Showing posts with label Health Tips. Show all posts
Showing posts with label Health Tips. Show all posts

টনসিল কি, টনসিল কেন হয়, কিভাবে সমাধান করা যায় | টনসিলের ওষুধ

টনসিল
টনসিল

টনসিল 

শব্দের সাথে আমরা কম-বেশি সবাই পরিচিত । জিভের পেছনে গলার দেয়ালের দুই পাশে গোলাকার পিণ্ডের মতো যে জিনিসটি দেখা যায় সেটি হল টনসিল। টনসিল দেখতে মাংসপিণ্ডের মতো মনে হলেও এটি লসিকাকলা বা লিম্ফয়েড টিস্যু দিয়ে তৈরি। মুখগহ্বরের ঝিল্লি দিয়ে এটিও আবৃত থাকে। জন্ম থেকেই গলার মধ্যে এই টনসিল থাকে। ছোট বেলা ছোট থাকে । তবে বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে এটি আকারে বড় হতে থাকে। পাঁচ-ছয় বছর বয়সের মধ্যে এটি সবচেয়ে বেশি বড় আকৃতিতে পৌঁছে, এর পর থেকে টনসিল ক্রমান্বয়ে ছোট হতে থাকে।
মুখগহ্বরের দুই পাশে দু’টি টনসিল পুলিশের মতো পাহারায় থাকে বলে এটিকে মুখগহ্বরের পুলিশ বলা হয়। টনসিল আমাদের দেহে শ্বেত রক্তকণিকা উৎপন্ন করে থাকে। এই শ্বেত রক্তকণিকা বাইরে থেকে দেহে প্রবেশকারী রোগের জীবাণুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। কখনো শ্বেতরক্তকণিকা জীবাণুর বিরুদ্ধে ঠিকমতো কাজ করতে না পারলেই দেহে ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়াঘটিত বিভিন্ন রোগের সৃষ্টি হয়।

মুখ, গলা, নাক কিংবা সাইনাস হয়ে রোগজীবাণু অন্ত্রে বা পেটে ঢুকতে বাধা দেয় এই টনসিল। টনসিল শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করে। কিন্তু কখনো কখনো এইসব জীবাণুকে ধ্বংস করতে গিয়ে টনসিল গ্রন্থি নিজেই আক্রান্ত হয়ে পড়ে। ফলে ইনফেকশন হয় এবং এই গ্রন্থি ফুলে যায়।

সাধারণত ভাইরাসের সংক্রমণে টনসিলের প্রদাহ হয়ে থাকে। বিশেষ করে সর্দি-কাশির জন্য দায়ী ভাইরাসগুলোই এ কাজটি করে থাকে। এ ছাড়া ব্যাক্টেরিয়ার কারণে বিশেষ করে স্ট্রেপটোকক্কাস গোত্রের ব্যাক্টেরিয়া টনসিলের প্রদাহ সৃষ্টি করে থাকে। যেকোনো বয়সেই টনসিলের ইনফেকশন বা টনসিলাইটিস হতে পারে। শৈশবে এটা বেশি দেখা যায়, তবে বয়স্কদের বেলায়ও এটি হয়ে থাকে। টনসিলের এমন একটি সমস্যা নাম হল টনসিল স্টোন।

টনসিল স্টোন কি?


যখন টনসিলে পাথর হয় সেটিকে বলে টনসিল স্টোন বা টনসিল পাথর। মানুষের শরীরে যত ধরনের পাথর বা শক্ত উপাদান আছে তার সিংহভাগেরই মূল উপকরণ হল ক্যালসিয়াম। ক্যালসিয়ামের সঙ্গে কার্বন, ফসফেট ইত্যাদি উপাদান মিলে এই পাথরগুলো গড়ে ওঠে। শরীরের অভ্যন্তরীন ক্যালসিয়ামের উৎস মূলত বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজ উপাদান। আর মুখগহ্বরে টনসিল স্টোনের ক্যালসিয়ামের যোগান আসে খাবারের স্বাদের জন্য দায়ি উপাদানগুলো থেকে।

মুখ সর্বোচ্চ হা করে জোরে শ্বাস ছাড়লে টনসিল গ্রন্থি দেখতে পাবেন। গ্রন্থির আশপাশে ছোট সাদা রংয়ের দানা চোখে পড়লে বুঝতে হবে আপনার টনসিল স্টোন হয়েছে।

একটি টনসিল স্টোন’য়ের আকার দুই মিলিমিটার থেকে এক সেন্টিমিটার পর্যন্ত হতে পারে। পাথরটি যত বড় হবে দুর্গন্ধও ততোই বেশি হবে । টনসিল স্টোন হয় টনসিলের খাদে শ্লেষ্মা, ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের অংশ, ব্যাকটিরিয়া জমে। যখন আপনার টনসিলের পৃষ্ঠে ব্যাকটেরিয়া, মৃত চামড়া কোষ, এবং অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ সংগৃহীত এবং সংকুচিত করে তখন তখন টনসিল পাথর সৃষ্টি হয়।

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, টনসিল পাথর সমস্যার সৃষ্টি করে না, তবে মাঝে মাঝে শ্বাস-প্রশ্বাস, অস্বস্তি, এবং অন্যান্য উদ্বেগের উপসর্গ দেখা দেয়। গিলতে কষ্ট হয়, ব্যথা হয় গলাধঃকরণের সময়। মুখে ধাতব স্বাদ, নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ হয়

ঘুম আশার ১০ টি প্রাকৃতিক উপায়

টনসিল কেন হয় ?


টনসিল পাথর এখনও কিছুটা ডাক্তার ও গবেষকদের রহস্য , কিন্তু গবেষকরা সন্দেহ করেন যে যাদের টনসিলের ঘন ঘন এপিসড আছে তারা টনসিল পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এটি কারণ আপনার টনসিলের ঘন ঘন সংক্রমণ তাদের অতিরিক্ত লোহা টিস্যু এর উন্নত এলাকায় আছে সম্ভাবনা।

খাবার খাওয়ার পর পর্যাপ্ত পানি পান না করলে, মুখগহ্বরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কে উদাসীন হলে, দাঁত ব্রাশ না করলে খাবারের অতি ক্ষুদ্র অংশ যদি টনসিল গ্রন্থির উপর আটকে যেতে পারে। কোন ব্যক্তির লালা অতিরিক্ত ঘন হলেও এই গ্রন্থির উপর খাবার আটকে থাকতে পারে। এই আটকে যাওয়া খাবারের অংশ ক্যালসিয়াম ও বিভিন্ন উপাদান শোষণ করতে থাকবে এবং আকারে বড় হবে। এটাই আসলে পরিণত হয় টনসিল স্টোন’য়ে।

আবার হাই ব্লাড প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখার কিছু কিছু ওষুধ, কিছু কিছু ব্যথাহরণি ট্যাবলেট, কিছু কিছু অবসাদরোধী ট্যাবলেট বেশি খেলেও টনসিল স্টোন হয়। এরকম হওয়ার কারণ, ওই সব ওষুধের প্রভাবে মুখের ভেতরটা শুকিয়ে থাকে, পর্যাপ্ত লালা তৈরি না হওয়ায় ভুক্তাবশেষের একটা অংশ টনসিলের পর আর নামতে পারে না।

সমস্যার শুরুটা হয় মুখের ব্যাকটেরিয়া কারণে। মুখের ভিতরে প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া বিচরন করে । এই অসংখ্য ব্যাকটেরিয়া গিয়ে বাসা বাঁধে টিনসিলে আটকে থাকা খাদ্যকণার চারপাশে। এবার এই ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করতে তৎপর হয় টনসিলের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা।

আবার অম্লীয় কোনো খাবার কিংবা পানীয় গ্রহণ করলেও এই ব্যাকটেরিয়াগুলো মারা যায়। ফলে এই টনসিলের চারপাশে ব্যাকটেরিয়ার একটি স্তুপ পড়ে যায়। টনসিল স্টোনের চারপাশে থাকা ব্যাকটেরিয়ার মৃতদেহই আসলে মুখের দুর্গন্ধের পেছনে দায়ি। খনিজ সমৃদ্ধ খাবার অতিরিক্ত খেলেও টনসিল স্টোন হতে পারে।
আদার গুনাগন জেনে নিন

উপসর্গ


মূলত মূখের দুর্গন্ধ হল টনসিল স্টোনের প্রধান উপসর্গ। আমরা সাধারণত দিনে দুইবার দাঁত ব্রাশ করি তাই না ? কিন্ত যখন টনসিল স্টোন হবে তখন দুই বেলা দাঁত ব্রাশ করে, মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করে, মিন্ট চকলেট খেয়ে কোনোভাবেই এই দুর্গন্ধ দূর করা যায় না। আবার যখন প্রায়শই গলা ব্যাথা এ সমস্যার আর একটি উপসর্গ। যখন স্টোন ছোট থাকে তখন একে পরিক্ষার মাধ্যমে চিহ্নিত করা যায় না। আকারে বড় হলে ‘ল্যারিনোস্কোপি’ পরীক্ষার মাধ্যমে এই পাথর চিহ্নিত করা হয়।

প্রতিকার ও প্রতিরোধ তথা সমাধান
টনসিল স্টোন বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আক্রান্ত হয় শিশুরা। কারন হল , শিশুরা নিজে নিজে পানি পান করতে পারে না, আবার খাবারের পরে মুখ পরিষ্কার করতে পারে না। ফলে শিশুদের প্রয়োজনীয় পানি পান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রক্ষা করা হয় না। ফলাফল হিসেবে দেখা দেয় স্টোন। প্রাপ্তবয়স্কদের এই সমস্যা হওয়ার আশঙ্কা কম। এ কারনে টনসিল স্টোন থেকে মুক্তি পেতে, খাবার খাওয়ার পর পানি পান করা , নিয়মিত দাঁত মাজা, মুখ ধোয়ার সময় গড়গড়া করে কুলি করলে টনসিল স্টোন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে।

টনসিল স্টোনের ভোগান্তি দূর করতে প্রতিদিন সকালে একটা করে শুকনো শক্ত বিস্কুট (ড্রাই ক্র্যাকার) খান চিবিয়ে। হালকা গরম জলে গরগরা করুন। স্প্রে বোতলের মতো একটা বোতল নিয়ে তাতে হালকা গরম জল, আধ চা-চামচ নুন মিশিয়ে টনসিলে স্প্রে করুন। পাথর খুলে আসবে। কুসুম গরম পানি ও লবণের মিশ্রণ দিযে গড়গড়া করলেও খুলে আসবে এই পাথর। পাথর আকারে বড় হলে এবং ত্বকের মধ্যে গেঁথে থাকলে চিকিৎসককে দিয়ে অপসারণ করাতে হবে।

অপসারণ করাও সহজ, ছোট আকারের হলে কটনবাড দিয়ে আলতোভাবে নাড়া দিলেই খুলে আসবে এই পাথর। তবে কোনো অবস্থাতেই শক্ত কিংবা ধারালো কিছু ব্যবহার করা যাবে না।

কোন কারনে যদি অবস্থা মনে হয় খারাপ সে ক্ষেত্রে অবশ্যই মুখের দুর্গন্ধের কথা চেপে না রেখে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। চিকিৎসক এই পাথর খুঁজে বের করবেন এবং অপসারণ করবেন। তবে চাইলে আপনি নিজেও খুঁজে বের করতে পারেন। এবং অপসারন করতে পারেন।

টনসিল স্টোন হওয়া আটকাতে যে ব্যাপারগুলি নিয়ম মেনে করা উচিত, সেগুলি: দু’বেলা দাঁত মাজা। অ্যালকোহল নেই এমন মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করা। ফ্লস করা অর্থাৎ খসখসে রেশমের সুতো পাশাপাশি দুই দাঁতের মাঝখানে ঢুকিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা।

তথ্য সূত্রঃ বিডি নিউজ সহ নানা ওয়েব সাইট।

tags: টনসিল ইনফেকশন, টনসিল ক্যান্সার, টনসিল এর ঔষধ, টনসিল কেন হয়, শিশুর টনসিল, টনসিল হলে কি কি খাওয়া যাবে না, টনসিলের ওষুধ, টনসিলের ঘরোয়া চিকিৎসা

খুসখুসে সর্দি কাশি হলে করণীয় কী ? জেনে নিন

শীতের শুরুর দিকে খুসখুসে কাশির সমস্যায় ভুগতে হয় অনেককেই। খুসখুসে কাশি একটি বিরক্তকর ও বিব্রতকর অসুখ। একবার কাশি শুরু হলে যেন থামতেই চায় না। যখন-তখন, যেখানে–সেখানে শুরু হয়ে যেতে পারে কাশি। জ্বর নেই, কফ বের হওয়া নেই, বুকে ঘড় ঘড় নেই—কিন্তু খুক খুক কাশি, যা বিরক্তিকর ও যন্ত্রণাদায়ক। যার অর্থ, কাশির সঙ্গে কখনো কফ বেরোয় না, কিন্তু একটা অস্বস্তি গলায়-বুকে লেগেই থাকে। এ কাশিতে থুতু বা কফ হয় না। কিন্তু একটি অস্বস্তিকর অনুভূতি ক্রমাগত কাশির সৃষ্টি করে। সংক্রমণ, ব্রঙ্কাইটিস, নিউমোনিয়া, ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিস এবং ধূমপানের কারণেও শুকনো কাশির উদ্রেক হতে পারে।
শ্বাসনালি আক্রান্ত বা সংক্রমণ
তীব্র কাশির জন্য সহজেই অনুমানযোগ্য বা সহজ কারণটি হলো, ঠান্ডা বা অন্য কোনো ভাইরাল সংক্রমণের পরিণাম বা ফল। অনেক ঠান্ডার উপসর্গ কিছুদিন পরে চলে যেতে পারে।
কাশি কয়েক সপ্তাহ এমনকি কয়েক মাসের জন্যও থাকতে পারে, কারণ ভাইরাসের কারণে শ্বাসনালি ফুলে এবং অতিমাত্রায় সংবেদনশীল হয়ে যেতে পারে। এই কারণে কাশির স্থায়িত্বকালও বাড়তে পারে, এমনকি ভাইরাস চলে যাওয়ার পরও। ঋতু বদলের সময় ভাইরাস সংক্রমণের কারণে কাশির প্রকোপ বাড়ে। ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। কাশির সঙ্গে জ্বর, কফ ইত্যাদি থাকলে ব্রঙ্কাইটিস বা নিউমোনিয়া কি না ভাবতে হবে। দীর্ঘদিনের (যেমন তিন সপ্তাহের বেশি) কাশি, ঘুসঘুসে জ্বর, ওজন হ্রাস, কাশির সঙ্গে রক্ত যক্ষ্মার লক্ষণ হতে পারে।

ধুলাবালু থেকে হাঁপানি, অ্যালার্জি ও খুসখুসে কাশি
সবার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সমস্যা না করলেও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা সবারই করে। ধুলার আকার-আয়তন দৃশ্যমান থেকে অদৃশ্যমান হতে পারে। সাধারণত যেসব ধুলা খালি চোখে দেখা যায় না, সেগুলো সাধারণত বেশি ক্ষতিকর। সাধারণত শীতকালে শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে বায়ুতে ধুলার পরিমাণ অন্য সময়ের তুলনায় বেশি থাকে। ধুলার ধরন ও আকার-আয়তনের ওপর নির্ভর করে ক্ষতির মাত্রা। আবার ধুলার ঘনত্বের মাত্রা ও কত দিন ধুলায় বসবাস, তার ওপরও নির্ভর করে ক্ষতির মাত্রা। সামান্য পরিমাণ ধুলাও তাৎক্ষণিক সমস্যা করতে পারে। যেমন চোখ জ্বালাপোড়া, খুসখুসে কাশি, হাঁচি, আল্যার্জিক রাইনাইটিস, হাঁপানি ইত্যাদি সমস্যা হতে পারে। আবার যাঁদের আগে থেকে ফুসফুসের সমস্যা আছে, তাঁদের অল্পতেই সমস্যা জটিল করে তুলতে পারে।
শ্বাসকষ্ট নয়, কেবল কাশিও হতে পারে হাঁপানি বা অ্যাজমার লক্ষণ। অ্যালার্জি ও অ্যাজমা হচ্ছে কাশির সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম। রাতে কাশি বেড়ে যাওয়া, বুকে শব্দ ও পরিবারে হাঁপানির ইতিহাস থাকলে অ্যাজমা হতে পারে। একে বলে কফ ভেরিয়েন্ট অ্যাজমা। লক্ষ করুন, ধুলাবালু, ফুলের রেণু, এসির ঠান্ডা বাতাস ইত্যাদি কারণে কাশির প্রকোপ বেড়ে যায় কি না। তাহলে এটি অ্যালার্জিজনিত। কাজের দিন বেড়ে যায়, আবার ছুটির দিনে কমে আসে, এমন হলে বুঝতে হবে আপনার কর্মস্থলের পরিবেশে কোনো সমস্যা রয়েছে। ডাস্ট বা ধুলাবালুতে স্বাস্থ্যঝুঁকি

অ্যাসিডিটি বা অম্লতা
ভারী বা চর্বিযুক্ত খাদ্য খাওয়ার পর বুকে জ্বালাপোড়া বা টক ঢেকুরের সঙ্গে খুক খুক কাশিও হতে পারে। পাকস্থলীর অম্ল খাদ্যনালিতে উঠে এসে এই কাশির সৃষ্টি করে। অনেক সময় ঠান্ডা–সর্দি লাগা থেকে নাকের পেছন দিক থেকে গলায় নিঃসরণের জন্য ইরিটেসন ও শুষ্ক কাশি হয়।

ক্যানসার
বয়স্ক ও ধূমপায়ী ব্যক্তিদের দীর্ঘদিনের কাশি, জ্বর, পুরোনো কাশির নতুন ধরন, কফের সঙ্গে রক্ত এসব উপসর্গ থাকলে সাবধান। ফুসফুসের ক্যানসার হবে না, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।

হৃদরোগ
হৃদরোগের কারণেও ক্রনিক কাশি হয়। শরীরে পানি জমা, দুর্বলতা, সামান্য পরিশ্রমেই ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্ট এগুলো হৃদ্রোগের দিকেই নির্দেশ করে।

পর্যাপ্ত তরল পান না করা
যখন ঠান্ডা অথবা ফ্লু হবে, তখন প্রচুর পরিমাণে তরল পান করতে হবে। পানি, জুস ও স্যুপ শ্বাসনালি থেকে কফ বা শ্লেষ্মা পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। কিন্তু ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়, যেমন চা বা কফি শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি করে, যা বিপরীত কাজ করতে পারে। এ সময় শ্বাসনালিতে আর্দ্রতা যুক্ত করতে স্যালাইন ন্যাসাল স্প্রে ব্যবহার করতে পারেন।

মানসিক চাপ
মানসিক চাপ, বিশেষ করে যখন এটি তীব্রতর হয়, তখন এটি ঠান্ডার স্থায়িত্বকালকে বাড়াতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী কাশির মোকাবিলা করতে, যখন আপনি অসুস্থ থাকবেন, তখন আপনার মানসিক চাপ কমিয়ে ফেলুন। নিজের ওপর বেশি চাপ প্রয়োগ করলে আপনি হয়তোবা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়বেন। প্রশান্তিতে থাকার একটি উপায় হচ্ছে প্রচুর পরিমাণে বিশ্রাম নিন, রাতে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমান।

ওষুধ
কোনো কিছুতেই কাশি না সারলে ও পরীক্ষায় কিছু না পাওয়া গেলে লক্ষ করুন কোনো ওষুধের জন্য এটি হচ্ছে কি না। যেমন উচ্চ রক্তচাপের জন্য কোনো ওষুধ সেবনের কারণেও কাশি এত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে তীব্র শুকনো কাশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। যদি এই ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে, তবে চিকিত্সকের পরামর্শ নিন।

নিরাময়ের উপায়
 ধূমপান ও বায়ুদূষণ কাশির একটি অন্যতম কারণ। তাই ধূমপান বর্জন করুন।
 ধুলাবালুতে কাশি হলে ঘর ঝাড়ু দেওয়া, ঝুল ঝাড়া ইত্যাদি এড়িয়ে চলুন।
 ঠান্ডায় সমস্যা হলে গোসলে হালকা গরম পানি ব্যবহার করুন। খুব ঠান্ডা পানি খাবেন না।
 লিকার চা, কুসুম গরম পানিতে মধু ও লেবুর রস, গরম স্যুপ ইত্যাদি কাশি সারাতে সাহায্য করে।
 গরম পানির ভাপ নিতে পারেন, দীর্ঘদিন ধরে কাশিতে ভুগলে, বিশেষ করে ধূমপায়ীরা সতর্ক হোন ও চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
লেখক: চিকিৎসক

খুসখুসে কাশি নিরাময়ে সামান্য পরিমাণ আদা কুচি কুচি করে কেটে নিন। এক কাপ পানিতে এই আদা গরম করে নিন। খাওয়ার আগে ঠান্ডা হতে দিন। ক্রমাগত কাশিতে আদা খুবই উপাকারী।

রসুনের বহুগুণের কথা সবাই জানেন। রসুনের অ্যালিসিন নামের উপাদান জীবাণুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে। এই উপাদানটি রসুনের বাজে গন্ধের কারণ হলেও তা শুকনো কাশি দূর করতে ওস্তাদ 

শুষ্ক কাশিতে প্রচুর পানি পান করতে হয়। এবং অবশ্যই সেই পানি হালকা গরম হতে হবে। সারাদিনই অল্প অল্প করে গরম পানি পান করলে, খুসখুসে কাশি দূর হয়ে যাবে। দিনে অন্তত ১২ গ্লাস হালকা গরম পানি পান করুন। কাশি থেকে কিছুটা রক্ষা পাওয়া যাবে।

সিগারেটের অভ্যাস থাকলে তা তৎক্ষণাৎ ছেড়ে দিন। সিগারেট কাশির উদ্রেগ বাড়িয়ে দেয়। সেই সাথে পাশে কেউ ধূমপান করলে তাকেও নিষেধ করে দিন।

খুসখুসে কাশির ক্ষেত্রে হলুদ ওষুধের মতো কাজ করে। এক চা চামচ হলুদের গুঁড়ার সঙ্গে গুলমরিচ মিশিয়ে এক কাপ পানিতে গরম করুন। একে একটানা ২-৩ মিনিট গরম করে নিন। এটি খেলে দারুণ উপকার পাবেন।

প্রতিদিন চারটি তুলসি পাতা নিয়ে, তার সাথে মধু মিশিয়ে চিবিয়ে খেয়ে নিন। চায়ের সাথে তুলসি পাতা মিশিয়েও খাওয়া যায়। তুলসী পাতা দ্রুত খুসখুসে কাশি নিরাময়ে সহায়ক।

প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে এক চামচ মধু খেয়ে নিন। মধু কাশি কমাতে সাহায্য করে। মধুতে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। গলার খুশখুশে ভাব চলে যাবে। তবে ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধু খাওয়ানো উচিত নয়।


বেশি পরিমাণে কাশি থাকলে সমতল জায়গায় না ঘুমিয়ে উঁচু বালিশে ঘুমান। কাশির যন্ত্রণা একটু হলেও উপশম হবে।

উষ্ণ পানিতে হালকা লবণ মিশিয়ে গার্গল করলেও বেশ আরাম মেলে।

নাকের ভিতরে হালকা বাম ব্যবহার করতে পারেন। এটি নাকের পথকে পরিষ্কার করে কাশি কমাতে সহায়তা করবে।

এইচএন/জেআইএম

কিডনির জন্য উপকারি ও অপরিহার্য ৭টি খাবার জেনে নিন

কিডনি আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গসমূহের মধ্যে একটি। অভ্যন্তরীণ এই অঙ্গটি বিকল হওয়ার অর্থ মৃত্যু অবধারিত। কিডনির কাজ শরীরের অপ্রয়োজনীয় পদার্থ বা বর্জ্যকে ছেঁকে বের করে দিয়ে পুষ্টি উপাদানটুকু গ্রহণ করা। দুটি কিডনির মধ্যে একটিও যদি বিকল হয় কিংবা দুটি কিডনিই যদি আংশিক বিকল হয়, তবে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকা থেকে বহু খাবার চিরতরে বাদ পড়ে যাবে। অনিয়ম করলে কিছুদিনের মধ্যে বাকি অংশটুকুও বিকল হয়ে যাওয়ার সমূহ আশঙ্কা থাকবে। তাই কিডনি সুস্থ রাখতে পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসের বিকল্প নেই। কিডনির জন্য উপকারি ও অপরিহার্য ৭টি খাবারের তালিকা নিচে দেয়া হলো:
১) ডিমের সাদা অংশ: যদি কিডনির সমস্যা থাকে, আপনার শরীরে প্রয়োজন হবে এ ধরনের প্রোটিন যাতে ফসফরাসের মাত্রা কম। আর সেখানেই ডিমের সাদা অংশের ভূমিকা অপরিসীম। প্রোটিনজাতীয় খাবারের অন্য যে উৎসসমূহ রয়েছে, তার মধ্যে ডিমের সাদা অংশে ফসফরাসের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কম। কিডনির সমস্যা থাকলে, আপনার উচিত ডিমের কুসুম বা হলুদ অংশ সম্পূর্ণভাবে পরিহার করা।
২) ফুলকপি: সবজির মধ্যে ফুলকপি কিডনির জন্য অত্যন্ত উপকারী। ফুলকপি কেটে তাতে গোলমরিচ ও লবণ মিশিয়ে সেদ্ধ করা বা স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে রান্না করা যেতে পারে। এই সবজিটি আপনার শরীরে প্রতিদিন প্রবেশ করা বিষাক্ত উপাদানসমূহের শত্রু।
৩) বাধাকপি: কিডনি সমস্যা প্রতিরোধে ও এ সমস্যায় আক্রান্তদের জন্য বাধাকপি আরেকটি অপরিহার্য সবজি। বহুস্তরবিশিষ্ট এ সবজিটি ফাইটোকেমিক্যালসের অন্যতম উৎস। শরীর ও ত্বকের কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা, উজ্জ্বল ত্বকের জন্য বাধাকপি বরাবরই অপ্রতিদ্বন্দ্বী একটি সবজি। যারা কিডনির সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে ডায়ালাইসিস করিয়ে থাকেন, চিকিৎসকরা তাদের কাঁচা বাধাকপি সুন্দর করে কেটে কাঁচা খাওয়ার পরামর্শ দেন। অবশ্য, সাধারণভাবে অন্যদের জন্য বাধাকপি স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে রান্না করে খাওয়ার পরামর্শই দিচ্ছেন তারা।
৪) মাছ: মাছে রয়েছে প্রদাহ রোধকারী তেল, ওমেগা-৩, যা কিডনি সমস্যা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে প্রোটিনের একটি ভালো উৎস মাছ। যে কোনভাবেই মাছ খাওয়া যেতে পারে। রান্না করে খেলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যাবে। তবে, পরিমিত ও ভালো তেলে মাছ ভেজেও খেতে কোন বারণ নেই।
৫) জুস: ফল কিংবা সবজির জুস দুটিতেই রয়েছে শরীরের বর্জ্য অপসারণে প্রয়োজনীয় গুণাগুণ। শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় পদার্থ বের করতে ভালো ও তাজা সবজি বা ফলের জুসের বিকল্প খুব কমই আছে। বিশেষ করে টাটকা সবজির জুসে রয়েছে ফাইটোকেমিক্যালস। যারা ডায়ালাইসিস প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের জন্য এটা বিশেষভাবে উপকারী। কারণ, জুস কিডনি বিকল হওয়া প্রতিরোধ করে, কিডনির স্বাস্থ্য ভালো করে। আর ফলটা কেনার সময় একটু সতর্কভাবে বাছাই করে নেয়াটা জরুরি। যদি সেটা সম্ভব হয়, তাহলে ফলের জুস বানিয়ে পান করতে বাধা নেই।
৬) লাল ক্যাপসিকাম: লাল ক্যাপসিকাম বাজারে খুব একটা পাওয়া যায় না। কোনভাবে যদি এটা সপ্তাহের খাদ্য-তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন, তবে অনেক উপকার পাবেন। যে কোনভাবে ক্যাপসিকাম খাওয়া যেতে পারে। সবুজ নয়, লাল ক্যাপসিকাম কিডনি সমস্যায় আক্রান্তদের জন্য অন্যতম পাথেয়।
৭) পানি: পানি যে কোন সমস্যায় মহৌষধ। প্রতিদিন নিয়মিত কমপক্ষে ৭-৮ গ্লাস পানি পান করুন। অতিরিক্ত পরিশ্রম হলে, প্রয়োজনে আরও ৩-৪ গ্লাস বাড়িয়ে নিতে পারেন। শরীরের অধিকাংশ বর্জ্য অপসারণ করে পানি ও সেই সঙ্গে রক্তকেও পরিষ্কার রাখে। কিডনির ওপর অতিরিক্ত চাপ প্রতিরোধ করে।
খাবারের সঙ্গে টেবিল সল্ট বা কাঁচা লবণ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে, তা এখনই পরিহার করুন। রান্নাতেও পরিমিত লবণ ব্যবহার করুন। কারণ, মাত্রাটা একটু বেশি হলে, সেটা আপনার কিডনিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তেলজাতীয় খাবার বা ভাজাপোড়া কিডনির শত্রু। এ জাতীয় খাবার এড়িয়ে চলুন। তেলে ভাজা খাবার খেলেও, তেলের পরিমাণটা যাতে নিতান্তই কম হয় সেদিকে খেয়াল রাখুন। বাইরে খাবার খাওয়ার অভ্যাস করবেন না। কষ্ট করে হলেও বাড়িতেই রান্না খাবার খান ও সুস্থ থাকুন।

স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করার কৌশল জেনে নিন

স্মরণশক্তি বৃদ্ধিসংক্রান্ত এই প্রবন্ধে শেখার পদ্ধতি, কিছু প্রয়োজনীয় উপদেশ, কৌশল এবং কিছু আধুনিক ব্যাখ্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আমরা জানি মানুষের ভেতরে শেখার সপৃহা এবং শক্তি বৃদ্ধি না পেলে তার ভেতর আলোকিত মানসিক উৎকর্ষতার উন্মোচন সম্ভব নয়। বেশ কয়েকটি ধাপে বিস্তৃতভাবে বোঝানো হয়েছে আসলে মেধা, মনন, স্মৃতি এবং এগুলোর সাথে শেখার পদ্ধতির সমন্বয় একজন প্রকৃষ্ট মানুষের মানবিকতা এবং ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে প্রতিষ্ঠাপ্রাপ্তি ত্বরান্বিত ও দৃঢ় করে। পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে এখন ব্যাপকভাবে মনোবিজ্ঞানীরা কাজ করছেন মানুষের মনের যে অংশটুকু অবচেতন থাকে তাতে পূর্ণ চেতনা ফিরিয়ে এনে তাকে আরো বেশি জ্ঞান গ্রহণ উপযোগী করে তোলার ব্যাপারে। বিভিন্ন প্রকার সাইকোঅ্যানালাইসিস বা মনোসমীক্ষণ এ ব্যাপারে খুব প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে চলেছে। আমার দীর্ঘ জীবনের মনোবিজ্ঞান চর্চার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি যে, মানুষের স্মরণ এবং মেধার বৃদ্ধিতে খুব জটিল কোনো কিছুর প্রয়োজন পড়ে না। কেবল ইচ্ছা এবং কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ এ ব্যাপারে রপ্ত করা উচিত। এতে করে পূর্ণ মাত্রায় সুষম ব্যক্তিত্ব গড়ে তোলা যেতে পারে সহজেই। পৃথিবী যেভাবে এগিয়ে চলছে তাতে করে বুদ্ধিমত্তা, মেধা, প্রজ্ঞা এবং স্মরণশক্তির তীক্ষ্ণতা না থাকলে জীবনে সাফল্য আশা করা একেবারেই বৃথা।
স্মৃতিশক্তি কী
মনোবিজ্ঞানে বহু বছর যাবৎ এ বিষয়ে তর্ক চলছে যে, আসলে স্মৃতিশক্তি কী? সহজভাবে এর উত্তর না দিয়ে প্রথমে একটু ঘুরিয়ে এর উত্তর দেয়ার চেষ্টা করা যাক।
ধরা যাক শনিবারের মধ্য দুপুরে কোনো এক ব্যক্তি একটি কাব্য রচনা করল। তার ঠিক এক সপ্তাহ পরে উক্ত ব্যক্তি শনিবারে সে যে কবিতাটি লিখেছিল তার প্রথম দুই পঙক্তি পুনরায় লিখতে চাইল। কিন্তু সমস্যা দেখা দিল তখনই যখন সে তা মনে করতে পারছিল না। এক্ষেত্রে সে বারবার তা মনে করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো অর্থাৎ তার স্মরণশক্তি হারিয়ে ফেলেছে। সে ভুলে গেছে সে গত শনিবার কী লিখেছিল। এটা হচ্ছে মানুষের জীবনের একটা খুব সাধারণ সত্য যে, মানুষ ভুলে যায়। আমেরিকান একজন মনোবিজ্ঞানী এ ব্যাপারটিকে ‘থিংগামায়ব্ব’ বলে থাকেন। ভুলে যাওয়া, মনে করা, আবার ভুলে যাওয়া, আবার মনে করা মানুষের মানসিক জীবনের এক ধরনের বৈচিত্র্য। মানসিক ভাবমূর্তির প্রকৃত স্ফুরণ কেবল সজাগ মানসিকতাকেই বোঝায় না। মাঝেমধ্যে মানুষ ভুলে যাবে এটাও স্বাভাবিক। আমরা দৈনন্দিন জীবনে অনেক কিছু ভাবি, অনেক কিছু করে থাকি, অনেক সাধারণ কিংবা অসাধারণ দেনা-পাওনার সাথে সম্পৃক্ত হই। এগুলো হচ্ছে জীবনযাপনের বাস্তব চিত্র। কিন্তু কোনো কোনো সময় এমন কিছু বিষয়ে আমাদের খেয়াল রাখতে হয়, যা ভুলে গেলে একান্ত ক্ষতি হতে পারে। আমাদের চিন্তাশক্তির মতো স্মৃতিশক্তিকেও তাই বারে বারে পরীক্ষা করে নেয়া উচিত। কোনো মানুষ আছেন দৃঢ় স্মৃতিশক্তির অধিকারী। মনোবিজ্ঞানী উইলিয়াম জেমসের ধারণা, ‘মানুষের স্নায়ুকোষে রিচোনিউক্লেয়িক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে মানুষের স্মরণশক্তি বৃদ্ধি পায়।’ মস্তিষেকর প্রতিটি কোষ এক সেকেন্ডে ১০ বিলিয়ন স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতে পারে। খুব সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষের স্মৃতিভ্রষ্টতা দুই প্রকারের হয়ে থাকে যেমন-
স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘস্থায়ী। স্বল্পমেয়াদি স্মৃতিহীনতার জন্য সাধারণভাবে দায়ী করা হয় মস্তিষেকর বৈদ্যুতিক তরঙ্গ প্রবাহের হঠাৎ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে। আর অন্যদিকে দীর্ঘস্থায়ী স্মৃতিহীনতার জন্য মস্তিষেকর ভারসাম্যহীনতা সংক্রান্ত সমস্যা এবং রাসায়নিক উপাদানের আনুপাতিক অনুপস্থিতি দায়ী। পাশ্চাত্য মনস্তত্ত্ববিদ ডা. ম্যাকনোয়েল বিশ্বাস করেন মস্তিষক তরঙ্গের হঠাৎ বিচ্যুতি অনেক সময় মানুষের বুদ্ধিহীনতার জন্য দায়ী হতে পারে। এই ব্যাপারে তার বিস্তারিত গবেষণাকর্ম আমেরিকান ইনস্টিটিউট অব সাইকোলজিতে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
মনোবিজ্ঞান কী ব্যাখ্যা দেয়?
মনোবিজ্ঞানের মতে, স্মৃতি বলতে আসলে কিছু নেই। প্রথমেই এই ব্যাপারে বলা হয়েছে যে, স্মৃতিশক্তির ব্যাপারে এখনো মনোবিজ্ঞান বহু তর্ক চালিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝেই মানসিক রোগের ডাক্তাররা এমন ধরনের রোগীর শরণাপন্ন হন যারা বলে থাকেন-‘আমি যা পড়ি তা ভুলে যাই’ অথবা ‘আমি আজ দুপুরে কী খেয়েছি তা মনে করতে পারছি না’-এ ব্যাপারগুলো কি স্মৃতিভ্রষ্টতা? না আসলে তা নয়। স্মৃতিশক্তি হলো মানসিক জ্ঞানের হঠাৎ কমতি। ব্যক্তি হয়তো নিজেই বোঝে না তার মানসিক চিন্তাধারা থেকে কখনো কোনো নাম, ঠিকানা বা ব্যক্তির দৈনন্দিন জীবনের গতি বা বর্তমান সময়ের কার্যাবলির কোনো কোনো ব্যাখ্যা বাদ পড়ে যায়। যেটিকে আমরা সাধারণত স্মৃতিহীনতা বা স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা বলি। মনস্তাত্ত্বিক রোব্যাকের মতে, ‘অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তির কল্পনা, পর্যবেক্ষণ, বিচার করার ক্ষমতা বা তার দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি এমন কোনো আচরণের প্রকাশ ঘটায়, যার কোনো অর্থ থাকে না।’ এ জাতীয় মানসিক মূল্যবোধকে মনোবিজ্ঞানের ব্যাখ্যায় ‘আপাত স্মৃতিভ্রষ্টতা’ বলে অর্থাৎ কেবল কোনো কিছু ভুলে যাওয়াই স্মৃতিহীনতা নয়- ডা. রোব্যাক তাই ব্যাখ্যা করেছেন।
বিভিন্ন প্রকার স্মৃতিশক্তি
ব্যাখ্যা এবং বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতায় স্মৃতিশক্তির কিছুটা প্রকারভেদও সম্ভব হয়েছে। যেমন দুই প্রকার স্মৃতিশক্তিকে মনোবিজ্ঞান ব্যাখ্যা করতে পেরেছে। একটি হলো অভ্যাসগত স্মৃতিশক্তি এবং অপরটি হলো খাঁটি স্মৃতিশক্তি। সাধারণভাবে স্মৃতিশক্তিসংক্রান্ত আলোচনায় কিন্তু খাঁটি স্মৃতিশক্তির বিষয়টিই পূর্ণ মাত্রায় প্রকাশিত হয়েছে। ‘গত গ্রীষ্মের ছুটি আমি কীভাবে কাটিয়েছি’-এই যে ভুলে যাওয়া, এটা হলো খাঁটি স্মৃতিশক্তিহীনতা। আবার তাৎক্ষণিকভাবেই যদি এই বিষয়ে স্মরণশক্তি ফিরে আসে তবে সেটা হবে ‘চকিত পুনঃসংযোগ’। এই বিষয়টিকে আয়ত্ত করতে অর্থাৎ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো কিছু মনে করতে কিছু অনুশীলন বা প্র্যাকটিস জরুরি। স্কুলের ছেলেমেয়েরা হরহামেশাই পড়া ভুলে যায়, গৃহিণীরা অভ্যস্ত দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডেও ভুল করে ফেলে এমনকি যে কেউ যে কোনো সময় প্রয়োজনীয় কোনো বিষয় হঠাৎ করে ভুলে যেতে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে স্মৃতিশক্তিকে আবার চাঙ্গা করতে নিচের ছকটির দিকে লক্ষ করুন-
৭২৯৪৩৮৬৫১
এটি একবার পড়ুন। বই বন্ধ করুন এবং তাৎক্ষণিকভাবে ঠিক ছকটির মতো লিখতে চেষ্টা করুন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যাবে প্রথম পাঁচটি বর্ণ এবং খ প্রায় সবাই লিখতে পারবেন। খুব কম লোক সাতটি এবং আরো কম সংখ্যক ব্যক্তি ৯টি বর্ণই পুরোপুরি লিখতে পারবেন। এর কারণ হচ্ছে তাৎক্ষণিক স্মৃতি অধিকাংশ ব্যক্তি ধরে রাখতে পারে না বরং পুরনো স্মৃতি সহজে ধরে রাখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ব্যক্তির স্মৃতিশক্তি দৃঢ় থাকে অথচ দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে তার কিছুটা ওলটপালট হয়ে যেতে পারে। একে যুক্তিগত স্মৃতিশক্তিহীনতা বলে।
স্মরণ করার উপায়
স্মরণ করার উপায় বা কোনো কিছু মনে করার উপায় সহজ নয় বরং কিছুটা জটিল কর্ম। বিভিন্ন প্রকার গবেষণায় বিভিন্নভাবে স্মরণ করার উপায় সম্পর্কে ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। তবে প্রথমত এবং প্রধানত তিনটি উপায়ে একজন ব্যক্তি কিছু স্মরণ করতে চান। যেমন, এক-একজনের সাথে কথা বলে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছানো। দুই-চিন্তা এবং মনকে একত্রে কাজে লাগিয়ে হারানো বিষয়ে মনে করতে থাকা এবং তিন-পুনঃপুনঃ চিন্তার দ্বারা হারানো ব্যাপারে মনোযোগ ফিরিয়ে আনা এবং তাকে স্মরণশক্তিতে ফিরিয়ে আনা। এ ব্যাপারটিকে ইংরেজিতে রিটেনশন বলে। তিনটি ব্যাপারকে আমরা যৌগিক মনে করি, মৌলিক নয়। বাস্তবে এই বিষয়গুলোই আসলে মৌলিক এবং হারানো কোনো কিছু স্মরণ করার প্রকৃষ্ট উপায়।
স্মরণশক্তি এবং বুদ্ধিমত্তা
স্মরণশক্তির সাথে বুদ্ধিমত্তার সম্পর্ক কী? আদৌ কোনো সম্পর্ক এদের মাঝে আছে কি? যদি কারো বুদ্ধিমত্তা খুব বেশি থাকে তবে কি তার স্মৃতিশক্তিও অধিক প্রখর? অথবা যদি কারো স্মৃতিশক্তি দুর্বল থাকে তবে কি তার বুদ্ধিমত্তাও নিচু মাত্রার? আসলে বুদ্ধিমত্তা হলো একটি কম্পিউটারের ইউনিটের মতো, যা তিনটি স্তরকে পরিচালনা করে। এই তিনটি বুদ্ধিমত্তাচালিত স্তর হলো- শেখা, পুনঃপুনঃ চিন্তা এবং অভিব্যক্তি। কাজেই স্মরণশক্তির সাথে বুদ্ধিমত্তার ওতপ্রোত কোনো মিল নেই। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, কোনো অশিক্ষিত কিংবা বুদ্ধিমত্তাহীন কোনো বালকের স্মরণশক্তি তীক্ষ্ণ হয়ে থাকে। আবার চৌকস বুদ্ধিমত্তা থাকা সত্ত্বেও কোনো বালকের স্মরণশক্তির দুর্বলতা লক্ষণীয় হতে পারে। এক্ষেত্রে উদাহরণ হতে পারেন আঠারো শতকের অশিক্ষিত ইংরেজ গণিত শাস্ত্রবিদ জেডিয়া বাক্সটন (১৭০৫-১৭৭১) যার মৌলিক বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো পড়াশোনা ছিল না অথচ তিনি গণিত শাস্ত্রের দুর্দান্ত সমস্যার সমাধান করতে পারতেন। অর্থাৎ বাক্সটনের বুদ্ধিমত্তা প্রখর ছিল। কিন্তু লন্ডনের রয়েল সোসাইটি কর্তৃক প্রদত্ত এক সমমাননা অনুষ্ঠানে বাক্সটনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলতে পারেননি প্রথম কোন অঙ্কের ফর্মুলাকে তিনি বিশ্লেষণ করেছিলেন এবং এখানে বাক্সটন তার স্মরণশক্তির দুর্বলতার পরিচয় দেন।
ভালো স্মৃতিশক্তির সুবিধা
কোনো স্মৃতিশক্তি ভালো বলতে আমরা বুঝি যে, সে ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে তার স্মরণশক্তির প্রকাশ ঘটাতে পারে। অর্থাৎ তার ফটোগ্রাফিক স্মরণশক্তি ভালো। রাশিয়ান একজন মনোবিজ্ঞানী লুরিয়া এ ব্যাপারে দীর্ঘ গবেষণা শেষে সাম্প্রতিক এক রিপোর্ট প্রকাশ করেছেন। লুরিয়ার মতে, ফটোগ্রাফিক মেমোরি হলো মানুষের ধ্যানস্থ বা আত্মস্থ কোনো বিষয়ের বা চিন্তার তৎক্ষণাৎ বহিঃপ্রকাশ। এই ধরনের স্মৃতিশক্তিকে অর্থপূর্ণ চিন্তার দ্বারা আরো তীক্ষ্ণ করে তোলা যায়। আর কোনো পাঠক যদি এই জাতীয় অনুশীলন করেন তবে আশা করা যায় দীর্ঘ সময় তার স্মৃতি যে কোনো পাঠ ধরে রাখতে পারবে। ভালো স্মৃতিশক্তি যে কোনো কাজে সাহায্য করতে পারে। পড়াশোনার ক্ষেত্রে, চাকরির ক্ষেত্রে, শিক্ষকতার ক্ষেত্রে ভালো স্মরণশক্তির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একঘেয়েমি কাটিয়ে ওঠার জন্যও স্মৃতিশক্তি খুব ভালো কাজ করতে পারে। কাজেই প্রথমত স্মরণশক্তির ওপর জোর দিতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখা সে জন্য একান্ত জরুরি। কেননা স্মৃতিশক্তি, মেধার বিকাশ ঘটে মানসিকভাবে। সুস্থ চিন্তা-ভাবনা, অর্থপূর্ণ কথোপকথন এবং সুস্থ দৈনন্দিন জীবন-যাপনে স্মৃতিশক্তির বিকাশ ঘটতে পারে সহজেই।
আমরা কেন ভুলে যাই
অনেক ক্ষেত্রে আমাদের মানসিক চিত্র যা ধরে রাখতে চায়, মস্তিষেকর তরঙ্গ তা অনেক সময় হারিয়ে ফেলে এবং আমাদের স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়। আমরা কেন ভুলে যাই এই ধারণাটি হতে পারে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ। স্মরণশক্তি কমে যাওয়ার আরো একটি কারণ হলো ঠিক যে সময়ে মস্তিষক কোনো বিষয় নিয়ে ভাবতে চায় তখন মানসিক শক্তি সে বিষয়ে তার আন্তরিকতা প্রকাশ করে। একে ‘ডিসকানেকটিভ থিংকিং’ বলে। মৌলিক তিনটি কারণে মানুষ কোনো কিছু ভুলে যেতে পারে। কারণ তিনটি হলো-
১. দুর্বল চিন্তাধারা
২. অব্যবহার
৩. হস্তক্ষেপ করা
এছাড়া আরো একটি ব্যাপার অবশ্য সব ক্ষেত্রে এটি মুখ্য নয়, তা হলো মানসিক চাপ। এটিও একটি কারণ কোনো কিছু ভুলে যাওয়ার ক্ষেত্রে। আমরা এই কারণগুলোর কিছুটা ব্যাখ্যা খুঁজব।
১. দুর্বল চিন্তাধারা
মানুষের চিন্তাশক্তির দুর্বলতা কোনো কিছু ভুলে যাওয়ার জন্য দায়ী। মানসিক চিন্তা-ভাবনা করার ব্যাপারে সতর্কতা এই বিষয়ে আলোচনায় প্রাধান্য পাবে। মানুষের মন হরহামেশাই নানা বিষয়ে ভাবতে থাকে। কখনো কখনো পূর্বে ভাবিত কোনো বিষয়ে হঠাৎ করে আবার ভাবতে চাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেয়। এটি তাৎক্ষণিকভাবে মস্তিষেকর ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে কোনো কিছু হঠাৎ মনে করা সহজতর হয়ে ওঠে না। এই বিষয়টি দুর্বল চিন্তাধারার সাথে সম্পৃক্ত। ডা. হেনরি নাইট মিলার তার ‘প্র্যাকটিক্যাল সাইকোলজি’ গ্রন্থে লিখেছেন, মানুষের মনে কখনো দ্বিমুখী ভাবধারা এক সাথে প্রকাশ পায় না। যেমন-কেউ কখনো এক সাথে একই মনে ভাবে না ‘আমি সফল’ কিংবা ‘আমি ‘ব্যর্থ’। এ প্রসঙ্গে একটি কেস স্টাডি ব্যাখ্যার প্রয়োজন-‘আমি কোনো নাম মনে রাখতে পারি না, স্থান কিংবা বইয়ের নামও মনে রাখতে পারি না এবং এই সমস্যা আমার চাকরির ক্ষেত্রে আরো জটিল সমস্যার সৃষ্টি করে।’ স্বাভাবিকভাবে তার চিকিৎসা করা হলো ছোটখাটো ডিপ্রেশন মুড কাটানোর ওষুধের মাধ্যমে। আসলে তার চিন্তাশক্তির দুর্বলতার জন্য এ জাতীয় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছিল। সে কী ভাবতে চাচ্ছে সেদিকে সে মনোযোগী নয়। এর ফলে স্থান, কাল, পাত্র সে সহজে ভুলে যায়। এ জন্য কোনো কিছু যেন সহজে ভুলে না যায় তার জন্য যখন কোনো কিছু মনে রাখতে চাইবেন, তখন সে ব্যাপারের প্রতি পূর্ণাঙ্গ মনোযোগ নিবদ্ধ করতে হবে। এতে করে সফলতা আসতে পারে।
২. অব্যবহার
বহু ক্ষেত্রে অধিকতর জ্ঞান অর্জন ভালো সব স্মৃতিশক্তির কিছুটা বিলুপ্তি ঘটাতে পারে। এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। মানুষের মস্তিষেকর সব তরঙ্গই একসাথে কোনো কিছু মনে রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়। কিন্তু যখন অনেক জ্ঞানের চাপ মস্তিষেকর তরঙ্গে প্রবাহিত হতে থাকে তখন স্বাভাবিকভাবেই মানুষ কিছু কিছু ব্যাপার ভুলে যেতেই পারে। নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক এ আর গিলিল্যান্ড এ ব্যাপারে সর্বপ্রথম যুক্তি দাঁড় করান যে, মানুষের অর্থবহ চিন্তার প্রাবল্য মস্তিষক উর্বর করে তুলতে থাকলে, স্মৃতিহীনতা কাজ করতে পারে দ্রুত। একে তিনি ‘দ্রুত স্মৃতিশক্তির অকর্মণ্যতা’ বলেন। অতিরিক্ত পাঠ্যাভ্যাসজনিত স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়া সমস্যা কমাতে জ্ঞানার্জনের একঘেয়েমি কাটানো উচিত। বিশেষ করে বিনোদনমূলক কার্যক্রম, টিভি দেখা, খবরের কাগজ পড়া, খেলাধুলায় মনোনিবেশ করা উচিত।
৩. হস্তক্ষেপ
কোনো কিছু পড়ার পরে সে ব্যাপারটি ভুলে যাওয়ার জন্য হস্তক্ষেপ দায়ী। হস্তক্ষেপ এ ক্ষেত্রে চিন্তাশক্তির মাঝে একাগ্রতা জন্মাতে বাধা দেয়। অনেক মনোবিজ্ঞানীর ধারণা, এর কারণ মস্তিষেকর রাসায়নিক পদার্থের ভারসাম্যহীনতা। কিন্তু বর্তমানে সুচারু গবেষণার ফলে জানা গেছে, মানসিক চিন্তাশক্তি ধরে রাখার পর্যায়ক্রমিক অনুপাত এ জন্য দায়ী।
ইউনিভার্সিটি অব এডিনবার্গের অধ্যাপক এ. সি এটকিন বলেন, মানুষের স্মরণশক্তির একটি ডিজিটাল রূপ আছে। এটি হলো মানুষ পর্যায়ক্রমে বা একাধারে ১২টি ডিজিটের বেশি মনে রাখতে পারে না এবং প্রায় প্রতিটি মানুষ কোনো কিছু কেনার পর একাধিকার টাকার হিসাব করে। এগুলো খুব সহজ ধরনের সাইকোলজি, কিন্তু স্মরণশক্তির ক্ষেত্র এর প্রভাব বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
মানসিক চাপ এবং স্মরণশক্তি
আলোচনার এ পর্যায়ে আমরা দেখতে পাব মানসিক চাপ কীভাবে স্মরণশক্তির ওপর প্রভাব ফেলে। প্রথমত মানসিক চপের সাথে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিত। মানসিক চাপ সাধারণত অবচেতন মনের ওপর খুব দ্রুত ক্রিয়া করতে পারে। আমরা যখন কোনো বিষয় নিয়ে নিখুঁতভাবে চিন্তা করতে থাকি, তখন মনের চাপ অপেক্ষাকৃত কম থাকে। ডা. এলসির মতে, মানসিক চাপ অপ্রত্যাশিতভাবে অবচেতন মনের ওপর প্রভাব ফেলে এবং তাতে করে আমাদের স্মরণশক্তি কমে যেতে পারে। মনোবিশ্লেষকদের ধারণা, প্রাচীন যুগের মানুষের জীবনযাত্রার সীমাবদ্ধতা থাকায় তাদের মানসিক চাপ কম ছিল এবং সে কারণে তাদের স্মরণশক্তি ছিল ভীষণ তীক্ষ্ণ। নানা ক্ষেত্রে অপ্রীতিকর কোনো ঘটনার চাপ বা কাজ কিছু সময়ের জন্য স্মৃতিশক্তি হ্রাস পাওয়ার কারণ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে। এজন্য মানসিক চাপের সাথে স্মরণশক্তির দুর্বলতার একটি মিল রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। সংক্ষিপ্তভাবে বলতে গেলে আমাদের ভুলে যাওয়ার মৌলিক কারণগুলো এরকম দাঁড়ায়-

(ক) দুর্বল চিন্তাশক্তির জন্য কোনো কিছুর প্রতি সঠিক মনোযোগের অভাবে আমরা ভুলে যাই।
(খ) আমরা বারবার আমাদের স্মৃতিশক্তিকে পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করি না।
(গ) আমাদের স্মরণশক্তি নানা কারণে বাধাপ্রাপ্ত হয়। এতে আমরা কোনো কিছু ভুলে যাই।
(ঘ) আমাদের আত্মমানসিক দ্বন্দ্বও অনেক ক্ষেত্রে আমাদের স্মরণশক্তির ক্ষীণতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
(ঙ) আমাদের দৈনন্দিন মানসিক চাপ বিভিন্ন সময়ে আমাদের স্মৃতিশক্তিকে আঘাত করতে পারে।
এছাড়া আরো কয়েকটি বিষয় আমাদের স্মৃতিশক্তি নষ্ট করতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো-মানসিক আঘাত বা মেন্টাল শক এবং শক থেরাপি। আর অপরটি হলো ওষুধের প্রতিক্রিয়া।
এছাড়া একেবারে নতুন একটি গবেষণা থেকে জানা গেছে, ধূমপান মানুষের স্মরণশক্তি কমিয়ে দিতে পারে। কিছু পরিমাণে উপরোক্ত বিষয়গুলো বিবৃত হলো।
শক
মানসিক আঘাত বা মেন্টাল শক অনেক সময় স্থায়ীভাবে স্মরণশক্তি হ্রাসের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। লন্ডন ইউনিভার্সিটি অব মেডিসিনের অধ্যাপক বার্নার্ড. ডি-এর মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানসিক আঘাত (কোনো দুর্ঘটনা, মৃত্যু, ডিভোর্স ইত্যাদি) ব্যক্তির মনোজগতে ব্যাপক পরিবর্তন আনে। লক্ষণীয় ব্যাপার হলো এর ফলে ব্যক্তির চিন্তাশক্তি এবং স্মরণশক্তির ওপরও অনেক চাপ পড়ে এবং এতে করে এই উভয় প্রকার শক্তির দুর্বলতা আসতে পারে। আবার শক থেরাপি বিভিন্ন প্রকার মানসিক রোগের চিকিৎসায় প্রয়োজনীয়তার ফলেও স্মরণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষ করে ইসিটি বা ইলেক্ট্রোকনভালসিভ থেরাপির ফলে স্মরণশক্তি হ্রাস পাওয়া অসম্ভব কিছু নয়।
ওষুধ
বহু মাত্রার বহুবিধ ওষুধের দীর্ঘ ব্যবহার স্বাভাবিকভাবে মানুষের স্মরণশক্তি কমিয়ে দিতে পারে। ভুলে যাওয়া সমস্যা এবং অন্যমনস্ক সমস্যার জন্য ওষুধ নানা সমস্যার জন্য দায়ী হয়। অনেক ক্ষেত্রে ওষুধ ব্যবহারের ফলে ‘ইলুশন’ বা ভ্রান্তির সৃষ্টি হয়, যা মানুষের স্মরণশক্তি বিনষ্ট করতে পারে। সিগমন্ড ফ্রয়েড এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন-দীর্ঘস্থায়ী ওষুধের ব্যবহার মনোবৈকল্য এবং স্মৃতিবৈকল্য সূচনা করে। সে জন্যই তিনি সাইকোঅ্যানালাইসিসের দ্বারা ব্যাপকভাবে মানসিক রোগীদের মনোপ্রবৃত্তি ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। অনেক ক্ষেত্রে যাদের ওষুধের ব্যবহার ক্রনিক হয়ে দাঁড়ায় তাদের অধিকাংশের স্মৃতিশক্তি অপেক্ষাকৃত কম থাকে।
ধূমপান
আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন সম্প্রতি গবেষণা করে প্রমাণ করতে পেরেছে, ধূমপান মানুষের স্মৃতিশক্তি বিনষ্ট করে। এটি ক্রমাগত মানুষের মনোযোগের ধারার ওপর চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। ফলে স্মৃতি বিনষ্ট হয় খুব দ্রুত। ধারণা করা হয়, ধূমপান ছেড়ে দিলে অনেক ক্ষেত্রে স্মৃতিশক্তির পুনর্গঠন হতে পারে।
কীভাবে মনে রাখবেন
পূর্বেই আলোচনা করেছি মানুষ কীভাবে এবং কেন ভুলে যায়। মোটামুটি চারটি কারণে মনে রাখার ক্ষমতা মানুষের কমে যেতে পারে যেমন-
  • দুর্বল চিন্তাশক্তি
  • পুনর্বার চিন্তা করার অসমর্থতা
  • চিন্তাশক্তির মধ্যে হঠাৎ বিচ্যুতি মানসিক চাপ ইত্যাদি
আমরা এখন কীভাবে মনে রাখা যায় বা স্মরণশক্তি কীভাবে বাড়ানো বা বজায় রাখা যায় সে ব্যাপারে আলোচনা করব। তাতে করে চারটি ব্যাপার আসে যে চারটি ব্যাপারে আমাদের সতর্কতা থাকলে কোনো কিছু ভুলে যাওয়া বা স্মরণশক্তি কমে যাওয়া সমস্যা থেকে আমরা মুক্ত হতে পারব। প্রয়োজনীয় সেই চারটি বিষয়-
  • মনোযোগ বাড়ানো
  • বারবার ভুলে যাওয়া বিষয়টিকে মনে করতে চেষ্টা করা
  • যথা সম্ভব চিন্তাশক্তির ভেতর যেন বিরতি বা ছেদ না পড়ে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকা
  • মানসিক চাপ এড়িয়ে চলা এবং মানসিক চাপের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণ করা
(১) চিন্তাশক্তি
আমরা পূর্বে চিন্তাশক্তির ব্যাপারে আলোচনা করেছি। দুর্বল চিন্তাশক্তি আমাদের স্মৃতি কমিয়ে ফেলতে পারে, এ ব্যাপারেও আমরা জানতে পেরেছি। গভীর চিন্তার প্রয়োগ দ্বারা কোনো কিছু মনে করা যায় সহজেই। আপনি যদি কোনো কিছুর প্রতি মনোযোগী হন, তাহলে সেই ব্যাপারটি দীর্ঘ সময় আপনি মনে রাখতে পারবেন। মনোযোগের বিষয়ে চারটি মূল ভিত্তির ব্যাপারে আমাদের ধারণা থাকা উচিত। এগুলো হলো-
  • অভ্যাস (Habit)
  • আগ্রহ (interest)
  • রিলাক্সেশন (relaxation)
  • আবেগ (emotion)
ইংরেজিতে এই চারটি শব্দকে একত্রে মিলিয়ে বলা হয়‘Hire’. অনেক মনোবিজ্ঞানী এই চারটি বিষয়বস্তু মানুষের মনোজগতের চিন্তাশক্তির ব্যাপকতা সৃষ্টি করতে পারে বলে ধারণা করেন। আন্তঃমানসিক দ্বন্দ্ব অধিক হারে আমাদের মানসিক শক্তি কমাতে পারে। আমাদের অনেকেরই এই ধরনের আন্তঃমানসিক দ্বন্দ্বের সমস্যা রয়েছে। অষ্টাদশ শতাব্দীতে ফ্রয়েডের বিভিন্ন অনুসারী ক্রমান্বয়ে মানসিক দ্বন্দ্ব সম্বন্ধে বিস্তারিত গবেষণা করেন। অবশ্য আরো আগে এমিল ক্রাপলিন এই ব্যাপারে বেশ কিছুদিন গবেষণা করেছিলেন। স্মরণশক্তির সাথে আরো যে একটি বিষয় খুব ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত তা হলো আবেগ এবং আবেগজনিত আগ্রহের প্রভাব। কোনো কাজ, কথাবার্তা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সাথে গভীরভাবে আবেগ এবং আগ্রহ জড়িত না থাকলে আমাদের স্মৃতি প্রখর হতে পারে না। মোটামুটিভাবে মনোযোগের শক্তি বেড়ে গেলেই ধরে নেয়া অসংগত হবে না যে স্মৃতিশক্তিও সেই সাথে বেড়ে যায়।
(২) পুনঃপুনঃ মনে করার চেষ্টা
এই বিষয়টি খুব ভালো কাজ দেয় যে কেউ কখনো কোনো বিষয় ভুলে গেলে আতঙ্কিত না হয়ে যদি পুনঃপুনঃ মনে করার চেষ্টা করে, তবে এতে সাফল্য আসে। এই বিষয়টি হলো রিপিটেশন। আমি কেন সেই বিষয়টি খেয়াল করতে পারব না, এই কথাটি জোর দিয়ে চিন্তা করলেই স্মৃতিশক্তি কিছুটা চাঙ্গা হয়ে উঠবে। পুনঃপুনঃ চেষ্টা করার ক্ষেত্রে কয়েকটি জরুরি বিষয় মনে রাখা উচিত-
  • বিষয়টির ব্যাপারে বোধগম্যতা
  • বারবার পড়া
  • আবৃত্তির মতো পড়তে থাকা
  • পুরো বিষয়টা কী ছিল তা ভাবতে থাকা
(৩) চিন্তাশক্তির মধ্যে বিরতি
এটি হচ্ছে স্মরণশক্তি কমে যাওয়ার তৃতীয় কারণ। বাস্তবে এটি সমস্যাকে তীক্ষ্ণ করে তোলে। কোনো কিছু মনে করার সময় অহেতুকভাবে তাতে যদি অন্য কোনো চিন্তার উপস্থিতি ঘটে তবে স্মরণশক্তি দ্রুত হ্রাস পায়। বিভিন্নভাবে এই সমস্যাকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য সমাধানগুলো হলো-
নিশ্চিত হোন আপনি কোন বিষয়টি মনে করতে চাইছেন।
  • যখন এই বিষয়টি ভাববেন তখন অন্য কোনো ব্যাপারে চিন্তা করবেন না।
  • সময় লাগলেও একই ব্যাপারে বারবার চিন্তা করতে থাকুন।
  • ডাইরিতে এই বিষয়ে কিছু লেখা আছে কিনা খেয়াল করুন। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য যারা গণিত ভালোমতো মনে রাখতে পারে না তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা দেয়। মনোবিজ্ঞানী ওয়েবার ডি স্যামুয়েলের মতে, মানুষ সহজে গণিতের সূত্র ভুলে যায়, কেননা অনেক ক্ষেত্রে একে নির্জীব এবং প্রাণহীন মনে করা হয়। অথচ গণিতের সূত্র মনে রাখাই সবচেয়ে সহজ। গণিতের সূত্র মনে রাখার শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি হলো পুনঃ স্থাপন পদ্ধতি। এই পদ্ধতির দ্বারা গণিতের প্রথম থেকে শেষ এবং শেষ থেকে শুরু পর্যন্ত মনে রাখা সম্ভব হয়।
(৪) মানসিক চাপ মোকাবিলা
মানসিক চাপ মোকাবিলায় ব্যর্থ হলে স্মরণশক্তি বাড়ানো ততটা সহজ হয় না। তবে এই প্রসঙ্গে ঘুমজনিত সমস্যার ব্যাপারে ছোটখাটো  আলোচনা করা উচিত। ঘুম মস্তিষেক নিউরনগুলোকে প্রাণপ্রাচুর্যে ভরে রাখে। এতে করে মস্তিষেকর উর্বরতা বাড়ে। অনেক সময় নানা প্রকার হ্যালুসিনেশন এবং ডিলিউশনের জন্য অনিদ্রা এবং এর ক্রনিক উপসর্গগুলোকে অভিযুক্ত করা হয়। স্মরণশক্তিকে চাঙ্গা করতে সতর্ক থাকা উচিত হবে ঘুমের ব্যাপারে। ফ্রয়েডের মতে, ঘুমের স্বল্পতা বহুমাত্রিক ডিপ্রেশন সৃষ্টি করতে পারে, আবার ঘুমের স্বল্পতার জন্য মানসিক চাপ বাড়তে পারে, যা স্মরণশক্তিহীনতার জন্য দায়ী। ‘এ ডিকশনারি অব প্যাস্টোরাল সাইকোলজি’ গ্রন্থেও বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে মানসিক চাপের ব্যাপারে। এই গ্রন্থটির বিভিন্ন স্থানে উল্লেখ আছে, মানসিক চাপ পর্যায়ক্রমে মানুষের মস্তিষেকর যৌগিক কোষগুলোয় চাপ ফেলতে থাকার ফলে মানুষের মেধা ও স্মরণশক্তি কমে যায়। মোটামুটিভাবে এ ব্যাপারটি আমরা এই পর্যায়ে বুঝতে পেরেছি যে, কেবল স্মরণশক্তি বাড়ানো বা কোনো কিছু ভুলে না যাওয়ার জন্য একাগ্রতা এবং হারানো বিষয়টি বারবার মনের ভেতর খুঁজতে থাকা উচিত। চারটি প্রধান বিষয়ের দিকে খেয়াল রাখলেই মানুষের স্মরণশক্তিসংক্রান্ত সমস্যা দূর হতে পারে যেমন-
  • কোনো কিছুর প্রতি গভীর মনোযোগ দেয়া যে বিষয়টি আপনি ভাবতে চান।
  • পরিপূর্ণভাবে বিষয়টি মনে না পড়া পর্যন্ত ভাবতে থাকুন।
  • চিন্তাধারাগুলোকে একত্রিত করা এবং তা থেকে হারিয়ে যাওয়া বিষয়টি বাছাই করা। এতে করে আমাদের ভুলে যাওয়া সংক্রান্ত সমস্যার আশানুরূপ সমাধান আসতে পারে। তবে মনে রাখা উচিত যে বিষয়টি আপনি মনে করতে চাচ্ছেন, তাতে যেন আপনার পূর্ণ আগ্রহ থাকে। নইলে তা মনে করা কষ্টসাধ্য হতে পারে।
শেখার শক্তি বৃদ্ধির কৌশল
এবারে আমরা শেখার শক্তি বৃদ্ধির কৌশল সম্বন্ধে জানতে পারব। আমেরিকার ইউনিভার্সিটি অব রোচেস্টারের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর তার ‘এক্সপেরিমেন্টাল সাইকোলজি’ গ্রন্থে উল্লেখ করেন বেশ কিছু কৌশল আয়ত্ত করতে পারলে শেখার শক্তি বেড়ে যেতে পারে। প্রসঙ্গত শেখার পদ্ধতিকে করতে হবে সহজতর। যেমন-ইংরেজি বা বাংলা বর্ণমালাগুলোর মধ্যে যেগুলো মনে থাকে না সে বর্ণগুলোর প্রত্যেকটি দিয়ে একেকটি অর্ধবোধক শব্দ তৈরি করতে হবে। এতে করে বর্ণগুলো মনে থাকবে সহজে।
বাংলা এবং ইংরেজিতে বেশ কিছু জটিল ব্যাকরণ এবং শব্দাবলি মনে রাখার ক্ষেত্রেও বিশেষ ধরনের কৌশল অবলম্বন করা হয়। এই ব্যাপারগুলো আয়ত্ত করতে পারলে শেখার শক্তি দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ছড়ার ছন্দ দ্বারা অনেক কিছু মনে রাখা যেতে পারে। ইংরেজিতে একে রিমিং জিংগেলস বলে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছাত্র-ছাত্রীরা কঠিন কোনো বিষয়ের চেয়ে সহজ অনেক বিষয় তাড়াতাড়ি ভুলে যায়। শতকরা ৭০ ভাগ ক্ষেত্রে এই বিষয়টি মনোবিজ্ঞানীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়। কঠিন কোনো বিষয় আয়ত্ত করতে যে পরিমাণ মেধা ছাত্র-ছাত্রীদের ব্যয় হয় সহজ কোনো বিষয় আয়ত্ত করতে সেই পরিমাণ মেধা ব্যয় হয় না, এটা ভুল ধারণা। বেশ কয়েকটি বিষয় আমাদের শেখার শক্তি বৃদ্ধি করে সহজেই যেমন-
  • সকালের দিকে পাঠাভ্যাসে অধিকতর সুফল আসে।
  • কোনো বিষয় দু’চার বারে বুঝতে না পারলে সে বিষয়টি রেখে অন্য কোনো সহজবোধ্য বিষয় নিয়ে ভাবা উচিত।
  • মনে রাখা উচিত মনের ওপর জোর সৃষ্টি করলে সফলতার চেয়ে ব্যর্থতা আসতে পারে বেশি।
  • কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ হতে হবে।
  • অতিরিক্ত পাঠাভ্যাস কোনো কোনো ক্ষেত্রে স্মরণশক্তি কমিয়ে ফেলতে পারে।
  • কোনো বিষয়ে ভাবতে হলে সে বিষয়টি এর আগে আপনি ভেবেছেন কি না তা ভেবে দেখুন।
  • স্মরণশক্তি বৃদ্ধির কার্যত কোনো ওষুধ নেই। কেবল কৌশল এবং চেষ্টা আপনাকে সফল করতে পারে।
  • সব সময় ভাবতে চেষ্টা করুন আপনি কিছু ভুলে যাননি। তাতে করে অনেক বিষয় আপনার সহজে খেয়াল থাকবে।
  • স্মরণশক্তি বৃদ্ধি এবং শেখার শক্তি বৃদ্ধির জন্য মানসিক উত্তেজনা পরিহার এবং সামগ্রিকভাবে মনকে ধীরস্থির রাখা উচিত।
পরীক্ষায় উত্তীর্ণের কৌশল
এই বিষয়টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ তাদের জন্য যারা পরীক্ষায় অকৃতকার্য হন এবং পরীক্ষায় উত্তীর্ণের ব্যাপারে ব্যাপক আশাবাদী। যে কোনো শ্রেণীর অধ্যয়নরত ছাত্র-ছাত্রীর জন্যই এটা প্রয়োজনীয় একটি বিষয় আর তা হলো পরীক্ষায় কীভাবে ভালো ফল লাভ করা যায়। প্রাচীন গ্রিসের পণ্ডিতেরা জ্ঞান চর্চার পাশাপাশি কীভাবে এই জ্ঞানকে ধরে রাখা যায় সে ব্যাপারে নিত্যনতুন গবেষণায় ব্রত হতেন। তারা মনে করতেন জ্ঞানকে ধরে রাখতে হলে একে সহজভাবে মনের ভেতর ধরে রাখা চাই। যে ব্যাপারে যার আগ্রহ বেশি সে ব্যাপারটি খুব ভালো আত্মস্থ করতে পারে। এটি হলো একটি পুরনো সাইকোলজি। মনোবিজ্ঞানীদের ধারণা আরো ব্যাপক বিজ্ঞাননির্ভর এবং সহজ। তাদের মতে, জ্ঞানচর্চা জীবনের মৌলিক প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। একে সহজভাবে মনে এবং মস্তিষেক ধরে রাখা হলো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। পরীক্ষায় উত্তীর্ণের কৌশল কোনো ব্যাপক বিষয় নয় বরং যে বিষয়টি বা বিষয়গুলো আপনাকে পড়তে হচ্ছে প্রথমেই সে বিষয়টি বা বিষয়গুলোর প্রতি আপনার আগ্রহ গড়ে তুলুন। আমরা এর আগেও জেনেছি স্মরণশক্তি বা মনে রাখার ব্যাপারে ‘আগ্রহ’ খুব ভালো কাজ দেয়। পাশাপাশি এই বিষয়ে বা বিষয়গুলো পড়ার সময়ে আপনাকে আত্মনিয়োগ করতে হবে এবং বোধগম্যতার সৃষ্টি করতে হবে। অধ্যাপক নিচেলবার্গের মতে, ছেলেমেয়েদের মধ্যে যারা গণিত শাস্ত্র কম জানে বা যাদের ন্যূনতম আগ্রহ নেই রসায়ন, জীববিদ্যা বা পরিসংখ্যানের বিষয়ে তাদের উচিত হবে বোধগম্য উপায়ে এগুলো পড়া এবং এতে আত্মনিয়োগ করা। কোনো বিষয়ে পড়ার সময়ে সে বিষয় সম্বন্ধে আগ্রহ না রেখে অন্য কোনো বিষয় সম্বন্ধে ভাবতে গেলে বই আপনার চিন্তাশক্তিতে হস্তক্ষেপ বা সাময়িক বিরতি ঘটাবে, যা পরবর্তী সময়ে আপনাকে সেই বিষয় সম্বন্ধে স্মরণশক্তির ক্ষীণতার প্রকাশ ঘটাবে।
১. যেভাবে নোট তৈরি করবেন
 নোট তৈরি করা খুব ভালো অভ্যাস এবং এটি একাধারে আপনার পাঠে মনোযোগ বাড়াবে। বিশ্ববিখ্যাত কয়েকজন নোট গ্রহণকারী ব্যক্তিত্ব হলেন-চার্লস ডারউইন, রবার্ট লুইস স্টিভেনসন, এমিলি জোলা, টমাস হবস, জোনাথন অ্যাডওয়ার্ড, আইজ্যাক নিউটন, অ্যালবার্ট আইনস্টাইন প্রমুখ। নোট তৈরির ব্যাপারে কয়েকটি পরামর্শ-
  • সহজবোধ্য এবং আপনার মনোযোগ আকর্ষণকারী শব্দ দ্বারা নোট তৈরি করুন।
  • নোট যেন সুপাঠ্য হয়।
  • অত্যন্ত জটিল শব্দ নোট তৈরিতে যেন ব্যবহৃত না হয়।
  • কয়েকটি সহজবোধ্য পয়েন্টস দিয়ে নোট তৈরি করুন।
নোটের ব্যবহার
  • নোট পড়ে একটি বা একাধিক বিষয়ে একবারে জানা যায় এবং মনে রাখা যায়।
  • এগুলো মনে রাখার ক্ষেত্রে খুব ভালো ভূমিকা রাখে।
  • এটি প্রধান চিন্তা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝতে সাহায্য করে।
  • বিষয়টিকে সহজ এবং আকর্ষণীয় করে তুলতে নোটের খুব ভালো ভূমিকা থাকে।
পি-ভি ফর্মুলার নোট তৈরি এবং তা পড়লে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ৯৫ ভাগ। এই পি-ভি ফর্মুলা হলো-
পি-তে প্রিভিউ বা পূর্বদৃষ্টি।
  • কিউ-তে কোয়েশচেন বা প্রশ্ন।
  • আর-তে রিড বা পড়া।
  • এস-তে সামারিজ বা সারসংক্ষেপ।
  • টি-তে টেস্ট বা পরীক্ষা করা বা অনুশীলন করা।
  • ই-তে ইউজ বা ব্যবহার।
  • ভি-তে ভিজ্যুটালাইজ বা মসো দৃষ্টিতে নিরীক্ষণ ইত্যাদি। মোটামুটি এই পি-ভি ফর্মুলায় নোট তৈরি করে পড়তে পারলে আশাতীত সাফল্য লাভ করা সম্ভব।
২. পুনর্বার পড়া
পরীক্ষার আগে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্বন্ধে ভালোভাবে জানা এবং স্মরণ রাখা উচিত, সেই বিষয়ে পুনর্বার পড়া উচিত। মনোবিজ্ঞানী ডেভিস এবং মুরের মতে, প্রত্যেক বিষয়কে ধীরস্থিরভাবে দুই থেকে চার বার পড়া উচিত এবং পুনর্বার পড়া উচিত। এতে করে বিষয়টি সহজে আত্মস্থ হবে এবং ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা দূর হবে।
৩. পরীক্ষার কেন্দ্রে করণীয়
মানসিক দৃঢ়তা-অনেকে পরীক্ষার কেন্দ্রে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। ফলে অনেক জানা প্রশ্নের উত্তর দিতেও তারা ব্যর্থ হয়। অথচ পরীক্ষার কেন্দ্রে মানসিক একাগ্রতা তীব্রভাবে ধরে রাখা উচিত। মনে রাখা উচিত আমার প্রস্তুতি সফল এবং আমার পরীক্ষাও সফল হবে।
প্রশ্নপত্র পড়া
পুরো প্রশ্নপত্রটি একবার ভালো করে পড়ে নিতে হবে। কেবল চোখ না বুলিয়ে বরং ভালো করে প্রশ্ন পড়ার মাঝে পরীক্ষায় বেশি নম্বর পাওয়ার একটি উজ্জ্বল সম্ভাবনা থাকে। যে প্রশ্নকে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে তাকে কখনোই বর্ণনা দেয়া উচিত হবে না। এতে করে উত্তরের মান কমে যায় এবং পরীক্ষায় নম্বর কমে আসে।
প্রশ্নের উত্তর দেয়া
সহজ-সরল এবং সাবলীলভাবে প্রশ্নের উত্তর দেয়া উচিত। যে প্রশ্নকে অপেক্ষাকৃত কঠিন মনে হয় সেগুলোকে পরে উত্তর দেয়ার চেষ্টা করুন। প্রশ্নে ঠিক যেমনভাবে উত্তর চাওয়া হয়েছে ঠিক সেভাবে উত্তর দিন। ধারাবাহিকতা রক্ষা না হলে উত্তরের মান ভালো হলো না এটি ভুল ধারণা।
সময়
একটি প্রশ্নের উত্তরের জন্য কখনোই বেশি সময় ব্যয় করা উচিত নয়। এতে পরীক্ষায় সময়ের শেষের দিকে তড়িঘড়ি করে প্রশ্ন শেষ করার জন্য মানসিক চাপ বাড়তে থাকে, ফলে উত্তর পুঙ্খানুপুঙ্খ হয় না বরং সময়কে নির্দিষ্টভাবে ভাগ করে আগাগোড়া সময়ের ব্যবহার করে পরীক্ষা দিন। পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য খুব বেশি কসরত না করে বরং স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা এবং পরীক্ষার যথাযথ মোকাবিলা করতে পারলেই সাফল্য আশা করা যায়। আমরা অনেক সময় পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের নানাবিধ বিষয় অনুধাবন করতে পারি না। নিচে এ ব্যাপারে সংক্ষিপ্তভাবে ব্যাখ্যা করা হলো-
পরীক্ষার নানাবিধ শব্দের আসল অর্থ
সংজ্ঞাঃ অর্থ কোনো কিছুর প্রকৃত অর্থ বোঝানো।
বর্ণনাঃ অর্থ কোনো বিষয় সম্বন্ধে বিস্তারিত জানানো।
আলোচনাঃ অর্থ তর্কের আলোকে কোনো কিছু বর্ণনা।
ব্যাখ্যাঃ অর্থ জানা বিষয়টিকে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা ইত্যাদি।
মনে রাখা উচিত পরীক্ষার কেন্দ্রে অযথা মানসিকভাবে ভেঙে পড়া উচিত নয়। বরং সাহসী এবং প্রাণবন্ত থাকা উচিত। পরীক্ষার মান খারাপ হতেই পারে। যে বিষয়ে কোনো আগ্রহ থাকে না এবং উদ্দেশ্য থাকে সে বিষয় সুচারু হয় না। এ জন্য কেবল পরীক্ষা পাসের জন্য না পড়ে বরং যথাযথ আগ্রহ নিয়ে পড়া উচিত। এতে করে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়টি একেবারে অনায়াসে সহজ হবে।

ঘুম আসার ১০ টি প্রাকৃতিক উপায়


ঘুম শরীরকে চাঙ্গা করে পরবর্তী দিনের কাজের জন্য আমাদের তৈরি করে। অনেকেই রয়েছেন যাঁরা ঘুম না হওয়ার সমস্যায় ভোগেন। এই সমস্যা অবসাদ ও ক্লান্তি তৈরি করে কর্মোদ্দম কমিয়ে দেয়। যাঁরা এ ধরনের সমস্যায় ভোগেন, তাঁরা হয়তো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভরসা করেন ঘুমের ওষুধের ওপর। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, বেশি ঘুমের ওষুধ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাহলে ওষুধকে এড়িয়ে কীভাবে ঘুম আসতে পারে? ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া বাতলে দিয়েছে ঘুম আসার কিছু প্রাকৃতিক উপায়ের কথা।
১. বিছানা থেকে উঠে যান
অনেকেই আছেন যাঁরা ঘুম না এলেও ঘুম আসার জন্য বিছানার এপাশ ওপাশ করতে থাকেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই খেলা বন্ধ করুন এবং বিছানা থেকে উঠে যান। ২০, ৩০, ৪০ মিনিট- যতক্ষণ না ঘুম আসে বিছানায় আসবেন না। এই ৩০ থেকে ৬০ মিনিট এমন কিছু করুন যা আপনাকে ক্লান্ত করে দেবে। এই ক্লান্তি ঘুম আসতে সাহায্য করবে। তবে খুব বেশি আলোর মধ্যে কিছু করতে যাবেন না। তাহলে হিতে বিপরীত হয়ে ঘুম একেবারেই উধাও হয়ে যেতে পারে।
২. ক্যাফেইন এড়িয়ে যান
ক্যাফেইন-জাতীয় খাবার ঘুম তাড়িয়ে দেয়। তাই ঘুমের অন্তত পাঁচ ঘণ্টা আগে শেষ চা বা কফিটুকু পান করুন। এমনকি যাঁদের ঘুম ঠিকমতো না হওয়ার সমস্যা রয়েছে, তাঁদের দুপুরের খাবারের পর কফি না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
৩. গরম পানিতে গোসল
ঘুম না আসার সমস্যা হলে রাতে বিছানায় যাওয়ার আগে উষ্ণ গরম পানি দিয়ে গোসল করুন। এই পদ্ধতি শরীরকে শিথিল করে ঘুম আসতে সাহায্য করবে।
৪. ধ্যান
একটি চমৎকার মেডিটেশন বা ধ্যান ঘুম আসতে বেশ কার্যকর। ২০০৯ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়, ধ্যান ইনসমনিয়া বা ঘুমের সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে। ধ্যান মন ও শরীকে শিথিল করে। এ ছাড়া ধ্যানের সময় গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম ঘুম আসতে বেশ সাহায্য করে। 
৫. শারীরিক পরিশ্রম
শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম ঘুম আসতে কার্যকর প্রাকৃতিক ওষুধ। বিশেষজ্ঞরা বলেন, যাঁরা শারীরিক পরিশ্রম করেন, তাঁদের ঘুম ভালো আসে। তাই ভালো ঘুম হতে নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করুন।
৬. যোগব্যায়াম
সারা বিশ্বেই যোগব্যায়াম করা ভালো ঘুম হওয়ার জন্য একটি প্রাকৃতিক উপায়ের নাম। যোগব্যায়াম শরীরকে শিথিল রাখতে সাহায্য করে এবং ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে।
৭. অ্যারোমা থেরাপি
অ্যারোমা থেরাপির মধ্যে যে প্রয়োজনীয় ভেষজ তেল, বাথ স্ক্রার, চোখের মাস্ক ইত্যাদি ব্যবহার করা হয় সেগুলো ভালো ঘুম হতে উপকার করে। ২০০৫ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়, ভেষজ তেলের ঘ্রাণ গভীর ঘুমের জন্য বেশ উপকারী। তাই যাঁরা ঘুম না হওয়ার সমস্যায় ভুগছেন, তাঁরা পার্লারে গিয়ে অ্যারোমা থেরাপি নিয়ে দেখতে পারেন।  
৮. শোবার ঘর
ভালো ঘুমের জন্য শোবার ঘরও হওয়া চাই উপযুক্ত। আপনি হয়তো এমন ঘরে ঘুমালেন, যার আশপাশে অনেক শব্দ হয় বা প্রচুর আলো এসে পড়ে। এগুলো ঘুমকে ব্যাহত করে। তাই শোবার ঘরের কিছু পরিবর্তন জরুরি। একটু মন দিয়ে ভাবুন কী পরিবর্তন করলে আপনার শোবার ঘরটি ঘুমের উপযুক্ত হবে? সেটা হতে পারে ম্যাট্রেসের পরিবর্তন বা জানালায় ভারী পর্দা লাগানো। এ ছাড়া ভালো ঘুমের জন্য টিভি, কম্পিউটার এসব জিনিসগুলোও শোবার ঘর থেকে দূরে রাখুন। কেননা এগুলোও ভালো ঘুমে ব্যাঘাত ঘটায়।
৯. ভেষজ চা
ঘুমের আগে চা-কফি একদম খাবেন না, তবে ক্যাফেইন ছাড়া ভেষজ চা খেতে পারেন। যেমন : ভ্যালেরিয়ান অথবা ক্যামোমিল চা ইত্যা্দি ঘুমের আগে খেতে পারেন। এগুলো ঘুম ভালো করতে সাহায্য করবে।
১০. প্রোগ্রেসিভ মাসেল রিলাক্সেন ব্যায়াম
১৯১৫ সালে আবিষ্কার হওয়া ব্যায়ামের এই পদ্ধতি এখনো পুরোনো হয়নি। প্রোগ্রেসিভ মাসেল রিলাক্সেন ব্যায়াম এমন একধরনের ব্যায়াম যা পেশিকে শিথিল করে। এটি অবসন্নতা দূর করে ঘুমের পরিমাণ বাড়ায়। তাই ফিটনেস প্রশিক্ষকের পরামর্শ নিয়ে এ ধরনের ব্যায়ামও শিখতে পারেন।

প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া রোধে করণীয়


প্রস্রাব করতে অস্বস্তি অনেকেরই হতে পারে। তবে আপনি যদি প্রস্রাব করার সময় ব্যথা অনুভব করেন, তবে আপনার হয়তো ডিসইউরিয়ার সমস্যা হয়েছে। এই সমস্যায় প্রস্রাবের সময় ব্যথা, জ্বালাপোড়া ও অস্বস্তি হয়। এটি কোনো রোগ নয়, রোগের উপসর্গ। এটি নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই খুব প্রচলিত সমস্যা। তবে পুরুষের তুলনায় নারীদের সমস্যাটি বেশি হয়।
প্রস্রাবে ব্যথা বা জ্বালাপোড়া হওয়ার একটি কারণ হতে পারে ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন বা ইউটিআই। আর পুরুষের ক্ষেত্রে প্রোস্টেট গ্রন্থির বিভিন্ন সমস্যার জন্য এটি হতে পারে। এ ছাড়া কিডনিতে পাথর হওয়া, কিডনিতে সংক্রমণ হওয়া, যৌনবাহিত রোগ, ভ্যাজাইনাল ইনফেকশন, পানিশূন্যতা— এগুলোর কারণেও কিন্তু প্রস্রাবে ব্যথা বা জ্বালাপোড়ার সমস্যা হতে পারে।

সমস্যাটি খুব বেশি হলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। তবে এর আগে কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি রয়েছে যেগুলো মেনে চললে সমস্যাটি কমাতে সাহায্য করবে। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট টপ টেন হোম রেমিডি জানিয়েছে এই ঘরোয়া পদ্ধতিগুলোর কথা।
পানি পানের পরিমাণ বাড়ান
পানি পানের পরিমাণ বাড়ালে প্রস্রাবের সময় ব্যথা বা জ্বালাপোড়ার সমস্যা কম হবে। পানি শরীর থেকে দূষিত ব্যাকটেরিয়াগুলো বের করে দেবে। এটি প্রস্রাব ঠিকঠাক মতো হতে সাহায্য করবে। এ ছাড়া প্রস্রাবে জ্বালাপোড়ার সমস্যা হলে তরল খাবারের পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে। যেমন ধরুন স্যুপ, জুস; পাশাপাশি পানিজাতীয় ফল ও সবজি খেতে হবে।
গরম চাপ
গরম চাপও দিতে পারেন। এতে ব্লাডারের চাপ কমবে এবং ব্যথা কমবে। এ জন্য আপনি হিটিং প্যাড ব্যবহার করতে পারেন অথবা কোনো কাপড় তাপে গরম করে পেটে ব্যবহার করতে পারেন। একে তলপেটে পাঁচ মিনিট রাখুন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। আবার দিন। এভাবে কয়েকবার করুন।
দই
দইয়ে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়া। এটি শরীরের পিএইচের ভারসাম্য রক্ষা করে। প্রস্রাবে জ্বালাপোড়া কমাতে প্রতিদিন দুই থেকে তিন কাপ দই খান।

পাইলস রোগ কী? কেন হয়, লক্ষণ কী, পাইলস হলে করনীয় বিস্তারিত জেনে নিন

pails
পাইলস কী?
পাইলস বা হেমোরয়েড (বাংলায় অর্শ্ব বা গেজ)- এর নামকরন নিয়ে নানা ধরনের জটিলতা রয়েছে। তবে নাম যাই হোক না কেন, পাইলস হচ্ছে মলদ্বারের ভেতরের আবরনী, তার রক্ত নালী ও অন্যান্য মাংশ পেশীর সমন্বয়ে গঠিত একটি কুশন বা গদির ন্যায় তুলতুলে নরম অংশ। এটি মলদ্বারের ভেতরেই থাকে। কিন্তু যখন রোগ হিসাবে প্রকাশ পায় তখন ঝুলে বাইরে বের হয়ে আসতে পারে।
কেন হয়ঃ
বহুবিধ কারনে পাইলস এর লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে।
০১. দীর্ঘ সময় টয়লেট এ বসে থাকা এবং চাপ প্রয়োগ করে টয়লেট করা, বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদী কোষ্টকাঠিন্য।
০২. প্যান এ টয়লেট করা।
০৩. বংশানুক্রমিক ভাবেও এ রোগ ছড়ায়।
০৪. ঘন ঘন পতলা পায়খানা হওয়া।
০৫. রক্ত নালীর মধ্যে কপাটিকা (ভাল্ব) না থাকা।
০৬. গর্ভকালীন অবস্থা।
লক্ষণ সমূহ:
০১. টয়লেটে তাজা রক্ত যাওয়া।
০২. মলত্যাগের সময় নরম আবরনী ঝুলে বাইরে চলে আসা।
০৩. ব্যাথা- সাধারণত বাইরে এসে আটকে গেলে অথবা ভেতরে রক্তক্ষরণ হলে।
০৪. চুলকানি হওয়া।
০৫. আম (মিউকাস) জাতীয় নিঃসরন।
করনীয়ঃ
পাইলস এর হাতুরে চিকিৎসার ফলে মলদ্বারের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে, এমনকি মলদ্বার বন্ধও হয়ে যেতে পারে। তাই পাইলস এর লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার সাথে সাথে এর চিকিৎসা নেওয়া উচিৎ। শুরুতেই চিকিৎসা নিলে জটিলতা কম হয় এবং ভাল হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এজন্য প্রথমেই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কর্তৃক রোগ নির্নয় করানো উচিৎ। সঠিক রোগ নির্নয় সঠিক চিকিৎসার পূর্বশর্ত।

চিকিৎসাঃ
পাইলস এর পর্যায় এর উপর এর চিকিৎসা নির্ভর করে।
  • ০১ম পর্যায়ঃ সাধারণত ঔষধ অথবা থাদ্যাভাস পরিবর্তনের মাধ্যমেই ভালো খাকা যায়।
  • ০২য় পর্যায়ঃ রিং লাইগেশন, ইনজেকশন, সার্জারী।
  • ৩য় ও ৪র্থ পর্যায়ঃ সার্জারী।
সার্জারীঃ
খুবই ভাল সার্জারী সম্ভব। কোন ধরনের দৃশ্যমান কাটাছেড়া ছাড়াই মেশিনের মাধ্যমে পাইলস সার্জারী সম্ভব। একে “লংগো” ( LONGO) অপারেশন বলাহয়। এর রেজাল্ট ও ভালো। আগে পাইলস সার্জারীর পর দেড় থেকে দুই মাস লাগতো ঘা শুকাতে, এখন এসবের কোন ঝামেলাই নাই। অপারেশনের পর রোগী দ্রুত সেরে উঠে এবং কোজে যোগ দিতে পারেন।

লেবুর ১৫ টি গুনাগুন সম্পর্কে নিন

প্রকৃতি থেকে প্রাপ্ত খাদ্য উপাদান আমাদের শরীর জন্য কত খানি প্রয়োজন তা আর বলার অপেক্ষায় থাকে না। তেমন ই একটি খাবার লেবু (Lemon) । তাঁর এতই গুন যে এজন্য তাকে সুপার ফুড (Super Food) বলা হয়। আমার মনে হয় প্রতিটি বাসায় একটি লেবুর গাছ থাকা উচিত । চলুন দেখে নেই লেবুর ১৫ টি অবিশ্বাস্য গুনাগুন –
  1. লেবুতে অ্যান্টি ব্যাকটিরিয়াল ও অ্যান্টি ভাইরাল থাকায় অতিরিক্ত ওজন কমাতে , হজম শক্তি বাড়াতে , এবং লিভারের ময়লা পরিষ্কারে সাহায্য করে।
  2. লেবুতে প্রচুর পরিমানে সাইট্রিক এসিড ,ক্যালসিয়াম ও লিমলিন থাকে যা এন্টিবায়োটিক হিসাবে কাজ করে শরীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
  3. ভিটামিন সি এর বড় উৎস বলে পাকস্থলী ও হৃদপিণ্ডএর বিভিন্ন রোগ সহ সর্দি কাশি, জ্বর , ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ ও হাইপারটেঁশনে লেবু খুব ভাল উপকার দেয়।
  4. সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা যে , লেবু সব ধরনের ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে।
  5. সকাল বেলা লেবু রস খেলে শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন দূর করে।
  6. লেবু হজমে সাহায্য করে ও পিত্তরস উৎপাদনে সাহায্য করে। ফলে পেটের বদহজম , ও জালা পোড়া থেকে রেহায় পাওয়া যায়।
  7. অ্যান্টি এক্সিডেন্ট এ ভরপুর হওয়ায় ত্বকের জন্য খুবই উপকারী । বিশেষ করে ত্বকের যেকোনো দাগ,বলিরেখা ও ব্রন প্রতিরোধে বেশ গুরুত্ব পূর্ণ ভুমিকা পালন করে। স্বাস্থ্য উজ্জ্বল ত্বক ও চুল পেতে ভিটামিন সি বা লেবুর জুড়ি নেই।
  8. লেবু খাবারের অনিহা দূর করে খাবারের প্রতি রুচি বাড়ায় ।
  9. লেবু রক্ত চাপ কমায়, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে সাহায্য করে, অ্যাাজমা বা শ্বাসকষ্ট কমায়।
  10. অ্যাস্করবিক এসিড থাকায় যেকোনো ক্ষতস্থান সেরে তুলতা দ্রুত সাহায্য করে, ব্যাথা ও উপশম করে।
  11. বেড বা খারাপ কলেস্ত্রল কমাতে সাহায্য করে ও অতিরিক্ত ফ্যাট বার্ন করে লেবু।
  12. শরীর ক্লান্তি নিমিষেই দূর করে লেবু পানি।
  13. রূপ চর্চায় লেবুর তুলনা নেই। চুলের যত্নে, ত্বকের যত্নে, নখের যত্নে কিংবা ঠোঁটের যত্নে লেবু ছাড়া চলে না।
  14. আমাদের শরীর কে সুস্থ রাখার জন্য শরীরের পি এইচ (pH) এর মাত্রা ঠিক রাখা জরুরী। লেবু আমদের শরীরের পি এইচ এর মাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
  15. লেবু আমদের মুখের ঘা সাড়তে সাহায্য করে, মাড়ির ফোলা ভাব কমায়, দাঁতের হলদে ভাব দূর করে, এবং মুখের দূর্ঘন্ধ দূর করে।

কিভাবে লেবু খাবেন বা ব্যবহার করবেনঃ-

প্রতিদিন সকালে হালকা কুসুম পানিতে লেবুর রস দিয়ে খেলে খুব ভাল উপকার পাওয়া যায়। এছাড়াও ভাতের সাথেও খেতে পারেন। যেকোনো খাবারের সাথে খেতে পারেন। অথবা এক গ্লাস পানিতে লেবুর রস ও মধু মিশিয়ে ও খেতে পারেন।
এই ছিল আমাদের আজকের আয়োজন। পোস্ট গুলো যদি আপনাদের উপকারী হইলে আমাদের জানাতে ভুলবেন না। সঙ্গে থাকুন, ভাল থাকুন।

tag: লেবুর খোসার উপকারিতা, কাগজী লেবুর গুনাগুন, লেবু ও মধু, লেবুর রসের অপকারিতা, লেবুর অপকারিতা, লেবুর রসের উপকারিতা, লেবুর খোসার গুনাগুন, লেবুর উপকারিতা

চিকিৎসার জন্য ভেলোর যেতে হয় কিভাবে বিস্তারিত...

ভেলোর (Vellore) ইন্ডিয়ার তামিল নাড়ুর (Tamil Nadu ) একটি জেলা শহর যেখানে বাংলাদেশিরা বেশিরভাগ সময় ই যায় উন্নত চিকিৎসার জন্য । ভেলর শহরে CMC ( Christian Medical College ) ও শ্রী নারায়ণী  (Sri Narayani )   Hospital অবস্থিত হওয়ায় এখানে উন্নত চিকিৎসার জন্য মানুষের আনাগোনা বেশ বেশী । আর এখানে বাংলা ভাষাভাষী রুগীর সংখ্যা ই বেশি এবং এদের বেশিরভাগ ই বাংলাদেশি ।

যা যা প্রয়োজন

যেহেতু ভেলোর ভারতে অবস্থিত তাই আপনাকে আগে ভারত ঢোকার ব্যাবস্থা করতে হবে । বাংলাদেশ থেকে বাইরের যেকোন দেশে যেতে হলে আগে আপনার প্রয়োজন পাসপোর্ট । পাসপোর্টহল ছাড়পত্র যা আপনার বাইরের দেশে যাবার অনুমতি বহন করে । লাগবে ভারতের ভিসা যা আপনারা ইন্ডিয়ান হাইকমিশন থেকে পাবেন। ভিসা হল যে দেশে যাবেন সেই দেশে প্রবেশ এবং অবস্থানের অনুমুতি পত্র ।
আপনার কয়েক কপি ছবি,  পাসপোর্টের কয়েকটি ফটোকপি ও কলম সাথে রাখুন । কলকাতায় এসে সময় পেলে আপনার সর্বশেষ ভিসার কয়েকটি ফটোকপি ( ভারতে জেরক্স/ xerox নামে পরিচিত ) করে রাখুন, কারন সিম কিনতে কাজে  লাগবে ।
আপনি সার্ভিস করলে কর্মরত প্রতিষ্ঠান থেকে ছুটি নিন এবং এর লিখিত ডকুমেন্ট  কয়েকটি ফটোকপি সহ সাথে রাখুন । বর্ডারে লাগতে পারে । বাংলাদেশ বর্ডার পার হবার সময় বাংলাদেশ সরকার কে ট্রাভেল ট্যাক্স দিতে হয় । আগে ছিল ৩০০ টাকা এখন তা ৫০০ টাকা করা হয়েছে ।  বর্ডারেই সেটা হয়তো পেয়ে যাবেন।

কোন পথে যাবো ?

আকাশ পথ কিংবা স্থল পথে যাওয়া যায় । আকাশ পথে যেতে চাইলে আগে থেকেই ভিসায় উল্লেখ থাকবে হবে । প্লেনে সরাসরি ভেলোর যাওয়া যায়না ,  ঢাকা থেকে চেন্নাই (Chennai ) এ প্লেনে যাওয়া লাগবে । তার পর বাস কিংবা ট্রেনে ভেলোর । ঢাকা থেকে চেন্নাই (Chennai )  সপ্তাহে চার টি প্লেন যাওয়া আসা করে এবং সময় লাগে ২ঘন্টা ৩৫ মিনিটের মত ।  প্লেনের টিকেট আগে থেকে কেটে রাখলে খরচ কিছুটা কম পড়ে ।
স্থল পথে যেতে চাইলে দেখুন আপনার পাসপোর্টে ভারতে ঢোকার জন্য কোন বর্ডারের উল্লেখ আছে । যদি আপনি হিলি বর্ডার দিয়ে ইন্ডিয়া প্রবেশ করেন তবে আপনি মালদা ( Malda ) থেকে কিংবা কলকাতা (Kolkata) থেকে ট্রেন ধরতে  পারেন । কলকাতা থেকে ভেলরের দুরত্ব প্রায় ১৭৫০ কিলোমিটার ।
সময় লাগে ৩0-৩৮ ঘন্টা । কলকাতা বা মালদা থেকে সরাসরি কিছু ট্রেন আছে । আবার অনেক সময় একটু ভেঙ্গে ভেঙ্গেও আসতে হতে পারে যেমন: মালদা থেকে কলকাতা, কলকাতা থেকে চেন্নাই, চেন্নাই থেকে ভেলোর ।
ইন্ডিয়াতে দুরের জার্নি গুলো ট্রেনেই ভালো হয় । কলকাতায় কয়েকটি বড় বড় ট্রেন স্টেশন আছে যেখান থেকে ছেড়ে যায় বড় বড় শহরে।  হাওড়া ( Howrah ) স্টেশন কিংবা সাতরাগাছী ( Santragachi ) স্টেশন থেকে ছেড়ে আসে চেন্নাই কিংবা ভেলোরের উদ্দেশ্যে বেশ কয়েকটি ট্রেন ।
ভারতে দুরের ট্রেনের টিকেট পাওয়াটা অনেক সময় কষ্টের হয়ে যায় । কারন ভারতে ট্রেনের যাত্রি অনেক অনেক বেশি । এখানে আগে ছিল ২ মাস আগে থেকে ট্রেনের টিকেট কাটার ব্যবস্থা এখন সেটা হয়েছে ৪ মাস । তবে ততকাল নামে আর একটি ব্যবস্থা আছে যা ট্রেন ছাড়ার আগের দিন টিকেট ছাড়ে । তাই অনেক সময় কলকাতায় থাকতে হতে  পারে ।

কলকাতায় থাকবো কোথায় ?

টিকেট আগে থেকে কাটা না থাকলে কিংবা পেতে সময় লাগলে আপনাকে কলকাতাতে দুই এক রাত থাকতে হতে পারে। কলকাতার সব হোটেলই আপনাকে রাখতে পারবেনা । তবে নিউ মার্কেটের আশে পাশের হোটেল/গেষ্ট হাউজ গুলোতে থাকতে পারেন । ঢাকার বাস গুলো যেখানে থামে সেখানে অর্থাৎ Marquis Street  এ বেশ কিছু গেষ্ট হাউজ আছে  থাকবার মতো । সেখানে চেক আউট ( হোটেল ছাড়ার সময় ) টাইম দুপুর ১২টা । অর্থাৎ সেখানে দিন কাউন্ট হয় দুপুর ১২টা থেকে পরদিন দুপুর ১২টা । এবং হোটেল ভাড়া ৫০০, ৬০০, ৭০০, ১২০০ বিভিন্ন্ রকমের, সুবিধা ভেদে ভাড়া কম বেশি হয়  ।

টাকা / ডলার কোথায় ভাঙ্গাবো ?

টাকা বা ডলার আপনি অনেক জায়গাতেই চেন্জ করতে পারেন । তবে বর্ডারে টাকা বা ডলার চেন্জ রেট টা কম । অর্থাৎ বর্ডারে চেন্জ করলে আপনি পরিমানে কম পেতে পারেন। প্রয়োজনে কিছু চেন্জ করে নিতে পারেন। সবচেয়ে ভালো হয় কলকাতায় চেন্জ করে নিলে । তাহলে চেন্জ রেট বেশ ভালো পাওয়া যায় । যেখানে ঢাকার বাস গুলো যেখানে থামে সেখানে অর্থাৎ Marquis Street  এ বেশ কিছু মানি চেন্জার আছে । তবে কয়েক দোকানে খোজ নিয়ে যে ভালো রেট দিচ্ছে তার কাছ থেকে চেন্জ করে নিতে পারেন । অনেকেই মনে করতে পারেন যে ভেলোরে গিয়েই ভাংবো ! সে ক্ষেত্রে চেন্জ রেট কম পাবার সম্ভাবনা থাকে । কারোন ভেলরে টাকা চেন্জ হয় অনেক কম । তাই রেট টাও কম ।

বাড়ির সাথে যোগাযোগ রাখবো কিভাবে ?

বাড়ির সাথে যোগাযোগ রাখার মাধ্যম গুলো হতে পারে মোবাইল ফোন কিংবা ইন্টারনেট । মোবাইল বা ইন্টারনেটের জন্য আপনাকে একটি ইন্ডিয়ান সিম কিনতে হবে । আপনি চাইলে বাংলাদেশি সিম রোমিং করে  নিয়ে সেখানে চালাতে পারেন। তবে এক দেশের সিম অন্য দেশে রোমিং করাটা অনেক সময় ঝামেলার কাজ হয়ে যায় এবং কল রেটও বেশি হয় ।  বর্ডারে অনেক সময় অনেকেই সিম কেনেন । প্রায় ই দেখা যায় সিম গুলো কলকাতার মধ্যেই সীমাবধ্য থাকে, এর বাইরে আর কাজ করেনা । সিম বর্ডারে না কিরে কলকাতাতে কিনুন । এয়ারটেল (Airtel ) কিংবা ভোডাফোন ( Vodafone ) এর সিম কিনতে পারেন ।
সিম কিনার সময় বলুন যে আপনি বাংলাদেশে কথা বলবেন  এবং কলকাতার বাইরে যেতে হলে সেটাও বলুন ।  ইন্ডিয়া থেকে সাধারনত বাংলাদেশে কলরেট ১০‍‍ – ১২ রুপি (INR) । তবে এখানে সিমে প্রোমো রিচার্জ বা পাওয়ার রিচার্জ করে নেয়া যায় বাংলাদেশের জন্য যার মেয়াদ থাকে ৩০দিন । এইটা করলে কলরেট চলে আসে ২ রুপি প্রতি মিনিট । ইন্ডিয়াতে এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে গেলে সিমে রোমিং চালু হয়ে যায় । এ ক্ষেত্রে আপনি কল রিসিভ করলেও একটা চার্জ কাটা হয় ( প্রায় .৬০ পয়সা মত  ) আপনি যদি ভেলোরে এসে সিম কেনেন তাহলে রোমিং চার্জ থাকবেনা (তবে ভেলোরের বাইরে গেলে আবার এই সিমেও রোমিং চালু হবে ), কলকাতার সিম হলে থাকবে । ইন্টারনেটের কোন রোমিং চার্জ নেই । যদি ভেলোরেই বেশি দিন থাকতে হয় তো সেখানেই একটি সিম কিনে নিতে পারেন ।
বাংলাদেশিরা বা যেকোন ফরিনার রা ইন্ডিয়াতে যে সিম কেনে সেটার মেয়াদ থাকে ভিসা ভেলিড থাকা সাপেক্ষে । অর্থাৎ ভিসার মেয়াদ শেষ হলে সিমের মেয়াদ ও শেষ 🙁 লোকাল ডিটেলস দিয়ে সিম নিতে পারলে সেই সিম এক্টিভ থাকে কিন্তু আমাদের পক্ষে সে সিম পাবার সম্ভাবনা নাই বল্লেই চলে কারোন আমরা অন্য দেশের 🙂

ট্রেনের টিকেট কাটবো কিভাবে ?

ভারতে ট্রেনের টিকেট অনলাইনেও কাটা যায়। ইন্ডিয়ান রেইলওয়ের ওয়েবসাইট টি হল http://www.indianrail.gov.in/ . তবে অনেকের ক্ষেত্রেই হয়তো সেটা কঠিন হবে । এজেন্টের মাধ্যমে কিংবা আপনি নিজে স্টেশনে গিয়ে টিকেট কাটতে পারেন । ইন্ডিয়াতে ততকাল নামে একটি টিকেটিং ব্যবস্থা আছে যা প্রতিটি স্টেশনে এমনকি অনলাইনেও আছে । আসলে এই ব্যবস্থাতে ট্রেন ছাড়ার ২৪ ঘন্টা আগে সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত চলে । এবং নির্ধারিত কিছু ছিট যাত্রীদের জন্য দেয়া হয় ।
তবে ফরিনার দের জন্য আলাদা একটি সুবিধাও দিয়ে থাকে ইন্ডিয়ান রেইলওয়ে । অর্থাৎ আলাদা কিছু সিট রাখা হয় বিদেশীদের জন্য। এই টিকেট কলকাতায় ফেয়ারলি প্লেস এ দেয়া হয় । পুরো ঠিকানা হল : Farely Place, Near 14, Strand Road, Kolkata . নিচে মেপ দিলাম ।
এখানে আপনার পাসপোর্ট নিয়ে হাজির হন, আশা করা যায় টিকেট পেয়ে যাবেন । তবে সকাল সকাল এলে সেদিনের টিকেট পাবার সম্ভাবনা বেশি । সকাল সকাল বলতে ১০টার আগে এবং এখানেও ততকালে টিকেট দেয়া হয় । ততকালে টিকেটের দাম একটু বেশিই পড়ে । কেন্সার রুগীদের জন্য এবং তার এটেন্ডেট ( সাথে থাকবেন যে যিনি ) এর জন্য টিকেটে ছাড় আছে ।
ইন্ডিয়ান রেলের সিটের কয়েক প্রকার ক্লাস আছে । প্রধান দুটি ভাগ হল এসি ও নন এসি । নন এসির মধ্যে আছে জেনারেল ( গাদাগাদি  সিস্টেম ) এবং স্লিপার ( শুয়ে বসে যাওয়া যায়  ) । আর এসির মধ্যে আছে ৩ টায়ার এসি ( উপর থেকে নিচে ৩ জন শোবার এবং  পাশাপাশি ৩ জন বসার ব্যবস্থা আছে   ), ২টায়ার এসি  (  উপর থেকে নিচে ২ জন শোবার এবং  পাশাপাশি ২ জন বসার ব্যবস্থা আছে ) । এসি ছিট গুলোতে একটি বালিশ, বালিশ কাভার, একটি বাংকেট / কম্বল, দুটি চাদর ও একটি ছোট তোয়ালে দেয়া হয় তবে নন এসিতে নিজেকেই সাথে নিতে হবে এসব যদি প্রয়োজন মনে করেন ।
ট্রেনের টিকেট করার সময় আপনার কাছে ট্রেনের নাম্বার জানতে চাওয়া হতে পারে । কোন রুটে কোন ট্রেন চলে, কবে কবে চলে এবং তাদের  নাম্বার কি জানতে ভিজিট করুন http://www.indianrail.gov.in/between_Imp_Stations.html এই নাম্বার টি সাধারনত ৫ ডিজিটের হয়ে থাকে । যেমনঃ 22818 হল MYS HOWRAH EXP ট্রেনের নাম্বার ।
আপনার টিকেটের স্টেটাস জানার জন্য ইন্ডিয়ান রেইলওয়ের ওয়েব সাইটে ( http://www.indianrail.gov.in/pnr_Enq.html ) গিয়ে PNR Status  চেক করুন । অনেক সময় দেখা যায় যে প্রথমে আপনার সিট নাও হতে পারে, তবে পরে আবার সিট হয়ে যায় । তবে ওয়েটিং লিস্ট দুরে থাকলে অনেক সময় রিস্ক হয়ে যায় সিট কনর্ফাম হওয়ার ।
এজেন্টের মাধ্যমেও টিকেট কাটতে পারবেন । এরা টিকেট প্রতি ২০০ থেকে ৭০০ রুপি পর্যন্ত সার্ভিচ চার্জ নেবে । Marquis Street  এ বেশ কিছু  এজেন্ট পাবেন, আবার হাওড়া স্টেশনের বাইরেও আছে বেশ কিছু এজেন্ট যারা সাধারনত অনলাইন থেকে টিকেট কেটে দেয় ।

ট্রেন কোন প্লাটফর্মে দাড়াবে ?

হাওড়া স্টেশনে ২৩টি প্লাটফর্ম আছে । এরকম অনেক স্টেসন আছে যার প্লাটফর্ম সংখ্যা বেশ কয়েকটি ।  ইন্ডিয়াতে প্রতিটি ট্রেনের ইউনিক নাম্বার আছে । আপনার টিকেটেই লিখা থাকবে আপনার ট্রেনের নাম্বার । এবং প্রতিটি স্টেশনেই স্পিকারে এনাউন্চ করা হয় কোন ট্রেন কোন প্লাটফর্মে দাড়াবে । আবার বড় বড় স্টেসন গুলোতে ডিসপ্লেবোর্ড আছে এবং সেখানেও দেখানো হয় কোন ট্রেন কোন প্লাটফর্মে দাড়াবে । ট্রেন ছাড়ার ৪০ – ৪৫ মিনিট আগে থেকে ডিসপ্লেবোর্ডে দেখায় ।
ট্রেন ছাড়ার মিনিমাম ২০ মিনিট আগে প্লাটফর্মে যান কারন ট্রেনের বগি অনেক বেশি । অনেকটা পথ হাটতে হতে পারে । তবে যাদের চলাচলে সমস্যা, স্টেশনে খোজ নিন , হুইল চেয়ার পাওয়া যেতে পারে । কিংবা অনেক সময় কুলির ও সাহায্য পাওয়া যেতে পারে কারন ওদের ঠেলাগাড়ি থাকে ।
ছোট স্টেশন গুলোর ক্ষেত্রে স্টেশনে দেখে নিন আপনার ট্রেনটি কোন প্লাটফর্মে দাড়াবে এবং আপনার বগিটি কোন যায়গায় দাড়াবে । স্টেশন মাস্টার এর রুমের আশে পাশে নোটিশ বোর্ডে ডিটেল্স দেয়া থাকে ।

ট্রেনের ভেতর কি খাবো ?

ট্রেনের যাত্রাটা বেশ বড়ই। আপনি চাইলে আগে থেকেই খাবার নিয়ে ট্রেনে উঠতে পারেন, কিংবা ট্রেনের ভেতরেও খাবার কিনতে পারেন । ওয়েইটার রা এসে অর্ডার নিয়ে যাবে আপনার কাছ থেকে, শুধু একটু খেয়াল রাখতে হবে কখন এলো তারা । আবার বড় বড় স্টেশন গুলোতে ট্রেন বেশ কিছুটা সময় দাড়ায়, সে ক্ষেত্রে প্লাটফর্ম থেকেও খাবার নিতে পারেন ।
শুকনো খাবার হিসেবে নিতে পারেন বিস্কিট, চিপস, কুড়কুড়ে, শুকনো কেক আর ভারি খাবার হিসেবে ভেজ নন ভেজ দু ধরনের খাবার ই পাবেন । ট্রেনের ভিতরের ভেজ খাবার হয়  ভেজ কারি রাইস, ভেজ বিরিয়ানি, আর নন ভেজ হয় এগ/আন্ডা বিরিয়ানি, কারি রাইস । দাম ৬০ রুপি থেকে ১০০ রুপির মধ্যে ।
তবে একটা কথা মনে রাখা দরকার, বাইরের খাবারে বাড়ির খাবারের স্বাধ না খোজাই ভালো  🙂 তবে আপনার জন্য থাকছে যখন তখন চা এর ব্যবস্থা, শুধু কিনে খেতে হবে 🙂
খাবারের কথা যখন এলোই তাহলে আরও একটি বিষয় আসে, তা হল ত্যাগ করা । এসি কামরা গুলোতে সু ব্যবস্থা আছে টয়লেটের, সাবান, পানি, মগ সবই পাবেন । তবে নন এসি কামরার ক্ষেত্রে সাবান এবং একটি ছোট মগ সাথে রাখা ভালো । সাথে রাখুন টিশুও ।

ভেলোর যেতে হলে কোন স্টেশনে নামতে হবে?

ভেলোরের  স্টেশনের নাম কাটপাটি স্টেশন ( Katpadi Station )। আপনার টিকেট যদি ভেলোর পর্যন্ত হয় তা হলে আপনাকে নামতে হবে কাটপাটি স্টেসন ।
অনেক সময় কলকাতা থেকে চেন্নাই পর্যন্ত টিকেট করা থাকে । কারন সব ট্রেইন ই কাটপাটি যায়না । সেক্ষেত্রে আপনাকে চেন্নাই সেন্ট্রাল (Chennai Central ) স্টেশনে নামতে হতে পারে আবার কোন কোন ট্রেন চেন্নাই এগমোর ( Chennai Egmore ) স্টেশনে নামিয়ে দেবে আপনাকে । এবার সেখান থেকে বাসে কিংবা ট্রেনেও আপনি ভেলোর আসতে পারেন । ট্রেনে এলে খরচটা কম পড়ে । আপনাকে যদি চেন্নাই এগমোর  স্টেশনে নামতে হয় তো সেখান থেকে আপনি আবার চেন্নাই সেন্ট্রাল স্টেশনে আসুন । বাস ভাড়া ৫ রুপি আর অটো ভাড়া ৫০ রুপি । এবার চেন্নাই সেন্ট্রাল থেকে কাটপাটি পর্যন্ত ট্রেনের টিকেট করে চলে আসুন । প্রয়োজনে কর্তব্যরত পুলিশদের সহায়তা নিন স্টেশনে । আবার বড় স্টেশন গুলোতে হেল্প ডেস্কও আছে ।
যদি চেন্নাই এ আপনাকে থাকতে হয় তো চেন্নাই সেন্ট্রাল স্টেশনের পাশেই কিছু হোটেল/লজ/গেস্ট হাউজ পাবেন ।

ভেলোরে থাকবো কোথায় ?

ভেলোর স্টেশনে নামার পর বাসে কিংবা অটোতে করে আপনি সি এম সি আসতে পারবেন । সি এম সির পাশেই বেশ কিছু হোটেল আছে । সেগুলোতে থাকতে পারেন । কিংবা সাইদাপেট এ ও থাকতে পারেন । হোটেল/লজ ভাড়া ১৫০ থেকে ৬০০ পর্যন্ত, সুবিধা ভেদে দাম কম বেশি হতে পারে । CMC র পাশের লজ গুলোর ভাড়া একটু বেশি তবে, সাইদাপেট-এর এই পাশটায় ভাড়া একটু কম । হোটেল মেনেজারের সাথে যোগাযোগ করলে রান্নার সরনজাম ও পাবেন  নিজে রান্না করে খাবার জন্য । বাংগালি হোটেল ও  আছে কিছু ।
যে হোটেল বা লজ এ থাকুন, হোটেল/লজ এর পেমেন্ট স্লিপ গুলো ঠিক মত কালেক্ট করুন এবং সাথে রেখে দিন । পরবর্তি ঝামেলা এড়াতে এগুলো কাজে দেবে  ।

কোন ভাষায় কথা বলবো ?

ইন্ডিয়া অনেক বড় একটি দেশ  এবং স্থান ভেদে এদের ভাষার পরিবর্তন ও বেশ । কলকাতা তে আপনি বাংলা, হিন্দি কিংবা ইংলিশ চালিয়ে যেতে পারবেন । তবে তামিল রা হিন্দিতে কথা বলতে অভস্ত নয় এবং বলতে বা শুনতে আগ্রহী ও নয় । তবে ইদানিং হিন্দি চলে। আশার কথা হল ভেলোরের অনেকেই এখন বাংলা কিছু কাছু বোঝে এবং কথাও বলে । CMC র ডাক্তার ও কিছু কিছু বাংলা বোঝেন এবং বলেন । তবে ইংলিস বা হিন্দি ওকে । এখানে অনেক জায়গাতেই বাংলা লেখা দেখতে পাবেন । মোটামুটি চারটা ভাষাঃ তামিল, হিন্দি, বাংলা ও ইংরেজি  ।

কি খাবো ভেলোরে ?

আমরা যেমন ভাতে পাগোল তেমনি ভেলোরের স্থানীয়বা ইটলি ( Edli ) তে পাগোল । স্থানীয় খাবার অনেকের পক্ষেই খাওয়া সম্ভব না । কারোন এদের বেশিরভাগ খাবার ই সাধে কিছুটা টক এবং এরা কারি পাতা (Kari Patta ) প্রচুর ব্যবহার করে আমাদের ধনে পাতার মতো ।
কিছু বাঙালি খাবারের ও হোটেল রয়েছে  তবে সবগুলতে পুরো বাঙালি সাধ পাওয়া যায়না ।  ” অন্নপূর্না ” নামে একটি বাঙালি খাবারের হোটেল আছে যেখানে আমি অনকেটা বাঙালি খাবারের সাধ পেয়েছি এবং এখানকার রাধুনিরাও প্রায় সবই বাঙালি ।
আপনি চাইলে নিজেও রান্না করে খেতে পারেন । বেশি দিন থাকতে হলে নিজে রান্না করে খাওয়াটাই ভালো ।  
তো আজ এ পর্যন্তই, পরের কোন এক আটিকেলে ভেলোরের আরো কিছু বিষয় তুলে ধরা হবে ।
পুরো বিষয়টি আপনার কাছে প্রয়োজনীও মনে হলে অন্যের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেননা কিন্তু। আমি নিজে প্রথমবার অনেকটা ঝামেলা পোহাবার জন্য বিষয়টি আপনাদের সাথে শেয়ার করেছি, যাতে আপনারাও একই সমস্যা গুলোতে না পড়েন ।
সবায় সু্স্থ হয়ে দেশে ফিরে আসুন, এই কামনাই রইল …

 tag: সি এম সি ভেলোর, ভেলোর হাসপাতাল, ভেলোর সিএমসি হাসপাতাল, কলকাতা থেকে চেন্নাই বিমান ভাড়া, ভারতে চিকিৎসা ভিসা, এপোলো হাসপাতাল চেন্নাই, সি এম সি হাসপাতাল, ঢাকা টু চেন্নাই বিমান ভাড়া