Showing posts with label Law. Show all posts
Showing posts with label Law. Show all posts

ট্রাফিক আইন ও জরিমানা | ট্রাফিক আইনে কোন অপরাধে কত জরিমানা জেনে রাখুন

ট্রাফিক আইনে কোন অপরাধে কত জরিমানা
'ট্রাফিক আইন মেনে চলুন’- এ কথা গুলো আমাদের দেশে বিভিন্ন জায়গায় বহুল ব্যবহৃত এবং আমাদের কাছে বহুল শ্রুত। সারাদেশে যেভাবে মোটরগাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সড়ক দূর্ঘটনা। মোটরগাড়ি চালানোর আইন-কানুন না জানা কিংবা আইন-কানুনকে তোয়াক্কা না করার প্রবণতাই এসব দূর্ঘটনার মূল কারণ। পৃথিবীর অন্য দেশগুলোর মতো বাংলাদেশেও রয়েছে মোটরগাড়ির জন্য প্রযোজ্য বিশেষ আইন। যা অমান্য করলে আপনার বিরুদ্ধে জরিমানা কিংবা মামলা হতে পারে। অতএব রাস্তায় গাড়ি নিয়ে নামার আগে জানতে হবে এর সাথে সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি সমূহ।

সেটি জানাতে ১৯৮৩ সালের ‘মোটরযান আইন’ অনুযায়ী কোন অপরাধে কি শাস্তির বিধান আছে তা সংক্ষেপে পাঠকদের কাছে তুলে ধরছে ডিএমপি নিউজঃ

১) নিষিদ্ধ হর্ণ/হাইড্রোলিক হর্ণ ব্যবহারঃ জরিমানা ১০০ টাকা (ধারাঃ ১৩৯)

২) আদেশ অমান্য বাধা সৃষ্টি ও তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতিঃ জরিমানা ৪০০ টাকা {ধারা ১৪০(১)}

৩) ওয়ানওয়ে সড়কে বিপরীত দিকে গাড়ি চালানোঃ জরিমানা ২০০ টাকা {ধারাঃ ১৪০(২)}

৪) অতিরিক্ত গতি বা নির্ধারিত গতির চেয়ে দ্রুত গতিতে গাড়ি চালানোঃ জরিমানা ৩০০ টাকা, অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলেঃ জরিমানা ৫০০ টাকা (ধারাঃ ১৪২)

৫) দূর্ঘটনা সংক্রান্ত যে সকল অপরাধ থানায় ব্যবস্থা নেওয়া হয় নাইঃ জরিমানা ৫০০ টাকা, অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলেঃ জরিমানা ১০০০ টাকা (ধারাঃ ১৪৬)

৬) নিরাপত্তা বিহীন অবস্থায় গাড়ি চালানোঃ জরিমানা ২৫০ থেকে ১০০০ টাকা (ধারাঃ ১৪৯)

৭) কালো বা অতিরিক্ত ধোঁয়া বের হওয়া মোটরযান ব্যবহারঃ জরিমানা ২০০ টাকা (ধারাঃ ১৫০)

৮) মোটরযান আইনের সাথে সঙ্গতিবিহীন অবস্থায় গাড়ি বিক্রয় বা ব্যবহার, গাড়ির পরিবর্তন সাধনঃ জরিমানা ২০০০ টাকা (ধারাঃ ১৫১)

৯) রেজিষ্ট্রেশন সার্টিফিকেট বা ফিটনেস সার্টিফিকেট অথবা রুট পারমিট ব্যতীত মোটরযান ব্যবহারঃ জরিমানা ১৫০০ টাকা, অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলেঃ জরিমানা ২৫০০ (ধারাঃ ১৫২)

১০) অনুমোদন বিহীন এজেন্ট বা ক্যানভাসার নিয়োগঃ জরিমানা ৫০০ টাকা, অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলেঃ জরিমানা ১০০০ টাকা (ধারাঃ ১৫৩)

১১) অতিরিক্ত মাল বা অনুমোদিত ওজন অতিক্রম পূর্বক গাড়ি চালনাঃ জরিমানা ১০০০ টাকা, অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলেঃ জরিমানা ২০০০ টাকা (ধারাঃ ১৫৪)

১২) বীমা ব্যতীত গাড়ি চালানোঃ জরিমানা ৭৫০ টাকা (ধারাঃ ১৫৫)

১৩) অনুমতি ব্যতীত গাড়ি চালানোঃ জরিমানা ৭৫০ টাকা (ধারাঃ ১৫৬)

১৪) প্রকাশ্য সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিঃ জরিমানা ৫০০ টাকা (ধারাঃ ১৫৭)

১৫) গাড়ীর ব্রেক কিংবা কোন যন্ত্র অথবা গাড়ির বডি কিংবা স্পিড গর্ভণর সীল বা ট্যাক্সি মিটারের উপর অন্যায় হস্তক্ষেপ করাঃ জরিমানা ৫০০ টাকা (ধারাঃ ১৫৮)

১৬) যে সকল অপরাধের জন্য মোটরযান আইনে সুনির্দিষ্ট কোন শাস্তির ব্যবস্থা নেইঃ জরিমানা ২০০ টাকা, অপরাধের পুনরাবৃত্তি করলেঃ জরিমানা ৪০০ টাকা (ধারাঃ ১৩৭)।

ট্রাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হোন, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করুন।

সূত্র : ডিএমপি

Tag:ট্রাফিক আইন জরিমানা ২০১৯, ট্রাফিক আইন 2019, ট্রাফিক আইন ও জরিমানা, বাংলাদেশ ট্রাফিক আইন ২০১৯, ট্রাফিক আইন ও জরিমানার তালিকা ২০১৯, ট্রাফিক পুলিশ আইন ২০১৯, মোটরযান আইন 2019, গাড়ির মামলা ধারা ও জরিমানা

অনলাইনে বা ইন্টারনেটে হয়রানির শিকার হলে কী করবেন

 বর্তমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল, ইউটিউবসহ বেশকিছু অনলাইন মাধ্যম ব্যবহারকারী অসংখ্য। তবে অসচেতনতার কারণে হয়রানির শিকার হচ্ছেন অনেকেই। এমনকী এমন অবস্থায় করণীয় সম্পর্কেও তেমন কিছু জানা নেই। এসব হয়রানি থেকে নিরাপদ থাকতে জেনে নিন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কিছু পরামর্শ-

হয়রানির ধরন: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ই-মেইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়া, ফেক আইডি খুলে আপত্তিকর ছবি বা ভিডিও শেয়ার, উগ্রধর্মীয়-সন্ত্রাসবাদী কনটেন্ট শেয়ার, অন্যকে ফাঁসানোর উদ্দেশে তার বিকৃত তথ্য ও ছবি ব্যবহার, হুমকি দিয়ে টাকা আদায়, অনলাইনে প্রশ্নফাঁস ইত্যাদি।

অভিযোগ করবেন যেখানে:
১. প্রাথমিকভাবে অভিযোগ করতে পারেন আপনার নিকটস্থ থানায়।
২. ই-মেইলে অভিযোগ করতে পারেন cyberhelp@dmp.gov.bd ঠিকানায়।
৩. পরিচয় গোপন রেখে অভিযোগ করতে চাইলে ‘গুগল প্লে স্টোর’ থেকে ডাউনলোড করুন ডিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম ডিভিশন এর ‘হ্যালো সিটি (Hello CT) অ্যাপ। এটি ব্যবহার করে পাঠাতে পারবেন আপনার ব্যক্তিগত তথ্য।
৪. প্রয়োজনে সরাসরি কথা বলতে পারেন ডিএমপি’র কাউন্টার টেরোরিজম ডিভিশনের ‘সাইবার ক্রাইম ইউনিট’ অফিসে। কথা বলতে পারেন দায়িত্বরত কর্মকর্তার সাথে ০১৭৬৯৬৯১৫২২ নম্বরে। আসতে পারেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স, ৩৬ শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী স্মরণী, রমনা, ঢাকা ঠিকানায়।

যেভাবে অভিযোগ করবেন: ভিক্টিমাইজড হলে যত দ্রুত সম্ভব অভিযোগ জানানো উচিত। অভিযোগ করার ক্ষেত্রে আপনার অভিযোগের স্বপক্ষে কিছু প্রমাণাদি প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আলামতের স্ক্রিনশট, লিঙ্ক, অডিও বা ভিডিও ফাইল অথবা রিলেটেড ডকুমেন্টস। স্ক্রিনশট সংগ্রহের ক্ষেত্রে খেয়াল রাখতে হবে, যেন অ্যাড্রেস বারের ইউআরএলটি দেখা যায়। হ্যালো সিটি অ্যাপ ও ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে চাইলে এসব কন্টেন্ট অ্যাটাচ করে আপলোড করতে পারেন। অন্যান্য ক্ষেত্রে সরাসরি সফট কপি দেওয়া যেতে পারে। সর্বোপরি আপনি প্রয়োজনে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের অফিসারদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ নিতে পারেন। যা আপনার আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সহায়ক হতে পারে।


নিজে প্রতিরোধ করুন: একটু সচেতন হলেই আপনি এড়াতে পারেন এমন বিব্রতকর ঘটনা। তাই জেনে নিন নিরাপদ থাকার কিছু কৌশল-

১. অপরিচিত কারো ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করবেন না।
২. ফেসবুকে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত (পাবলিক) রাখবেন না।
৩. ফেসবুক প্রোফাইলের প্রাইভেসি সেটিংস চেক করুন। অন্য কারো পোস্টে আপনাকে ট্যাগ করার অপশন উন্মুক্ত রাখবেন না।
৪. প্ররোচিত হয়ে উস্কানিমূলক ছবি বা ভিডিও শেয়ার থেকে বিরত থাকুন।
৫. সন্দেহজনক কোন লিংকে ক্লিক করবেন না।
৬. লগ-ইন আইডি ও পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করুন এবং প্রতিবার ব্যবহার শেষে লগ-আউট করুন।
৭. সন্দেহজনক কোন ই-মেইল বা মেসেজের উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
৮. কোন পরিচিতজনের বিপদের কথা জানিয়ে ই-মেইল অথবা মেসেজ এলে আগে যাচাই করুন এবং যোগাযোগের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন।
৯. বিপুল পরিমাণ অর্থ লটারিতে জিতেছেন- এমন তথ্যসহ পাঠানো ই-মেইল বা মেসেজের উত্তর দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। এসব তথ্যসম্বলিত মেইল অনুসন্ধানে ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া, এ ধরনের আরও নিরাপত্তা বিষয়ক পরামর্শ পেতে ভিজিট করুন ডিএমপি’র অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ।  [বিডিলনিউজ]

চেক ডিজঅনার (Check Dishonour Law in BD) হলে কি করবেন বিস্তারিত

যদি কোন ব্যক্তি যে ব্যাংকে তার একাউন্ট রয়েছে সেই একাউন্ট হতে কোন ব্যক্তিকে কোন পরিমান টাকা প্রদানের জন্য কোন চেক ইস্যু করেন এবং উক্ত একাউন্টে যদি চেকে বর্ণিত টাকার পরিমানের চেয়ে কম টাকা থাকে এবং চেকটি যদি ব্যাংক অপরিশোধিত অবস্থায় ফেরত দেয় তাহলে চেকদাতা একটি অপরাধ সংঘটিত করেছে বলে গণ্য হবে। তহবিল অপর্যাপ্ততার কারণে ব্যাংকের চেক প্রত্যাখ্যাত হওয়া একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

নেগোসিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট অ্যাক্টের (এনআই অ্যাক্ট) ১৩৮, ১৪০ ও ১৪১ ধারায় তহবিল অপর্যাপ্ততার কারণে ব্যাংকের চেক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার অপরাধের জন্য আইনি প্রতিকারের বিধান রাখা হয়েছে।

আমাদের দেশে চেক ডিজঅনারের মামলার পদ্ধতি সম্পর্কে বহু ভুল ধারণা রয়েছে। ফলে দেখা যায় পদ্ধতিগত কারণে অনেকের মামলার অধিকারই নষ্ট হয়ে যায়। চেকের মামলা করতে ৩ (তিন) বার চেক ডিজঅনার করাতে হয় মর্মে একটি ভুল ধারণা আমাদের দেশে সর্বসাধারণে প্রচলিত রয়েছে। অনেক বিজ্ঞ ব্যক্তি ও অভিজ্ঞ ব্যাংক কর্মকর্তাকেও দেখেছি চেকের মামলার জন্য গ্রাহককে ৩ বার চেক ডিজঅনার করানোর পরামর্শ দিতে। এটা একটা প্রচলিত নিয়মে পরিনত হয়েছে। যা ভুল পরামর্শ। প্রকৃত পক্ষে আইনে এ ধরণের কোন বাধ্যবাধকতা নেই। এ ব্যাপারে এন.আই এ্যাক্টের বিধান মতে চেক ৬ মাসের মধ্যে যেদিন ডিজঅনার হবে সে দিন থেকে ৩০ দিনের মধ্যে লিখিতভাবে লিগ্যাল নোটিশ প্রদানের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

চেক প্রাপকের পালনীয় কর্তব্য সমূহ:
ক.চেকটি প্রস্তুত হওয়ার তারিখ হতে ৬ মাসের মধ্যে অথবা চেকটি বৈধ থাকাকালীন সময়ের মধ্যে যেটি আগে হয় সেই সময়সীমার মধ্যে ব্যাংকে উপস্থাপন করতে হবে।

খ.চেকটির প্রাপক অথবা যথা নিয়মে ধারক যেই হোন না কেন ব্যাংক কর্তৃক চেকটি ফেরত কিংবা ডিস্অনার হয়েছে তা অবগত হওয়ার ত্রিশ দিনের মধ্যে চেকে বর্ণিত টাকা পরিশোধের দাবি জানিয়ে চেক প্রদানকারীকে লিখিত নোটিশ প্রদান করবেন।

গ.উক্ত নোটিশ প্রাপ্তির ত্রিশ দিনের মধ্যে চেক প্রদানকারী চেকের প্রাপককে অথবা যথা নিয়মে ধারকের বরাবর উল্লেখিত পরিমাণ টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে মামলার কারণ উদ্ভব হবে।

ঘ.মামলার কারণ উদ্ভব হওয়ার তারিখ হতে এক মাসের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে।

নোটিশ জারীর নিয়মাবলী:
চেক ইস্যুকারীকে তিনভাবে উপরোক্ত নোটিশ প্রদান করা যায়। প্রথমত, নোটিশ গ্রহীতার হাতে নোটিশ পৌঁছে দেয়া, অথবা প্রাপ্ত স্বীকারপত্রসহ রেজিস্টার্ড ডাকযোগে বাংলাদেশে তার জ্ঞাত ঠিকানায় নোটিশ প্রেরণ করা; অথবা বহুল প্রচারিত কোনো বাংলা জাতীয় দৈনিকে নোটিশ প্রকাশ করে।
দেনাদারের সর্বশেষ জানা সঠিক ঠিকানায় নোটিশ দিলে তা প্রাপক গ্রহণ না করলে, ফেরত আসলে/ প্রত্যাখান করলে তাতে মামলার কোন ক্ষতি হবে না। তবে আইনের বিধান হচ্ছে লিখিতভাবে নোটিশ দিতেই হবে এবং নোটিশে প্রাপককে টাকা আদায়ের জন্য নোটিশ প্রাপ্তির দিন হতে ৩০ (ত্রিশ) দিন সময় দিতে হবে। এর আগে মামলা করা যাবে না। নোটিশ গ্রহণ বা প্রত্যাখানের দিন থেকে উক্ত সময় গননা হবে।
চেকটির প্রেরক যদি কোন রেজিষ্টার কোম্পানী হয়
কোম্পানির ক্ষেত্রেও এ আইন প্রযোজ্য হবে। এনআই অ্যাক্টের ধারা ১৩৮-এ বর্ণিত অপরাধ সংঘটনকারী যদি একটি কোম্পানি হয় এবং ওই কোম্পানি যদি সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়ী বলে প্রমাণিত হয়, তাহলে ওই অপরাধ সংঘটনের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সংঘটিত অপরাধের জন্য দায়ী হবেন এবং আইন অনুযায়ী দণ্ডিত হবেন।

যে সব কারণে চেকের অমর্যাদা হতে পারে:

১. চেক মেয়াদোত্তীর্ণ হলে
২. যথাযথভাবে চেক পূরণ করা না হলে
৩. চেকে ড্রয়ারে স্বাক্ষর না হলে
৪. চেক পোস্ট ডেটেড অর্থাৎ পর-তারিখের হলে
৫. চেকে স্বাক্ষরের সঙ্গে ব্যাংকে রক্ষিত গ্রাহকের নমুনা স্বাক্ষরের অমিল হলে
৬. চেকে উল্লিখিত টাকার পরিমাণ অংকে ও কথায় অমিল হলে
৭. হিসাবে পর্যাপ্ত স্থিতি না থাকলে
৮. চেকে ঘষামাজা থাকলে
৯. চেকে কাটাকাটি থাকলে পূর্ণ স্বাক্ষর দিয়ে তা সত্যকরণ না করা হলে
১০. ব্যাংকিং সময়ের পর চেক উপস্থাপন করা হলে

এ ছাড়া আরো অনেক কারণে চেক প্রত্যাখ্যাত (বাউন্স) হতে পারে। যে সব কারণে চেক প্রত্যাখ্যাত হতে পারে তার একটি ছাপানো রশিদ প্রতিটি ব্যাংকে থাকে। যে কারণে চেকটি প্রত্যাখ্যাত হলো তা চিহ্নিত করে ওই স্লিপসহ চেকটি প্রাপকের কাছে ব্যাংক ফেরত পাঠায়। উল্লেখ্য, শুধু তহবিল অপর্যাপ্ততার কারণে চেক প্রত্যাখ্যাত হলে তা এই আইনের আওতায় পড়ে।

অপরাধের শাস্তি:
এক বৎসর মেয়াদ পর্যন্ত কারাদন্ডে দন্ডিত অথবা চেকে বর্ণিত অর্থের তিনগুন পরিমান অর্থদন্ড অথবা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবে। আদালত অপরাধ প্রমাণ সাপেক্ষে নিজ বিবেচনা মোতাবেক হয়তো শুধুমাত্র কারাদণ্ডের শাস্তি অথবা শুধুমাত্র অর্থদণ্ড অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ড প্রদান করতে পারেন।
আপীল দায়ের
তহবিল অপর্যাপ্ততার কারণে ব্যাংক চেক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার অপরাধে আদালত কাউকে কারাদন্ড প্রদান করলে তার বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে প্রত্যাখ্যাত চেকের মূল্যের কমপক্ষে ৫০ শতাংশ অর্থ সংশ্লিষ্ট আদালতে জমা দিয়ে আপিল করতে হয়।



ড. বদরুল হাসান কচি
লেখক: আইনজীবী ও সম্পাদক

অনলাইনে মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট বা মুক্তিযোদ্ধার সনদ পত্র নিয়ে নিন সহজ ও সু্ন্দর ভাবে !!!

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম। আসসালামুআলাইকুম । সবাইকে আমার আন্তরিক প্রীতি, সম্মান, শুভেচ্ছা ও ভালবাসা জ্ঞাপন করছি। আশাকরি আল্লাহ্‌র অশেষ রহমতে সবাই ভালো আছেন।
যাচাই-বাচাই করা লিস্ট থেকে মুক্তিযোদ্ধার সার্টিফিকেট এখন অনলাইন থেকে তোলা যাচ্ছে। আমার কাছে অনলাইনে মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট প্রিন্ট করার ব্যবস্থাটি খুব ভালোলেগেছে। এতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের পিয়নদের ইনকামে একটু ভাটা পরলের। আমাদের মতো সাধারণদের ভালো হয়েছে। এখন সার্টিফিকেট হারাবার কোনো ভয় নেই আবার কেউ ভুয়া সনদে চাকুরী বা অন্যকোনো সুবিধা পেতে চাইলে সহজেই সনাক্ত করা যাবে।
আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি আমার প্রাণপ্রীয় বাংলাদেশ খুব শিষ্র বিশ্বে মাথা উচু করে দাঁরাবে।
মুক্তিযোদ্ধার সনদ পেতে এখানে ক্লিক করুন।
হোম পেজের ডানপাশে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা অনুসন্ধান লিংকটিতে ক্লিক করুন অথবা সদা জাগ্রত বাংলার মুক্তিবাহিনী ছবিটিতে ক্লিক করুন।
প্রদর্শীত অপশনগুলো থেকে ‍আপনার বিভাগ, জেলা, ‍উপজেলা নির্বাচন করে অনুসন্ধান বাটনে ক্লিক করুন অথবা, ‍আপনার গেজেট নম্বর অথবা, মুক্তিবার্তা নম্বর অথবা, প্রধানমন্ত্রী স্বাক্ষরিত সনদ নম্বর অথবা, আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর
এর যেকোন ‍একটি দিয়ে অনুসন্ধান বাটনে ক্লিক করুন
এবার উপজেলার সব মুক্তিযোদ্ধার লিস্ট দেখাবে।
দ্রুত খুঁজে পাবার জন্য বাংলা ইউনিকোডে সার্চ করুন। এখানে নাম বা পিতার নাম দিতে পারেন।
খুঁজে পাবার পর ক্লিক করলেই মুক্তিযোদ্ধার ছবি সহ সব ডাটা দেখাবে।
এবার প্রিন্ট করে নিন।
এবার এই প্রিন্ট কপিই মুক্তিযোদ্ধার সনদ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন।

জমি বা প্লট কেনার আগে জেনে নিন

জমি কিনতে গিয়ে ক্রেতা যদি কিছু ব্যাপারে ভুল করে বসেন এবং এ কারণে যদি জমিতে তার অধিকার ক্ষুণ্ন হয়, সেক্ষেত্রে কেবল বিক্রেতার ওপর দোষ চাপিয়ে তিনি পার পেতে পারেন না। কেনাবেচা চুক্তিতে ক্রেতাকে কিছু বিষয় যাচাই করে নিতে হয়, নয়তো বোকামির খেসারত ক্রেতাকেই দিতে হবে।
জমি বা প্লট কিনে প্রতারিত হচ্ছেন অনেকেই। ঢাকা ও আশপাশে তো বটেই, সারাদেশে হরহামেশাই ঘটছে প্রতারণার ঘটনা। জমি-জমা নিয়ে জাল জালিয়াতি, প্রতারণা, পারিবারিক ও সামাজিক কলহ, মামলা, মারামারি লেগেই আছে। জমি বা প্লট কেনার আগে কিছু বিষয় মাথায় রাখলে প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
তিনটি বিষয় অতি জরুরি-
১. বিক্রেতার আইনানুগ দখল (যা সরেজমিন তদন্ত করে বুঝতে হয়);
২. ভূমি অফিসের রেকর্ড মোতাবেক মালিকানার স্বচ্ছতা;
৩. রেজিস্ট্রেশন অফিসের রেকর্ড মোতাবেক মালিকানার চেইন দলিল; 

প্রস্তাবিত বিক্রেতাই কি জমির প্রকৃত মালিক?
এটাই মিলিয়ন ডলার কোশ্চেন। নিছক দখল ও মৌখিক দাবি যথেস্ট না। নানানভাবে আপাত: সঠিক মালিকানা দুষিত হতে পারে। যেমন-
-প্রকৃতপক্ষে মালিক হলেও, মালিকানার স্বপক্ষে কাগজপত্র ঘাটতি
-প্রকৃতপক্ষে মালিক কিন্তু সরকারী রেকর্ডে ভুল
-মালিকানার অন্য শরীক (ভাই, ভাস্তে, বোন, ফুফু ইত্যাদি) আছে
-এ মালিক সঠিক কিন্তু পূর্ববর্তী বিক্রেতা ঘাপলা করেছেন
-জমিতে খাস অংশ আছে
-প্রতিবেশীর সাথে সীমানা বিরোধ আছে
-জমি কোন ব্যাংকে বন্ধক
-জমি অলরেডি আরেক জায়গায় বায়না/বেচা/আমমোক্তারনামা হয়ে গেছে
-পুরোপুরি ভুয়া/ জবরদখল। গায়ের জোরে বিক্রি করছেন
-বাপ থাকতে পোলায় জমি বেচে দিচ্ছে 

মালিকানার স্বপক্ষে একক বৃহত্তম দলিল কি?
-খুবই ছোট একটা স্লিপ। খাজনা রশিদ বা ল্যান্ড ট্যাক্স রিসিপ্ট। জোত-জমির মালিকরা তহশীলদার অফিসে গিয়ে বছরে একবার খাজনা দেন। এ রশিদ তার প্রমাণ। একটি এসি (ল্যান্ড) অফিসের আন্ডারে ১০/১২ টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস থাকে। সেখানে তহশীলদার বসে। বলাবাহুল্য ২০/২৫ টাকার খাজনা গ্রহন করার জন্য ৫০০ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়! না হলে বতহশীলদার খাজনা নিতে টালবাহানা করে! সিটি এলাকায় কর্পোরেশনের হোল্ডিং ট্যাক্স রিসিপ্ট মালিকানার বড় দলিল। তবে কুইক এ রিসিপ্টই শেষ কথা না। এটা আসলে ফিনিশিং টোকেন। এটার লেজ ধরে এবার জমির গোড়ায় চলে যান। ২টি অফিসের কাজকর্মের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের সকল জমিখন্ডের মালিকানা নিয়ন্ত্রিত হয়। ভূমি মন্ত্রনালয় অধীনস্ত থানা পর্যায়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি)র কার্যালয় ভায়া জেলা প্রশাসন ও আইন মন্ত্রনালয়ের অধীনস্ত রেজিস্ট্রেসন অধিদপ্তরের সাব-রেজিস্টার অফিস (সাধারনত থানা পর্যায়ে)।

ভূমি অফিসে কি কি ডকুমেন্ট পাব?
-মৌজা ম্যাপ
-বিএস/ (বা ঢাকায় মহানগর জরিপ) খতিয়ান, না থাকলে জাবেদা নকল
-এস এ খতিয়ান
-আর এস খতিয়ান
-সি এস খতিয়ান
এগুলো সকল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে অনলাইনে আবেদন করেই আজকাল পাওয়া যেতে পারে। তবে তা প্রশ্নসাপেক্ষ।

জেনে নিই-খতিয়ান কি?
জেলা>উপজেলা> মৌজা>দাগ নং। একটি মৌজায় একজন মালিকের ১ বা একাধিক দাগে সকল জমির পরিমানের সনদ হল খতিয়ান। খতিয়ান একটি বালাম বইয়ের পাতার অবিকল নকল। এর সিরিয়াল নং ই হল খতিয়ান নং। লেটেস্ট মৌজা ম্যাপের সাথে আপনার খতিয়ান নিয়ে বসলে সহজেই নিজের জমির আকার আয়তন আন্দাজ করতে পারবেন।
ব্রিটিশ আমলের জনৈক ক্যাডেস্টাল করা জরিপের নামানুসারে সিএস জরিপ ও তারপরের পাকি ও বাংলাদেশ আমলের জরিপের ফলে নতুন দাগ ও খতিয়ান নং সৃজিত হতে পারে। তবে দেখার বিষয় সিএস থেকে বিএস পর্যন্ত মালিকানার যে পরিবর্তন তা যৌক্তিক ও আইন সংগত কিনা? সাধারণ বিচারে দাদার জমি ভাগ হতে হতে নাতি পর্যায়ে কমে যাবে। বিক্রয়ের কারনে দাগে জমির পরিমান কমবে। তবে ব্যতিক্রম ক্ষেত্রে একই দাগে ক্রয় ও হেবা (দান) পাওয়ার কারনে জমি বাড়তে পারে। যাই হোক সিএস টু বিএস খতিয়ানে মালিকানার পরিবর্তনগুলোর স্বপক্ষে যথাযথ দলিল (ঘটনা) জানার জন্য যেতে হবে সাবরেজিস্ট্রি অফিসে।

সাব-রেজিস্ট্রি অফিস: জমির দলিলের আর্কাইভ
ক্রয়, দান বা বাটোয়ারা -এ তিনভাবে কথিত বিক্রেতা জমির মালিক হতে পারে। আর এ ৩ টি ক্ষেত্রেই যথাযথ দলিল ও তার রেজিস্ট্রেশন মাস্ট। বাপ-চাচার হেবা কিবা ভাই বোনের বাটোয়ারার দলিল না থাকার চান্স হাই। ক্রেতাদের কাজ হল এ ধরনের গর্তে পা না দেয়া। বিক্রেতাকে অনুরোধ করা ফর্মালিটি শেষ করতে। সর্বশেষ দলিলের লেজ ধরে আগালে বায়া দলিল-১, বায়া-২, বায়া-৩ পাওয়া যাবে। এভাবে খতিয়ান সমূহে জমির মালিকানার তালে তালে দলিলসমূহ পরখ করে দেখলেই একখন্ড নির্ভেজাল জমির চিত্র ফুটে উঠবে।

মিউটেশন কি?
-মিউটেশন মানে পৃথকীকরণ। সকল ঝামেলা শেষে জমির মালিককে সরকারীভাবে মালিকানার ব্যাপারে এক ধরনের ডিক্লারেশন সনদ। 
আরও কিছু নিয়মকানুন জানতে এখানে দেখুন-

শেয়ার করুন