Showing posts with label Career Guidelines. Show all posts
Showing posts with label Career Guidelines. Show all posts

ইন্টারভিউ বোর্ডে প্রথম ৩০ সেকেন্ডে নজর কাড়ুন, নইলে পরেরটির প্রস্তুতি নিন

আমরা দুই ধনরেন মানুষকে মনে রাখি, প্রথমত যারা সুখ্যাতিতে বিখ্যাত অথবা যারা কুখ্যাত। বিখ্যাত এবং কুখ্যাত এর মাঝের লোকের সংখ্যাই বেশি এবং এদের কেউ মনে রাখে না। একটা জব ইন্টরভিউতেও ঠিক যেসব প্রার্থীরা আসে তাদের মধ্যে সব থেকে ভাল যারা করে তাদের নিয়ে ভাবা হয়, সব থেকে খারাপ যারা করে তাদের নিয়েও কিছু আলোচনা হয়, বিশ্বাস করুন গড়ের যারা তাদের নিয়ে ভাবার সময় কারো থাকে না। এই আর্টিকেলে আমি নিজের চাকুরীর ইন্টারভিউ দিতে যাবার অভিজ্ঞতা, দীর্ঘদিন নিজে ইন্টারভিউ নেয়ার অভিজ্ঞতা এবং ইন্টারনেটের বিভিন্ন আর্টিকেল সংমিশ্রন করে ইন্টারভিউ বোর্ডে কেন কাউকে সিলেক্ট করে সেসব বিষয়ে ধারনা দেয়ার চেষ্টা করব। অভিজ্ঞতা ব্যাপারটি যেমন ভিন্ন তেমনি এই লেখার সাথে কারো দ্বিমত থাকতে পারে, বা এটাকে আমি একমাত্র উপায় বলছি না, হতে পারে এর বাইরেও ধারনা আছে।

ইন্টারভিউ সংক্রান্ত ভয়ঃ
যে কেউ যে কাউকে ইন্টরভিউ বোর্ড কিভাবে ফেস করতে হবে তার উপদেশ পরামর্শ দিতে পারবে, তাতে সে যদি নিজে জীবনে কোন ইন্টারভিউতে সফল হতে নাও পারে। জ্ঞান পরামর্শ বিলি করাটা যতটা কঠিন তার থেকে বাস্তবে করাটা কঠিন। প্রথমত নার্ভাসনেস আপনাকে গ্রাস করবে, আপনি ছাড়া যাকে দেখবেন তাকেউ মনে হবে আপনার থেকে মনে হয় বেশি যোগ্য। আমি ২০০৯ সালে জীবনে প্রথম জবের ইন্টারভিউ দেই, নিজের প্রতিষ্ঠান খুলনা শহরে রেখে ঢাকায় যখন পড়তে যাই তখন মনে হল টুকটাক আয় করলে খরচটা চালানো সহজ হবে। প্রথম পড়লাম চিটিংবাজদের খপ্পরে যারা জবের কথা বলে আগে ট্রেনিং দেবে বলে টাকা দাবী করে বসল। সেই ইন্টারভিউ বোর্ডে ইংরেজিতে দুয়েকলাইন বলতে গিয়ে ঘেমেটেমে একাকার, এরপর জবের দুটি ইন্টারভিউ দেই যা কেবল তাদের নিয়োগ পদ্ধতি কেমন সেটা বুঝতে, তো এ ব্যাপারে জব পাওয়া না পাওয়া সংক্রান্ত কোন টেনশন ছিল না, ছিল ঘটনা কি সেটা দেখার। তো বিনা মানসিক চাপে ‍দুটিই বেশ ভাল হয়েছিল, সর্বশেষ একটিতে ৬ ডিজিটের বেতন অফার পেয়েছিলাম। মোটামুটি এতটুকু বুঝলাম যে অনেক ভাল ক্যান্ডিটেড কেবল নার্ভাসনেস থাকার জন্য গুলিয়ে ফেলে প্রথম ৩০ সেকেন্ড নিজেকে পজেটিভলি প্রেজেন্ট করতে পারেন না এবং খারাপ করেন। দেখুন একটি জব না হলে আপনি মারা যাবেন না বা যিনি ইন্টারভিউ নেবেন তার হাতে পিস্তল নেই যে ভুল করলে ‍গুলি করবে। ইন্টারভিউ আপনার জন্য পুলসিরাত না যে এটাই শেষ খেলা, আর সুযোগ নেই। ভয় কাটাতে পারলে ইন্টরভিউ বোর্ডে রক এন রোল করার প্রথম ধাপ পার করে ফেল্লেন।

সফল ক্যারিয়ার ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার টিপস

বার বার রিজেক্টেড চরম হতাশাঃ
আপনি যদি বার বার ইন্টারভিউ বোর্ড থেকে বাদ পড়েন ধরে নিতে হবে আপনি গড়ের লেভেলে আছেন, চমক দেখাতে পারছেন না। আমাদের মাঝে অনেকে আছেন যাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা ভাল, ভাল বিশ্ববিদ্যালয়, ভাল রেজাল্ট, জবে যা চাওয়া হয়েছে সব আছে। ভাল সিভি বলেই শর্টলিষ্টে থাকনে, এরপর বোর্ডে বাদ পড়ে যান। এই আর্টিকেল লেখার দিন কলেজে একজন CSE বিভাগের লেকচারার নিয়োগের ইন্টারভিউ নিচ্ছিলাম, সেখানে ১টি পদের বিপরীতে যে ৫ জনকে শর্টলিষ্ট করা হয়েছিল তারা সবাই সিভির দিক থেকে সমান কিন্তু ইন্টারভিউ বোর্ডে আকাশ-পাতাল ব্যাবধান হল। প্রথমত, যারা প্রথম কিছু সময়ে নজর কাড়তে পারেন না তাদের কমিউনিকেশন স্কিল বিশেষ করা কথা বলার দক্ষতা ব্যাপক ঘাটতি, আর যারা ভাল করেন তাদের কমিউনিকেশন স্কিল উন্নত। অনেক প্রার্থী পেয়েছি যারা বিষয়ভিত্তিক নলেজ কম তবু কথাবার্তা দিয়ে ভালই চালিয়ে যান। সুতরাং এই একটি যোগ্যতা যদি আপনার চমৎকার থাকে তাহলে ইন্টারভিউবোর্ডে নিজেকে প্রথম ২০-৩০ সেকেন্ডর মধ্যে আপনি সবার নজরে আনতে পারবেন। একটা গবেষণা বলছে ৬৩% বস প্রথম ৯০ সেকেন্ড সিদ্ধান্ত নিয়ে নেন কোন আপনাকে সিলেক্ট করা হবে কি না?! ‍সুতরাং আপনার হাতে বেশ কম সময় থাকে নিজেকে প্রমান করার জন্য। বিশ্বাস করুন আপনি ইন্টরনেট ঘাটলে লক্ষ লক্ষ কন্টেন্ট পাবেন কিভাবে ইন্টারভিউ বোর্ড ভাল করার যায় কিন্তু যদি আপনি কথা বলা ও কমিউনিকেট করতে না পারেন সেসব ‍গুলে খাওয়ালেও আপনি ভাল করতে পারবেন না। তো হতাশা থেকে বের হতে চাইলে নিজের কমিউনিকেশন (যোগাযোগ) দক্ষতা ডেভলপ করুন। বাস্তবতা হল এসব কিন্তু হুট করে ডেভলপ করা যায় না, পাবলিক স্পীকার বা মটিভেশনাল স্পীকারদে কথা শুনে একদিন বা ১ মাসে শেখার জিনিস না। এটা দীর্ঘ সময়ে একটা অভ্যাস ও চর্চার ফলে তৈরি হবে। যখন ছাত্র ছিলেন তখন যদি বিভিন্ন কো-কারিকুলার প্রোগ্রমে অংশগ্রহন করেন, মানুষের সাথে ইন্ট্যারাক্ট করার অভ্যেস থাকে তাহলে জিনিসটা সহজে হবে। যারা ছাত্র আছেন তারা নিজেদের একটা মোবাইল আর একটা ঘরে আবদ্ধ না রেখে মানুষের সাথে ইন্ট্যারাক্ট করার অভ্যেস করুন।

ভয় এবং হতাশা এই দুটি জিনস থেকে বের হয়ে কিছু প্রস্তুতিমূলক পরামর্শ দিলাম যা না করার ফলে আপনি জব ইন্টারভিউতে ভাল করতে পারছেন না। এগুলো করলে নিশ্চিত আপনি আগের থেকে ভাল পারফর্ম করবেনঃ

১. যে প্রতিষ্ঠানে ইন্টারভিউ দিতে যাচ্ছেন তাদের সম্পর্কে একটু রিসার্চ করেন, তাদের খোজ খবর ইন্টারনেটে নিন, ওয়েবসাইট বা ফেসবুক/লিংকডইন পেজ ঘাটাঘাটি করুন। তাহলে ইন্টারভিউ দেয়ার সময় মনে হবে প্রতিষ্ঠানটি আপনার কাছে পরিচিত। দয়া করে চাকুরীর সার্কুলারে দেয়া জব ডেসক্রিপশন বা কি কি দায়ীত্ব পালন করতে হবে সেটা পড়ুন, বুঝুন যে সেই সংক্রন্ত কাজ নিয়ে প্রশ্ন করলে কিভাবে উত্তর দেবেন।

২. যুদ্ধের প্রস্তুতির নেয়ার সময় যেমন সৈনিক তার পোশাক অস্ত্র এসব সাজিয়ে নেয় আগেই। তেমনি আপনাকে কি পরিধান করে যাবেন, সিভি, একটা পেন, অন্যান্য পেপারস, এসব সাজিয়ে নিন। ধরুন আপনি বিরাট একটা ব্যাগ নিয়ে ঢুকে গেলেন বা লাল রঙের একটা ফাইল বা ২ টাকা দামের একটা স্বচ্ছ ফাইলে সিভি নিলেন এর কোনটি আপনার ইমপ্রেশন ভাল করবে না। আপনার বেষ্ট পোষাকটি পড়ুন (ফরমাল), গায়ে ঘামের গন্ধ আছে কি না খেয়াল রাখুন, অপ্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে না যাওয়ার চেষ্টা করুন। চুল দাড়ি, নিজের লুক ঠিক করে যাবেন, প্রয়োজনে ফেসিয়ালে করে যাবেন। হ্যা সত্যি, সবার মাঝে যদি নিজেকে পরিপাটি দেখাতে পারেন হতে পারে সেটাই আপনার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেবে।

৩. হাসিমুখ, আইকন্ট্যাক্ট ঠিক রাখুন। ধরুন মারাত্নক জ্যাম ঠেলে, বাসে হেল্পারের সাথে মারামারি করে ইন্টারভিউ দিতে এসেছেন ১০ টায়, দুপুর হয়ে গেছে এরপরও কোম্পানীর বস আসে না, এরকম অবিবেচক লোকের খপ্পরে পড়লেন, মেজাজ বিগড়ে আছে, সেটা বোর্ডে যেন প্রকাশ না পায়। আপনাকে দেখে যেন মনে হয় বেশ খোশ মেজাজে আছেন। নিচের দিকে তাকিয়ে কথা বলা বা অন্য দিকে তাকালে কাজ হবে না। ইন্টারভিউয়ারের সাথে আইকন্ট্যাক্ট রাখুন। ইমোশন বোঝার চেষ্টা করতে হবে।

৪. ইন্টারভিউ বোর্ডে যারা আছে তাদের ১-২টা প্রশ্নে তাদের বোঝার চেষ্টা করুন। তাদের মোড কি কি চাচ্ছে সেসব। সম্ভব হলে কোম্পানীর যারা ইন্টারভিউ নেবে তাদের সম্পর্কে খোজ খবর নিয়ে যান, তাহলে তাদের মত প্রশ্নের উত্তর দেয়ার চেষ্টা করলে সম্ভাবনা ৮০% বেড়ে যাবে যা পরিক্ষীত।

৫. কৃত্তিমতা লুকাতে হবে, হ্যা অনেকসময় চাকুরী পাবার জন্য আপনার নিজের পছন্দ না হলেও একটা জবে আবেদন করেছেন। জিজ্ঞেস করেছে এই জবে কেন? তখন বানিয়ে কমন উত্তর দিচ্ছেন যা বস যারা তারা বোঝেন যে আপনি গরু রচনা পাঠ করছেন। এক্ষেত্রে নিজের মত উত্তর দিন, আপনি যে কৃত্তিম উত্তর দিচ্ছেন সেটা পরিহার করুন। না পারলে এমন কৌশলে বলুন যাতে নকল মনে না হয়।

৬. সালাম/অভিবাদন প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় প্রাকটিস করুন। সবসময় পজেটিভ এটিইচুুউড দেখানোর চেষ্টা করবেন, জবটি আপনি সত্যিই করতে আগ্রহী, আপনাকে নিলে প্রতিষ্ঠান লাভবান হবে সেটা বোঝানোর চেষ্টা করবেন।

৭. অতিরিক্ত জ্ঞান জাহির করতে গেলে ধরা খাওয়ার চান্স থাকে, সেক্ষেত্র সংক্ষিপ্ত কিন্তু বেষ্ট উত্তর দেয়ার চেষ্টা করতে হবে।

৮. ইন্টারভিউ শেষে জব হোক বা না হোক ধন্যবাদ দেবেন যে আমাকে ডাকার জন্য ধন্যবাদ স্যার। প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে দুয়েকটা ভাল কথা বলে বিদায় নিন। আরো ভাল যদি যে মেইল করে একটা ধন্যবাদ দিলেন। এতে আপনার এবার না হলে পরে চান্স তৈরি হবে।

৯. মিথ্যা তথ্য ও অসততার আশ্রয় নেয়া থেকে দূরে থাকুন, কারো রেফারেন্স আছে সেসব ইন্টারভিউ বোর্ডে না বলে নিজের যোগ্যতায় জব পাওয়ার চেষ্টা করুন। ধরুন আপনি কারো রেফারেন্স থাকার জন্য ইন্টারভিউতে কল পেয়েছেন, কিন্তু ইন্টারভিউতে চেষ্টা করুন নিজেকে প্রমান করতে।

১০. নিজেকে প্রতিদিন একটু করে ডেভলপ করুন, বার বার একই রকম হলে বুঝতে হবে আপনার ঘাটতি আছে। শুধু কারেন্ট এ্যাফেয়ার্স পড়ে ইন্টারভিউ বোর্ডে ভাল করা যায় না। জ্ঞানের সাথে সাথে পার্সোনাল স্কিলস জরুরী। বই পড়ুন, পত্রিকা পড়ুন, বিভিন্ন আর্টিকেল পড়ুন, কোথাও সুযোগ পেলে আলোচনায় অংশ নিন। Keep upgrading yourself.

আপাতত এই ১০টি জিনিস মাথায় রাখলে আশা করি ভাল পারফর্ম করতে পারবেন।

Source: linkedin by MD Badiuzzaman

কত জিপিএ/সিজিপিএ (GPA/CGPA) তে কোন বিভাগ/ক্লাস ধরা হয় এবং কোন নিয়োগ পরীক্ষায় কেমন রেজাল্ট প্রয়োজন হয়

GPA or CGPA Point
সকল চাকরীপ্রার্থী বা ছাত্র যারা এখনো নিজেদের রেজাল্ট প্রসেসিং এ ব্যস্ত আপনারা
অনেকেই জানতে চান যে কত GPA/CGPA তে কোন বিভাগ/ক্লাস ধরা হয় এবং কোন নিয়োগ পরীক্ষায় কেমন রেজাল্ট প্রয়োজন হয়। তাহলে আপনার জন্যই এই আর্টিকেল
-----------------
এসএসসি, এইচএসসি ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের জিপিএ/সিজিপিএ অনুযায়ী শ্রেণী/ক্লাস (চিত্রে দ্রষ্টব্যঃ সকল সরকারি প্রতিষ্ঠান এই নীতিমালা অনুসরণ করে থাকেন। রেফারেন্সঃ বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার)
----------------

বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষায় প্রযোজ্য জিপিএ/সিজিপিএ/শ্রেনিঃ

১) বিসিএসঃ চার বছর মেয়াদী যেকোন ডিগ্রি (যে কোন বিষয়ে)। একাধিক তৃতীয় শ্রেণী থাকলে হবে না।

২) সরকারী ব্যাংক (সিনিয়র অফিসার/অফিসার): চার বছর মেয়াদী ডিগ্রি (যে কোন বিষয়ে)। তিনটি পরীক্ষা(এসএসসি, এইচএসসি, অনার্স) এর মধ্যে কমপক্ষে দুটি প্রথম শ্রেণী থাকতে হবে। কোন তৃতীয় শ্রেণী গ্রহণযোগ্য নয়।

৩) সরকারী অন্যান্য চাকরি (ফার্স্ট ক্লাস জব): কমপক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণীর স্নাতক ডিগ্রি(যে কোন বিষয়ে)।

৪) বেসরকারি ব্যাংকঃ ব্যাংক ভেদে এসএসসি ও এইচএসসিতে ৪ বা ৫ (জিপিএ ৫ এর মধ্যে) স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ৩ বা ৩.২৫ বা ৩.৫ (সিজিপিএ ৪ এর মধ্যে)। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্নাতক এর বিষয় নির্দিষ্ট করে দেয়া থাকে। এবং আবেদন থেকে শর্ট লিস্টেড করার সময় র‍্যাংকড বিশ্ববিদ্যালয় এবং সেরা রেজাল্টগুলো কে প্রাধিকার দেয়া হয়।

৫) অন্যান্য বেসরকারি চাকরীঃ এর বাইরে অন্যান্য বেসরকারী চাকুরিতে অফিসার/সিনিয়র অফিসার গ্রেড এর নিয়োগে রেফারেন্স, অভিজ্ঞতা, স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উচ্চ সিজিপিএ প্রভৃতিকে মূখ্য বিবেচনায় রাখলেও প্রতিষ্ঠান ভেদে প্রার্থীর যোগ্যতার মানদন্ড ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।


* Source: Bangladesh Bank Recruitment 

স্মার্ট হতে চান ? জেনে নিন স্মার্ট হওয়ার জন্য ১০টি সহজ উপায়

স্মার্টনেস কি?  

স্মার্টনেস হল বুদ্ধিমত্তা এবং শরীরি ভাষার সমন্বয়ে অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার ক্ষমতা । স্মার্ট মানুষ যেকোন পরিস্থিতিতে খুব সহজেই অন্য মানুষদের মাঝে নিজের কথা বা আইডিয়াকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারে । মুখের ভাষায় বললে আমরা যাকে বলি, পটিয়ে ফেলা বা কনভেন্সড করার ক্ষমতা ।

স্মার্ট মানুষদের মধ্যে সব থেকে বড় গুণ হচ্ছে, যেকোন বিষয় সম্পর্কে তাদের সাধারণ ধারণা থাকে, যা অন্যদের চোখে তাকে তুখোড় বুদ্ধিমান বলে মনে করায় । 

এবার আসি স্মার্টনেস কেন প্রয়োজন?
আপনি প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠার পর থেকে শুরু করে রাতে পুনরায় বিছানায় যাওয়ার আগে পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টা সময়ের সার্কেলে কত শত মানুষের সাথে উঠাবসা করছেন, একবার ভেবে দেখেছেন? আপনাকে প্রতিদিন প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে শত শত মানুষের সাথে চলতে হচ্ছে, বিনিময় করতে হচ্ছে, কাজ করতে হচ্ছে । ফলে স্বাভাবিকভাবেই কাজের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে মানুষকে সামলানোর জন্য দক্ষতার প্রয়োজন হয়ে পড়ে । আপনি যত বেশি মানুষকে কনভেন্স করতে পারবেন, ততই কাজের গতি আপনার স্মুথ হবে । আপনি সহজেই সাফল্যের দেখা পাবেন ।


‘গায়ের জোরে নয়, কাজ করুন বুদ্ধি দিয়ে’
আগেই বলেছি, স্মার্টনেস হল বুদ্ধিমত্তা ও প্রকাশভঙ্গী দুইয়ের সমন্বয় । এই পর্বে আমরা বলবো বুদ্ধিমত্তা নিয়ে । আগামী পর্বে থাকবে, কীভাবে অন্যের চোখে আপনাকে সুদর্শন হিসেবে উপস্থাপন করবেন করবেন । 


জীবনের প্রকৃত অর্থ হচ্ছে কোন কিছু শেখা । আমরা সবাই জানতে চাই, জ্ঞানী হতে চাই । স্মার্ট হওয়াটা খুব সহজ ব্যাপার নয় যে, আপনি চাইলেন আর সাথে সাথে হয়ে গেলেন । আসলে স্মার্টনেস অর্জন করাটা বলতে গেলে একটু কঠিনই । আপনিও স্মার্ট হতে পারেন যদি এর জন্য অনেক বেশি চেষ্টা থাকে আপনার । এখানে এমন ১০ টি শেখার অভ্যাসের কথা বলবো যেগুলো খুব দ্রুত আপনাকে স্মার্ট করে তুলবে ।
ক্যারিয়ার জন্য যে কাজগুলো গ্রাজুয়েশনের আগেই করা দরকার জেনে নিন

১. কোন কিছু জানতে উৎসাহী থাকুন

সব সময় উৎসুক থাকুন । একজন উৎসাহী মানুষ যেকোন কিছু খুব সহজেই শিখে ফেলতে পারে । এমন একটি দারুণ গুনকে নিজের ভেতর ধারন করার চেষ্টা করুন । আপনি যখনই এই চর্চাটা শুরু করে দেবেন, কিছুদিন বাদে নিজেই টের পাবেন যে, আপনার মস্তিষ্ক আগের চেয়েও দারুণ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, আর আপনি প্রতিদিনই নিজেকে অনেক বেশি স্মার্ট করে তুলছেন ।

২. নতুন কিছু শিখতে সব সময় প্রস্তুত থাকুন

শেখার ক্ষেত্রে কোথাও না শব্দটি বলবেন না । আপনি নিজেও জানেন না আজকে যেটা শিখছেন সেটা কখন কীভাবে কোন পরিস্থিতিতে আপনার জীবনের খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি সময়ে এসে কাজে লেগে যাচ্ছে । তাই বলছি, সবসময় নতুন কিছু শেখার জন্য প্রস্তুত থাকুন আর সুযোগ পেলেই শিখে ফেলুন । এর ফলাফল হয়ত আপনি সাথে সাথেই পেয়ে যেতে পারেন অথবা ভবিষ্যতে যে কোন পর্যায়ে এটা আপনাকে অনেক বেশি সাহায্য করবে ।

৩. প্রতিদিন সংবাদপত্র পড়ুন

সারা পৃথিবীর কোথায় কি ঘটছে তার সম্পর্কে প্রচুর তথ্য জানতে পারবেন নিয়মিত সংবাদপত্র পড়ার অভ্যাস তৈরি করার মাধ্যমে । যা আপনাকে তথ্যগত দিক থেকে অন্যদের চেয়ে এগিয়ে রাখবে । আপনি যখন এতকিছু নিয়ে জানবেন, তখন আপনি অকল্পনিয়ভাবেই নিজে নিজে স্মার্ট হয়ে উঠছেন ।


৪. ভাল ভাল বই পড়ুন

বই পড়া আপনার সৃজনশীলতাকে প্রখর করে তুলবে, আর আপনার ভেতরের সংকীর্ণ চিন্তা ও সীমাবদ্ধতাকে দূর করে দেবে । তাই বেশি বেশি বই পড়ার অভ্যাস তৈরি করুন । চেষ্টা করুন ভাল ভাল বই টানা শেষ করে যেতে । এটা আপনাকে শুধু স্মার্টই করবে না, আপনার জীবনে নানা ভাবে অবদান রাখতে পারে, আপনার বই পড়ার অভ্যাস ।

৫. নতুন নতুন আইডিয়া বের করুন

একটি ব্যাপারে সবাই একমত যে, নতুন নতুন আইডিয়া যেসব মানুষ তৈরি করতে পারে তারা তুলনামুলকভাবে অন্যদের চেয়ে বেশি স্মার্ট হয় । স্মার্ট হতে হলে শেখার জন্য আপনার মনের দরজা সব সময় খোলা রাখতে হবে, চারপাশ থেকে গ্রহণ করুন, শিখুন- যেটা আপনাকে স্মার্ট করে তুলবে । 

৬. স্মার্ট লোকজনদের সাথে চলুন

স্মার্ট মানুষজনের সাথে মিশুন, আড্ডা দিন । তাদের কাছে অনেক কিছু শিখতে পারবেন আপনি । নতুন নতুন আইডিয়াসহ আপনি অনেক অজানা বিষয়ে জানতে ও শিখতে পারবেন তাদের কাছে । তাই স্মার্ট লোকজনদের সাথে এখন থেকেই খাতির জমানোর চেষ্টা শুরু করে দিন, যেটা আপনার স্মার্ট হওয়ার পক্ষে খুব কাজে দেবে । 

৭. মনকে উজ্জবিত রাখুন

আপনি যদি ধারাবাহিকভাবে নিজের মনকে উজ্জিবিত রেখে যেতে পারেন, তাহলে আপনার মন সক্রিয় থাকবে এবং আগের চেয়ে অনেক ভাল অবস্থায় কাজ করবে । মনকে সতেজ রাখুন, দেখুন কি দারুনভাবেই না আপনার কাজ এগিয়ে যাচ্ছে । আপনি নিজেই বুঝবেন কি ম্যাজিকের মতো দিনে দিনে অনেক বেশি স্মার্ট হয়ে উঠছেন আপনি । 

৮.আইডিয়াগুলোকে সব সময় লিখে রাখুন

আপনার মাথায় যে আইডিয়াই আসুক না কেন, সেটা তাৎক্ষণিকভাবে লিখে রাখুন । সব সময় সাথে একটি ছোট নোটবই রাখতে পারেন । তবে আজকাল স্মার্ট ফোনে দারুণ কিছু এপস আছে । গুগল প্লে স্টোর থেকে আপনার স্মার্ট ফোনে এমন একটি এপস ডাউনলোড করে নিতে পারেন । মাঝে মাঝে নোটে লিখে রাখা আইডিয়াগুলো পড়বেন । এর ফলে আপনি জানতে পারবেন কোথায় আপনার শক্তি আর কোথায় কোথায় দুর্বলতা । আপনার দুর্বলতা এবং শক্তির জায়গা বুঝে শুনে পরিকল্পনা করাটা আপনার জন্য অনেক সহজ হয়ে যাবে । 

সফল ক্যারিয়ার ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার টিপস

৯. যা জানেন তা অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

আপনি যা শিখেছেন, আপনি যেটা জানেন সেটা অন্যদের সাথে শেয়ার করুন । এর ফলে আপনি আপনার আইডিয়া সম্পর্কে তাদের মতামত, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে পারবেন । একই সাথে অন্যদের সাথে শেয়ার করার মাধ্যমে আপনার আইডিয়ার একেবারে স্বচ্ছ একটি ছবি আপনা আপনি তৈরি হয়ে যাবে আপনার মস্তিষ্কে । যেটা আপনার আইডিয়াকে আগের চেয়েও সুক্ষ ও পরিপূর্ণ করে তুলবে । তাই কখনো নিজের আইডিয়া অন্যদের সাথে শেয়ার করতে ভয় পাবেন না । 

১০. অনুপ্রেরণামূলক ভিডিও দেখুন

আমরা নিজেরাই অনেক সময় জানিনা কতটা প্রতিভা আমাদের মধ্যে লুকিয়ে আছে । নিজেকে আবিস্কার করাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ । জেনে রাখুন, আপনাকে দিয়ে সব কিছু খুব ভাল মতো করানো সম্ভব নয়, তবে আপনি এমন কিছু করতে পারেন যেটা সত্যি আপনি ছাড়া অন্য কেউ তেমনভাবে পারবে না । অর্থাৎ এই কাজটাই আপনার প্রকৃত শক্তির জায়গা । স্টিফেন হকিং যদি নিজেকে একজন কুস্তীগির হিসেবে তৈরি করতে চাইতো, সেটা বলা যায় একেবারেই একটা ব্যর্থ প্রচেষ্টা হত, আবার জন সিনা যদি বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং হওয়ার চেষ্টা করত, তাহলে আমরা তার মতো একজন বিশ্বসেরা রেসলারকে কখনোই পেতাম না । তাই কার ভেতরে কি লুকিয়ে আছে সেটা খুঁজে বের করাটাই সব থেকে কঠিন কাজ ।

আবার ধরা যাক, আপনি আপনার শক্তির জায়গাটা খুঁজে পেয়েছেন, দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ হবে টিকে থাকাটা । আপনি যে আসলেই এই কাজটি ভাল পারেন, কাজটি যে আপনাকে অন্যদের চেয়ে সেরা বানাবে এই বিশ্বাসটা তৈরি করা ।

নিজেকে আবিস্কার করাটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ । আপনি কোন কাজটা ভালো পারেন, একই সাথে সেই কাজটা করতে আনন্দ পান এমন কাজটি খুঁজে বের করুন ।
দুঃখজনক হলেও সত্যি আমাদের চারপাশের বেশিরভাগ মানুষ আপনাকে আপনার বিশ্বাস থেকে একটু একটু করে দূরে সরিয়ে নিতে চাইবে । আপনাকে নিরুৎসাহিত করবে ।


তবে পাশাপাশি এমন কিছু মানুষ আছে- যার ছোট একটু অনুপ্রেরণার কথা আপনাকে দিতে পারে নতুন এক আত্মবিশ্বাস । আপনি একটু খেয়াল করলেই দেখতে পাবেন আপনার জীবনে ছোট বড় যা কিছু অর্জন আছে তার পেছনে ছায়ার মতো করে আড়ালে লুকিয়ে আছে কিছু মানুষের অনুপ্রেরণা ।

যদি একান্তই ভাবেন আপনার পাশে এমন কোন মানুষ নেই, যে আপনাকে উৎসাহ দিতে পারে, যে আপনাকে বুঝতে পারে, তাহলে আপনার জন্য সবচেয়ে বড় মাধ্যম হতে পারে- অনুপ্রেরণামূলক ভিডিও দেখা । আজকাল অনলাইনে প্রচুর ভিডিও আছে যেখান থেকে আপনি নিজেকে নতুন ভাবে, নতুন দৃষ্টিকোণে দেখার সুযোগ পাবেন । এই ধরণের ভিডিওর জন্য সেরা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে “TED talks”. “Smarter Every Day” হচ্ছে আরও একটি চমৎকার ওয়েবসাইট । এসব ওয়েবসাইটে এমন পরীক্ষিতভাবে ভিডিওগুলো তৈরি করা হয়, যেন সারাজীবন বিষয়গুলো আপনার মাথায় থাকে ।

ধন্যবাদ এতক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য । আপনার আশে পাশে যদি এমন কোন মানুষ থাকে যার এই লেখাটি পড়া উচিত বলে মনে করেন , তার সাথে অবশ্যইলেখাটি শেয়ার করবেন । ভালো থাকুন ।

সফলতা কেবল আপনার জন্যই ।  

CV এর কিছু ভূল, যে কারণে সিভি খুলেও দেখা হবে না!

যে কারণ গুলোর জন্য আপনার সিভি খুলেও দেখা হবে না! এ বিষয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এই কথা গুলো সবারই জানা উচিত।

সিভি বা জীবনবৃত্তান্ত যে শুধু চাকরির ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ তা নয়, বর্তমান সময়ে দেখা যায় বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা, শিক্ষাবৃত্তি কিংবা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রেও সিভি বা জীবনবৃত্তান্ত চাওয়া হয়ে থাকে। আমরা সকলেই কম বেশি সিভি বা জীবনবৃত্তান্ত তৈরীর কৌশল সম্পর্কে জানলেও আমাদের ছোট ছোট কিছু ভুলের কারণে আমাদের সিভি বা জীবনবৃত্তান্তটি খুলে নাও দেখা হতে পারে। যে কারণে আপনার সিভি খুলেও দেখা হবে না সেগুলো হল:


সঠিক Email ঠিকানা ব্যবহার না করা
আমরা অনেক সময় 

pandalover@gmail.com বা iamthegreat@yahoo.com এই ধরণের ই-মেইল ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু এই ধরণের ই-মেইল ব্যবহার করা একদম উচিত নয়। সব সময় নিজের নামের সাথে মিলিয়ে সংক্ষিপ্ত ই-মেইল ঠিকানা খোলার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে শুধুমাত্র চাকরি বা প্রফেশনাল কাজের জন্য আলাদা ই-মেইল ঠিকানা ব্যবহার করতে পারেন।


Email করার সময় সঠিক সাবজেক্ট বা বিষয় লিখা

যে প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করবেন, সে প্রতিষ্ঠান কী ধরণের ফরমেট অনুসরণ করে আপনার সিভি পাঠাতে বলেছে সেটি ভালোভাবে অনুসরণ করুন। সাবজেক্ট বা বিষয়ে “CV” বা “My CV” এই কথাগুলো লিখবেন না। আপনি যে প্রতিষ্ঠানে আবেদন করবেন তাদের কাছে এমন নামে শত শত সিভি জমা পড়ে।

অনেকক্ষেত্রে দেখা যায় একই প্রতিষ্ঠান, আলাদা আলাদা পদের জন্য একই সময়ে বিজ্ঞপ্তি বা সার্কুলার প্রকাশ করেছে সেই ক্ষেত্রে আপনার ব্যবহার করা “CV” বা “My CV” থেকে আপনি কোন পদের জন্য আবেদন করেছেন সেটা বাছাই করা কঠিন হয়ে পড়ে। সবসময় চেষ্টা করুন Name_CGPA_Position এই ধরণের ফরমেট ব্যবহার করার।

Email এর Subject বা  বিষয়ে Spelling Mistake বা Grammatical Mistake

এই ধরণের ভুল থাকলে আপনার সম্পর্কে প্রথমেই রিক্রুটারের একটি নেতিবাচক ধারণা হয়ে যাবে। চেষ্টা করুন এই ধরণের ভুলগুলো এড়িয়ে চলার। কোন বানান বা গ্রামার নিয়ে কনফিউশন থাকলে নিশ্চিত হয়ে তারপর ব্যবহার করুন।

CV বা আপনার জীবনবৃত্তান্ত সঠিক নামে সেভ করুন

আপনার সিভি বা জীবনবৃত্তান্তর ফাইলটিকে সঠিক নামে সেভ করুন। “CV”, “My CV”, “Curriculum Vitae” এই ধরণের নাম ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ, এই ধরণের নাম ব্যবহার করলে শত শত সিভির মধ্যে আসলে আপনার সিভি কোনটা এটা বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। এই ক্ষেত্রেও Name_CGPA_Position এই ধরনের ফরমেট ব্যবহার করতে পারেন।


 সিভি এবং ছবি আলাদাভাবে পাঠানো

সিভি এবং আপনার ছবি সবসময় একসাথে পাঠাবেন। রিক্রুটারের এত সময় নেই যে তিনি শত শত সিভির মধ্যে আপনার সিভির জন্য আলাদাভাবে আবার ছবি খুঁজে বের করবেন।


CV সঠিক ফরমেটে না পাঠানো

অনেকে সিভি ইমেজ/ মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ফরমেটে পাঠান। কিন্তু অনেকগুলো ইমেজ একসাথে জোড়া দিয়ে, সিরিয়াল করে সাজিয়ে আপনার সিভি দেখার মত সময় আসলে রিক্রুটারের থাকে না। আবার আপনি যদি মাইক্রোসফট ওয়ার্ডে সিভি পাঠান তাহলে দেখা যায় আপনি হয়ত এমন কোন ফন্ট ব্যবহার করেছেন যা ওই প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটারে সাপোর্ট করে না/ অনুপস্থিত। এতে আপনার সিভিটা খুললে রিক্রুটার কিছু সাংকেতিক চিহ্ন ছাড়া কিছুই দেখবেন না।

মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ফাইলে সিভি প্রিন্ট করার সময় Enable Editing করতে হয়। অনেক সময় আপনার সিভিটা পর্যবেক্ষণ করার সময় কী-বোর্ডে চাপ লেগে বানান বা গুরুত্বপূর্ণ কিছু, যেমনঃ আপনার ফলাফল/CGPA পরিবর্তন হয়ে যেতে পারে। এই ধরনের সমস্যার সহজ সমাধান হল আপনার সিভিটা PDF করে ই-মেইল করুন। বর্তমানে অনেকেই নিজের ড্রাইভ থেকে সিভি শেয়ার করে থাকেন। বিষয়টা খুবই স্মার্ট। তবে সবচেয়ে ভালো হচ্ছে PDF করে সিভি ইমেইল করা।


বাংলা ভাষায় Email এর বিষয় বা সাবজেক্ট লিখা

বিষয়টা দোষের কিছু না। কিন্ত গুগল বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান যারা এই ধরণের সেবা দিয়ে থাকে তারা এই ধরণের বিষয়গুলোকে ভালোভাবে নেয়না। যার ফলাফল হিসেবে এই ধরনের ই-মেইল গুলোকে Spam বা Junk ই-মেইল হিসেবে চিহ্নিত করে। তাই ই-মেইলের বিষয় সবসময় ইংরেজিতে লিখায় ভালো।


“আগে দর্শনধারী পরে গুণবিচারী”

প্রবাদটার মূল কথা হল আগে বিচার করা হয় কোন জিনিস দেখতে কেমন তারপর বিচার করা হয় সেটার কী কী গুণ আছে। আপনার সিভির ক্ষেত্রেও একই প্রবাদ প্রযোজ্য। সিভি যতটা সাধারণের মধ্যে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যায় সেটি চেষ্টা করুন। অতিরঞ্জিত করবেন না।

এমন কোন ফন্ট বা ফন্টের সাইজ ব্যবহার করবেন না যার ফলে লিখাগুলো স্পষ্টভাবে বোঝা না যায়। তথ্যগুলো এলোমেলোভাবে না দিয়ে সাজিয়ে দেওয়ার বা ক্রমানুসারে দেওয়ার চেষ্টা করুন। যেমন: সর্বশেষ যে ডিগ্রী অর্জন করেছেন সেটি প্রথমে লিখুন এভাবে ক্রমান্বয়ে পূর্বের ডিগ্রী বা শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে লিখবেন।


CV পাঠানোর সময় ই-মেইলের বডিতে কোন কিছু না লিখা

আমরা অনেকেই সিভি পাঠানোর সময় ই-মেইলের বডি ফাঁকা রেখে দিই। কিন্তু কাজটি করা একদম ঠিক নয়। আপনি যেই ব্যক্তিকে আপনার সিভি পাঠাচ্ছেন সেই ব্যক্তি অবশ্যই কোন প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, তাকে সম্বোধন করে কিছু লিখুন। তাকে ফরমাল ভাষায় আপনার কভার লেটার এবং সিভি পড়ার জন্য অনুরোধ করুন।

সিভির সাথে কভার লেটার সংযুক্ত না করা

অনেকে আবেদনের বিপরীতে শুধু সিভি পাঠিয়ে দেন, কভার লেটার পাঠান না। কিন্তু কভার লেটার না চাইলেও আপনার উচিত কভার লেটার আপনার সিভির সাথে সংযুক্ত করা। কভার লেটারে উল্লেখ করুন উক্ত চাকরির জন্য আপনি কেন যোগ্য, আপনি যদি ফ্রেশার হন তাহলে উল্লেখ করুন চাকরিটির ব্যাপারে আপনার আগ্রহ কতটা, আপনার স্কিল আর জ্ঞান কিভাবে এই চাকরিতে আপনাকে সাহায্য করবে ইত্যাদি।

কভার লেটার আর সিভি একসাথে পাঠাবেন, অবশ্যই PDF ফরমেটে। অনেকে ই-মেইলের বডিতে কভার লেটার লিখে দেন এটা করা উচিত না। আলাদাভাবে কভার লেটার তৈরী করে সিভি এবং কভার লেটার একসাথে পাঠান।

ভুলগুলো বড় কোন ভুল নয়, খুবই ছোট ছোট আর সূক্ষ্ম ভুল। একটু মনোযোগ আর সচেতনতার সাথে সময় নিয়ে কাজগুলো করলে এই ধরণের ভুলগুলো খুব সহজেই এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। নতুবা দেখা যাবে এই ছোট ভুলগুলোই আপনার স্বপ্নের ক্যারিয়ার শুরুর পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে হয়ে দাড়িয়েছে।

তাহলে আর দেরি না করে এখনি শুধরে ফেলুন আপনার সিভির ভুলগুলো আর পাঠিয়ে দিন। লেখাটি পড়ার জন্য সকলকে ধন্যবাদ। 

Source: Internet 

ব্যবসায় ভালো করতে প্রয়োজনীয় কিছু কথা

ব্যাবসায় ভালো ভাবে করতে হলে কিছু বিষয় জানা খুব জরুরি।  চাকরি থেকে ব্যবসা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বিষয়। আপাতদৃষ্টিতে চাকরি থেকে ব্যবসাকে স্বাধীন ও আরামদায়ক পেশা বলেই মনে হয়। কিন্তু ব্যবসা সবার জন্য নয়। ব্যবসায়ীদের জীবনযাপন কয়েকটি কারণে চাকরিজীবীদের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। ব্যবসা শুরু করার আগে এ বিষয়গুলো সবারই জেনে নেয়া উচিত।

তাই পাঠকদের জন্য এবার ১০টি উপায় উপস্থাপন করছে অর্থসূচক। যেগুলো ব্যবহারে আপনি ব্যবসায় সফলতা পাবেন।

আই কনট্যাক্ট:

চোখের ভাষা
উদ্যোক্তা হিসেবে আপনি যখন কোনো কোম্পানির কাজে মিটিংয়ে যাচ্ছেন তখন আপনাকে মুখের ভাষার পাশাপাশি শারীরিক অঙ্গভঙ্গি প্রকাশ করতে হবে। যা আপনার বক্তব্য উপস্থাপনে বিশ্বাস ও সততা বাড়াবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে আপনি মঞ্চে ওঠে অভিনয় করবেন। বরং অতিরিক্ত পরিমাণ আই কনট্যাক্ট আবার আক্রমণাত্মক ভাব প্রকাশ করতে পারে। তাই যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই আই কনট্যাক্ট করতে হবে। কথা বলার সময় কারও প্রতি অপলক নয়নে তাকিয়ে থেকে কথা বলা উচিত নয়। সব ধরনের দর্শক ও শ্রোতাদের প্রতি নজর দিতে হবে। তাহলে এদিক থেকে আপনার সফলতা আসবেই।

 ধ্যান করা:

ব্যবসায়িক উন্নতির জন্য প্রচুর পরিমাণে নিজেকে ধ্যানে মগ্ন রাখুন। ব্যবসায়িক কাজে তড়িঘড়ি করে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার দরকার নেই। মেডিটেশন পদ্ধতি ব্যবহার করে একটি বিষয় বহু ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিন।

কুশল বিনিময়ের ক্ষেত্রে সচেতন থাকুন:

ব্যবসায়িক সফলতা পেতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন যে জিনিসটা দরকার তা হলো- অন্যান্য ব্যবসায়িক কর্মকর্তাদের কুশল বিনিময়ের ক্ষেত্রে সচেতন থাকুন। যাতে তাদের মধ্যে আপনার সম্পর্কে কোনো ধরনের নেতিবাচক ধারণা জন্ম না নেয়। এজন্য হ্যান্ডশেক হতে পারে অন্যতম মাধ্যম। তবে এক্ষেত্রে সচেতন থাকতে হবে। কারণ এর মাধ্যমেই অন্যর সাথে পরিচয়টা বাড়ানো যায়।

 কাজের ক্ষেত্র বৃদ্ধি করুন:

প্রতিষ্ঠানে আপনি যে স্থানে অবস্থান করছেন। কেউ যদি সেই স্থানে আপনার কাজে সাহায্য করার নাম করে আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে তবে আপনার অবস্থান হারাতে পারে। তাই এটিকে কখনই প্রশ্রয় দেবেন না। এটা না করে বরং তাদের সাহায্য নিয়ে আপনার কাজের ক্ষেত্র আপনিই প্রসার করুন। তাহলে দেখবেন সফলতা আসবে।

প্রতিষ্ঠানে কখনও অস্থির হবেন না:

অস্থিরতা কাজের প্রধান অন্তরায়। তাই কর্মরত অবস্থায় আপনার অস্থিরতা এড়িয়ে চলুন। এটা আপনার কাজের পরিবেশকে নষ্ট করতে পারে। এছাড়া কখনও টেবিলে আঙ্গুল বাজাবেন না, বসের সামনে মাথার চুল আচড়াবেন না, কোনো দুশ্চিতা করবেন না। সবসময় আত্মবিশ্বাসী থাকুন, তবেই দেখবেন সফলতা আপনার কাছে ধরা দেবে।

 অতিরিক্ত হাসি বন্ধ করুন:

কর্মরত অবস্থায় আপনি হাসতেই পারেন। তবে সেটা যেন অন্যর বিরক্তির কারণ হয়ে না দাড়ায়। তাই হাসার আগে সেখানে নিজের অবস্থানটা তৈরি করে নিন। যাতে কোন অবস্থাতেই আপনার ওপর কেউ অখুশি না হয়।

 সবকিছুই পরিচালনা করুন আত্মবিশ্বাসের সাথে:

যে কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাস একটি বড় জিনিস। যা আপনাকে কাজের শক্তি যোগায়। তাই সবকিছু পরিচালনার ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসী থাকুন। যাতে এটা ছাড়া অন্য কেউ আপনার সম্পর্কে দ্বিতীয় মন্তব্য না করতে পারেন। এমনকি যদি রাগান্বিত থাকেন তারপরেই নিজেকে স্বাভাবিক রাখূন। কখনও উত্তেজিত হবেন না।

নিজেকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করুন:

যখন আপনি কারো সাথে যোগাযোগ করছেন তখন তার কাছ থেকে বেশি দুরে থাকবেন না বা অতিরিক্ত কাছে আসারও দরকার নাই। বাচনিক যোগাযোগের সাথে তার সাথে অবাচনিক যোগাযোগও রক্ষা করে চলুন। দেখবেন ওই কাজে আপনার সফলতা আসবে।

 মুখের অভিব্যক্তি নিয়ন্ত্রণ করুন:

কোনো স্থানে যদি কিছু উপস্থাপন করেন তবে সাধারণত মানুষ আপনার মুখের দিকেই তাকিয়ে থাকে। তাই যদি যোগাযোগ করার সময় কোনো কারনে আপনার মুখের অভিব্যক্তি খারাপভাবে প্রকাশ করেন। তবে তার দর্শক ও শ্রোতার সাথে যোগাযোগের ওপর্ও বর্তায়। ফলে ফলপ্রসূ যোগাযোগ ব্যর্থ হতে পারে। তাই সর্বদা হাস্যউজ্জ্বল থাকুন। মুখের অভিব্যক্তিকে নিয়ন্ত্রন করুন।

যোগাযোগ করার সময় চোখ খোলা রাখুন

কারো সাথে যোগাযোগ করার সময় নিজের চোখ খোলা রাখুন। কারণ আপনার চোখের অভিব্যক্তি তার সাথে যোগাযোগকে ফলপ্রসূ করে। কখনই নিচু হয়ে বা নিচের দিকে তাকিয়ে কথা বলবেন না।

আত্ম-নিয়মানুবর্তিতা

কর্পোরেট জগতে দশকব্যাপী থাকার পরেও নিজ উদ্যোগে নিয়মানুবর্তিতার মধ্যে চলার প্রয়োজনীয়তা শেষ হয় না। বিশেষ করে নিজের ব্যবসা যখন নিজেই চালাবেন তখন এ বিষয়টির গুরুত্ব অপরিসীম। অন্যথায় আপনি নিজেই নিজের ব্যবসা নষ্ট করতে পারেন। আর আত্ম-নিয়মানুবর্তিতায় যদি চলতে পারেন তাহলে ব্যবসা সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

খরচ হবে লাগামছাড়া

ব্যবসা শুরু মানে শুধু লাভ করা নয়। এ জন্য আপনাকে নানা ট্যাক্স দিতে হবে। রয়েছে নানা নিয়মিত খরচের ধাক্কা। এ ছাড়াও থাকবে অনাকাক্সিক্ষত নানা খরচ। এসব খরচ সামলানোর জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়েই ব্যবসায় নামতে হবে। অন্যথায় আপনার উদ্যোগ মাঠে মারা যাবে।

খাটতে হবে ক্রীতদাসের মতো

নিজের ব্যবসা মানে তার সবকিছুই আপনাকে দেখতে হবে। সেখানে আপনার পরিশ্রম ছাড়া এগোনো একেবারেই অসম্ভব। আর তাই নিজের ব্যবসায় আপনার পরিশ্রমের কোনো সীমা থাকবে নাÑ কয়দিন, কয় ঘণ্টা পরিশ্রম করলেন, তার হিসাব করা এখানে বৃথা। একজন ক্রীতদাসের মতোই আপনাকে পরিশ্রম করতে হবে।

একাকী জীবন

শীর্ষপর্যায়ের ব্যক্তিদের আদতে একাকী জীবনযাপন করতে হয়। কলিগ, বন্ধু-বান্ধব ইত্যাদির স্বাদ এখানে পাওয়া যায় না। ব্যবসা সফল করার জন্য অনেকেই তাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করেন। আর তা করতে গিয়েই অধিকাংশ মেধা ও প্রচেষ্টা ব্যয় হয়ে যায়। ফলে অন্য কাজের ফুরসত পাওয়া যায় না বললেই চলে।

নিরাপত্তাজালের অভাব

চাকরির ক্ষেত্রে আপনার কিছুটা হলেও বেতনের একটা নিশ্চয়তা থাকে। কাজ করলে নিয়োগকর্তার কাছ থেকে আপনার একটা পারিশ্রমিক পাওনা হয়ে যায়। কিন্তু ব্যবসা ক্ষেত্রে এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। আপনি কাজ করলেও সে জন্য যে অর্থ পাবেন এমন কোনো কথা নেই বরং এর বিপরীতটাও হতে পারে।

ধারণার চেয়েও কঠিন

আপনার আগ্রহের বিষয় হতে পারে মার্কেটিং, অ্যাকাউন্টিং, ডিজাইনিং কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কোনো একটি বিষয়। সে বিষয়টি নিয়ে আপনি ব্যবসা করতে চান। কিন্তু ব্যবসার জন্য শুধু সে বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামালেই হবে না। এ জন্য আপনার আরো বহু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। কারণ আপনি এখানে সবকিছুর নিয়ন্ত্রক। প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ মানুষকে আপনার বেছে নিয়ে সঠিক কাজের জন্য তাদের নিয়োগ করতে হবে। এরপর তাদের থেকে কাজ আদায় করে নেয়াও আপনার দায়িত্ব হবে।

সবার সঙ্গে মানিয়ে চলতে হবে

ব্যবসার খাতিরে বহু অপ্রিয় বিষয়কেও আপনার হাসিমুখে মেনে নিতে হবে। আপনার ব্যবসা যখন ‘হাটি হাটি পা পা’ তখন আপনার চেষ্টা হবে যতভাবে সম্ভব গ্রাহক যোগাড় করা। আর এ জন্য আপনাকে যথাসম্ভব চেষ্টা করতে হবে। আর এ প্রচেষ্টার অন্যতম উপায় হতে পারে যথাসম্ভব পরিচিতি বাড়িয়ে চলা। এ জন্য আপনাকে ইচ্ছে না থাকলেও সবার সঙ্গে মানিয়ে চলতে হবে।

ধন্যবাদহীন চাকরি

কোনো চাকরির ক্ষেত্রে কঠিন একটি কাজ করলে আপনি ধন্যবাদ পেতে পারেন। কিন্তু ব্যবসার ক্ষেত্রে এমনটা হবে না। এখানে আপনাকে ধন্যবাদ দেয়ার জন্য কেউ এগিয়ে আসবে না।

কাজের বিকল্প নয়

কোনো একটি প্রতিষ্ঠানে অন্যের অধীনে নিয়োজিত থাকলে আপনার যেমন কাজ করতে হবে ব্যবসা ক্ষেত্রেও তার খুব একটা ব্যতিক্রম নয়। ব্যবসা মানে আপনি সারাক্ষণ কাজ না করে বসে থাকবেন, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। এটাও একটা কাজ।

ব্যর্থতা আসতে পারে

ব্যবসা ক্ষেত্রে আপনার প্রাণপণ চেষ্টা যে সাফল্য আনবে, শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে এমনটা বলা যায় না। ব্যবসা মানেই তাতে থাকতে পারে সাফল্য বা ব্যর্থতা। আর তাই ব্যবসায়ীরও সে অনুযায়ী প্রস্তুতি রাখতে হয়।
সূত্র ও ছবি: ইন্টারনেট – ক্যারিয়ার ডেস্ক

সফল ক্যারিয়ার ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার টিপস

সফল ক্যারিয়ার ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার টিপস।
আজকের পৃথিবী দূর্বার গতিতে এগিয়ে চলেছে। প্রতি দিন কোন না কোন নতুন শিল্পের আবির্ভাব হচ্ছে, আর এমন সব শিল্পের জায়গা দখল করে নিচ্ছে যেগুলোর আর প্রয়োজন নেই। একই ভাবে আমাদের কাজের গতি এবং জ্ঞানের পরিসীমাও একই গতিতে পরিবর্তিত হচ্ছে। আধুনিক প্রকর্ষের সাথে আমরা বিভিন্ন শিল্প ও ক্ষেত্রে অটোমেশনের প্রভাব দেখতে পাচ্ছি।

কখনও কি ভেবে দেখেছেন যে আমরা শিক্ষাজীবনে যে দক্ষতা গুলোর চর্চা করছি সেগুলো ভবিষ্যতের জন্যও কাজে আসতে পারে?

নিঃসন্দেহে ভবিষ্যত প্রজন্মের তরুণরা আমাদের মত একই ধরণের চাকরি বা কাজ করবে না, বরং তখন কাজের ধরণ আর দক্ষতার প্রয়োজন সম্পূর্ণ আলাদা হবে। ইতোমধ্যে আমরা নতুন প্রজন্মের জন্য উপযুক্ত চাকরির যোগান দিতে হিমসিম খাচ্ছি। এখনকার তরুণ প্রজন্ম ভালো কাজ খুঁজে পেতে সমস্যা অনুভব করছে এবং ভবিষ্যত ক্যারিয়ার সম্পর্কে পরামর্শ পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে রয়েছে।

একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আপনি খুব শীঘ্রই বুঝতে পারবেন যে আমাদের স্কুল-কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত জ্ঞান বাস্তব জীবনের জন্য এখন আর ততটা কাজে আসছে না। গ্র্যাজুয়েশন শেষ হতে হতে আমাদের সার্টিফিকেট গুলো অবান্তর এবং অচল হয়ে পড়ে। চাকরিদাতারা আজকাল এমন ধরণের দক্ষতার খোঁজ করছেন যেগুলো নতুন চাকরি সন্ধানীদের মধ্যে তেমনটা পাওয়া যায় না। অনেক গ্র্যাজুয়েটদেরই উচ্চাকাঙ্খা ও অভিলাষ থাকে, অথচ আজকের প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজারে চাকরিদাতাদের মনে ছাপ ফেলতে পারে না। আমাদের আজকের প্রতিবেদনে আমরা ভবিষ্যত ক্যারিয়ার গড়ার জন্য সহায়ক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকরী দক্ষতা, ক্যারিয়ার টিপস এবং আত্ম উন্নয়ন সংক্রান্ত টিপস নিয়ে আলোচনা করবো, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য।

ব্যবসায় সফল ক্যারিয়ার ও উজ্জ্বল ভবিষ্যত গড়তে শিক্ষার্থীদের জন্য ক্যারিয়ার টিপস

১. যোগাযোগের দক্ষতা

যোগাযোগের প্রয়োজন আজ যতটা গুরুত্বপূর্ণ, অতীতেও ঠিক ততটাই ছিলো এবং ভবিষ্যতে আরো বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠবে। লিখিত ও মৌখিক পদ্ধতিই যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম নয়, কিন্তু সেই সাথে অনলাইন যোগাযোগও এখন অনেক বড়ো একটি মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। ইমেইল, ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং, সোশ্যাল মিডিয়া ইত্যাদি বিভিন্ন রূপে অনলাইন যোগাযোগ সম্পন্ন করা যায়। কর্মক্ষেত্রে নিরবচ্ছিন্ন ভাবে অনলাইনে ও বাস্তব জগতে তাৎক্ষনিক যোগাযোগ স্থাপন করতে পারাটা একটি গুরুত্বপূর্ণ গুন। যোগাযোগের দক্ষতা একজন ব্যক্তির পারফর্মেন্স, আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং তার আশে পাশের থাকা অন্যদেরও অনুপ্রেরণা যোগায়।

নিয়োগকারীরা কেন এই গুন খোঁজ করেন:

চাকরিদাতারা এমন ব্যক্তির খোঁজ করেন যারা মুক্ত ও খোলামেলা ভাবে সহকর্মীদের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন, সিনিয়র হোক কিংবা জুনিয়র সবার সাথে আত্মবিশ্বাসের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারেন। এই যুগে এসে ক্লায়েন্টকে কোনরকম বুঝিয়ে আপনার পণ্য বিক্রি করতে পারলেই কাজ শেষ হয়ে যায় না, বরং ক্লায়েন্টের সাথে স্পষ্ট এবং যথাযথ যোগাযোগ রক্ষা করা, তাদেরকে পণ্য সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা দেয়া এসব করা বাঞ্ছনীয়। কর্মক্ষেত্রে অনলাইন কিংবা বাস্তব যেকোন পরিবেশ পরিস্থিতিতেই সকলের সাথে মেলামেশা করার মত মন-মানসিকতা এবং নিঃসংকোচ যোগাযোগের দক্ষতা বজায় রাখাটা যেকোন ধরণের চাকরির ক্ষেত্রেই অত্যন্ত জরুরি।

কিভাবে আপনার যোগাযোগের দক্ষতা বাড়াবেন:

★যখনই সুযোগ পাবেন মানুষের সাথে কথোপকথন করবেন এবং যোগাযোগ রাখবেন।
★বেশি বেশি প্রেজেন্টেশন এবং অন্যান্য ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ামূলক কাজে অংশ নিন।
★সাধারন মানুষের সাথে কথা বলার পেছনে সময় ব্যয় করুন; বিশেষ করে অপরিচিতদের সাথে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

২. দলের সাথে কাজ করা

একটা জিনিস যা আমাদের সকলের বোঝা উচিত এবং তরুণ প্রজন্মের সবাইকেও বোঝানো উচিত তা হলো দলবদ্ধভাবে কাজ করার গুরুত্ব। বয়স যতই হোক না কেন, শিশুর মত কম বয়সী, কিংবা একজন শিক্ষার্থী বা কর্মী হিসেবে বয়স যত কম বা বেশি হোক, সবার জন্যই দলবদ্ধভাবে কাজ করার শিক্ষা নেয়া এবং চর্চা করা আবশ্যক। যখনই আমরা এক সাথে সবাই মিলে একটি বিশেষ উদ্দেশ্যে সফল হওয়ার জন্য কাজ করি, তখন কাজটি অনেক বেশি সহজ হয়ে যায় এবং এতে সফল হওয়া বা ভালো ফলাফল পাওয়ার সম্ভাবনাও বহু গুণে বেড়ে যায়। এর মানে এই না যে আমরা একা কখনও কাজ করতে পারবো না; প্রয়োজন হলে আমরা অবশ্যই নিজেদের জন্য আলাদা সময় বের করে নিতে পারি ও নিজের জন্য কিছু করতে পারি, কিন্তু সবকিছুর মধ্যে দলকেই সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিতে হবে।

নিয়োগকারীরা কেন এই গুন খোঁজ করেন:

উত্তরটা খুবই সহজ…একটি কোম্পানি কখনওই শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির উপর নির্ভর করে চলে না, হয়ত কোম্পানির সকলকে নেতৃত্ব দিতে পারেন একজন কিন্তু এর সাফল্য এবং কার্যকারিতা নির্ভর করে এতে কর্মরত বহু মানুষের কঠোর পরিশ্রম এবং তাদের অর্জিত ফলাফলের ওপর। নিয়োগকারীরা তাদের কর্মচারীদের মধ্যে উন্নত কর্ম রসায়ন ও বোঝাপড়া তৈরি করার উদ্দেশ্যে দলে নতুন দলমুখী লোকদের নিয়োগ করতে চান। কেননা পারস্পরিক সহযোগিতা কাজের মান আরো উন্নত করে তোলে।

কিভাবে আরো দলমুখী হয়ে ওঠা যায়:

★একটি সর্বজনীন লক্ষ্য অর্জনের জন্য অন্যদের সাহায্য করুন।
★দলবদ্ধ খেলা কিংবা ইভেন্টে যোগ দিন।
★ছুটিতে বা কোন জরুরী অবস্থায় অন্যদের জন্য কাজ করা ও সহযোগিতা করার প্রস্তাব দিন।

৩. খাপ খাইয়ে নেয়ার প্রবণতা

কোন কিছুই সব সময় পরিকল্পনা মত কাজ করে না, তাই নিজেকে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতি কিংবা জরুরী অবস্থার সাথে খাপ খাইয়ে নেয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন। কোন একটা সিদ্ধান্ত নিয়ে আফসোস না করে সেই পরিস্থিতি মোকাবিলা ও সমাধান করার জন্য উপযুক্ত সিদ্ধান্ত নেবার চেষ্টা করুন। একজন শিক্ষার্থী হিসেবে ফ্লেক্সিবল পরিবেশ পাওয়ার বা সুযোগ সুবিধা পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম থাকে, কিন্তু আপনাকে সেইরকম পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে নিজেকে কীভাবে সেই পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নেয়া যায় সেটা শিখে নিতে হবে।

নিয়োগকারীরা কেন এই গুন খোঁজ করেন:

আমাদের কর্মক্ষেত্র হচ্ছে এমন একটি গতিময় পরিবেশ যেখানে মুহূর্তের ব্যবধানে যেকোন কিছু বদলে যেতে পারে। সেজন্যই নিয়োগকারীরা এমন কর্মচারীর খোঁজ করেন যারা নতুন কোন পরিবর্তনের সাথে সহজে মানিয়ে নিতে পারেন এবং বিগত দিন কিংবা সময়ের কোন ঝামেলা নিয়ে বার বার অভিযোগ করেন না।

কীভাবে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়া শিখবেন:

★নতুন কিছু শেখা ও করার জন্য নিজেকে জোর দিন
★নিজেকে চ্যালেঞ্জ করার মাধ্যমে নতুন ও অপরিচিত পরিস্থিতির সাথে অভ্যস্ত হোন এবং সেভাবে কাজ করার অভ্যাস করুন।
★নিজের সীমাকে বুঝুন, লক্ষ্য স্থির করুন এবং সেই লক্ষ্য অর্জনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করুন।

৪. সমস্যা সমাধানের চেষ্টা

একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আপনি সমস্যা অনুধাবন ও তা সমাধান করার সবচেয়ে সেরা সময়ে অবস্থান করেন। আপনাকে প্রতিনিয়ত নতুন সব সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় এবং সেগুলোর সাথে মোকাবিলা করতে হয়। আপনার যদি সমস্যার ব্যাপারে অভিযোগ করার অভ্যাস থেকে থাকে, তাহলে আপনার উচিত নিজের মনকে সমস্যা সমাধানের দিকে ধাবিত করা এবং সেগুলো নিয়ে ভাবা। অভিযোগ করার সময় আমরা আমাদের চিন্তা ভাবনার মধ্যে হারিয়ে যাই আর সম্ভাব্য সমাধান গুলো দেখতে পাই না।

নিয়োগকারীরা কেন এই গুন খোঁজ করেন:

যেই কর্মচারী খুব দ্রুত যেকোন সমস্যা সমাধান ভেবে বের করতে পারেন, তিনি তার কোম্পানির জন্য একটি সম্পদ! যে কোন নিয়োগকারী এমন ব্যক্তিকে বেশি প্রাধান্য দিতে চাইবেন যার সমস্যা সমাধান করার গুন আছে, কেননা ব্যবসায় ক্ষেত্রে প্রায় প্রতিটি পদক্ষেপেই নানা রকম অপ্রত্যাশিত সমস্যা সৃষ্টি হওয়া খুবই স্বাভাবিক।

কীভাবে আপনার সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়াবেন:

★যে কোন পরিস্থিতিতে সমাধান বের করার চেষ্টা করুন, নতুন কোন সমস্যা নয়।
★প্রত্যেকটি নেতিবাচক ফলাফল থেকে ইতিবাচক কিছু খুঁজে বের করার জন্য মন থেকে চেষ্টা করুন।
★মাথা ঠাণ্ডা থাকুন; নিজের মানসিক শান্তিকে বিক্ষিপ্ত হতে না দিয়ে চিন্তা করুন।

৫. সমালোচনামূলক পর্যবেক্ষণ

ডাটা পড়া এবং তার থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য বের করে আনার দক্ষতা সবার মধ্যে থাকে না, আর তাই ব্যবসায় সফল ক্যারিয়ার গড়ে তোলার জন্য আপনাকে এই দক্ষতা বাড়ানোর জন্য চেষ্টা করতেই হবে। সমালোচনামূলক পর্যবেক্ষণ করার দক্ষতা হলো যেকোন পর্যবেক্ষণকে অর্থবহ, সহায়ক এবং লাভজনক ব্যাখ্যায় পরিণত করার বিশেষ ক্ষমতা। বিভিন্ন ঘটনার প্যাটার্ন বোঝা এবং বর্তমান ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্য সব রকম ফলাফল নির্ণয় করতে পারা ইত্যাদি গুনাবলী এর একটি অংশ।

নিয়োগকারীরা কেন এই গুন খোঁজ করেন:

নিয়োগকারীরা সব সময়ই চিন্তাশীল মানুষ চান! তারা এমন কর্মচারী নিয়োগ দিতে চান যারা বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে চিন্তা করতে পারে এবং আদর্শ ফলাফল লাভের জন্য উদ্ভাবনী বিভিন্ন আইডিয়া দিতে পারেন। তারা এমন ব্যক্তির খোঁজ করে থাকেন যারা সংক্ষিপ্ত ডাটা এবং ঘটনাবলীর মধ্যে সংযোগ খুঁজে বের করতে পারেন এবং কোম্পানির স্বার্থে সেই সংযোগকে কীভাবে কাজে লাগানো যায় তা নিয়ে ভাবেন ও কাজ করেন।

কীভাবে নিজের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা আরো উন্নত করা যায়:

★অন্যদের কথা শুনুন এবং সে সব কথা থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করুন।
★অন্যদের ব্যাপারে কী জানলেন তা নিজের কাজে প্রয়োগ করুন, হোক তারা পরিবার, বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী অথবা আপনার বস।
★নতুন তথ্য শুধুমাত্র দেখেই বসে থাকবেন না; সব সময় অন্য সব দিক থেকে যেকোনো পরিস্থিতিতে তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করুন।

৬. দ্বন্দ্বের সমাধান

যেহেতু আমরা সমস্যা সমাধানের ব্যাপারে ইতোমধ্যে আলোচনা করে ফেলেছি, এবার আমাদের আলাদা করে দেখতে হবে দ্বন্দ্বের সমাধান কী জিনিস। কর্মক্ষেত্রের পরিবেশে বিভিন্ন প্রেক্ষাপট, পরিস্থিতি ও অবস্থা থেকে নানা রক্ম লোক আসেন এবং এক সাথে কাজ করেন। তাই এটা খুবই স্বাভাবিক যে কোন একজন ব্যক্তি বা বস্তুর সাথে অন্য কোন ব্যক্তি বা বস্তুর সংঘর্ষ হবে, নয়ত মতের অমিল হবে। এই ধরণের দ্বন্দ্ব ও পরিস্থিতি যথাযথ কার্যকর ভাবে সমাধান করাটা যেকোন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের জন্য আবশ্যক।

নিয়োগকারীরা কেন এই গুন খোঁজ করেন:

নিয়োগকারীরা এই ব্যাপারে অনেক বেশি সচেতন থাকেন যে সমস্যা তৈরি হবেই, কিন্তু তারা এমন মানুষেরও খোঁজ করেন যারা এই সব সমস্যার সাথে মোকাবিলা করতে পারবেন এবং সমাধান বের করবেন। যেকোন কোম্পানির সর্বজনীন ও প্রধান লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করে যাওয়া এবং সেই পথে তৈরি হওয়া অসংখ্য দ্বন্দ্বের সাথে মোকাবিলা করার এটিই একমাত্র উপায়।

কীভাবে নিজেকে দ্বন্দ্ব সৃষ্টিকারী পরিস্থিতির সাথে মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত করবেন:

★দ্বন্দ্ব বা মতের অমিল সৃষ্টি হওয়ার জায়গাগুলো সরাসরি চিহ্নিত করুন এবং সতর্কতার সাথে কাজ করুন।
★কোন ভাবেই দ্বন্দ্বকে এড়িয়ে যাবেন না এবং সব সময় বোঝাপড়া করার চেষ্টা করবেন।
★নিন্দাত্মক ও নেতিবাচক না হয়ে চেষ্টা করুন সমাধান দিয়ে অন্যদেরকে সাহায্য করতে।

৭. নেতৃত্ব

প্রত্যেকটি কোম্পানিতেই নেতৃত্ব দেয়ার মত লোকের প্রয়োজন হয়। একজন ম্যানেজার বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং একজন নেতার মধ্যে সূক্ষ্ম ব্যবধান রয়েছে। কোম্পানিতে তৈরি হওয়া অমিল গুলোকে চিনতে পারা এবং একজন নেতার মত কাজ করার মাধ্যমে আপনার আত্মবিশ্বাস প্রতিফলিত হবে এবং সহকর্মী, দলের সদস্য, এমনকি সিনিয়রদের মধ্যেও এক ধরণের অনুপ্রেরণা যোগাবে।

নিয়োগকারীরা কেন এই গুন খোঁজ করেন:

নেতৃত্ব হলো এমন একটি গুন যা শুধুমাত্র আত্ম উন্নয়নের মধ্য দিয়ে বিকশিত হয়। নিয়োগকারীরা যখন কোন কর্মকর্তার জন্য প্রমোশন বা পদোন্নতির কথা ভাবেন তখন এই দক্ষতাকে বিশেষ প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। নিয়োগকারীরা আপনার পেছনে তখনই বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হবেন যখন তারা দেখবেন যে আপনার মধ্যে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতা রয়েছে।

কীভাবে নেতৃত্ব দেয়ার দক্ষতা অর্জন করবেন:

★অন্যদের হুকুম দিয়ে বেড়াবেন না, বরং নিজে ভালো কাজ করার মাধ্যমে নেতৃত্বের নিদর্শন তৈরি করুন।

★অন্যদেরকেও সফল হওয়ার সুযোগ করে দিন।

★আপনার আশে পাশে থাকা কর্মীদের অনুপ্রাণিত করুন, প্রেরণা দিন এবং উৎসাহিত করুন।

শেষ কথা

ঠিক অতীতের মতই বর্তমানে শিক্ষা মানুষের চরিত্র এবং দক্ষতা বৃদ্ধির মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করে চলেছে এবং ভবিষ্যতেও চলতে থাকবে। কিন্তু আজ অবধি আমরা শুধুমাত্র বেসিক দক্ষতা যেমন পড়া, লেখা এবং হিসাব করার দিকে বেশি মনোযোগ দিয়ে আসছি। সেজন্য চর্চার অভাবে অন্যান্য প্রয়োজনীয় গুনাবলীগুলো সুপ্তই থেকে যায়।

আমাদের তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আত্ম উন্নয়নের জন্য আমরা কি আমাদের সর্বোচ্চ প্রয়াস দিচ্ছি?

প্রচলিত বেসিক দক্ষতাগুলো কী ভবিষ্যতের কর্ম-পরিস্থিতির জন্য যথেষ্ট?

সহজ কথায় বলতে গেলে প্রযুক্তির বর্ধমান গতির সাথে পাল্লা দিতে গিয়ে আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা পেছনে পড়ে যাচ্ছে। আমাদের শিক্ষার ধরণে উদ্ভাবনী পরিবর্তনের মাধ্যমে পুঁজি এবং সম্পদের পুনরায় সুষম বণ্টন করতে হবে এবং পরিবর্তনের এক নতুন দুনিয়ার দিকে এগিয়ে যেতে হবে। ভবিষ্যতের জন্য শিক্ষার্থীদের সঠিক ও কার্যকরী শিক্ষা দেয়া এবং বর্তমান কর্মচারীদের নতুন এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ দক্ষতা অর্জন এবং উন্নত সুযোগ পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়ার ব্যাপারে নিয়োগকারী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উভয়কেই মনোনিবেশ করতে হবে। বর্তমান চাকরির অবস্থা জানতে দেখে নিন আমাদের আরেকটি প্রবন্ধ ২০১৮ সালে বাংলাদেশে যে চাকরি গুলোর প্রধান্য থাকবে

অতএব আপনার আত্মোন্নয়ন এবং এই প্রতিবেদনে আলোচিত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা অর্জন ও উন্নয়নের জন্য ক্রমাগত নিজেকে পরিবর্তন করতে থাকুন, উদ্ভাবন করুন এবং শিখতে থাকুন। এই গুরুত্বপূর্ণ ক্যারিয়ার টিপস গুলো কাজে লাগিয়ে নিজেকে একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করে নিন!

ডিপ্লোমা ক্যারিয়ার টিপসঃ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শেষে যা করণীয় (চাকুরি VS ছাত্রত্ব VS উদোক্তা) বিস্তারিত...

আশা করি সবাই ভালো আছেন। তো আজকের আলোচনার বিষয় ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করার পর আপনি কি করবেন?????

ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শেষে যা করণীয় (চাকুরি VS ছাত্রত্ব VS উদোক্তা)

অনেকে ভাবেন ডিপ্লোমা তো শেষ করেছি এবার কি করব। বিএসসি তে পড়ব, নাকি জব করব, নাকি নিজের কিছু শুরু করব। আমি বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, যদি আপনি এর যেকোন একটা নিয়ে পড়ে থাকেন তো জীবনে অনেকগুলো ধাক্কা খেতে চলেছেন।
কারণ, প্রথমত এটা বাংলাদেশ, আর দ্বিতীয়ত আমরা প্রায় সবাই মিডিল ক্লাস পরিবারের।

ফ্যাক্ট-১ঃ ধরুন আপনি বিএসসি করছেন, আপনার পরিবার থেকে আপনার পেছনে আরো অনেকগুলো অর্থ খরচ হতে চলেছে। জীবনে সফল হতে গেলে, কষ্ট করতেই হবে। আর যারা অর্থ খরচ করে উপার্জনের কথা চিন্তা না করে, তারা পরে বাস্তবতার চাকায় পিষ্ট হয়ে যায়। বাবা-মা কখনো বলবেনা তাদের টাকা দিতে কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু আসলেই কষ্ট হয়, আপনার বয়স বাড়ার সাথে সাথে এটাও বোঝা উচিত। বিএসসি শেষে সেই কম বেতনই পাবেন, চাকুরী ক্ষেত্রে বর্তমানে যোগ্যতার পর দক্ষতা না থাকলে লাভ নাই। কোম্পানি তো আর আপনার ডিগ্রী ধুয়ে পানি খাবে না।

ফ্যাক্ট-২ঃ ধরুন, আপনি চাকুরি করছেন। সংসার চালাতে ব্যস্ত। বাবা মাকে ভালোবাসেন। বাসায় প্রতি মাসে টাকা পাঠান। বাবা-মা খুশি, বয়স বাড়ছে, বিয়ে করার ইচ্ছে—জব নিয়েই থাকবেন। ভুল করছেন। এখন এনার্জি আছে, পড়াশুনা করে যান। ওয়ার্ল্ড স্যাটাসে এখন স্নাতক মানে অর্নাস ছাড়া কোথাও দাম পাবেন না। চাকুরি ক্ষেত্রে একসময় আটকে যাবেন, প্রোমশান হবে না। তখন এনার্জী থাকবে না, থাকবে শুধু আফসোস।

ফ্যাক্ট-৩ঃ এবার ধরুন, আপনি পরিবার থেকে কিছু টাকা নিয়ে নিজের কিছু শুরু করেছেন, ভাল চলছে সব। কিন্তু একটা সময় নিজের ব্যবসা বা অফিসের পরিধিটা বাড়ছে না। কারণ, শুধুই আপনি। আপনার কর্মচারী চালানোর কি কোন জ্ঞান আছে? উত্তরটা সহজ, নেই। কেননা আপনি জব জীবনে করেন নি। কর্মচারীদের বস’রা কিভাবে সামাল দেন- তা তো দেখেন নি। আপনার বড় কিছু করার জ্ঞান আছে? আপনেও জানেন নাই? কারণ, আপনার শিক্ষা-যোগ্যতার লেভেলটা ঐ ডিপ্লোমা পর্যন্তই।

তাহলে করণীয়,

১. যদি আপনি ডিপ্লোমাতে ভালমত কাজ শিখে থাকেন, তাহলে ইন্টার্নির পরে বা ডিপ্লোমার পর থেকে কাজে লেগে যান অর্থাৎ ছোট হোক বা বড়, আপনার সাব্জেক্ট ও পছন্দসই জব করুন। আর যদি ডিপ্লোমাতে কাজ না শিখে থাকেন তবে কিছু টাকা খরচ করে আপনার সাব্জেক্ট রিলেটেড কোর্স বা কাজ শিখে ফেলুন। কাজ না পাড়লে সার্টিফিকেট দিয়ে কিচ্ছু হবে না। এর পর জব এর জন্য ট্রাই করুন।
সরকারীঃ আপনি সরকারী চাকুরিগুলোতে এপ্লাই করুন। ইন্টারনেট থেকে সার্কুলারগুলো নামিয়ে, বিএসসি করার সুবিধা বিবেচনা করে জব এ এপ্লাই করবেন, বাসায় জব সলিউশানের বই বা কোচিং করে নিজেকে প্রস্তুত রাখবে। স্থাইয়ী হোক বা অস্থায়ো সব ধরনের পোস্টেই এপ্লাই করবেন। মনে রাখবেন, সরকারী চাকুরি সোনার হরিণ, অস্থায়ী হলে পড়ে স্থায়ী করার সুযোগ বা সরকারী অন্য কোন অফিসে জয়েন করার ক্ষেত্রে পাবেন অগ্রাধিকার।
আর একটা কথা পারলে নন-ক্যাডার বিসিএস ও শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষাটা দিয়ে দেবেন। সরকারী চাকুরি আপনার জন্য তাহলে সহজ হবে।
বেসরকারীঃ ইন্টারনেট থেকে হোক বা ভাই-ব্রাদার-আত্বীয়-স্বজন সবাইকে আপনার জবের জন্য রিকুয়েস্ট করবেন। সবাইকে প্রয়োজনে নিয়মিত কল করবেন। বড় বা ছোট নামকরা কোম্পানিগুলোতে নিয়মিত খোজ নেবেন, আর জবে এপ্লাই করবেন। কাজের প্যারা গুলো মানিয়ে নিন, বসকে কাজ বুঝিয়ে দিয়ে বসের চোখে সেরা হইয়ে উঠুন আর পড়াশুনার ক্ষেত্রে যেন বস ছাড় দেয় সেদিকে নজর দেবেন।

২. এবার চাকুরির পাশাপাশি পড়াশুনাটা শুরু করুন, বিএসসি তে ইভিনিং শিফটে ভর্তি হন। কষ্ট করতে শিখুন জীবনে কখনো ঠেকবেন না। স্যারদের সঙ্গে ও ক্লাস টপারদের সঙ্গে খাতির রাখুন, পড়াশুনার প্যারা হালকা হবে। কোন মতে ৩.০০ সিজিপিএ রাখুন। ব্যাস আপনাকে আর ধরে কে। পরীক্ষার সময় রুটিন প্রিন্ট করে অফিসের বসের হাতে দিবেন আর ছুটি নিয়ে নিবেন।

৩. এরপর বসে থাকবেন না, মানুষের জীবনের সব সময়টা সমান যায় না, ব্যাকাপ প্লান রাখুন। জব করছেন, টাকা আসছে। সেই টাকা থেকে ভার্সিটিতে দিচ্ছেন, আর একটু টাকা বাচান। না হয় কম দামি বাসায় থাকলেন, হাতখরচটা কমিয়ে দিলেন। জমানো টাকা দিয়ে বিএসসি শেষে বা বিএসসির ফাকে ব্যবসাঁ করুন বা নিজের কোম্পানির স্বপ্ন গুলোর পেছনে খরচ করুন।

ফলাফলঃ বিএসসি করেছেন, ডিগ্রী আছে। চাকুরি করেছেন টাকা আছে। ব্যবসা বা নিজের কোম্পানি করেছেন পায়ের নিচের মাটিটা শক্ত আছে। চাকুরি ক্ষেত্রে পাবেন প্রোমোশান, নিজের কোম্পানির বা স্বপ্নকে করতে পারবেন বড়। বিএসসির-চাকুরির সাড়ে তিন বছর পর আপনার কাছে সব থাকবে, এর ফল সারা জীবন পাবেন।

সতর্কবার্তাঃ
১. ভুলেও কোন চাকুরি পাবার পর, এক দুই মাস পর চাকুরি ছেড়ে দেবেন না। এক্কেবারে পস্তাবেন, সর্ব নিন্ম ৬ মাস তো জব করবেনই, ১ বছর জব করতে পারলে ভাল। অভিজ্ঞতার দামটা পাবেন।
২. পড়াশুনাও থামিয়ে দেবেন না, তাহলে কিন্তু নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মাড়বেন। যোগ্যতাহীনতা আপনাকে একসময় কষ্ট দেবে।
৩. একই ভাবে ব্যাকাপ প্লান হিসেবে ব্যবসা বা নিজের কোম্পানী না করলে, চাকুরি ক্ষেত্রে অনাকাঙ্খিত ধাক্কা সামলাতে পারবেন না।

শেষ কথাঃ
” Short term pleasure, create long term pain and
Short term pain, create long term pleasure”

এখন সুখে আছেন, এটা সাময়িক, এরপর সারাজীবন কষ্ট পেতে হবে। আর এই তিনটা-চারটা বছর কষ্ট করবেন, সারজীবন সুখে থাকবেন।
ধন্যবাদ কষ্ট করে পড়ার জন্য, যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে আপনার বন্ধুর সাথে শেয়ার করুন ।

collected from facebook