এছাড়াও ১০৮০ পিক্সেল HD ভিডিও করা যাবে।
সামনে ফ্রন্ট ক্যামেরা হিসেবে রয়েছে আরেকটি ৫ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা সাথে সফট এলইডি ফ্ল্যাশ। ৭২০ পিক্সেলে ভিডিও রেকর্ড করা যাবে।

ডিসপ্লে এবং বডিঃ

ডিভাইসটিতে ৪.৯৫ ইঞ্চি ও ১৮ঃ৯ ফুল ভিউ ডিসপ্লে ব্যাবহার করা হয়েছে । ডিসপ্লেটি এফডব্লিউভি এ প্রযুক্তির ক্যাপাসিটিভ টাচ স্ক্রিন এবং এর রেজুলেশন ৪৮০*৯৬০ পিক্সেল। প্রায় ৫ ইঞ্চি ডিসপ্লে হওয়ায় ফোনটির সাইজ বেশি একটা বড় নয় তাই সহযে এক হাতেই মেন্টেইন করা যাবে।
ডিভাইসটি বাজারে ৩ টি কালার; মেরিন ব্লু , কালো, সোনালী পাওয়া যাবে তার মধ্যে কালো রঙটি সবচেয়ে আকর্ষণীয়। ব্যাটারিসহ এই ডিভাইসের ওজন মাত্র ১২৮ গ্রাম। ডিভাইসটির পুরুত্ব ৯.৯ মিলিমিটার। ডিভাইসটির উচ্চতা ১৩৮.৭ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ৬৫ মিলিমিটার। পুরো ডিভাইসটি সচল রাখতে থাকছে  ২০৫০ এমএএইচ লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি।

হার্ডওয়্যার

এতে ১.৪০ গিগাহার্জ কোয়াডকোর সিপিইউ ব্যবহার করা হয়েছে। সিপিইউটির কোর সংখ্যা ৪ টি এবং ক্ষমতা ১৩০০ হার্জ। ডিভাইসটিতে দেয়া হয়েছে ডিডিআর থ্রী ১ জিবি র‍্যাম  ; আর এখানে মোট ৯১৫ এমবি এর ভেতর হালকা কিছু অ্যাপলিকেশন ইনস্টল করলে প্রায় ৫৮২ এমবি বা এর কম-বেশি র‍্যাম  ফাকা থাকে ।
গ্রাফিক্স প্রোসেসিং ইউনিট হিসেবে রয়েছে মালি টি ৮২০ জিপিউ।  ডিভাইসটির সার্বিক গ্রাফিক্স এবং দুই ক্যামেরা মডিউল নিয়ন্ত্রন করার জন্য এই জিপিইউ মোটামোটি।
ডিভাইসটির রম ৮ জিবি এর ভেতর ৪.৭৩ জিবি ব্যবহার করা যাবে। সেন্সর হিসেবে এতে পাওয়া যাবে অ্যক্সেলেরোমিটার,লাইট, প্রোক্সিমিটি,ম্যাগনেটোমিটার,জাইরোস্কোপ এবং ব্যারোমিটার। গ্রীকবেঞ্চমার্ক অ্যাপলিকেশনে এর সিঙ্গেল কোর স্কোর এসেছে ৬৫৬ এবং মাল্টি কোর স্কোর এসেছে ১৮২৩।
যেহেতু এটি একটি এন্ট্রি লেভেলের স্মার্টফোন বাজেটের দিক থেকে বিবেচনা করলে আমাদের কাছে ডিভাইসটি যথেষ্ট ভালো মনে হয়েছে। লো বাজেটে ৪জি এর স্বাদ নিতে চাইলে, ডিভাইসটি দেখতে পারেন।